x 
Empty Product

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুই বছর হলো শুরু করা হয়েছে বারোমাসী আম চাষ। উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়াতাইর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল একটি আমবাগান। বাগানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’।

শীতকালেও হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে আম। এতে উৎসাহিত হয়ে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই ভির করছেন সাধারণ মানুষ।

রোববার সকালে বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, আম গাছের কোনো অংশে আমের মুকুল। কোনো অংশে মুকুল থেকে বের হয়ে আসা বোল। আবার বোল থেকে গুটি গুটি আম। কোনো কোনো ডালে পরিপূর্ণ পাকা আম। বাগানে আম ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজি, মাল্টা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের চাষও করা হয়েছে।

আমবাগানটি গড়ে তুলেছেন তিনবন্ধু মিলে। হলেন, শহিদুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ মামুন ও সোহেল রেজা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে থাকে।

তারা জানান, চল্লিশ বিঘা জমির উপর মিশ্র ফলের বাগানটি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বিঘা জমিতে বারোমাসি আম বারি-১১ ও কাটুমিন জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার বিঘা জমিতে বারি-১১ জাতের আম চাষ করা হচ্ছে।

২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর ফলের বাগানটি গড়ে তোলা তারা। পরে আরও ৩৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগানটি বড় করা হয়। বাগানে রকমারি ফলের চাষ করা হচ্ছে। দুইবছর হলো সেখানে বারোমাসি আম কাটিমুন ও বারি-১১ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ফলচাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমরা ৫০০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আমের দাম ভালো পাওয়া যাবে।

তিনবন্ধু যেভাবে হলেন ফলচাষী

শহিদুল, মামুন ও সোহেল তিনজনই কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষি সম্প্রসারণের এক জরিপে দেশসেরা কৃষক নির্বাচিত হন মামুন। এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নির্বাচিত করে মামুনকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি দেশে ফিরে এসে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। আরেক উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম। তিনি জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরেন। আর সোহেল বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) থেকে বারোমাসি আম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

পরবর্তিতে তারা যৌথভাবে বিভিন্ন নার্সারী থেকে চারা সংগ্রহ করে ৫ বিঘা জমির ওপর একটি ফলের বাগান তৈরি করেন। সফলতা পাওয়ায় তারা আরও ৩৫ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। পরে তারা সেখানে বারোমাসি আমের চাষ শুরু করেন।

বারি আম-১১ বারোমাসি জাতের আম অর্থাৎ সারা বছরই ফল দিয়ে থাকে। বছরে তিনবার ফল দেয় এ জাত। নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আহরণের উপযোগী হয়।

ফল লম্বাটে ( লম্বায় ১১.৩ সেন্টিমিটার ) এবং প্রতিটি আমের গড় ওজন ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। কাঁচা আমের ত্বক হালকা সবুজ। আর পাকলে ত্বক হয় হলুদাভ সুবজ। আম গাছটির উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুট। গাছটির কোনো অংশে মুকুল, কিছু অংশে আমের গুটি, কিছু অংশে কাঁচা আম, আবার কোথাও পাকা আম। একটি গাছেই ফুটে উঠে আমের ‘জীবনচক্র’। এটি খেতে সুস্বাদু, তবে একটু আঁশ আছে। ফলের শাঁস গাঢ় হলুদ বর্ণের। এই জাতের ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী গাছ থেকে প্রতিবার ৬০ থেকে ৭০টি আম আহরণ করা যায়।

এছাড়াও এই জাতের একটি গাছে বছরে প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত আম হয়ে থাকে। বারি আম-১১ এর এক বছর বয়সী গাছে আমের মুকুল আসে। আম গাছের একটি থোকার মধ্যে ৫ থেকে ৬ টি আম থাকে।

আমের উচ্চফলনশীল এই জাতটি বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ উপযোগী। আমের এই জাতটি সম্পূর্ণ দেশীয়, হাইব্রিড নয়।

মে মাস আমের মৌসুম হওয়ায় এ মাসে আমের ফলন বেশি হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগস্ট মাসে, তৃতীয় পর্যায়ে নভেম্বর এবং চতুর্থ পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আম পাকবে।

এছাড়াও দেশে বারি-১১ এর পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ‘কাটিমুন’ নামে একটি বারোমাসি আমের চাষ হচ্ছে। বগুড়া শেরপুর উপজেলা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায় এই আমটির চাষাবাদ হয়।

জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আকতার জানান, খামারকান্দি ইউনিয়নে মাগুড়াতাইর গ্রামে ৪০ বিঘা জমির ওপর মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানকার ফলচাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কেউ ফলের চারা নিতে যোগাযোগ করলে আমরা তাকে ওই বাগানের পাঠিয়ে দেই। বাগানটি আগে আমাদের মাল্টা প্রদর্শনী প্রজেক্ট ছিল। সেখানে আমাদের কৃষক মামুন মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছে। সেখানে বারোমাসি আমের চাষ শুরু করে তারা অনেক লাভবান হচ্ছেন।

র্তমানে বাংলাদেশে যতগুলো ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে তার মধ্যে আম অন্যতম। এদেশের মানুষ আম বেশি পছন্দ করে। আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে নতুন রাজধানী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে নওগাঁর। দেশের মোট উৎপাদিত আমের সিংহ ভাগই আসে নওগাঁ থেকে। যা এতদিন ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের দখলে।এক ফসলি জমিতে ধান চাষের চেয়ে আম চাষ লাভজনক। আর এ কারণেই প্রতি বছর দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে। মাটির বৈশিষ্ট্যগত (এঁটেল মাটি) কারণে নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।এইসব কে সামনে রেখে আগামী মৌসুমে আমের ভাল ফলন পেতে আত্রাইয়ের বাগান মালিকরা আগাম আম বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই বেশিরভাগ আম গাছে মুকুল চলে আসে। উদ্যানপালন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই আমবাগানের বিশেষ পরিচর্যা জরুরি। তা না হলে ফলনে প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে যে আবহাওয়া চলছে, তাতে আম ও লিচুবাগানে জাবপোকার পাশাপাশি ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। সেইসঙ্গে দেখা দিতে পারে কালো ক্ষত বা অ্যানথ্রাকনোস রোগ। ঠান্ডায় কোল্ড ইনজুরিতেও আক্রান্ত হতে পারে আমগাছ।কুয়াশার কারণে সকালের দিকে পরিবেশে যে ভিজেভাব থাকে, তাতে ছত্রাক জন্ম নেয়। এই ছত্রাককে দমন করতে না পারলে পরবর্তীতে আমের ফলনের ক্ষতি হতে পারে। তবে অনেক কৃষক জাবপোকা ও ছত্রাক দমন করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত হারে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন, যাতে গাছের ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে রোগপোকা দমনে সুনির্দিষ্ট কীটনাশক আর সেভাবে কাজ করে না।কোল্ড ইনজুরি থেকে আমগাছকে বাঁচাতে পানি স্প্রে করা যেতে পারে। কুয়াশার কারণে ছত্রাকের আক্রমণ রুখতে কিংবা আমগাছে কালোক্ষত বা অ্যানথ্রাকনোস রোগ প্রতিরোধে কার্বেন্ডাজিম ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে। মুকুল আসার মুখে যদি আম ও লিচুগাছে শোষক পোকার আক্রমণ দেখা যায়, তা হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড ১ মিলি প্রতি তিন লিটার পানিতে গুলে আঠা সহযোগে স্প্রে করতে হবে।

মুজিবনগর আম্রকাননসহ জেলার বাগানের আমগাছগুলো মুকুলে ভরে গেছে। মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে আম বাগানগুলো। তাই বাগানগুলোতে মধু সংগ্রহে মৌ মাছিদেরও ছোটাছুটি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আম চাষিদের ব্যস্ততা। এটি এখন মেহেরপুরের মুজিবনগর আ¤্রকাননসহ জেলার আম বাগানগুলোর সাধারণ দৃশ্য। বাগানের মালিকেরা আমগাছে ওষুধ ছিটানোসহ বিভিন্ন ধরণের যত্ন-আত্মি বেড়ে গেছে ।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটে যাবে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, স্বাদের দিক থেকে মেহেরপুরের আম জগত জুড়ে। সুস্বাদু হওয়ায় এ জেলার আমের চাহিদা দেশের সব জেলা ছাড়িয়ে ইউরোপ মহাদেশেও তার সুখ্যাতি ছড়িয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে-সাথে আমের বাগানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেহেরপুরের মুজিবনগরে বৃটিশ শাসনামলে তৈরী মুজিবনগর আ¤্রকাননে ১২শ’ আমগাছ আছে। ওই বাগানে ১২শ’ আমগাছ ১২শ’ জাতের। জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সব জাতের আমেরই চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষিজমিতে তৈরী করা হচ্ছে আমের বাগান।

