x 
Empty Product

গৌড়

User Rating:  / 2
PoorBest 

বাংলার প্রাচীন রাজধানী ঐতিহাসিক গৌড় নগরী।বহু বাঙ্গাগড়া ও উথান পতনের বিশাল ইতিহাসের পাদপীঠ এ গৌড় নগরী। তাই এ অঞ্চলের মাটি নানান ঐতিহাসিক কর্মকান্ডের নীরব সাক্ষী। নানা ধর্মাবলম্বী রাজা,

বাংলার প্রাচীন রাজধানী ঐতিহাসিক গৌড় নগরী।বহু বাঙ্গাগড়া ও উথান পতনের বিশাল ইতিহাসের পাদপীঠ এ গৌড় নগরী। তাই এ অঞ্চলের মাটি নানান ঐতিহাসিক কর্মকান্ডের নীরব সাক্ষী। নানা ধর্মাবলম্বী রাজা,

মহারাজা, সুলতান, সম্রাটঐতিহাসিক গৌড় নগরীর বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রাজ্য শাসন করে গেছেন যুগ যুগ কালে কালে। ইতিহাসই এর অমর সাক্ষী। আর তাই সময়ের পালা বদলে সমগ্র বঙ্গের রাজধানী নাম হয়েছে গৌড়, রামাবতী কখনো লক্ষনাবতী বা লখ্নৌতি। কখনো জান্নাতাবাদ, ফিরোজাবাদ, পান্ডুয়া আবার কখনো টান্ডা, তান্ডা বা টাঁড়া। এভাবে রাজধানী নাম বহুবার বহুভাবে পাল্টেছে বটে, কিন্তু ভৌগলিক সীমারেখার পরিবর্তন বিরাট আকৃতির তেমন কিছু হয়নি বলল অতুক্তি হয়না। তবে কোন কোন সময় রাজ্যের সীমা পরিবর্ধনও সংকুচিতও হয়েছে বটে কিন্তু বাংলা বা বাঙ্গাল এর সুশ্রীনগর ও রাজধানী রূপে এ অঞ্চল বহু পূর্ব হতেই ঐতিহ্যের সাক্ষর বহন করে চলেছে।

 

ঐতিহাসিক গৌড় নগরীর জন্ম কখন্য ? এ নিয়ে নানা জনের রয়েছে নানা অভিমত। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে গৌড় নগর খৃষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। গৌড় প্রথমতঃ পুন্ড্রবর্ধনের একাংশ ছিল । পুন্ড্রবর্ধনের তুলনায় গৌড় আধুনিক নগর ছিল বলে পন্ডিদের অবিমত। খুরশীদ জাহান নূমা’র লেখক সৈনিক এলাহীবক্স আল্ হোসাইনী আ রেজাবাদীর মত হিজরী ১০১৭ বৎসর পূর্বে গৌড় শহর প্রতিষ্ঠান করা হয়। তাঁর মতে হিজরী (১৫৭৫ খ্রিঃ) শহর প্রতিষ্ঠান ২০০০ হাজার বছর অতিক্রান্ত হবার পর (১০১৭+৯৮৩) বাংলার নাযিম মুনিম খান খানই কানানের সময়ে সম্রাটআকবরের রাজত্বকালে ভয়াবহ মহামারীর কারণে গৌড় নগরী বিরাণ ভূমিতে পরিনত হয়। বিখ্যাত ইংরেজ ইতিহাস বেত্তা এইচ. বেভারীজ শহরটি প্রতিষ্ঠান কাল প্রায় ৩৯৫ খ্রিষ্টাব্দ পূর্ব অব্দ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

                আমার ইতিহাস ভিত্তিক নানা প্রকার গ্রন্থ হতে অবগত হই যে, ঐতিহাসিক গৌড় এর সাথে বেশ কিছু নাম সংগত কারণেই এসে গেছে। যেমন গৌড় বাংলা, গৌড় বরেন্দ্র, গৌড় রাঢ ইত্যাদি ইত্যাদি। একথা সত্য যে, এককালের গৌড় দেশ ছিল সুবিশালঅ এ কারণে গৌড়ের প্রধান প্রধান নগর বা প্রাদেশিক নাগরীর নাম গৌড়ের সংগে সংযুক্ত হয়েছে। আবার অতি প্রাচীন ইতিহাস হনেত জানা যায়, গৌড় কোন কোন সময় পুন্ড্রবর্ধন ভূক্তির অধিন ছিল। অষ্ঠম শতাব্দীর ধর্ম পাল রাজার ঐতিহাসিক খালিমপুর লিপি যা চাঁপই নবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানা হতে উদ্ধারকৃত তাম্র শাসনই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পাল আমলে এ অঞ্চলের রাজধানী কোথায় ছিল, ইতিহাসে এ বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট ধারণা দেয়নি। তবে পাল বংশীয় চতুদ্দশ বৌদ্ধ রাজা রামপাল (১০৯১ খ্রিঃ-১১০৩খ্রিঃ) রামাবতী নগরী, রামপাল নগর স্থাপন করেন। এ রামাবতীই ছিল সে সময়ের গৌড়ের রাজধানী বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। পরবর্তীকালে সেন বংশীয় হিন্দু রাজা লক্ষণ সেনের আমলেই রামাবর্তীর নামকরণ করা হয় লক্ষণাবতী। মুসলিম ঐতিহাসিকগণ একে লখ্নৌতি বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। তবে পাল আমলের প্রথমার্ধে জয়স্কান্ধাবারগুলি  অনেক সময় রাজধানীর মর্যাদা পেত বলে জানা যায়। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে সুবা বাংলার এ অংশটিকে গৌড় মন্ডল বলা হত বলে ডঃ নীহাররঞ্জন রায় বাঙালীর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করে গেছেন।

