x 
Empty Product

বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকে বেশ কয়েক বছর পেশাগত কাজে খুলনা শহরে হরহামেশাই যেতে হয়েছে। খুলনা শহরের ডাকবাংলো মোড় এলাকাজুড়ে ছড়ানো-ছিটানো ফলের দোকান। দোকানগুলোতে ল্যাংড়া আম বিক্রি হচ্ছে দেদার।
মে মাসের শেষ দিকেই খুলনার বাজারে ল্যাংড়া আম! আমি রাজশাহীর মানুষ। আম সম্পর্কে, বিশেষ করে উৎকৃষ্ট জাতের আম নিয়ে আমাদের আগ্রহ ও সচেতনতা জন্মগত। ল্যাংড়া আম জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে বাজারে আসবে—এ কথা কল্পনায়ও আসে না।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, খুলনার বাজারে আগাম ল্যাংড়া আম আসছে সাতক্ষীরা থেকে। সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও কলারোয়া উপজেলা এলাকায় আমের চাষ হয়ে থাকে। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা থানা এ ব্যাপারে বেশি এগিয়ে। প্রথম প্রথম ধারণা জন্মায়, সাতক্ষীরার ল্যাংড়া হয়তোবা বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর কিংবা দিনাজপুর অঞ্চলে উৎপাদিত ল্যাংড়া আমের চেয়ে অনেকটাই আশু বা আগাম পরিপক্বতা লাভ করে। এ ধারণা নিয়ে বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলো।
আমবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের প্রকাশনার কাজের জন্য ২০১০ সালে সাতক্ষীরায় যেতে হলো। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলায় একাধিক আমবাগান স্বচক্ষে দেখলাম। আমচাষি, বাগানমালিক, আম ব্যবসায়ী ও আম-সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের সঙ্গে কথা হলো। আমবিষয়ক অনেক তথ্যের আদান-প্রদান ঘটল। একটি বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া গেল—এখানকার বাগানের ল্যাংড়া আম আগাম পরিপক্ব হয় না। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর অঞ্চলের ল্যাংড়ার সঙ্গে তা পোক্ত হয়।
পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে নিশ্চিত হলাম। সাতক্ষীরা অঞ্চলে গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই—এ দুই জাতের আমের ফলন বেশি হয়। এর মধ্যে গোবিন্দভোগ আশু জাতের। বোম্বাই মধ্য মৌসুমি। সাতক্ষীরা অঞ্চলে ক্ষীরশাপাত আমের উৎপাদন কম নয়। ইদানীং রানিপছন্দ আম উৎপাদিত হচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলে। কিন্তু আমাদের জন্য এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে এই সাতক্ষীরার আম। বাংলাদেশের মানুষ যে জাতের আমগুলোর সঙ্গে অধিক পরিচিত, সেগুলোর মধ্যে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত ও হিমসাগর, ল্যাংড়া, রানিপছন্দ, ফজলি, আশ্বিনা, লক্ষ্মণভোগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ইদানীং যোগ হয়েছে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, মল্লিকা। সাতক্ষীরা থেকে ব্যাপকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে আসছে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, রানিপছন্দ, ল্যাংড়া ও গোবিন্দভোগ আম। সাতক্ষীরার উল্লিখিত জাতের আমগুলো পরিপক্ব হওয়ার ২০-২৫ দিন আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করে জোরজবরদস্তি পাকানো হচ্ছে।
গোবিন্দভোগ আম পরিপক্ব হয় মে মাসের ২০ তারিখ পার করে। অথচ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে গোবিন্দভোগের প্রথম চালান আসে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না, কার্বাইড ব্যবহার করে সে আম পাকানো হয়েছে। রাজধানীর মানুষ আগাম সে আম কিনছেন একটু বেশি দাম দিয়েই। কিন্তু খাবার টেবিলে আমের আসল স্বাদ পাচ্ছেন না। খুবই স্বাভাবিক। আম পোক্ত হওয়ার ১৫-২০ দিন আগেই গাছ থেকে নামালে আসল স্বাদ আসবে না। টক ভাব থেকেই যাবে। রসাল হবে না। সুগন্ধি থেকেও ভোক্তা হবেন বঞ্চিত।
এরপর গোপালভোগ। অতি উৎকৃষ্ট এই জাতের আম পোক্ত হতে শুরু করে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। আমরা ধরে নিতে পারি, মে মাসের ২৫ তারিখের পর থেকে গোপালভোগ আম বাজারে এলে দোষের কিছু নেই। তবে যিনি গোপালভোগ আমের আসল সমঝদার, তিনি জুন মাসের ১ তারিখের আগে কখনোই এই উৎকৃষ্ট স্বাদের আমটি খেতে চাইবেন না। অথচ সাতক্ষীরা থেকে অপরিপক্ব গোপালভোগ আম জোর করে পাকিয়ে মে মাসের ১০-১২ তারিখেই ঢাকার বাজারে তোলা হয়।
ক্ষীরশাপাত বা হিমসাগর আম বাংলাদেশের অতি উৎকৃষ্ট জাতের আমগুলোর মধ্যে একটি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামের মানুষ হিমসাগর আমের বড় ভোক্তা। হিমসাগরের প্রতি এদের দুর্বলতা যেন জন্মগত। হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত আম পোক্ত হতে শুরু করে জুন মাসের ১০-১২ তারিখের পর থেকে। ক্ষীরশাপাত কিংবা হিমসাগর আমের বনেদি ভোক্তারা জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে কখনোই এই আম ক্রয় করতে উৎসাহী হবেন না। না হওয়াই উচিত। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই ঢাকার বাজারে ক্ষীরশাপাত আমের ছড়াছড়ি। বিক্রি হচ্ছে হিমসাগর বলে। ঢাকার নাগরিকদের দুর্বলতার জায়গায় প্রতারণা করে অপরিপক্ব আম খাওয়ানো হচ্ছে।
জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে ল্যাংড়া আম বাজারে এলে সেই আম কখনোই কেনা উচিত হবে না। অতি উৎকৃষ্ট এবং দামি এই জাতের আম অপরিপক্ব অবস্থায় বেশি পয়সা খরচ করে কেনার কোনো যুক্তি নেই। ধারণা করছি, মে মাসের ২৫ তারিখের মধ্যেই শুরু হবে সাতক্ষীরা থেকে ল্যাংড়ার চালান আসা। এই আম খেতে মোটেই সুস্বাদু হবে না।
বাংলাদেশের আম ভোক্তাদের বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার অগণিত আম ভোক্তার অবগতির জন্য প্রাকৃতিক নিয়মে আম পরিপক্ব হওয়ার সময়পঞ্জি (ক্যালেন্ডার) দেওয়া হলো। ভোক্তা সচেতনভাবে সঠিক সময়ে তাঁর পছন্দের আমটি ক্রয় করতে পারলে বিষমুক্ত আমের প্রভাব থেকে নিজেকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মুক্ত রাখতে সক্ষম হবেন।

