x 
Empty Product

Articles

কাল্টার

User Rating:  / 0
PoorBest 

ভারত থেকে চোরাপথে আসা বিষাক্ত হরমোন কাল্টার ব্যবহারে হুমকির মুখে পড়েছে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কয়েকশ আমবাগান। গাছে এ হরমোন ব্যবহারে প্রথম দুবছর আমের বাম্পার ফলন হলেও এর পর থেকেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে আমবাগানগুলো। ব্যবহারের মাত্র চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই

ভারত থেকে চোরাপথে আসা বিষাক্ত হরমোন কাল্টার ব্যবহারে হুমকির মুখে পড়েছে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কয়েকশ আমবাগান। গাছে এ হরমোন ব্যবহারে প্রথম দুবছর আমের বাম্পার ফলন হলেও এর পর থেকেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে আমবাগানগুলো। ব্যবহারের মাত্র চার-পাঁচ বছরের মধ্যেই

মড়ক লেগে মারা যাচ্ছে আমগাছ। এ পর্যন্ত বিষাক্ত এ হরমোন ব্যবহারে ধ্বংস হতে বসেছে আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শতাধিক আমবাগান। কিছু অসৎ আম ব্যবসায়ীর অতি লোভের কারণে ব্যাপক ÿতির মুখে পড়ছে জেলার প্রধান এ অর্থকরি ফসল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমবাগান নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাগান মালিক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে গড়ে ওঠা আমবাগান থেকে প্রতি বছর গড়ে দেড় লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। আম মৌসুমকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে প্রতি বছর লেনদেন হয় হাজার কোটি টাকা। জেলার কয়েক লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান খাত আম বাণিজ্য। অথচ সেই আম নিয়ে চলছে এক ধরনের প্রতারণা। একশ্রেণীর মুনাফালোভী আম ব্যবসায়ী বাগান মালিকদের কাছ থেকে বাগান লিজ নিয়ে ব্যবহার করছেন ভারত থেকে চোরাপথে আসা হরমোনজাতীয় বিষ কাল্টার। বাংলাদেশে এ জাতীয় হরমন ব্যবহারে সরকারি অনুমোদন না থাকায় চোরাপথে ভারত থেকে আসছে এ ÿতিকারক বিষ। এ জাতীয় একটি হরমোনর বোতলের বর্তমান বাজার মূল্য ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। গাছের মূল কেটে প্রয়োগ করা হয় কাল্টার। এ হরমোন ব্যবহারে সাময়িকভাবে গাছের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। ফলে আমের উৎপাদন বেড়ে যায় দিগুণেরও বেশি। কিন্তু ব্যবহারের দুই-তিন বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে আম উৎপাদন কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে আস্তে আস্তে গাছগুলো মৃতুর কোলে ঢলে পড়ে। এ অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বাগান মালিকরা এখন কাল্টার আতঙ্কে ভুগছেন। বাগান ঠিক রাখতে অনেক মালিক বাগান লিজ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। সদর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের আমবাগান মালিক রাসেল ও মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে দুবছরের জন্য আম বাগান লিজ নিয়েছিল আম ব্যবসায়ীরা। কিন্’ তাদের না জানিয়েই বাগানে গাছের জড় কেটে এ কাল্টার হরমোন প্রয়োগ করেছে তারা। ফলে আগামী আম মৌসুমে ওই গাছগুলোয় অন্য বছরের তুলনায় দিগুণ থেকে তিনগুণ আম ধরবে। এসব ঘটনায় আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব এর বিষয়ে কথা বলেন আইনজীবী সামাদ খাঁন, তিনি জানান কার্যকর কোনো আইন না থাকায় ÿতিগ্রস্ত বাগান মালিকরা আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় সুপরামর্শ দিতে পারছি না বলে জানান তিনি।
 চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, গাছের মূল কেটে প্রয়োগ করা হয় কাল্টার। এ হরমোন ব্যবহারে সাময়িকভাবে গাছের গ্রোথ বেড়ে যায়। ফলে আমের উৎপাদনও বেড়ে যায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে। দু-এক বছর আম উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে উৎপাদন কমে আসে, ছোট হতে থাকে আমের আকার। আর পাতার সংখ্যা কমে গিয়ে আস্তে আস্তে মরে যায় গাছ। এ বিষাক্ত হরমোনের প্রভাব থেকে গাছকে মুক্ত রাখতে প্রচুর সেচ ও জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি বাগান মালিকদের।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found