x 
Empty Product

দরসবাড়ী মসজিদ (ভিডিও)

User Rating:  / 0
PoorBest 

ঐতিহাসিক গৌড়ের ছোট সোনামসজিদ ছেড়ে উত্তর দিকে প্রায় ১ কিঃমি দুরে , কোতওয়ালী দরজা হতে প্রায় অর্ধ কিঃমিঃ দক্ষিণ পশ্চিমে বালিয়াদিঘী বাজারের প্রায় ৬’শ গজ পশ্চিমে দরসবাড়ী মসজিদ অবস্থিত।

ঐতিহাসিক গৌড়ের ছোট সোনামসজিদ ছেড়ে উত্তর দিকে প্রায় ১ কিঃমি দুরে , কোতওয়ালী দরজা হতে প্রায় অর্ধ কিঃমিঃ দক্ষিণ পশ্চিমে বালিয়াদিঘী বাজারের প্রায় ৬’শ গজ পশ্চিমে দরসবাড়ী মসজিদ অবস্থিত।

এটি ভারত সীমান্তের একেবারেই  কাছে ওমরপুরের সন্নিকটে। সম্ভবত এটি ঘোষপুর মৌজায় অবস্থিত। প্রাচীন এ মসজিদটির অতিসামান্য পশ্চিমে ভারতের কাটা তারের বেড়া এবং ভাগীরথী বা পাগলা নদী বাংলাদেশের সীমানা নির্দেশ করে চলেছে। গৌড় লখনৌতির বাংলাদেশ অংশের মধ্যে এটিই সর্ব বৃহৎ মসজিদ।

                দরসবাড়ী মসজিদ নামটি দরস (বিদ্যাপীঠ) শব্দ হতে উদ্ভুত, যা একটি প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসাকে নির্দেশ করে।

                বহু পূর্ব হতেই কিংবদন্তী ন্যায় দরসবাড়ী নামটি জীবিত ছিল। কিন্তু এলাকাবাসী জানতনা এর প্রকৃত অর্থ দরসবাড়ী অর্থই যে বিদ্যাপীঠ বা মাদ্রাসা এটি প্রমানিত হয় বিংশ শতাব্দীর ৭০ এর দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব বিভাগ কর্তৃক মাদ্রাসাটির ভিত্তি ভুমি ও পরিত্যক্ত শিলা লিপি উদ্ধারের পর।

সুবৃহৎ এ মসজিদটি বর্তমানে ভগ্নদশা এবং এর অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়ার দিন গুনছে। এর অলংকরণ নকশা অনেকটা সীমান্তে ওপারের গুণামান্ত মসজিদের মত। মসজিদের বর্হিদেশে উত্তর দক্ষিণে দৈর্ঘ্য ১১১ ফুট এবং পূর্ব পশ্চিমে প্রস্থ সাড়ে ৬৭ ফুট। ট্র্যানসেপ্টের ডান এবং বামের কক্ষের প্রশস্থতা ৪২ ফুট। পূর্ব দিকে ৭টি খিলান দরজা। সম্মুখে (পূর্ব প্রান্তে সাড়ে ১৬ ফুট প্রশস্থ একটি বারান্দা ছিল। মসজিদের বাইরে ও ভিতওে টেরাকোটা ফলক অলংকরনসহ ঈষৎ লাল বর্ণেও ইট প্রদর্শন করছে। সমজিদটির সমস্ত গম্বুজ বিধ্বস্ত হয়েছে। সম্মুখের ভল্ট দেয়া ছেঅট গম্বুজ গুলি সহ এর মূল বারান্দাও বিধ্বস্থ হয়েছে। বাহ্যত মসজিদের ২টি অংশ। একটি সামনের বারান্দা এবং পশ্চিমে মূল প্রর্থনা কক্ষ। সম্পূর্ণ দালানটি পূর্ব পশ্চিমে টানা একটি চওড়া ”নেভ  দ্বারা বিভক্ত মূল কক্ষের নেভের আচ্ছাদান চৌচালা আকৃতির ভল্টের সাহায্যে তৈরী। মসজিদটি মূল কক্ষে সারিবদ্ধ ভাবে (উত্তর দক্ষিণে) ৭টি করে ৩ সারিতে ২১টি  এবং  বারান্দায় ছোট আকৃতির  আরো ৭টি সর্ব মোট ২৮টি গম্বুজের চিহ্ন বিদ্যমান। ইট ও পাথরের স্তম্ভগুলি যথাযথভাবে ভল্ট ও গম্বুজের ভার বহন করতো। এ মসজিদটির একটি গুরুত্বপূর্ন বৈশিষ্ট্য হলো এটিও ছোট সোনা মসজিদের ন্যায় উত্তর পশ্চিম কোণে অবস্থিত রাজকীয় গ্যালারী। কেউ কেউ এটিকে মহিলা গ্যালারীও বলে থাকেন। রাজকীয় গ্যালারীতে প্রবেশের জন্য ছিল সিড়িযুক্ত উচু প্লাটফর্ম। যা সশস্ত্র প্রহরী দ্বারা সুরক্ষিত থাকতো। মসজিদের উত্তরে একটি প্রবেশ পথ ছিল, যা বিধ্বস্থ হয়েছে। দক্ষিণে বিশাল ৭টি খিলান যুক্ত দরজা বিদ্যমান। সম্মুখে ৭টি খিলান যুক্ত দরজা হয়েছে। সম্মুখে ৯টি মিহরাব বিদ্যমান। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি অপেক্ষাকৃত বড়।