আম কত দিনে পুষ্ট হয়

আমের নাম  পরিপক্বতার সময়
গোবিন্দভোগ  ২৫ মের পর
গুলাবখাস  ৩০ মের পর
গোপালভোগ  ১ জুনের পর
রানিপছন্দ  ৫ জুনের পর
হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত  ১২ জুনের পর
ল্যাংড়া  ১৫ জুনের পর
লক্ষ্মণভোগ  ২০ জুনের পর
হাঁড়িভাঙা  ২০ জুনের পর
আম্রপালি  ১ জুলাই থেকে
মল্লিকা  ১ জুলাই থেকে
ফজলি  ৭ জুলাই থেকে
আশ্বিনা  ২৫ জুলাই থেকে

মাহবুব সিদ্দিকী, লেখক ও গবেষক। প্রকাশিত গ্রন্থ আম।



এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.prothomalo.com

Tuesday, 20 April 2021 16:20

আম ক্যালেন্ডার

Written by

কাঁঠাল জাতীয় ফল হলেও জনপ্রিয়তায় আম সবার ওপরে। উৎপাদন ও বাণিজ্যের বিচারে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল এটি। আমের মৌসুম পাঁচ মাস। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাস আমের বাজার থাকে রমরমা। ১৫ মে থেকে উন্নত জাতের আমের মৌসুম শুরু হয়। চলে সেই প্রায় আগস্ট মাস পর্যন্ত। পুরোটা সময় বাজারে বাহারি আমের দেখা মেলে। দেশের অন্যান্য ফলের সঙ্গে আমের তুলনা হয় না। এর প্রধান কারণ, আম এমন একটি ফল, যা অতিমাত্রায় শৃঙ্খলা মেনে চলে। প্রতিটি জাতের আম প্রায় নিজ নিজ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পরিপক্ব হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত উন্নত জাতের আমের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে আসে প্রায় ২৫ জাতের আম। এর মধ্যে অতি উন্নত জাতের আম রয়েছে মাত্র ১০টি। তবে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জাতের বাণিজ্যসফল আম দেশের বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাণিজ্যসফল আমের জাত রয়েছে মাত্র ১০টি। মুশকিলের বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষ আমভক্ত ও ভোক্তা হিসেবে বিশ্বে প্রায় শীর্ষ স্থানে থাকলেও সঠিক জাতের আম এখনো বেশির ভাগ ক্রেতা চিনতে ভুল করেন।

বেশির ভাগ মানুষ ভালোভাবে চিনতে পারেন মাত্র দুই থেকে তিন জাতের আম। এগুলো হলো ফজলি, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা। এর মধ্যে অনেকেই ফজলি ও আশ্বিনাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আম–সংস্কৃতির এই হচ্ছে বাংলাদেশের হাল অবস্থা। সত্যের যুগ তো নেই, এখন চলছে ছলচাতুরী ও প্রতারণার যুগ। তাই ফলের বাজারে রাসায়নিকের প্রভাবে চলছে একধরনের নীরব মৃত্যুর হিমেল হাতছানি। এর বড় কারণ, সাধারণ মানুষ নানা রঙের দারুণ স্বাদ ও গন্ধের আম পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেনার নেশায় ভুল করে বসেন। তাঁরা জানেন না প্রাকৃতিকভাবে কোন আম কখন পাকে এবং পরিপক্ব আম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.prothomalo.com/life



রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ যাদের এলাকায় ভাল মানের প্রচুর আম উৎপন্ন হয়, আমের বড় বাজার বসে, এবং কাছাকাছি বড় কোন ক্যুরিয়ার সার্ভিসের অফিস আছে।

প্রাথমিক মূলধন যা লাগবে

আইটিতে দক্ষতা (ওয়ার্ডপ্রেস ও উকমার্স ব্যবহার, ইমেইল, গুগল এ্যাড, ফেইসবুক এ্যাড, গ্রাফিক্স ডিজাইন)।
৩-৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ।

সম্ভাব্য মূনাফা

৩০ হাজার থেকে ১.৫ লাখ টাকা প্রতি মাসে গ্রোস মুনাফা আমের সিজনের তিন মাস।
বাকী সময়ে মার্কেটিং-এর কাজ চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর জুড়ে কোন আয় ছাড়া। এটা সম্পূর্ণই সিজনাল ব্যাবসা।

যেভাবে শুরু করতে হবে

প্রথমে নিয়ত করতে হবে ৫* মানের কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার। পুরো ব্যাবসাটাই হবে কাস্টমারের সন্তুষ্টির জন্য। এর সাথে কোন ভাবেই আপোষ করা যাবে না। প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হলেও কাস্টমারের সন্তুষ্টি আদায় করতে হবে। এমন কোয়ালিটির কাস্টমার সার্ভিস হতে হবে, যাতে একজন কাস্টমার একবার আম কেনার পরে বার বার আপনার কাছে ফিরে আসে। আমের দামের চেয়ে আপনার সার্ভিসটাই যেন তার কাছে মূখ্য হয়।
এক শব্দের একটা সহজবোধ্য নাম সিল্টেক্ট করতে হবে ব্যবসার যেটার ডোমেইন নেম খালি আছে এবং সহযেই ব্র্যাণ্ডিং করা যাবে।
ব্যাসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক একাউন্ট করতে হবে।
এরপর ওয়ার্ডপ্রেস এবং উকমার্স ব্যবহার করে মোবাইল ফ্রেণ্ডলী একটা চমৎকার দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে। দক্ষতা থাকলে নিজে করতে পারেন, বা কাউকে দিয়ে করাতে পারেন।
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেড করতে হবে, যাতে কাস্টমার সহযেই নিজের কার্ড, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি দিয়ে অটোমেটিক পেমেন্ট করার মাধ্যমে অর্ডার করতে পারে।
একটা ফেইসবুক পেইজ খুলতে হবে ব্যাবসার জন্য যেটা মার্কেটিং-এর জন্য ব্যবহার করতে হবে।
আম ডেলিভারীর জন্য কাগজের ব্র্যাণ্ডেড কার্টন তৈরী করতে হবে বিভিন্ন সাইজের। প্রাথমিক ভাবে বাজারে পাওয়া নন-ব্র্যাণ্ডেড কার্টন দিয়েও শুরু করতে পারেন, কিন্তু অর্ডার আশা শুরু হলে পরে তৈরী করে নিতে হবে। সাফল্য পেতে হলে ব্যাবসাটাকে ব্র্যাণ্ড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে যেকোন মূল্যে।
সেটাপ হয়ে গেলে আপনি ব্যাবসার জন্য রেডি।