 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোমরদহ গ্রামের আমচাষী জাহিদুল হাসান জানান, শীতের তীব্রতা থাকলেও এবার আমগাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের আমচাষী মুকুল বিশ্বাস জানান, বাগানের নিয়মিত যত্ন নিলে অফ ইয়ার বলে কিছু থাকে না। প্রতি বছরই গাছে আম আসবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স্বপন কুমার খাঁ জানান, তিনটি পর্যায়ে আমের মুকুল আসে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সব গাছে মুকুলে ভরে যাবে। জেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। আমচাষের জেলা রাজশাহী হলেও সুস্বাদু আমের জেলা মেহেরপুর। এখানকার মাটির গুণেই হিমসাগর, লেংড়া, বোম্বাই, তিলি বোম্বাই ইত্যাদি জাতের আম খুবই সুস্বাদু। বিশেষ করে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, আশ্বিনা জাতের বাগান বেশি থাকলেও গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪ জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। সেই সঙ্গে নতুন-নতুন বাগান তৈরী হচ্ছে বনেদি ও হাইব্রিট জাতের। নিয়মিত যত্ন নিলে আমের অফ ইয়ার বলে কিছু থাকে না। সূত্র: বাসস

Sunday, 10 January 2021 08:05

বারি-১৩ আম

Written by

বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে কৃষি বিপ্লব। দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা কৃষি গবেষণা প্রযুক্তিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার দরুন প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন করা হচ্ছে নতুন নতুন ফসলের জাত। এরই মধ্যে দেশের বিজ্ঞানীরা আমের বেশ কয়েকটি আমের জাত উদ্ভাবন করেছন। যার মধ্যে রঙ্গিন জাতের একটি আম বারি-১৩ অন্যতম। বারি-১৩ একটি আঁশবিহীন রঙ্গিন জাতের জাম যা উচ্চ ফলনশীল। এছাড়াও এই জাতের আম গড় ওজন ২২০ গ্রামের হয়ে থাকে। ফলে দেশের প্রান্তিক আম চাষিদের কাছে এই আমটি দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে (আম গবেষণা কেন্দ্র) ১৫ বছরের গবেষণার মধ্যে দিয়ে  সাফল্যের মুখ দেখে গবেষক দল। উক্ত আম উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দিন । সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে আমটি অবমুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে।

২০০৫ সালে বারি আম-৩, অর্থাৎ আম্রপালি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সংগ্রহ করা রঙিন আম পালমারের মধ্যে সংকরায়নের মাধ্যমে আমটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। আম্রপালিকে মা ও পালমারকে বাবা ধরে সংকরায়ণ করে Hy-059 লাইন সৃষ্টি করা হয়।

নতুন এ জাতের আম লম্বাটে ও মাঝারি আকৃতির হয়, গড় ওজন ২২০ গ্রাম, সবচেয়ে বড় বিষয় এটি নাবী জাতের , উচ্চ ফলনশীল ও নিয়মিত ফল দেয়, শেষ জুলাই থেকে আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ এ আম সংগ্রহ করা যায়, পরিপক্ক সংগৃহিত আম সাধারণ তাপমাত্রায় ৮দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ আমের ভক্ষণযোগ্য অংশ শতকরা ৭৪.৬৭ ভাগ, মিষ্টতা শতকরা ২১ ভাগ।

 

আমের দেশ হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চল। তবে বরেন্দ্রর চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা সাম্প্রতিককালে আমের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা, পেয়ারা ও ড্রাগনের চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে মতিউর রহমান নামের এক কৃষক কমলার চাষ শুরু করেন! বরেন্দ্রর রুক্ষ লাল মাটিতে যা কয়েকবছর আগেও কৃষকদের কাছে ছিল স্বপ্নের মত। কিন্তু কমলা চাষে মতিউর রহমানের চোখ ধাঁধানো সাফল্য যেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে!

