x 
Empty Product

টাকশাল দীঘি

User Rating:  / 0
PoorBest 

ছোট সোনা মসজিদ এর পূর্ব প্রান্তরে বাঁধাই কবরের উত্ত্র প্রান্তে একটি বিশাল আকৃতির দীঘি বিদ্যমান। এটি টাকশাল দীঘি নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক রজনী বাবু, মাওলানা আমিরুল ইসলাম সহ অনেক পন্ডিত ব্যাক্তি

ছোট সোনা মসজিদ এর পূর্ব প্রান্তরে বাঁধাই কবরের উত্ত্র প্রান্তে একটি বিশাল আকৃতির দীঘি বিদ্যমান। এটি টাকশাল দীঘি নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক রজনী বাবু, মাওলানা আমিরুল ইসলাম সহ অনেক পন্ডিত ব্যাক্তি

এ দীঘিটিকেই টাকশাল দীঘি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় অধিবাসীরা টাকশাল দীঘি বলতে এস্থান হতে প্রায় ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণ পূর্বে মুসলিমপুর গ্রামের সন্নিকটে একটি বিশাল দীঘিকে নির্দেশ করছেন। কিন্তু গত ১৮ এপ্রিল ২০০৫ এ লেথত ও নাতোড় রেফুল বিবিি দাখিল মাদ্রাসার সুপার এহসান উল্লাহ সরজমিনে পরিদর্শন কালে এর তেমন কোনআলামত দেখতে পাননি। শধূ দীঘির পশ্চিম পাড়ে কিছু গৌড়িয়া ইট বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল। এ ছাড়া ইট খোলা সহ মাটির ব্যবহার্য্য আসবাবপত্রের ভগ্নাংশ দেখা গেছে। ফলে এখানে যে অতীতে সুলতানী আমলে টাকশাল ছিল এমনটি মনে হয় না। এর কারণ ও যুক্তিকতা নেই। কারণ মূল রাজধানীর এত বাইরে টাকশাল স্থাপন অবাস্তব বলে প্রতিয়মান হয়।  তবে একটি বিষয় স্পষ্ঠই ফুটে উঠেছে যে , এ দীঘির চারিপার্শে ছিল বিশাল লোকালয়। নানা আলামত সুবিশাল দীঘির অবস্থানই তা প্রমান করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ হতে টাকশাল স্থাপন গ্রহনযোগ্য নয়। কেননা শহরের এত বাহিরে টাকশাল স্থাপন অবাস্তব বলে প্রতিযমান হয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ঠই ফুটে উঠেছে যে, এ দীঘির চারিপার্শে ছিল বিশাল লোকালয়। নানা আলামত সুবিশাল দীঘির অবস্থানই তা প্রামাণ করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ হতে টাকশাল স্থাপন গ্রহনযোগ্য নয়। কেননা শহরের এত বাহিরে টাকশাল স্থাপন যুক্তিযুক্ত নয়। পক্ষান্তরে ফিরোজপুর টাকশাল নামাংকিত মূদ্রা অধ্যবধিপাওয়া যায়নি বলে অনেকের অভিমত। এ শহর সম্পর্কে বোধ হয় মাওলানা আমিরুল ইসলাম একটি ভ্রান্ত ধারণা স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ্ গৌড়ের সুলতান হন। তিনি ১৩০১ হতে ১৩২২ খ্রিঃ পর্যন্ত মোট ২১ বৎসর রাজত্ব করেন। তিনি পান্ডুয়া (মালদহ জেলা) নগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামানুসারে (রাজধানী) ফিরোজাবাদ রেখেছিলেন। ইহাই আজকের ফিরোজপুর। অর্থাৎ এস্থানকে পান্ডুয় বলে ধরে নিয়ে মাওলানা আমিরুল সাহেব এখানেকিছুটা গুলিয়ে ফেছেন। পান্ডুয়া ফিরোজপুর হতে প্রায় ২৪ মাইল দুরে এবং ভারত অভ্যন্তরে। পরিবর্তিত নাম রাখা হয় ফিরোজাবাদ।

                মাওলানা আমিরুল ইসলাম সাহেব উল্লেখ করেন তিনি (শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ) এই শহরেই একটি টাকশাল স্থাপন করেন। উক্ত টাকশাল হতে টাকা মুদ্রণ করতেন। ১৩৯৬ সাল পর্যন্ত এই টাকশালের মুদ্রিত মুদ্রা পাওয়া  গেছে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। কিন্তু কোন তথ্য সূত্র দেননি। তার মতে, ছোট সোনা মসজিদের লাগোয়া যে সুবিশাল দীঘিটি কালের নীর স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে উক্ত দীঘির পাড়ে শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহের টাকশাল (টাকা মুদ্রন যন্ত্র) স্থাপন করেন। মুদ্রিত টাকা সংরক্ষণ করার জন্য মাটির গর্ত করে ধনাগার (ব্যাংক) তৈরী করেন। ইহাই হল সুবিশাল দীঘি বা ধনাগার। পরে ইহা পরিত্যক্ত পুকুরে পরিণত হয়েছে।১২২