যেভাবে অর্ডার প্রোসেস করতে হবে

  • ওয়েব সাইটে আপনার প্রোডাক্ট আপলোড করে দিতে হবে। আমের প্যাকেটের সাইজ হবে ১০, ১৫, ২০ কেজির। সাইট থেকে যে কেউ এই প্রোডাক্টগুলো বিভিন্ন কোয়ান্টিটির অর্ডার করতে পারবে।
  • কেউ অর্ডার করতে চাইলে যেকোন ধরনের আম ও প্যাকেট সাইজ সিলেক্ট করে পেমেন্ট করে দিলে অটোমেটিক অর্ডার কনফার্মেশন পাবে। আপনিও অর্ডারের নোটিফিকেশন পাবেন।
  • প্রতিদিন দূপুর ১২ টার মধ্যে যতগুলো অর্ডার আসবে, সেগুলো সেইম ডে তে বাজার থেকে কিনবেন, প্যাক করবেন, এবং ক্যুরিয়ারে বুকিং দিয়ে দিবেন। যত দ্রুত কাস্টমারের কাছে আম পৌছাবে, কাস্টমার ততই খুশি হবে। ওয়েব সাইটে এটা ফলাও করে প্রচার করবেন যে ১২ টার মধ্যে অর্ডার দিলে সেইম ডেতে অর্ডার প্রোসেস করা হবে।
  • এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেই আম আপনি বাজার থেকে কিনবেন, সেটা যাতে সবচেয়ে ভাল মানের আম হয়। আর কিনতে হবে দামাদামি করে সবচেয়ে কম দামে। এখানে স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে। যত কম দামে আম কিনতে পারবেন, ততই ভাল। কিছু আড়তদার এবং বাগান মালিক/ব্যাবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে হবে যাতে তাদের কাছ থেকে দমদামে ভাল মানের আম কিনতে পারেন।
  • আমের ব্যাসার নাম নিলে প্রথমেই মাথায় আসতে পারে বাগান কেনার কথা। ভুলেও এই কাজটা করা যাবে না। এটা হবে একটা বাজে বিনিয়োগ। রিস্ক বেড়ে যাবে। বাজারে যেই আম পাওয়া যায় সেখান থেকেই ভাল মানের আম কিনবেন বাজার দরে এবং দামাদামি করে। এতে আপনার আমের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে না। প্রথমেই যে প্রাথমিক বিনিয়োগের কথা বলেছি, সেটা আসলে খরচ করতে হবে ওয়েবসাইট তৈরী, আইটি ট্রেনিং, এবং মার্কেটিং এর পেছনে।
  • এই ব্যাসাটা যেহেতু ক্ষুদ্র ব্যবসা, এখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে রানিং কস্ট কমাতে। যত দিক দিয়ে সম্ভব খরচ কমাতে হবে।
    অফিস হবে নিজের বাড়িতেই। আলাদা কোন অফিসের দরকার নেই। স্টোরও হবে নিজের বাড়ি। সেই কারনেই স্থানীয়দের জন্য এই ব্যবসাটা আদর্শ হবে।
  • আম পরিবহনের জন্য নিজের একটা ভ্যান কিনে ফেললে পরিবহন খরচ বেঁচে যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে অন্যের ভ্যান দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে।
  • ক্যুরিয়ার সার্ভিসগুলো প্যাকিং-এর জন্য আলাদা চার্জ করে। এই খরচটা কমাতে হবে। নিজে প্যাকিং করতে হবে নিজের ব্র্যাণ্ডেড কার্টনে। কাস্টমার আম খুলে যাতে আগে নিজের ব্র্যাণ্ডটা দেখতে পায়। সেজন্য প্রফেশনাল লোগো ডিজাইন করতে হবে। কার্টনের ডিজাইনও প্রফেশনাল হতে হবে।
  • ওয়েবসাইটে আমের দাম রেগুলার আপডেট করতে হবে বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। যদি কখনো এমন হয়, আজকে যেই দাম হিসেব করে অর্ডার নিয়েছেন, বাজারে তার চেয়ে বেশী দামে আম কিনতে হয়েছে, পকেটের টাকা খরচ করে তখন অর্ডার মূল্যেই কাস্টমারকে আম পাঠাতে হবে। কোন ভাবেই অর্ডার ক্যান্সেল করা যাবে না বা কাস্টমারকে এই ব্যাপারে কিছুই বলা যাবে না (এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যদিও খুবই কম)।
  • আমের দাম হিসেব করতে হবে আমের ক্রয় মূল্য + কুরিয়ার চার্জ + প্যাকিং খরচ + মার্কেটিং খরচ + লাভ যোগ করে। উদাহরন হিসেবে এক মন (৪৫ কেজি) ল্যাংড়া আম ক্রয় মূল্য ১,৪০০ + ভ্যান ভাড়া ২০ টাকা বাজার থেকে ক্যুরিয়ার অফিস পর্যন্ত + প্যাকিং কস্ট ১০০ টাকা (৪ প্যাকেট) + ক্যুরিয়ার কস্ট ৫৮৫ টাকা (১৩ টাকা কেজি ঢাকার জন্য) + মার্কেটিং কস্ট ৪৫০ টাকা (১০ টাকা প্রতি কেজি) + লাভ ৪৫০ টাকা (১০ টাকা প্রতি কেজি) = মোট ৩,০০৫ টাকা / ৪৫ কেজি = ৬৭ টাকা কেজি। সেফটি মার্জিন রেখে আপনি দাম সেট করবেন ৭৫-৮০ টাকা কেজি। দাম হঠাৎ রেড়ে গেলে এই মার্জিন থেকে সমন্বয় হয়ে যাবে।