কম খরচে অতুলনীয় স্বাদ ও ঘ্রাণের কমলা উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষের স্বপ্ন দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ অনুকূলে থাকায় এই এলাকায় কমলা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। 

মতিউর রহমানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে অসংখ্য হলুদ ফল। তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা-পাকা কমলা। এটি নিঃসন্দেহে যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। মাল্টার পর এবার কমলা ফলিয়ে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছেন এই কৃষক। এর আগে তার হাত ধরেই বরেন্দ্র ভূমিতে মাল্টার বিপ্লব ঘটে।

মতিউরের কমলা বাগান। ঢাকা ট্রিবিউন

মাল্টার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ৪ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝিলিম ইউনিয়নের জামতাড়া এলাকায় তার ১৬ বিঘার মিশ্র ফল বাগানে ২০ প্রজাতির কমলা নিয়ে কাজ শুরু করেন বৃক্ষ রোপণে জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া এই ফল চাষি। কিন্তু সফলতা পান যুক্তরাষ্ট্রের মেন্ডারিন, চায়না, দার্জিলিং ও অস্ট্রেলিয়া এই চার জাতের কমলায়। বর্তমানে তার বাগানে গাছের সংখ্যা ৫৫০টি। এবার প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে আশাতীত। গাছ রোপণের দ্বিতীয় বছরেই ফল পেলেও; কাঙ্খিত সাফল্য পান চার বছরের মাথায়।

সফল কমলাচাষি মতিউর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, এবার প্রতিটি গাছে গড়ে ফলন পেয়েছেন ৩০ থেকে ৪০ কেজি। বাগান থেকে প্রতিকেজি কমলা বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গত বছর কমলা থেকে আয় হয়েছিল ২ লাখ টাকা; এবার ৫ লাখের আশা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি কমলার প্রায় ২০ হাজার চারা বিক্রি করেছেন। এ বছর টার্গেট ৫০ হাজার চারা তৈরির। আর আকারভেদে এসব চারার দাম ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ চারা দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠবে মাল্টার মতই বাণিজ্যিক কমলার বাগান।

মতিউর রহমান বলেন, “আমার মত নতুন উদ্যোক্তারাও বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে মাল্টার মতই লাভবান হবেন।”  

এদিকে, তার সফলতা দেখে জেলায় এখন অনেকেই শুরু করেছেন বাণিজ্যিক কমলার চাষ। আর এ ফল চাষে সরকারি সহায়তা চান বরেন্দ্র অঞ্চলের ফল বাগানিরা।  সফল ফল চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, “আমি ৮৪০ বিঘার ফলের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। যেখানে পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন, ১৮ জাতের আম, সফেদা, পার্সিমনসহ বিভিন্ন জাতের ফলের চাষ করছি। পাশাপাশি দেশি বিলুপ্ত প্রায় ফল নিয়েও আমরা গবেষণা কার্যক্রম এবং সম্প্রসারণে কাজ করছি। এবার আমার ফলের প্রজেক্টে নতুন সংযোজন করেছি কমলা চাষও। মতিউর ভাইয়ের সফলতায় আমি মুগ্ধ হয়ে তার কাছ থেকে কলম চারা সংগ্রহ করে ৭০ বিঘা জমিতে কমলার বাগান গড়ে তুলেছি। এখন আমার গাছের বয়স পাঁচমাস। আশা করছি সমানের বছর আমিও ফল পাব এবং সফল হব।”

 

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলা রঞ্জন দাসও এই কমলা বাগান পরিদর্শন করেছেন এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের এই ভূমিতে উদ্যোক্তা চাষি মতিউর রহমান কমলা ফলিয়ে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছেন এমন মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয় স্থানীয় প্রশাসনও পরিদর্শন করেছেন এই কমলা বাগান এবং মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন মতিউরের কমলা চাষের সফলতায়। কমলা বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার কমলা বাগান দেখতে আসছেন অনেক উদ্যোক্তা ও চাষি। 

কথা হয় কমলার বাগান দেখতে আসা হাসিব হোসেন নামে এক যুবকের সাথে। তিনি বলেন, “কমলার টানে মতিউর ভাইয়ের বাগান দেখতে এসেছি। থোকায় থোকায় কমলা দেখে আমি অভিভূত। বাগান থেকে কমলা পেড়ে খেলাম। যা কখনোই ভাবিনি। এর স্বাদ ও মিষ্টতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। সবমিলিয়ে আলাদা ধরনের এক অনুভূতি। আমি মনে করি এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে সব পর্যায় থেকে সহায়তা করা উচিত। এতে যারা উদ্যোক্তা রয়েছে তারা অনুপ্রাণিত হবে। মতিউরের এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগগুলো বেঁচে থাকুক এই প্রত্যাশা করছি।”