 

বাংলার সুপ্রচীন রাজধানী ঐতিহাসিক গৌড় নগরী পুরনো গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর সাবেক সংগম স্থলর নিকট একটি সংকীর্ণ ভূখন্ডের উপর অবস্থিত। বাঙালীর  ইতিহাস-আদিপূর্ব-এরে লেখক আচার্য নীহার রঞ্জন রায় এর মতে সেন আমলের প্রায় শেষাশেষি লক্ষন সেন রামাবতীর অদূরে লক্ষণীবতী (মুসলমান ঐতিহাসিকদের গৌড় লখনৌতি) নামে এক সুবি¯তৃত নগর প্রতিষ্ঠা করেন। রাজমহল হতে ২৫ মাইল ভাটিতে গঙ্গা-মহানন্দার সঙ্গমস্থলের এ নগর গঙ্গা তীর ধরে প্রায় ১৪/১৫ মাইল জুড়ে বিস্তৃত ছিল। সেন আমলের লক্ষনাবতীকে আশ্রয় করে তুর্কী সুলতানদের গৌড় লখনৌতি নগর গড়ে উঠে। বা;ত্ক

                পুরনো গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর সাবেক সংগম স্থল বলতে চাঁপায় নবাবগঞ্জ জেলার সর্ব বৃহৎ ভোলাহাট উপজেলার ঐতিহাসিক বিলভাতিয়াকেই বুঝাই। বিলটি দেশের ২য় বৃহত্তম বিল হিসেবেও সমাধিক পরিচিত। আইন-ই-আকবরীর প্রণেতা আবুল ফজল একে ছুটিয়া-পুটিয়া, রিয়াজ-উস-সলাতীনের লেখক গোলাম হোসেন সলীম একে ঝাটিয়া ভাটিয়া (যা গৌড় নগরীর পূর্ব দিকে অবস্থিত) বলে আখ্যায়িত করেছেন। ভোলাহাট উপজেলা দক্ষিন-পশ্চিমের ভাতিয়ার বিল এবং শিবগঞ্জ উপজেলা শাহবাজপুর সাথে তুলোনা করেন। ১৫২১ খ্রিঃ জনৈক পূর্তগিজ দোভাষী জনসংখ্যা অথ্যাধিক ঘনত্বেও কথা উল্লেক করেন। তিনিও জনাকীর্ণ রাস্তাসমূহে চলাফেরার অসুবিধা লক্ষ করেন। অভিজাত ব্যাক্তিবর্গ তাদের চলার পথে সহজ করে  দেয়ার জন্য বেশ কিছু লোক নিয়োগ করেন।

                ফারিয়া ওয়াই সোসা এবং পরবর্তী অন্যান্যদেও মতে গৌড় নগরে জনসংখ্যা ছিল ১২লাখ। কিন্তু সফররত ফরাসি নাগরীক ৪০ হাজার পরিবার ছিল বলে মত প্রকাশ করেন।

                কাস্তেননহাদা ডি লোপেজ নগরীর ভবন সমূহের একটি বর্ণনা দিয়েছেন প্রাঙ্গণ বাগান সংলগ্ন ভবন  সমূহ ছিল নিচু আকৃতির এবং সোনালী ও নীলাভ টালি সজ্জিত। প্রতিটি ঘরের মেঝে সৌন্দর্য বর্ধক টালি দ্বারা আকৃতি। এ তথ্যের সমর্থন মেলে ২০০৪ সালে নভেম্বর মাসে ঐতিহাসিক গৌড়ের ছোট সোনামসজিদের আঙ্গিনা চত্বর খনন কালে অত্যন্ত মনজ্ঞ চিত্তাকষর্ক রঙ্গিন টালির বৃত্ত আবিস্করের পর হতে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব বিভাগ টালিগুলি উদ্ধার করে।

 

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found