যেভাবে মার্কেটিং করতে হবে

  • পুরো ব্যবসাটাই নির্ভর করবে কোয়ালিটি প্রোডাক্ট ও মার্কেটিং এর উপরে।
  • প্রথমেই জানতে হবে আপনার টার্গেট কাস্টামার কারা। পুরো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আপনার টার্গেট কাস্টমার না। মাত্র সামান্য কিছু মানুষ আপনার টার্গেট। আপনি যদি তিন মাসে ৪,৫০০ অর্ডার সরবরাহ করতে পারেন, প্রতি মাসে দরকার ১,৫০০ অর্ডার, প্রতি দিনে ৫০ টা। এটা করতে পারলেই আপনার গ্রোস লাভ হবে ৪,৫০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা প্রতি কেজিতে লাভ = ৪৫০,০০০ টাকা লাভ সিজনে। সেখান থেকে শুধু একজন সাহায্যকারীর বেতন দিবেন। দিনে ১০ টা অর্ডার সরবরাহ করতে পারলে মাসে ৩০০ অর্ডার, সিজনে ৯০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা লাভ = মোট ৯০,০০০ টাকা তিন মাসে। যত দিন যাবে, ব্যবসার সুনাম বাড়বে, ততই ব্যবসাও বড় হবে।
  • সুতরাং যেটা বলছিলাম, আপনাকে শুধুমাত্র এই ৪,৫০০ কাস্টমার জোগাড় করার টার্গেট নিয়ে নামতে হবে।
  • টার্গেট করতে হবে এই কাস্টমারগুলোকে আপনার সার্ভিস দিয়ে সন্তুষ্ট করে পার্মানেন্ট কাস্টমার বানানোর। তার জন্য যা প্রয়োজন সবই করতে হবে। ভাল সার্ভিস বলতে বোঝাচ্ছি সবচেয়ে ভাল মানের আপ সরবরাহ করা – খেতে মিষ্টি দেখতেও সুন্দর, যত কম দাম সম্ভব রাখা, যত দ্রুত সম্ভব অর্ডার সরবরাহ করা যেটা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ, কোন সমস্যা হলে সৎভাবে সেটার সমাধান দেয়া যত দ্রুত সম্ভব – সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সাময়িক ক্ষতি হলেও মেনে নিতে হবে। তখনই একজন কাস্টমার সন্তুষ্ট হবে, একবার অর্ডার দিলে আবারো অর্ডার দিবে, নিজের পরিবারের জন্য দিবে, আত্মীয়দের জন্য দিবে। তারা যতই ফিরে আসবে, ততই আপনার লাভ।
  • প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে ক্যুরিয়ার সার্ভিসের ব্রাঞ্চগুলো ঢাকার কোন কোন জায়গায় আছে। সেই ব্রাঞ্চগুলোর ১ কি.মি. রেডিয়াসের মধ্যে ৩০+ বয়সের সমস্ত বিবাহিত লোককে টার্গেট করে গুগলে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এজন্য গুগল ডিসপ্লে নেটোয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। ক্যুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেহেতু হোম ডেলিভারী দেয় না, সুতরাং যেসব এলাকায় তাদের অফিস আছে তার কাছাকাছি লোকজনকে টার্গেট করলে তারা সহযেই আম ডেলিভারী নিতে পারবে এবং ঝামেলা কম বলে অর্ডার দিতে উৎসাহিত হবে।
  • একবার যারা আপনার সাইটে আসবে, তাদের সারা বছর রিমার্কেটিং করে আপনার ব্র্যাণ্ডের নাম স্মরন করিয়ে দিতে হবে যাতে আমের সিজনে আপনার এ্যাড দেখেই তাদের নিতান্ত পরিচিত ব্র্যাণ্ড বলে মনে হয় এবং অর্ডার করতে ভরসা পায়। এই কাজগুলো গুগল এ্যাডে সহযেই করা যায়। ফেইসবুকেও এই রিমার্কেটিংটা করতে হবে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগেই বলেছি, ব্যবসাটা সিজনাল, কিন্তু মার্কেটিং-এর কাজ চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর।
  • প্রশ্ন আসতে পারে, ফুটপাতে ৬০ টাকা কেজিতে যখন আম পাওয়া যায়, তখন আপনার কাছ থেকে তারা ৮০ টাকা কেজিতে কেন কিনবে? তারা কিনবে কারন মানুষের মনে ফুটপাতের / বাজারের আম সম্বন্ধে আতঙ্ক আছে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্যামিক্যালের। তাছাড়া মানুষের কিছু জিনিস সম্বন্ধে সহজাত ঝোক আছে – যেমন দেশী মুরগী, খাঁটি দুধ, হাঁসের ডিম, রাজশাহীর / ভেজালমুক্ত আম ইত্যাদি সম্বন্ধে। কাজেই তাদের এই দুর্বলতাটাকেই পুঁজি করে মার্কেটিং করতে হবে। আপনাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আপনার ব্র্যান্ড ঝামেলাহীনভাবে বাগানের ভেজালমুক্ত আম তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিবে। এই বিষয়ে যখনই কাস্টমারের বিশ্বাস আনতে পারবেন, তখনই আপনার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবে।
  • ফেইসবুক পেইজে নিয়মিত পোষ্ট করতে হবে বাগান, আম, আমের কোয়ালিটি, আম উৎপাদন, পরিচর্যা ইত্যাদি নিয়ে। তবে কখনোই বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেইসবুক লাইক আদায় করা যাবে না। এটা খুবই খারাপ বিনিয়োগ। স্বেচ্ছায় যারা পেইজে লাইক দিবে, সেটাই যথেষ্ট।
  • সাইটে একটা ব্লগ সেকশন রাখতে পারেন, যেখানে আম বিষয়ক বিভিন্ন লেখা ও ছবি পোষ্ট করতে পারেন।
  • সিজনের সময় এসে বিজ্ঞাপনটা জোর দিয়ে করতে হবে, এবং কল-টু-এ্যাকশন ব্যাবহার করতে হবে যাতে মানুষ এখনই অর্ডার করতে উৎসাহিউত হয়।

এই রকমের কতটা সাইট চলতে পারে

এক কানসাট বাজারে ঢাকা থেকে কতজন ব্যবসায়ী নিয়মিত আম কিনতে যায়? ততোটা ওয়েব সাইট শুধু কানসাট বাজারের উপর নির্ভর করে চললেও কোন সমস্যা নেই। একটা সাইট মাত্র হাজার পাঁচেক মানুষকে সার্ভ করলে কতগুলো সাইট ব্যবসা করতে পারবে ভেবে দেখেন। যে যত ভাল সার্ভিস দিতে পারবে, ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে, তার ততই ব্যাবসা বেশি হবে।

পরিশেষ

এই ডকে যা লিখলাম, এটা সমস্তটাই থিওরী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই মডেলটা খুব ভাল চলবে যদি যোগ্য লোক দ্বারা সঠিক ভাবে অনুসরন করা হয়। আমি নিজে যদি ব্যবসাটা করতাম, ঠিক এভাবেই করতাম। যেহেতু করছি না, তাই সবাইকে জানালাম। যদি কেউ পারবেন মনে করেন, করে দেখতে পারেন। যদি আরো কোন পরামর্শ দিতে পারি, অবশ্যই দিব। আমি এখানে শুধু আম বিক্রির কথা বললাম। লিচুও একই ভাবে বিক্রি করা সম্ভব দিনাজপুর থেকে। অথবা বরিশাল থেকে পেয়ারা। কুমিল্লা অঞ্চল থেকে সবজিও হতে পারে। মানুষ বাগান থেকে সরাসরি ভেজালমুক্ত টাটকা জিনিস পেতে বরাবরই আগ্রহী, বিশেষ করে ঢাকায়। আর এগুলো সবকিছুতেই চলছে মধ্যস্বত্তভোগীদের রাজত্ব। সুযোগ আছে এখানে ব্যবসা করার।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.uddokta.net

সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা ফলের রস খেলে শরীর জুড়িয়ে যায়। এ কারণে অনেকেই গরমের এ সময় ইফতারিতে নানা ধরনের ঠান্ডা শরবতের ব্যবস্থা রাখেন। যেহেতু এখন আমের সময় তাই চাইলে কাঁচা আমের শরবত যোগ করতে পারেন এই তালিকায়। বিশেষ করে যারা টক ফল পছন্দ করেন তাদের জন্য ইফতারে এই শরবত বাড়তি স্বাদ যোগ করবে।

উপকরণ : পাতলা স্লাইজ করে কাটা আম ১ কাপ, লবণ এক টেবিল চামচ, চিনি স্বাদমতো, লেবুর রস ১ চাচম( ইচ্ছে হলে), পুদিনা পাতা ৮-১০-টা, ধনে পাতা আধা চা চামচ, ঠান্ডা পানি প্রয়োজন অনুযায়ী।

প্রস্তুত প্রণালী  : প্রথমে টুকরা করা আমগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করুন। এরপর পুদিনা পাতা ছাড়া এক এক করে অন্য উপকরণগুলো যোগ করুন। ঠান্ডা পানি মিশিয়ে চাহিদা অনুযায়ী পাতলা বা ঘন রাখুন। গ্লাসে ঢেলে পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://samakal.com/



যশোরের কেশবপুরে আমের বাম্পার ফলনের পরেও ভাল নেই আম চাষীরা। করোনার মহামারির কারণে আম রপ্তানিতে ধ্বশ নামার শঙ্কায় বেপারিরা আমের বাগান কিনতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় প্রতিবছরই আবাদ বাড়ছে। চলতি বছরে আম চাষ হয়েছে প্রায় ৬শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পাঁজিয়া ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আমের বাগান রয়েছে। এ অঞ্চলে আ¤্রপালি, লেংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, হিমসাগর থাই, গোপালভোগ, বারি ১০, দেশি, বেনারসি সিতাভোগ ও রসে ভরা বোম্বাই জাতের আম আবাদ করা হয়।

