x 
Empty Product

নার্সারি থেকে গাছ সংগ্রহ

User Rating:  / 0
PoorBest 

আমের ফলন আমাদের দেশে বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এর বাণিজ্যিক চাহিদা দিন দিন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমের ফলন বাড়াতে হলে কলমের চারা উৎপাদন আরও অধিক হারে বাড়াতে হবে। মানুষ এখন অনেক সচেতন।

আমের ফলন আমাদের দেশে বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এর বাণিজ্যিক চাহিদা দিন দিন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমের ফলন বাড়াতে হলে কলমের চারা উৎপাদন আরও অধিক হারে বাড়াতে হবে। মানুষ এখন অনেক সচেতন।

অপ্রয়োজনীয় গাছ না লাগিয়ে দেশের মানুষ ফলের বাগান বিশেষ করে আমের বাগান স্থাপন করছেন। প্রতি বাড়িতেই ফাঁকা স্থানে দুই-একটি করে ভাল জাতের কলমের চারা রোপণ করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে কেউ কেউ প্রতারিত হচ্ছেন। কিছু অসাধু নার্সারি মালিক আঁটির চারা কলমের চারা বলে সরল প্রাণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। দেমের প্রতিটি জেলাতেই একাধিক সরকারি নার্সারি বা ফল গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। আমাদের উচিত সরকারি সংস্থা থেকেই আমের কাক্সিক্ষত চারা সংগ্রহ করা। সরকারি নার্সারিগুলোতে চাহিদার তুলনায় চারা উৎপাদন অনেক কম, যে কারণে আম চাষী এবং অন্য ক্রয়কারীগণকে নার্সারি থেকে চারা ক্রয় করতে হচ্ছে। আমাদের দেশে এখন বেশ ভাল মানের অনেক নার্সারি রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ফুলতলা হচ্ছে বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান নার্সারির মোকাম। তী পাওয়া যায় না সেথানে বাংলাদেশে যেসকল ফল জন্মে এর প্রায় সব জাতের চারা ফুলতলা মোকামে রয়েছে। এছাড়া ফুল এবংসবজির চারা এবং বীজ এখানকার নার্সারিগুলোতে আছে। ভাল ভাল জাতের আমের চারা ফুলতলার নার্সারিগুলোতে পাওয়া যাবে। এরপর দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা শহরে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় নার্সারি আছে। এই শহরে বছরে একবার বড় ধরনের বৃক্ষমেলা হয়। সেখানে লক্ষ লক্ষ ফলদ, বনজ গাছগাছড়া বিক্রির জন্য আসে। যশোর শহরের মধ্যেও নার্সারি রয়েছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে দামুরহুদা থান (চুয়াডাঙ্গা জেলা) এলাকার নাটোদা গ্রামে বড় ধরনের ঐতিহ্যবাহী নার্সারি রয়েছে।

বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নার্সারিগুলো বড় আকারের। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মধ্যেই সরকারি দুইটি বিশাল ফলের গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে ভাল ভাল জাতের আমের চারা উৎপাদন করা হয়। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে উন্নতমানের আমের চারা কলম শহরের একাধিক নার্সারিসহ এই জেলার প্রতিটি উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যায়।

রাজশাহী মহানগরীতে উন্নতমানের নার্সারির সংখ্যা প্রায় ৩০টি। প্রতিটি নার্সারিতে উন্নত জাতের আমের কলম চারা পাওয়া যাবে। এসকল নার্সারিগুলোতে সাধারণত ভিনিয়ার পদ্ধতিতে কলমের চারা উৎপাদন করা হযে থাকে। কৃষক কিম্বা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী এসকল নার্সারি থেকে আমের চারাসহ অন্যান্য ফলদ, বনজ এবং ফুলের চারা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাগমারা এসকল উপজেলায়ও নার্সারি রয়েছে। নাটোর এবং নওগাঁ জেলাতেও উন্নতমানের নার্সারি রয়েছে।

