x 
Empty Product

শাহ নিয়ামতউল্লাহ্ (রঃ) এর জামে মসজিদ

User Rating:  / 0
PoorBest 

শাহ্ সূজার প্রাসাদ বা তহাখানার উত্তর পশ্চিমে কোণে এই সুরম্য তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি অবস্থিত। এটিও মুগল যুগের এক অনুপম স্থাপত্য কলার এক অপূর্ব প্রাচীন নিদর্শন। মসজিদটি অপেক্ষাকৃত উটু ভিটের উপর অবস্থিত।

শাহ্ সূজার প্রাসাদ বা তহাখানার উত্তর পশ্চিমে কোণে এই সুরম্য তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি অবস্থিত। এটিও মুগল যুগের এক অনুপম স্থাপত্য কলার এক অপূর্ব প্রাচীন নিদর্শন। মসজিদটি অপেক্ষাকৃত উটু ভিটের উপর অবস্থিত।

মসজিদটির পূর্বে প্রশস্ত আঙ্গিনা নাতি উচ্চ প্রাচীর বেষ্ঠিত। পূর্ব  প্রাচীরের মধ্য দিয়ে রয়েছে মসজিদের প্রবেশ পথ। প্রাচীরের পূর্ব প্রান্তে ২ কোণে শক্ত বেষ্টনীর ছোট বুরুজ রয়েছে। প্রাচীরটি বিটিত্র নকশা যুক্ত। ঐশ্বর্য্য মন্ডিত এ মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে সাড়ে ৬৩ ফুট ও পূর্ব পশ্চিমে সোয় ২৪ ফুট প্রস্থ। এ মসজিদেও চার কোণের বুরুজগুলি মূল স্থাপনার কোণগুলিকে দৃঢ়তা  প্রদান কওে অনুভ’মিক প্যারাপট ছাড়িয়ে বেশ কিছুটা উপওে উত্থিত হয়েছে। বুরুজগুলি নিরেট বন্ধনীযুক্ত ছাত্রী দ্বারা আবৃত ও কলস শীর্ষ চুড়া ( গম্বুজ আকৃতি) সুশোভিত। প্যারাপট পর্যন্ত অষ্টভুজাকার এবং এর উপরাংশ গোলাকার হয়ে  উপওে উঠে গেছে। পূর্ব দেয়ালে তিনটি সামান্য খাড়া চতুস্কেন্দ্রিক খাজযুক্ত খিলান কথ রয়েছে। এর মধ্যেরটি অপেক্ষাকৃত বড়। উত্ত্ও দক্ষিনেও একটি কওে মোট ২টি খিলান পথ বিদ্যমান। দু’টি আড়াআড়ি খিলান দু’টি ও এদেও কোণের ত্রিভূজজাকৃতির পেভোল্ট ও এর উপর তিনটি গম্বুজের ভার ন্যাস্ত। গম্বুজগুলির শীর্ষ দেশে পদ্ম ও কলস শোভিত। পূর্ব  দেয়ালের খিলান পথ বরাবর কিবলা দেয়ালে রয়েছে তিনটি মিহরাব। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি  পার্শ্ববর্তী মিহরাব কুলুঙ্গি অপেক্ষা বড়। সমস্ত মসজিদ ভবরটিই চুন ও পোড়া মাটির প্লাষ্টার দ্বারা আবৃত। পূর্বের মধ্য দরজার সম্মখের খিলান কুলুঙ্গি প্যানেল দ্বারা জমকালোভাবে সুসজ্জিত। প্যারাপটগুলিও সারিবদ্ধ মেরলোন নকশা অলংকৃত। মসজিদ অভ্যন্তরে মিহরাব কুলুঙ্গি ছাড়াও আরো কিছু কুলুঙ্গি রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিরাবের উত্তর দিকে অবস্থিত এ রকমই একটি কুলুঙ্গি অস্বাভাবিকভাবে উচু ও প্রশস্থ সমজিদ অভ্যন্তরের গম্বুজের ভিতরে তিনটি গম্বজের ভিন্ন ভিন্ন তিন প্রকার ছোট বড় আকৃতির ফুলের নক্সা বিদ্যমান। কোন শিলা লিপি নেই। সব মিলিয়ে মসজিদটির অবয়বও অপূর্ব নকশা অলঙকরণ খুবই প্রশংসার দাবীদার। যা দেখলে পর্যটকদেও নয়নমন স্বার্থক হবে প্রত্নতত্ব বিভাগ ২০০৪/২০০৫ সালে এটি সংস্কার করেছে।

শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) এর মাজার শরীফঃ শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) এর তিন গম্বুজ মসজিদেও উত্তরে শাহ নিয়ামত উল্লাহ (রঃ) এর মাজার অবস্থিত। এটি বাংলাদেশে নির্মিত সর্ব প্রথম মগল যুগের সমাধি স্থাপত্য নিদর্শন। উচু ভিটের উপর দন্ডায়মান এ সমাধিটি বর্গাকৃতির এক গম্বুজ বিশিষ্ট ইমারত। এর প্রত্যেকে দেয়ালে তিনটি কওে প্রবেশ পথ সন্নিবেশিত হওয়াতে এ মাজার শরীফকে ”বারদুয়ারী” বলা হয়। মুল কক্ষের চারদিকে ঘিরে রয়েছে টানা ভল্টেড বারান্দা। মুল মাজার কক্ষের চতুরদিকে একটি করে দরজা বিদ্যমান। বর্তমানে দক্ষিনের দরজা ছাড়া বাকি তিনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত দরজাগুলি খিলানযুক্ত। মুল কক্ষের ওয়াল ভোল্ট গম্বুজের বার বহন করে। মূলত এটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট সমাধি ভবন। সমাধি ইমারতের  কার্ণিস অনুভুমিক এবং উপরিভাগ বন্ধ মেরলোন নকশায় অলংকৃত। এ ইমারতের চার কোণে ৪টি পাশ্ব মিনার সুসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে (বুরুজের শক্ত বেষ্টনী ধারনকৃত) দন্ডয়মান। এ মিনারগুলি অষ্টভূজাকৃতির এবং ছাদ থেকে উপরেউত্থিত। এ ছাড়া মিনার শীর্ষদেশ পদ্ম পাপড়ির গুল্মলতা সম্বলিত ছোট গম্বুজের আচ্ছাদিত। গম্বুজচুড়ায় কলস, পদ্মফুল, মিনার মুকুট ও কার্ণিসে পদ্ম পাপড়ির মোটিফ ব্যবহারের মাধ্যমে স্থাপত্য কলায় বাংলার আঞ্চলিক বৈশিষ্টের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মুল সমাধি ভবন।

                হযরত শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) এর পবিত্র মাজারের দক্ষিণে পূর্বে আরো একটি সমাধি ভবন বিদ্যমান। এ কবর ২টি কার, সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। ধারনা করা হয় যে কবর দু’টি শাহ্ সাহেবের সহধর্মীনিদের। মতান্তে তার বিশ্বস্থ অনুচর অথবা খাদেমের। এ ভবনের  মধ্যে পশ্চিম পাশে একটি আরবী শিলা লিপি আছে। এতে আয়তাল কুরসি লিখিত আছে। মতান্তে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্ও এটি একটি ফটক নির্মাণের শিলা ফলক। এতে চার কুল সুরা বাম দিকে লিপিবদ্ধ আছে।

                শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) মাজার সংলগ্ন পশ্চিম দক্ষিণে কোণে আরো ছোট ২টি  কবর পাশাপাশি অবস্থানে রয়েছে। এ দু’টি কবর শাহ্ কবর শাহ্ সাহেবের দু ছেলে সৈয়দ শাহ হাফিজুল্লাহ (রঃ) ও সৈয়দ শাহ্ মুহাম্মদ শাওকি (রঃ) এর। উনারা শিশু অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।১২৫ অন্যান্য কবরগুলি কার তা জানা যায় না। তবে শাহ্ সাহেবের বংশধর কিংবা তার ভক্ত নিকট অনুসারীগণের বলে ধারণা করা হয়।

                শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) এর মাজাওে পশ্চিমে প্রান্তের বারান্দায় শাহ্ সাহেবের একটি কৃষ্ণ প্রস্তরের  জায়নামাজ মতান্তে ধ্যান আসন বিদ্যমান। ভাদ্র মাসের শেষ  শুক্রবার শাহ্ সাহেবের ইসালে সওয়াব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ঐদিন শাহ্ নিয়ামতউল্লাহ (রঃ) এর ব্যবহৃত খিলকা (পাঞ্জাবী) যার সমস্ত অংশে পূর্ণাঙ্গ কোরআন শরীফ লিখিত আছে এবং তাঁর সহস্তে লিখিত একটি  বড় কোরআন শরিফ প্রদর্শিত হয়।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found