এর মধ্যে হিমসাগর ও আম্রপালির চাহিদা বেশি। গত সপ্তাহে এ অঞ্চল দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক আম গাছ থেকে গুটি ঝড়ে পড়েছে। বৈশাখ মাসের শেষের দিকেই ওই আম পাকতে শুরু করবে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সম্প্রতি ঝড়ো হাওয়া ও খরার কারণে অনেক গাছ থেকে গুটি ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পরও পর্যাপ্ত আম রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বৈশাখ মাসের শেষের দিকেই আম পাকতে শুরু করলে চাষী ও বেপারিরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে করোনার কারণে ব্যবসায় লোকসান হওয়ার শঙ্কায় বেপারিরা চাষীদের কাছ থেকে আম কিনতে অনীহা প্রকাশ করছে।

করোনার কারণে এ বছর আমের দাম নিয়ে তিনি চিন্তিত। পরিস্থিতি ভালো না হলে আম বিক্রিতে তিনি লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন। উপজেলার মজিদপুর গ্রামের আম চাষী মোতাহার হোসেন বলেন, গতবছর প্রায় ১ লাখ টাকায় আম বিক্রি করেছিলেন। করোনার কারণে এবার ২০ হাজার টাকা বলেছেন। করোনার কারণে আম ব্যবসায়ীরাও চিন্তিত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বছরে উপজেলার ৬শ হেক্টর জমিতে আবাদ করা গাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন সম্ভব। খরার কারণে আমের গুটি ঝড়ে পড়া রোধ করতে চাষীদের গাছের গোড়ায় পানি দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া আম গাছের পোকা ও রোগ দমনের জন্য চাষীদের কিটনাশক এবং ছত্রাক নাশক ¯েপ্র করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://patradoot.net/2021/04/20/354110.html

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাছ থেকে আম ‘চুরি’ করাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বায়জিদ, শুভ, শফিউল্লাহ, রিফাত ও গাফ্ফারসহ বেশ কয়েকজন তরুণ মাহবুব আলমের গাছ থেকে আম পেড়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে মাহবুব আলম ও তার বড় ভাই গুলজার হোসেনের সঙ্গে শুভর বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শুভ, বায়জিদ, শফিউল্লাহ, রিফাতরা মাহবুব আলমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ভাঙচুর চালায় ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। শনিবার সকালে এটি গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা হলেও শুভ শালিস না মেনেই চলে যায়। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে শুভ ও তার সহযোগীরা মাহবুব আলমের এক প্রতিবেশীর ওপর হামলা চালায়। পরে গ্রামবাসী একজোট হয়ে শুভ ও তার সহযোগীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় দুপক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ আহত হয়।

 

ভুলতা ফাড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.dhakatimes24.com

গরমের সময় কাঁচা আম কুড়িয়ে খাওয়া বা বানানো আচার, চাটনি লুকিয়ে লুকিয়ে খাওয়া সে এক আলাদাই ব্যাপার। সেই মজা যারা অনুভব করেছে তারাই বুঝতে পারবে। তবে যতই সময় এগিয়েছে ততই সেই দিনগুলি হারিয়ে গিয়েছে জীবন থেকে। কিন্তু এখনো গরমকালে আমপ্রেম না হলে চলে নাকি? অনেক তো খেয়েছেন সেই একধারার রেসিপি।

এবার ট্রাই করুন অন্য কিছু। একেবারে টক-ঝাল এফেক্ট দেবে এমন কিছু বানিয়ে ফেলতে চান? এই রেসিপিটি সত্যিই অবাক করবে। ইতিমধ্যেই শিরোনাম পড়েই অনেকে ক্লিক করেছেন সঙ্গে সঙ্গে। কেউ কেউ আবার নাক সিঁটকোচ্ছেন। কিন্তু একবার হলেও এই সহজ রেসিপিটি দেখুন ট্রাই করে। পরিবারের লোকেরা যেমন অবাক হবেন তেমন আপনিও পাবেন আলাদা প্রশংসা। এই রেসিপির নাম “কাঁচা আম দিয়ে মুরগি”।

উপকরণ: কাঁচা আম ২টি, মুরগির মাংস আধা কেজি, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল চামচ, কাঁচা লঙ্কা বাটা ১ চা চামচ, আদা বাটা ২ চা চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো আধা চা চামচ, পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, লবণ ২ চা চামচ, দারুচিনি ২টি, জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, এলাচ ৪টি।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.kolkata24x7.com

স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় এই ক্ষিরসাপাত। আমটির
আকৃতি মাঝারি, গোলাকার দেখতে। আমটির গড় ওজন ২৬৩.৯ গ্রাম। আমটির বোটা মোটা এবং শক্ত। গা মসৃণ, পাকার পর নিন্মাংশ সবুজ থেকে যায়। বোটার আশেপাশে হলুদ
রাং ধারণ করে। আশবিহীন এই আমটির শাসের রং হলুদ। আমটির খোসা সামান্য মোটা।
খোসা ছাড়ালে এমনিতেই শাস
আটি থেকে বেড়িয়ে আসে।
ফলটি সুগন্ধযুক্ত ও রসালো, বেশ মিষ্টি। গড় মিষ্টতা ১৮.৪ %। এর আহারোপযোগী অংশ শতকরা ৬৭.২ ।

 

ষিরসাপাত/হীমসাগর আম পরিচিতি
----------------------------------------------
হিমসাগর/খিরসাপাত হল ব্যাপক জনপ্রিয় আম। রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার আশে পাশের মানুষ এটাকে খিরসাপাত নামেই ডাকে তবে ঢাকার লোকেরা এটাকে হিমসাগোর নামেই বেশি চেনে।অভিজাত শ্রেনীর এ আমের অসাধারন রং,অতুলনীয় মিষ্টি স্বাদ ও গন্ধ। এই আমের মিষ্টি সুগন্ধ ও স্বাদ পৃথিবীর অন্যান্য আমের থেকে ভিন্ন । তাই আম চাষের ক্ষেত্রে হিমসাগর আম চাষের কথা প্রথমে বিবেচনা করা হয় । হিমসাগর আম এতোই জনপ্রিয় যে , এই আমকে আমের রাজা বলা হয় । এই আমের ভিতরের রং হলুদ ও কমলা(রং) এবং কোন আঁশ নেই । একটি স্বাভাবিক আমের ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম হয়ে থাকে যার ৭৭ শতাংশই হল আম বাকি ৩৩ শতাংশ আমের আটি ।আমটির গড় মিষ্টতার পরিমান১৮.৪ ভাগ।এর আহরনযোগ্য অংশ ৬৭.২ অংশ। এটি আমের একটি ভাল বিশিষ্ট । হিমসাগর আমের স্বাদ অন্যান্য জনপ্রিয় আম আল্পফন্স ও ল্যাংড়া আমের থেকে ভাল । এই আমকে ভালবেসে ১০০+ লেখক কবিতা লিখেছেন । ভারত ও বাঙলায় এই আম ছাড়া গ্রীষ্মকাল ভাবাই যায় না ।
হিমসাগর আম জুন মাসে গাছে পাকতে শুরু করে এবং জুনের শেষের দিকে পূর্ণ বাজারজাত করা হয় ।দেশের বিভিন্ন জেলাতে এ আমটি জন্মে তবে চাঁপাইয়ে হিমসাগোর আকারে বড় ও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়।এ আমটি আমাদের নিজেস্ব ও লিজ নেওয়া বাগানগুলো থেকে সংগ্রহ করে ১০০% ফরমালিন, কার্বাইড ও সকল প্রকার কেমিক্যাল মুক্ত আম আপনাদের কাছে পোঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
আমাদের আমের বৈশিষ্টসমূহঃ-
১। রাসায়নিক ব্যাবহার করে কৃত্রিমভাবে রং করা হয়না
২। ফরমালিন, ক্যালসিয়াম বা কোন ধরনের কেমিক্যাল নাই ।
৩। সরাসরি বাছাইকৃত নিজ বাগান থেকে সংগ্রহ করা আম।
৪। প্রতিটি আম সাস্থসম্মত ও পরিপক্ব।
৫। প্রাকৃতিক স্বাদ,গন্ধে অটুট,এবং মিষ্টতায় ভরপুর।
৬। গাছে আম পাকা শুরু হবার সময় সংগ্রহ করা হয়।
৭। ১০০% ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত আম।
 