নাটোর শহরের সন্নিকটে নারোদ নদীর তীরে (রেল স্টেশনের দক্ষিণ) হোগলবাড়িয়া গ্রাম। এই গ্রামের প্রয়াত খগেন চন্দ্র ঘোষের বহু পুরাতন একটি নার্সারি ছিল। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত নার্সারিতে খগেন চন্দ্র ঘোষ ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং দক্ষিণাত্য থেকে নানা জাতের উন্নত আমের চারা সংগ্রহ করে এই নার্সারিটি সমৃদ্ধ করেছিলেন। নার্সারির বিখ্যাত আমগুলোর মধ্যে ছিল লতা, চিনিফজলী, মিশ্রীদান ইত্যাদি। তার মৃত্যুর পর নার্সারিটি আস্তে আস্তে অচল হয়ে যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বগুড়া জেলা নার্সারি শিল্পে অনেক এগিয়ে।নার্সারি তৈরির ঐতিহ্য এদের অনেক পুরাতন। বগুড়া শহর এবং আশেপাশে বেশ কয়েকটি বড় আকারের পুরাতন নার্সারি রয়েছে। ইদানীং রংপুর এবং ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে ভাল ভাল নার্সারী গড়ে উঠছে।

বাংলাদেমে সবচেয়ে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী নার্সারি ছিল জামালপুরে। ঈশ্বরচন্দ্র গুহ কর্ত্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন নার্সারিটির নাম ছিল চৈতন্য নার্সারি। এটি বেশিকাল টেকেনি। ১৩০০ সাল থেকে ১৩২৯ সাল (বাংলা) পর্যন্ত ছিল এই নার্সারিটির স্থায়িত্বকাল। চৈতন্য নার্সারিতে ১২৮ জাতের আমের চারা পাওয়া যেত। লেখক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ‘লুপ্ত ঐতিহ্য চৈতন্য নার্সারি নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সে সময় এই নার্সারিতে বোম্বের বিখ্যাত আলফন্সো আমের চারা পাওয়া যেত, যার একেকটি চারার দাম সে আমলে ছিল ৫০ পয়সা। সেখানে আরও যেসকল আমের চারা পাওয়া যেত তার মধ্যে ছিল বৃন্দাবনী, দুধিয়া, গোপালবোগ, ফজলী, ক্ষিরসাপাত, কোহিতুর, মোহনভোগ, শ্রীধন, পিয়ারী, ল্যাংড়া, ফার্নন্ডিয়ান, আগাসাহেব, বাদামী, জালীবান্দা, বেগমপছন্দ, কাঁচামিঠাবেনারস, কাঁচামিঠা ঐশ্বরগুহ, কালাপাহাড়, মালদহ, সিঙ্গাপুর, মুলতানী ইত্যাদি। এর মধ্যে কয়েকটি জাতের আম সারা বছর ফল দিত বলে বইতে উল্লেখ আছে। সারা বছর ফলদায়ী আমের চারাগুলোর প্রত্যেকটি সে আমলেই ১০ টাকা করে বিক্রি হত। দেশের পূর্বাঞ্চলে ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং চট্রগ্যামে উৎকৃষ্ট জাতের আমের কলম তৈরি হয় না। আম্রপালি এবং বারি জাতের কলমের চারা এসকল অঞ্চরলগুলোর নাসৃারিতে প্রচুর রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের পূর্বাঞ্চলে আম চাষ ছড়িয়ে পড়লে বড় নাসৃারি গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন অবধি ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাাকা, নোয়াখালী, চট্রগ্রাম এসকল এলাকায় উৎকৃষ্ট জাতের আমের বাগান স্থাপন করতে গেলে (ল্যাংড়া, ফজলী, ক্ষিরসাপাত, গোপালভোগ, হিমসাগর, বোম্বাই ইত্যাদি) বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চল তেকে বাছাই করা কলমের চারা সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

চট্রগ্রাম শহরের দামপাড়া এলাকায় (ওয়াসার মোড়) ‘আরণ্যক’ নামে একটি ববড় আকারে নার্সারি রয়েছে। নার্সারি টির মালিক মাহবুবুর রহমান। তিনি আমসহ দেশের অন্যান্যফল এবং ফুল নিয়ে চর্চা করছেন অনেক দিন। বাংলাদেশে প্রায় সকল এলাকায় উৎপাদিত ভাল জাতের আমের সংবাদ তিনি রাখেন। তার নার্সারিতে আম্রপালি, বারে আমসহ হাইব্রিড জাতের বেশ কিছু বৈচিত্র্যপূর্ণ আমের চারা রয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকটি এনজিও ব্যবসায়িক ভিত্তিতে নার্সারি গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে ব্রাক নামের এনজিওটি এগিয়ে। দেশের বিবিন্ন অঞ্চলে ব্রাকের নার্সারি রয়েচে। সেখানে ভাল ভাল জাতের ফলের চারা উৎপাদিত হচ্ছে। এদের নার্সারিতে উৎকৃষ্ট জাতের আমের কলম পাওয়া যায়।

 

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found