x 
Empty Product

রাজবিবির মসজিদ (ভিডিও)

User Rating:  / 0
PoorBest 

গৌড় লখনৌতির বাংলাদেশ অংশে যে সমস্ত   প্রাচীন স্থাপত্যকালের অপূর্ব নিদর্শন রয়েছে তম্মধ্যে রাজবিবির মসজিদই সর্বশেষ্ঠ । শুধু মাত্র গৌড়ের ইটের সাহায্যে নির্মিত এ মসজিদটির অংগসোষ্ঠব গাত্র অলংকরণ খুবই  প্রসংশাযোগ্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলাধীন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর

গৌড় লখনৌতির বাংলাদেশ অংশে যে সমস্ত   প্রাচীন স্থাপত্যকালের অপূর্ব নিদর্শন রয়েছে তম্মধ্যে রাজবিবির মসজিদই সর্বশেষ্ঠ । শুধু মাত্র গৌড়ের ইটের সাহায্যে নির্মিত এ মসজিদটির অংগসোষ্ঠব গাত্র অলংকরণ খুবই  প্রসংশাযোগ্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলাধীন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর

উইনিয়নের বালিয়াদীঘির পূর্ব প্রান্তে আম্র কানন ঘেরা উচু ভিটেয় অবস্থিত এ মসচিদ ও বলা হয়ে থাকে  অনেকে আবার খনিয়াদীঘির মসজিদ নামে আখ্যায়িত করে থাকেন কিন্তু “রাজবিবি” নামকরণ কি কওে হলো ! এ বিষয়ে ইতিহাসেও প্রায় নীরব । তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, সুলতানী  আমলে হয়তোবা  এ স্থানে আলোচ্য মসজিদটি নির্র্মিত হয়েছিল বলেই  এ নামকরণ হয়ে থাকতে পারে। অথবা রাজ অন্তপুরের কোন মহিলা কর্তৃক এ মসজিদটি নির্মিত হবার সুবাদে রাজবিবির মসজিদ নামকরণ হয়েছে। বৃটিশ আমলে মসজিদপি ভগ্নদশা ও পরিত্যক্ত থাকার কারণে মসজিদ অভ্যন্তরে চামচিকা নামক নিশাচর প্রাণীর সুআবাস  স্থলে পরিণত হবার কারণে স্থানীয় মানুষেরা “চামচিকা” মসজিদ ও বলে থাকেন।

                সাধারণত মসজিদগুলির দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিণেই বেশী হয়ে থাকে। কিন্তু এ  মসজিদটি ব্যতিক্রমধর্মী। মসজিদের পূর্ব পশ্চিমে ৬২ ফুট লম্বা এবং উত্তর দক্ষিণে ৪২ ফুট । মূল প্রার্থনা কক্ষে একটি বিশাল গম্বুজ রয়েছে এবং¦ এটির অভ্যন্তর ভাগ ২৯ ফুট বর্গাকৃতির। পূর্ব দিকে ৯ ফুট ৬ ইঞ্চি মাপের একটি বারান্দা  এবং  এর উপর ছোট আকৃতির তিনটি শোভাবর্ধক গম্বুজ রয়েছে। সর্বমোট গম্বুজের সংখ্যা  ৪টি । সম্মুখে (পূর্বে) তিনটি খিলানযুক্ত দরজা,বারান্দার উত্তর দক্ষিণে ১টি করে মোট ২টি এবং মূল প্রার্থনা কক্ষে অনুরুপভাবে উত্তর দক্ষিণে আরো ২টি দরজা বিদ্যামান। মসজিদটিতে সর্বমোট ৭টি প্রবেশ পথ রয়েছে। মসজিদের ৪কোণে ৪টি ও ২ কোণে আরো ২টি সর্বমোট ৬টি অষ্ঠভূজাকৃতির নিটোল বুরুজ  রয়েছে। এ বুরুজগুলিই  মসজিদকে শক্ত করে ধারণ,শ্রীবৃদ্ধি ও দৃস্টিনন্দন করে তুলেছে ।এর কিবলা দেয়ালও অভ্যন্তর ভাগ গ্রানাইয পাথরের টুকরা দ্বারা আবৃত। একটি মাত্র মিহরাব  অর্ধবৃত্তাকৃতির কুলুঙ্গিযুক্ত। পার্শ্বে মিহরাব দুটি সামান্য ছোট য়া বহির্দেশের খিলান পথ বরাবর স্থাপিত।

                মসজিদ অভ্যন্তরে অন্যান্য মসজিদের ন্যায় উপস্থিত থাবতেন এমনটি মনে হয়না। সম্পুর্ণ ইমারতটি টেরাকোটা অলংকরণে শোভিত । ইমারতের চতুর্দিকে ছাঁচকৃত দুইটি কার্ণিস পট্টির সমৃদ্ধ ক্ষুদ্রাকার খিলান সারি ।

এর আরো নিচে রয়েছে হীরক খন্ডাকৃতির ও বুটিদার নকশার সারিসহ একজোড়া সমতল পট্টিবলয়। চার দেয়ালের সম্মুখভাগে (ফ্রাসাদে) আছে  স্পষ্টভাবে অভিক্ষিপ্ত আয়তাকারের প্যানেলের দুইটি সারি। মসজিদটির প্রত্যেকটির প্যানেলে আবার স্তম্বের উপর খাজকৃত খিলন দ্বারা অলংকৃত করা হয়েছে , যা ভেতরের ঝুলন্ত মোটিফ এবং স্প্যানড্রিলে গোলপ ফুলের নকশা প্রদর্শন করে।

                মসজিদের নির্মাণ সংকান্ত কোন শিলা লিপি নেই। ফলে কে কখন এ মসজিদটি নির্মাণ করেন তা জানা যায় না । অবশ্য মধ্যবর্তী  মিহরাবের উপর একাটি “এপিগ্রাফ” রয়েছে। এতে আল কোরআনের বাণী উৎকীর্ণ আছে।

                স্থাপত্যিক রীতি বিচারে মনে হয় যে, এটি সুলতানইলিয়াস শাহী আমলে ১৪৮০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে নির্মিত হয়েছে। ২০০৪/২০০৫ অর্থ বছরে দেশের প্রত্নতত্ব বিভাগ কতৃক মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে সংস্কার করার পর এর অলংকরণ সহ অঙ্গসজ্জা দারুনভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে । যা দর্শকদের বার বার হাতছানি দিয়ে ডাকে। মসজিদটির চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর নতুন ভাবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পাকা রাস্তা ও অবস্থানগত দিক নির্দেশনামূলক সাইন বোর্ড এবং গাইড লাইন না থাকায় পরিদর্শনার্থীদের এ মনোরম প্রাচীন নিদর্শনটি পরিদর্শন হতে পরেন।

 

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found