আমের রাজা ল্যাংড়ার পরের স্থানটি দখল করে আছে যে আম টি তার নাম খিরসাপাত/হীমসাগর। গোলাকৃতি মাঝারি সাইজ এর এই আমটি ওজনে ১৫০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাজশাহী ও তার আশেপাশের মানুষ এটাকে খিরসাপাত নামেই ডাকে তবে ঢাকার লোকেরা এটাকে হীমসাগর নামেই বেশি চেনে। অসাধারণ রং, অতুলনিয় মিষ্টি স্বাদ ও গন্ধ, খোসা কিছুটা মোটা, আঁঠি পাতলা, কম আঁশযুক্ত, ১০০% রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত রাজশাহীর আম।

বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা ও উৎকৃষ্টতা দুই দিক থেকেই হিমসাগর আম অনেক এগিয়ে। ক্ষিরসাপাত আমের সাথে এর অনেক মিল রয়েছে। দেখতে প্রায় একই রকমের। তবে স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আছে। জুনে মাসের প্রথম সপ্তহ থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তহ পর্যন্ত এ আম পাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থাতে হাল্কা সবুজ ও পাকলে সবুজাভ হলুদ রং ধারণ করে। এর ত্বক মসৃণ খোসা মাঝারি ধরনের পুরু হয়। এটি আঁশবিহীন, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু ও অত্যন্ত রসালো একটি ফল।

স্বাদে অপূর্ব আমটি খেতে খুবই মিষ্টি। অন্যান্য আমের তুলনায় আকারে বেশ বড়। বিন্দু পরিমান আঁশ নেই । রসে টইটম্বুর । আম পরিপক্ক হলে হলুদ বর্ন ধারন করে । নিশ্চিন্ত মনে চোখ বন্ধ করে খাওয়া যায় । একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছা করে। হিমসাগর ও ক্ষিরসাপাত উভয় জাতের আম রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষিরা অঞ্চলে বেশি উৎপাদিত হয়। এ আমটি গাছে প্রচুর ধরে। এর চাহিদা বাংলাদেশের সর্বত্র এবং আমটি ব্যাপক বাণিজ্যিক সফলতা লাভ করেছে।
 

এ মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজারে এসেছে মধুমাসের মধুফল ক্ষীরশাপাতি ও হিমসাগর আম। এই আম দুটির মধ্যে ক্ষীরশাপাতি মোটামুটি জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যাবে। হিমসাগর আম পাওয়া যাবে জুন মাসের শেষ নাগাদ।

এরপর ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর নামে যেসব আম পাওয়া যাবে, সেগুলোর স্বাদ স্বাভাবিক আমের মতো হবে না। মনে রাখবেন, ফল হিসেবে আম খুবই শৃঙ্খলা মেনে চলে। যখন যে আমের পরিপক্ব হওয়ার কথা, তার এক সপ্তাহ আগে বা পরে ছাড়া সেই আম পাওয়া যায় না।

 


ক্ষীরশাপাতি
বাংলাদেশে উৎপন্ন অল্পসংখ্যক অতি উৎকৃষ্ট জাতের আমের মধ্যে ক্ষীরশাপাতির স্থান শীর্ষে। ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি ও গোপালভোগ—এই তিনটি আমের জাতকে আমভক্ত বাঙালি গুণ-মানের বিচারে শীর্ষে রেখেছেন। কোন আমটি সর্বশ্রেষ্ঠ, এর বিচার হয়নি, হবেও না কোনো দিন। কারণ, এই তিনটি আমের ভক্তের দল প্রায় সমান তিন শিবিরে বিভক্ত। কাজেই অনন্তকালব্যাপী চলতে থাকবে সর্বশ্রেষ্ঠ আম নির্বাচনের প্রতিযোগিতা, কিন্তু ফলাফল আসবে না কোনো দিনও।

ক্ষীরশাপাতি আম আশু জাতের। জুন মাসের শুরু থেকেই পরিপক্বতা লাভ করে বাজারে আসতে থাকে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্ষীরশাপাতি বাজারে পাওয়া যায়। তবে জুন মাসের ৭ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ক্ষীরশাপাতি আমের আসল সময়। আমটির আকৃতি মাঝারি। দেখতে অনেকটা গোলাকার। একেকটির ওজন গড়ে ২৬৩ গ্রাম। ক্ষীরশাপাতি আমের বোঁটা বেশ মোটা এবং শক্ত। ত্বক মসৃণ, পাকলে ঊর্ধ্বাংশ অর্থাৎ বোঁটার আশপাশে হলুদ রং ধারণ করে। আমের মধ্যাংশ থেকে নিম্নাংশ হালকা সবুজ।

ক্ষীরশাপাতি সাধারণত গড়ে ৮ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়ে থাকে। ফলটির প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। ক্ষীরশাপাতির খোসা সামান্য মোটা। আঁশবিহীন আমটির শাঁস হলুদাভ। ফলটি সুগন্ধযুক্ত, রসাল ও অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদের। এর খাবার উপযোগী অংশ শতকরা ৬৭ দশমিক ২ ভাগ। খোসা ছাড়িয়ে নিলে এমনিতেই শাঁস আঁটি থেকে বেরিয়ে আসে। অনেক জাতের উচ্চমানের আম রয়েছে, যেগুলো গাছপাকা অবস্থায় খেলে টকের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ রয়ে যায়। এগুলো গাছপাকা অবস্থায় গাছ থেকে নামিয়ে অন্তত তিন থেকে চার দিন ঘরে রাখার পর মিষ্টতা আসে। এ-জাতীয় আম হচ্ছে মল্লিকা, মোহনভোগ, আশ্বিনা, বৃন্দাবনি ইত্যাদি। ক্ষীরশাপাতি পাকা অবস্থায় গাছ থেকে নামিয়ে কেটে ফালি করে খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। ক্ষীরশাপাতির মিষ্টতার পরিমাণ ১৯ শতাংশ। গাছ থেকে সংগ্রহের পর আমটি ছয় থেকে আট দিন পর্যন্ত ঘরে রাখা যায়। এই ফলের আঁটি পাতলা।