                মসজিদটির প্রতি কোণে অষ্টভূজ আকৃতির বুরুজ নির্মাণ করে মসজিদটিকে শক্ত বেষ্টনীতে আবদ্ধ করা হয়েছিল। পশ্চাৎ দেয়ালের দক্ষিণাংশের বিদ্যমান উদাহরণ এবং অভ্যন্তরে মিহরাবের টেরাকোটা অলংকরণ দৃষ্টে অনুমিত হয় যে, গৌড় লখনৌতির  ভারত অংশে অবস্থিত তাতিপাড়া মসজিদের মত এ মসজিদের অলংকরনও  অত্যন্ত জমকালো ছিল।এর অনুভ মিকভাবে বাইরে ও অভ্যন্তরে বিচিত্র নকশা বিন্যাস্ত। এর সাথে পোড়ামাটি ফলকের  প্যানেল, যার মধ্যে  ঝুলন্ত মোটিফের প্রাধান্য রয়েছে। ভিতরের খিলান ও পেভেন্টগুলি ইটের  গাথুনির মাধ্যমে সুসজ্জিত। পশ্চিমের অভ্যন্তরে  দেয়ালের  মিহরাবগুলিকে প্রতি বে’বরাবওে স্থাপন করা হযেছে। মিহরাবগুলির খিলান লথা গুল্ম, পত্র সম্ভার গোলাপ, চারাগাছ ও ফলন্ত নকশায় সজ্জিত পোড়ামটির ফলকের  ফ্রেমের মধ্যে স্থাপিত। মসজিদেও বক্র কার্ণিসে ধাবমান সারিতে পতাকার আকারে  রোকোটা ফলক স্থাপনের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় উদ্দেশ্য বিরাজিত। যা ঘোষণা কওে মসজিদেও নির্মাতা ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান ও বিশ্ববাসীর নেতা (আমীর –উল-মুমেনীন)।১৩৮ এর উত্তরে ছিল আরো দুটি কক্ষ। এ কক্ষ দুটি সম্ভবত ঈমাম মোয়াজ্বিনের অস্থায়ী আবাসস্থল। কয়েক বছর পূর্বে এ মসজিদের দক্ষিণ দিকে পরিখা বেষ্টিত একটি ঢিবি আবিষ্কৃত হওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, এ ঢিবির স্থানটি এক সময়ে একটি প্রাসাদ ছিল। সওদাগর বাদশার ঢিবি বলে পরিচিত এ স্থানে পাথর চালি কার্যের নমুনাসহ প্রাসাদে কিছু প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনও পাওয়া গেছে। দরসবাড়ী মসজিদের উত্তর সংলগ্ন স্থানে ১৯৭৪ সালে খননের সময় প্রায় ২ কাঠা জমির ভিত্তিভূমির  ওপর একটি প্রাচীন স্থাপনার  অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সম্ভবত এটি একটি ছোট মন্দির ছিল বলে বিশেষজ্ঞদেও অভিমত। ঐ সময় প্রত্নতত্ব বিভাগের সুপার আঃ কাদেরের তত্বাবধানে ঐ ভিত্তিভূমি আবিষ্কৃত হয়। প্রাসাদ এবং নিকটবর্তী স্থানে সুলতান ইউসুফ শাহের এ জামে মসজিদটি নির্মিত হওয়ার সময় স্থানটি যে ঐ সময়ে শহরের একটি কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত হতো তাতে কোন সংশয় থাকে না। অনুমান করা হচ্ছে যে, সুলতান ইউসুফ শাহ্ গৌড় প্রাচীরের বাইরের এ অঞ্চলটি শহরের নতুন কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে নির্মাণ করেন। এতে  আরো প্রমাণিত হয় যে, ইউসুফ শাহের আমলেই গৌড়ের এ অংশে অভিবাসন ব্যাপক আকারে আরম্ভ এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। ফলে এ অংশটি গৌড় উপনগরীর মর্যাদা লাভ করে। আর তাই এ মসজিদটি বাংলার মুসলিম শাসনামলের মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যকলার  একটি অপূর্ব নিদর্শন। এর পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। ১২৯৩ হিজরী, ১৮৭৬ খ্রিঃ এ স্থানে খুরশীদ জাহান নু’মার লেখক সৈয়ধ এলাহী বক্শ এর উপস্থিতিতে জঙ্গল পরিস্কারের সময় এ মসজিদের একটি শিলালিপি উদ্ধার করা হয়। লিপিটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, ও প্রস্থ ২ ফুট ১ ইঞ্চি। লিপিটি বর্তমানে কোলকাতা যাদু ঘওে রক্ষিত আছে নং- ৩২৩৯। এটি একটি তোঘরা লিপি। লিপিটির দৈর্ঘ্য বড় হওয়ায় একে দু’ভাগ কওে দেখানো হয়েছে।

 

""সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তালা বলেছেন, নিশ্চয়ই সব মসজিদ আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করোনা। নবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তে অনুরূপ একটি প্রাসাদ নির্মান করবেন। এ জামে মসজিদ ন্যায়পরায়ণ ও মহান সুলতান মাহমুদ শাহ্ও পুত্র সুলতান বারবাক শাহ। তার পুত্র সুলতান আবুল মুযফ্ফর ইউসুফ শাহ্ কর্তৃক নির্মিত হয়। আল্লাহ তার শাসন ও সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী করুন এবং তার বদান্যতা সারা পৃথিবীতে ব্যপৃত হোক। সন ৮৮৪ হিজরী (১৪৭৯-৮০ খ্রিঃ)।""

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found