“তবে এই ফল চাষের কিছু সমস্যাও রয়েছে। গাছে মাকড়ের আক্রমণ এবং ফল আসলে ফ্রুটফ্লাইয়ের উপদ্রব দেখা দেয়। যা দমনে বাড়তি সর্তকতার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য দরকার ফল কার্যকর গবেষণা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা”, বলেন চাষি মতিউর রহমান।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পোকামাকড় বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়। সেক্ষেত্রে এবামেকটিন গ্রুপের ইনসেক্টিসাইড সিডিউল স্প্রে করলে এটা দমন করা সম্ভব এবং ফ্রুটফ্লাইয়ের ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগিং, পাশাপাশি অন্যান্য যেসব প্রযুক্তি আছে বায়োলজিক্যাল; সেগুলো ব্যবহার করলে এবং সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। চাষিরা সজাগ থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করলে চাষিরা ভালো প্রযুক্তি পাবে এবং উৎপাদনে কোনো ব্যাঘাত হবে না। তবে স্থায়ী সমাধানে এবং ফ্রুটফ্লাই দমনে আরও কার্যকর গবেষণার দরকার আছে বলেও মনে করেন ফল গবেষকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের জার্মপ্লাজম অফিসার জহুরুল ইসলাম বলেন, “এ অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু কমলা চাষের জন্য উপযোগী। তাই মাল্টার মতো এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী আমরা। এটি জেলায় ভালো হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে আমরা মতিউর রহমানের উৎপাদিত কমলা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। গত বছর আমাদের ল্যাবে বিদেশি আমদানিকৃত কমলা এবং এখানকার উৎপাদিত কমলা পরীক্ষা করেছি। সেখানে দেখা গেছে আমদানিকৃত কমলার চেয়ে এখানকার উৎপাদিত কমলা কোনও অংশেই কম নয়। খোসা পাতলা। সহজেই ছাড়ানো যায় এবং ভেতরের কোয়াও বেশ সুন্দর। এটি খেতে সুস্বাদু এবং মিষ্টতাও বেশ ভালো।”

এই ফল গবেষক আরও জানান, দেশে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ে ভালো মানের দেশি ফলের প্রাপ্যতা অনেক কম; সেদিকে দৃষ্টি দিলে চাষিরা কমলা চাষ করলে বিদেশি এই ফলের আমদানি নির্ভরশীলতা অনেকটা কমে আসবে এবং বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে লাভবান হবে। তবে ভালো বাগান গড়ে তুলতে মাতৃগাছের কলম চারা রোপণের পরামর্শ এই ফল গবেষকের।

আর কৃষি বিভাগ বলছে, এ ধরনের ফল উৎপাদনে কৃষকদেরকে সহযোগিতা করে আসছে কৃষি বিভাগ। সরকারিভাবে এই ফলের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনাও। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, “এখানকার কৃষকরা কমলা চাষের যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, তাতে আগামী দিনে এই বরেন্দ্র ভূমিতে মাল্টার মতো কমলাতেও আমরা সফল হব। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহী ও উদ্যোক্তা চাষিদের আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট, প্রশিক্ষণ, পাশাপাশি ভালো চারা পেতে সহায়তা করছি। শুধু তাই নয়, আমরা সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমেও কমলা চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছি প্রতিটি উপজেলায়। আমরা আশা করছি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাল্টার মতো কমলা চাষ সম্প্রসারণেও সফল হব।”

 

নিউজটি আমাদের নিজস্ব না। আমের এই বিশেষ খবরটি সবার কাছে সহজলোভ্য করার জন্য নিউজিট এখানে প্রকাশ করা হয়েছে। নি্‌উজিটর সকল কৃতিত্ব ও স্বত্ত শুধুমাত্র  https://www.rajshahipost.com

জৈষ্ঠ্য মাসের মধুফল আম যদি পৌষের শিশিরে ভিজে থাকে তাহলে একটু আশ্চর্য হতেই হবে। চোখ কপালে উঠলেও সত্যটা এমনি যে, বগুড়ায় এখন বারোমাসি আম চাষ শুরু হয়েছে। জেলার শেরপুর উপজেলায় ৩ বন্ধু মিলে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৯ হাজার বারোমাস আম চাষ করে ফলন পেতে যাচ্ছে। শীতকালেও আম চাষে সফলতা পাওয়ায় এলাকায় আম দেখতে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ।