ক্ষীরশাপাতির ফলন খুব ভালো। তবে জাতটি অনিয়মিত। প্রতিবছরেই ফল আসবে না। যে বছর গাছে ফল আসবে, পরিমাণে অল্প আসবে না। গাছে ফল দিয়ে ভরে যাবে। আমটি অত্যন্ত বাণিজ্যসফল। নবাবগঞ্জ জেলার সর্বত্র, বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলায় সর্বাধিক ক্ষীরশাপাতি আমের চাষ হয়ে থাকে। এখানকার বাগানে উৎপাদিত ক্ষীরশাপাতি গুণে ও মানে সর্বোৎকৃষ্ট। নবাবগঞ্জ ব্যতীত রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, বগুড়া, নওগাঁ, পাবনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ক্ষীরশাপাতি আমের আবাদ হয়ে থাকে। তবে নবাবগঞ্জের পরেই ক্ষীরশাপাতি উৎপাদনে রাজশাহীর স্থান অগ্রগণ্য। ক্ষীরশাপাতির আরেকটি জাত রয়েছে ক্ষুদিক্ষীরশা নামের। এই আম আসল ক্ষীরশাপাতির চেয়ে ওজনে সামান্য কম। স্বাদ একই রকমের। ক্ষুদিক্ষীরশার রং কালচে সবুজ। আসল ক্ষীরশাপাতি হালকা সবুজ রঙের হয়ে থাকে। উভয় জাতের মূল্য ও মান একই পর্যায়ের। ক্ষুদিক্ষীরশা নবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলার সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে এখনো প্রবেশ করতে পারেনি।

ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল—এসব জেলায় হিমসাগর নামের জাতটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। হিমসাগর ও ক্ষীরশাপাতির স্বাদ প্রায় একই রকমের। দেখতেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় না। তবে হিমসাগরের উৎপাদন অত্যন্ত কম হওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা ক্ষীরশাপাতি আমকে হিমসাগর বলেই বিক্রি করছেন উল্লিখিত জেলাগুলোর শহর ও বাজারে। ক্রেতাসাধারণ সানন্দে ক্ষীরশাপাতি আম কিনছেন হিমসাগর মনে করে। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্ষীরশাপাতি একান্তই বাংলাদেশের আম। ধারণা করা হয়, মুর্শিদাবাদের নবাবদের বাগান থেকে প্রথম উদ্ভাবিত হয়েছিল ক্ষীরশাপাতি। মুকুল আসার পর মোট চার মাস সময় নেয় আমটি পোক্ত হতে। আমটি চেনার সহজ উপায় হচ্ছে এটি দেখতে অনেকটা গোলাকার, বোঁটা বেশ মোটা। পৃষ্ঠদেশের কাঁধের চেয়ে সম্মুখে কাঁধ অপেক্ষাকৃত স্ফীত। ফলটির অবতল বা সাইনাস এবং ঠোঁট নেই বললেই চলে। শীর্ষদেশ গোলাকৃতির।


হিমসাগর
বাংলাদেশে অতি উৎকৃষ্ট জাতের মধ্যে হিমসাগরের অবস্থান প্রায় শীর্ষে। হিমসাগর আম জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করে এবং পুরো জুন মাস বাজারে পাওয়া যায়। হিমসাগর জাতটি আশু বলা যেতে পারে; পাশাপাশি মধ্য মৌসুমি জাতের আম হিসেবেও গণ্য করা যায় একে।

হিমসাগর আমের গাছের আকৃতি মাঝারি। একটি হিমসাগর আমের গাছ ১২ বছর বয়সী হলে পূর্ণাঙ্গভাবে ফল দিতে সক্ষম হয়। ফলন মাঝারি এবং অনিয়মিত। হিমসাগর আম পূর্ণতাপ্রাপ্ত হলে এর গড়ন বুকের দিকটা গোলাকার এবং অবতল বা সাইনাস থেকে সামান্য লম্বাটে আকার নিয়ে শীর্ষদেশ গোলাকৃতির হয়ে থাকে। পরিপক্ব হিমসাগর আমের রং হালকা সবুজ। পাকার পরেও সবুজ থেকে যায়। ত্বক মসৃণ, খোসা পাতলা। আমটির ঠোঁট নেই। হিমসাগর অত্যন্ত উৎকৃষ্ট স্বাদের সুগন্ধযুক্ত আম। শাঁস নরম এবং আঁশবিহীন। শাঁস কমলা রঙের। আমটির খাবারের উপযোগী অংশ ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ। হিমসাগর আম সুমিষ্ট। টিএসএস বা মিষ্টতার পরিমাণ শতকরা ২২ দশমিক ৮৪ ভাগ। পরিপক্ব আম সংগ্রহ করার পর আট দিন পর্যন্ত ঘরে রাখা যায়। ফলটির গড় ওজন ২১৯ গ্রাম। লম্বায় ৮ দশমিক ৬৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলের বোঁটা বেশ শক্ত বলে ঝোড়ো হাওয়া সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। ক্ষীরশাপাতি আমের সঙ্গে হিমসাগর আমের বেশ কিছুটা সাদৃশ্য থাকার কারণে এই আমকে অনেকেই ক্ষীরশাপাতি মনে করে ভুল করে থাকেন। আবার ক্ষীরশাপাতি আমকে হিমসাগর নামে বিক্রি করা হয়। ক্ষীরশাপাতি ও হিমসাগর আমকে আলাদা করা সহজ হবে রঙের পার্থক্য দেখে। পাকার পর ক্ষীরশাপাতি আমের ওপরের অংশ হলুদ রং ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে হিমসাগর আম পাকার পরেও সবুজাভ হালকা হলুদ রঙের হবে।

আমটির চাহিদা বাংলাদেশের সর্বত্রই। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় হিমসাগর আমের চাষ খুব কম। এই জাতের চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায়, মেহেরপুর জেলার সদর উপজেলায়, সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কলারোয়া ও তালা উপজেলা এলাকায়। উল্লিখিত এলাকার আমবাগান থেকে ভরা মৌসুমে ট্রাকবোঝাই হিমসাগর আম ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল জেলার বাজারগুলোয় চলে আসে। ঢাকার বাজারে এ সময় হিমসাগর আমের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি।

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা এবং ভারতের নদীয়া জেলায় উৎপাদিত হিমসাগর আমের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় উৎপাদিত শাদওয়ালা বা শাদৌলা নামের অতি উৎকৃষ্ট জাতের আমের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। একই কথা ক্ষীরশাপাতির ক্ষেত্রেও বলা যায়। মুর্শিদাবাদের নবাব শাদৌলা আমের সবচেয়ে বড় সমঝদার ছিলেন বলে জানা যায়।

বিদ্রঃ এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে।

Tuesday, 20 April 2021 15:55

ল্যাংড়া আম

Written by

এটি আসল ছবি না্ এটি একটি প্রতিকি ছবি:

আমের রাজা নামে পরিচিত ল্যাংড়া আম। ওজন ২০০-৭০০ গ্রাম। অগ্রিম প্রজাতির এই আমটি আমের মৌসুমের শুরুতেই পাওয়া যায় । অসাধারণ রং, অতুলনিয় মিষ্টি স্বাদ ও গন্ধ, খোসা পাতলা। আঁঠি পাতলা, আঁশহীন । ১০০% রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত রাজশাহীর আম।

বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই ল্যাংড়া আম জন্মে থাকে। তবে চাঁপাই, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর এলাকায় এই আম বেশি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ফজলি আমের পরেই এ আমের বাণিজ্যিক সফলতার অবস্থান। এই আমের ফলন খুব ভাল। জুন মাসের ১৫ তারিখের দিকে এ আম বাজারে আসে।