                মাওলানা আমিরুল সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী ফিরোজ শাহ ১৩০১ হতে ১৩২২ সাল পর্যন্ত২১ বছর রাজত্ব করেন। কিন্তু ১৩৯৬ সাল পর্যন্ত তার এ টাকশাল হতে কিভাবে টাকা মুদ্রিত হয় তা বোধগম্য নয়। তবে একটি বিষয় তমসাচ্ছন্ন থেকে যাচ্ছে যে, শাসুদ্দিন ফিরোজ শাহ্ দু’পুত্র ও চার পৌত্র পর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এদের মধ্যে জালাল উদ্দীন ও গিয়াসউদ্দীনকে তাঁদের পিতা শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ নিজের জীবদ্দশায়ই মুদ্রা তৈরীর অনুমতি প্রদান করেন। সুতরাং তাদের যুগ্ন শাসক বল যেতে পারে।

                ফিরোজপুরের টাকশাল সম্পর্কে পন্ডিত রজনীকান্ত বাবুর মতে ৭৯৯ হিজরী পর্যন্ত এ টাকশালে মুদ্রিত মুদ্রা পাওয়া গেছে।১২৩ এ তথ্যটি ওপর আবিদ আল খান ও এ.কে.এম ইয়াকুব আলীর তথ্য কিছুা সামঞ্জস্যতা রয়েছে। আবিদ আলী খান ও শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ (১৩৩৯-৫৮ খ্রিঃ) এবং তৎপুত্র প্রথম সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-৯০) পর্যন্ত রাজত্ব করেন। এ.কে.এম ইয়াকুব আলীর মতে ”শহর নাও” বা নতুন টকশালের নাম সুলাতান শামসুদ্দীন ইলিয়াশ শাহ এবং তার পুত্র আবুল মুজাহিদ সিকান্দার শাহের মুদ্রায় উপস্থাপিত হয়েছে। এই টাকশাল হতে সর্ব প্রথম মুদ্রা ৭৬৮ হিরী/১৩৪৫ খ্রিঃ এবং সর্বশেষ মুদ্রা ৭৮৬ হিজরী/১৩৮৫ খ্রিঃ মুদ্রিত হয়েছে। এই নামের পূর্বে গুণবাচক পদ ’আল-বিলাদ’ এবং ”আরসা” যোগ করা হয়েছে।

                এডওয়ার্ড টমাস মনে করেন যে, লক্ষণাবতী শহরে নিকটবর্তী একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত শহরতলীর নাম শহর নও বা নতুন শহর।এইচ.এন রাইট এটিকে গৌড়ের শহরতলী বলে গণ্য করেন।১২৪ এ তথ্য হতে প্রতিয়ামান হয় যে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বা সিকান্দার শাহ এর শাসনমল হতে প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের এ শরতলী, শহর নও বা নতুন শহরে টাকশাল নির্মিত হয়েছিল।

দীঘিটির অবস্থান ও ছোট  সোনা মসজিদের পূর্ব দিকে উচু ভিচার উপরই হয়তোবা ঐ টাকশাল নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ২০/২৫ বছর সোনা মসজিদের পূর্ব প্রান্তে অনেকগুলি প্রাচীন অট্টালিকার ভগ্নদশা ভিত্তি দেখা যেত। বর্তমানে অনেকটা লয়প্রাপ্ত হয়েছে। তবুও কিছু আলামত বিদ্য মান। আর সোনা মসজিদ সংলগ্ন রহস্যময় কবর, যেখানে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার ধনরত্নলুকিয়ে রাখার কিংবদন্তী রয়েছে এবং টাকশালে দীঘির তলদেশ হতে মসজিদের আঙ্গিনা চত্বর পর্যন্ত কথিত জিঞ্জিরটি মনে হয় এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। হয়তোবা সে সময়ে মেকী কবরের আবরণে সত্য সত্যই কবর ২টিকে ধনাগার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আর এ যুক্তির মধ্যে হয়তো বা আসল তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কথা ক’জনই বা বিশ্বাস করবে। তবে আর যাই হোক, এটি ব্যপক গবেষেনা ও অনুসন্ধানের বিষয়ও বটে। অপর দিকে ঐ পাথর বাঁধাই কবর দুটির দক্ষিণ প্রান্ত জুড়ে ছিল আদি যুগের অভিজাত শ্রেণীর মানুষের জন্য কবর স্থান। ২০০৫ সালে প্রত্নতত্ব বিভাগ ঐ স্থা খনন করে প্রায় ৩৫টি বাধাই কবর আবিষ্কার করে। এগুলিকে ঐ ভিাগ প্রচীন আদলেই সংস্কার করেছে। প্রত্বতত্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা জানায় কবারগুলি সম্ভবত মোঘল আমলের কিন্তু অনেকেই এ তথ্য মানতে নারাজ। কেউ কেউ কবরগুলিকে সুলতানী আমলের বলে দাবী করেন।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found