x 
Empty Product

আম প্যাকিং

User Rating:  / 0
PoorBest 

বাংলাদেশে উৎপাদিত একমাত্র ফল আম যার জন্য প্যাকিং ও পরিবহণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এখন থেকেই গুরুত্ত্বারোপ করা উচিত। যদিও আমাদের দেশে উন্নতমানের কমলা

বাংলাদেশে উৎপাদিত একমাত্র ফল আম যার জন্য প্যাকিং ও পরিবহণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এখন থেকেই গুরুত্ত্বারোপ করা উচিত। যদিও আমাদের দেশে উন্নতমানের কমলা

এবং সফেদা উৎপন্ন হচ্ছে, তবে এ ফল দুটো এখন অবধি বহির্বাণিজ্যে স্থান পায়নি। এ দুটো ফলের উৎপাদনও খুব কম। অপর একটি ফল কলা। এর জন্য এখন থেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্যাকিং ও পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর নজর দেয়া আজ বিশেষ প্রয়োজন।

আমের গুণাগত মান বজায় রেখে ভোক্তার কাছে পৌছানো এবং পরিবহণ ও গুদামজাতকরণে সুবিধার জন্য আমের উন্নতমানের প্যাকিং ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত ফলের মধ্যে একমাত্র আমের ক্ষেত্রেই প্যাকিং বা* ব্যবহার করা হয়। এখন অবধি এদেশে বাঁশের তৈরি ঝুড়িই আমের প্যাকিংয়ে সবচাইতে বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে। আমের মৌসুমে চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং সাতক্ষীরা এলাকায় শত শত শিল্পী বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে থাকেন। এই ব্যবসার সাথে হাজার হাজার লোক জড়িত। ১০ কেজি আম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঝুড়ি থেকে ৪০ কেজি মাপের ঝুড়ি তৈরি হয়ে থাকে। এছাড়া বাগান থেকে প্রথম অবস্থায় আম সংগ্রহ করে বিশাল আকারের শক্ত ঝুড়ি বা ঢাকিতে করে আম গুদামে আনা হয়। এসকল ঢাকিতে ৮০ কেজি পর্যন্ত আম বহণ করা হয়। বাঁশের তৈরি ঝুড়ি ছাড়াও আম প্যাকিংয়ে সাধারণত কার্টুন, কাঠের বা* ও প্লাষ্টিক ক্রেটস ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাঁশের তৈরি ঝুড়ি যদিও সহজলভ্য এবং সস্তা, তবে এর প্রধান অসুবিধা হচ্ছে এটি একবার মাত্র ব্যবহারযোগ্য। এর প্যাকিং মজবুত না হলে পরিবহণের সয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ঝুড়ি একটির উপর আরেকটি গাদা করে রাখার ফলে প্যাকেটে চাট পড়ে আমের বিকৃতি ঘটে। শক্ত কার্টুন, কাঠের বা* প্লাস্টিক ক্রেটস ইত্যাদি প্যাকিংয়ে সর্বোত্তম বলে বিবেচিত। এ সকল প্যাকিংয়ে আমের উপর চাপ লাগার আশঙ্কা খুব কম। এ সকল বাক্সে আম রেখে পরিবহণ করা হলে আম বেশি দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব। আমের প্যাকেট কখনই ২০-২৫ কেজি ওজনের বেশি হওয়া উচিত নয়। এতে এজন ব্যক্তি অন্যের সাহায্য ছাড়াই প্যাকেট স্থানান্তর করতে পারেন। প্যাকেটের আকার গোলাকারের চেয়ে আয়তাকার হলে যানবাহনে কম স্থানে রাখতে সুবিধা হয়।

প্রাচীন আমলে বাংলাদেশে উৎপন্ন আম কিভাবে প্যাকিং হতো এ বিষয়ে অভয়কান্ত চৌধুরী প্রণীত ‘আরলি মেডাইভ্যাল ভিলেজ ইন নর্থ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ নামক গ্রন্থে ২০১ পৃষ্ঠায় সুন্দর বর্ণনা রয়েছে : “We do not know how the mangoes produced abundantly in North-Eastern India, were carried from the orchards to the consumers in villages and towns. But as the safest way is to carry them in baskets, it may be pesumed that many baskets were madw for the disposal of these fruits. For basket making bamboo and cane werelargely available in the country side.” আজ থেকে ৫০০-৬০০ বছর পূর্বেও আম পরিবহণ করার কাজে বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি ব্যবহৃত হয়েছে যা ভাবতে লাগে।

 প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং, প্রতিষ্ঠানের নাম, প্যাকিং-এর তারিখ, জাতের নাম, ফলের গ্রেড, প্যাকিং-এর আগে গরম পানিতে ট্রিটমেন্ট হয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্যাকেট যেন রোদে বেশিক্ষণ না থাকে কিম্বা বৃষ্টিতে না ভেজে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found