বাংলাদেশে যে কয়টি অতি উৎকৃষ্ট জাতের আম রয়েছে এগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া আম জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে। আমটি আকৃতি অনেকটা ডিম্বাকার গোলাকৃতি। পাকা অবস্থায় হালকা সবুজ থেকে হালকা হলুদ রাং ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় আমের গন্ধ সত্যিই পাগল করা। অত্যান্ত রসালো এই ফলটির মিষ্টতার পরিমাণ গড়ে ১৯.৭%। বোটা চিকন। আটি অত্যন্ত পাতলা। আমটির খাওয়ার উপযোগী অংশ গড়ে ৭৩.১%, গড় ওজন ৩১৪.১ গ্রাম।

Tuesday, 20 April 2021 15:28

আম গাছের উপকারিতা

Written by

আম, আম পাতা ও গাছ।।
উপকারিতা :
• অতি গরমের সময় কাঁচা আম পুড়িয়ে সরবত করে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে।
• আগুনে পুড়ে গেলে আম পাতার প্রলেপ লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।
• আম গাছের ছাল বেটে (২ চা চামচ) ৪৫০ গ্রাম পানিতে সেদ্ধ করে যখন পানি শুকিয়ে ১০০ গ্রাম থাকবে তখন তা পান করলে কৃমি রোগ সারবে।
• বমি বমি ভাব হলে কপি আম পাতায় ঘি ও চন্দন মাখিয়ে শুঁকলে বমি ভাব কমবে।
• দুই চা চামচ আম গাছের ছাল বেটে নিয়ে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেটের অসুখ আমাশয় সারে।
• কচি আমের কুশী বাটা, ১ টা চাঁপা কলা ও গরুর দুধ একসঙ্গে চটকে খেলে মেয়েদের প্রদর রোগ সারে। দিন সাতেক খেতে হবে।
• আমের কুশী রৌদ্রে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নস্য নিলে (নাক দিয়ে টানলে) নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।
• বেশী মাংস খাওয়ার জন্য যদি বদহজম হয় তাহলে আমের কুশী বা কাঁচা আম বাটা খেলে তার উপশম হয়..

ঠাকুরগাঁও সদরের আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রোপণ করা লিচুগাছে আম ধরেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে গাছ থেকে সে আমটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকালে এলাকার সাবেক মেম্বার সিকিম এ আমটি ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুল হক সরকার নামে একজন লিখেছেন, সদর উপজেলা বালিয়া এলাকায় লিচু গাছে আম ধরার দৃশ্য দেখার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এলাকার সিকিম মেম্বার আমটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।

লিচু গাছের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, লিচুগাছটি বাড়িতে লাগানো। ওই গাছে লিচুর একটি থোকায় লিচুর সঙ্গে একটি আম ধরতে দেখা যায়। বিষয়টি আমার নাতি হৃদয় প্রথম দেখতে পায়। এরপর এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পারে।

তিনি আরো বলেন, চারদিকে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এলাকার সাবেক মেম্বার সিকিম সকালে লিচুগাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে। এতে যারা আমটি দেখতে আসছেন তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মেম্বার আমটি ছিঁড়ে ঠিক করেননি।

অভিযুক্ত মেম্বার সিকিম বলেন, লিচুগাছে আম দেখার জন্য সারাদিন অনেক দূর থেকে গাড়ি নিয়ে মানুষ আসছে। এতে সোমবার (১৯ এপ্রিল) আমার ভাতিজা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাই রাগের মাথায় আমটি ছিঁড়ে ফেলেছি। পরে বুঝতে পেরেছি এটি করা ঠিক হয়নি।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.jagonews24.com/country/news/660457

বৈশাখে সাধারণত থাকে ঝড়বাদল। কিন্তু রাজশাহী অঞ্চলে এবার বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশে মেঘেরও দেখা নেই। বৈশাখী খরতাপে পুড়ছে রাজশাহী। বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়ছে কৃষকের বেরো ধান চাষের সেচ খরচ। খরতাপে শুকিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর গাছের আম আর লিচুর গুটি।

[৩] লিচুর গুটি বাঁচাতে পবা উপজেলার হরিপুর এলাকায় গাছের গোড়ায় বালতি বালতি পানি ঢালছিলেন মকসেদ আলী। তিনি বললেন, ‘এইবার লম্বা সময় বৃষ্টি নাই। এ রকম হলে চলে কী করে! সূর্যের তাপে মনে হচ্ছে গাছের পাতা কুকড়ে যাচ্ছে, লিচু টিকবে কী করে? তাই গাছের গোড়ায় পানি ঢালছি। যদি উপকার হয়!’

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাপাল গ্রামের আমচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, খরায় তাঁর আমের কড়ালি ঝরে পড়ছে। বৃষ্টি হলে আমগুলো রক্ষা পেত। সাইফুল বলেন, সকাল-বিকাল সাধ্যমতো গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছি। কিন্তু আবহাওয়া এত গরম যে ওপরের কড়ালির লাভ তেমন একটা হচ্ছে না। আমের জন্য এই মূহুর্তে একটা ভাল বৃষ্টি দরকার বলেও জানান এই চাষি।

[৫] রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহী মহানগরীর পূর্ব দিকে পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার কিছু অংশে গত ১১ এপ্রিল ৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ৯ এপ্রিল সেদিকে দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শহরেরই পশ্চিম প্রান্ত থেকে গোদাগাড়ী, তানোর এবং মোহনপুর, পবা, দুর্গাপুর এবং বাগমারায় বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি। ফলে রাজশাহীতে তাপদাহ কমছে না।

[৬] রাজশাহীজুড়ে এখন কখনও চলছে মৃদু এবং কখনও মাঝারি তাপদাহ। দিনের তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর থাকলে তাকে মাঝারি তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলে মৃদু তাপদাহ। আর ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপদাহ হিসেবে ধরা হয়।

[৭] রুক্ষ আবহাওয়ায় হঠাৎ এক বাতাসে গত ৪ এপ্রিল জেলার ২৮ হেক্টর জমির ধান হিটশকে নষ্ট হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল বলেন, তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় বোরো ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। একদিন শুধু লু হাওয়ায় পুড়েছে ২৮ হেক্টর জমির ধানের শীষ। তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকলে আমরা যে তাপমাত্রা রেকর্ড করি না কেন, এর চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হবে। তখন মনে হয় লু-হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এখন বাতাসে আদ্রতা কম, তাপমাত্রা বেশি।

[৮] রাজশাহীর এই তাপমাত্রা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবি মানুষ। সর্বাত্মক লকডাউনের ভেতরেও যারা নানা কাজের সন্ধানে রাস্তায় বের হচ্ছেন তাঁরা হাসফাস করছেন গরমে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগর ভবনের সামনে রিকশা নিয়ে বসেছিলেন জুলমত আলী। তিনি বলেন, এত বেশি সূর্যের তাপ যে মনে হচ্ছে রাস্তার পিচ থেকে উত্তাপ উঠছে। রাস্তায় চলাচল করা কঠিন।

[৯] জুলমত বলেন, লকডাউনের জন্য মোড়ে মোড়ে পুলিশ রিকশা আটকাচ্ছে। তখন রোদের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছেন, ততক্ষণ গায়ে বাতাস লাগছে না। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতেই লকডাউনে বের হওয়ার ‘শিক্ষা’ হয়ে যাচ্ছে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.amadershomoy.com

Page 1 of 49