বারোমাসি আম বাগানটি গড়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়াতাইর গ্রামে। প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে এই মিশ্র ফলের বাগান। এরমধ্যে আঠার বিঘাতে জমিতে বারোমাসি আম চাষ করা হয়েছে। সেখানে নয় হাজার আমের গাছ রয়েছে। সেসব গাছে মুকুল ধরেছে। আবার কোন কোন গাছে আম ঝুলছে। কোন গাছে কাঁচা আবার কোন গাছে পাকা আম। বারোমাসি এই বাগানচি গড়ে তুলেছে তিন বন্ধু মামুন রশিদ, সোহেল রেজা ও শহিদুল। এরমধ্যে মামুন ও সোহেল মাস্টার্স পাস করেছেন। আর এইচএসসি পাস করেছেন শহিদুল। বাগানটির নাম দিয়েছে ‘ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’। এই ফার্মে আম ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার শীত সবজি, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের চাষও করে। 

তিন বন্ধু মামুন, সোহেল ও শহিদুল জানান, ২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর বাগানটি গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে আরও ৩৫বিঘা বিশ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে বাগানের পরিসর বাড়ানো হয়। তাদের বাগানে প্রায় ১৫ হাজার রকমারি ফলমূলের গাছ রয়েছে। এরমধ্যে বারোমাসি আম কার্টিমন ও বারি-১১, মাল্টা, পিয়ারা ও কুল। অন্যান্য ফলের উৎপাদন ভাল হলেও বর্তমানে বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত তারা। অসময়ে পাওয়া এই ফলের চাহিদাও বাজারে অনেক বেশি। তাই এই বগুড়া জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতেও এই আম বিক্রি হচ্ছে। 

পাইকারি আগে তিনশ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এখন পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি করছেন। ইতিমধ্যে দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত এক লাখ টাকার আম বাগানে রয়েছে। সবমিলে এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। অনেকেই বারোমাসি আমের চারা কিনতে আসছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই মিশ্র ফলের বাগান থেকে এক কোটি টাকার আম, কুল ও পিয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মিশ্র বাগানের উদ্যোক্তাদের একজন মামুনুর রশিদ জানান, তারা কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই ছোট বেলা থেকেই কৃষিকাজের তাদের প্রতি আগ্রহ ছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশসেরা কৃষক হিসেবে নির্বাচিত করে মামুনকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। তিনি সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে আসেন। এরইমধ্যে সোহেল রেজা বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) থেকে বারোমাসি আম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আরেক উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরেন। পরবর্তীতে এই তিন বন্ধু যৌথভাবে বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। এরপর আরও জমি লিজ নিয়ে সেখানে লাগান বারোমাসি আম, পিয়ারা, মাল্টা ও কুল গাছের চারা। সময়ের ব্যবধানে বাগানটিতে লাগানো রকমারি ফলমূলের পনের হাজার গাছ রয়েছে। সেসব গাছে উৎপাদিত ফল বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে তাদের মিশ্র ফলের বাগানের বারোমাসি আম বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, বারোমাসি আম চাষ বাড়ছে। তাই চাষীদের সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই এই জাতের ফলের বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। যার দৃষ্টান্ত হচ্ছেন এই তিন শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তা। এই বারোমাসি আমের বাগান করে নিজেরা বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এ উপজেলায় মিশ্র ফলের বাগান বাড়ছে। তার দপ্তর থেকে পরামর্শসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় মাগুড়াতাইর গ্রামটিতে গড়ে ওঠা ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের মিশ্র ফলের বাগানেও একইভাবে সহযোগিতা করছেন। শিক্ষিত তিন বন্ধুর এই মিশ্র ফলের বাগানটি মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলতি মাসে বাজারে পাওয়া যাবে পাকা আম। সুস্বাদু ও মিষ্টি রসালো ফল আম সবারই পছন্দ। তবে বাজার থেকে আম কেনার পর অনেকে ক্রেতা বুঝতে পারেন না তিনি কোন আম কিনছেন।

 

কিনেছেন গোপালভোগ কিন্তু বাসায় এসে জানা গেলো এটি লক্ষণভোগ। আবার দেখা যায় ফজলীর জেনে কিনে এনেছেন আশ্বিনা।

অনেকেই আম কিনতে গিয়ে এসব সমস্যার সম্মুখীন হন।তাই পছন্দের আম কিনতে চাইলে আম চেনা জরুরি।

আসুন জেনে নিই কোন আম দেখতে কেমন?

গোপালভোগ

গোপালভোগের গায়ে হলুদ ছোপ ছোপ দাগ আছে। এটির নিচের দিকে একটু সরু হয়ে থাকে। এই আম পাকার পর হলুদ হয়ে যায়। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পাওয়া যায় এই আম।।

রাণী পছন্দ

রাণী পছন্দ দেখতে অনেকটা গোপালভোগের মতই। এর গায়েও হলুদ দাগ আছে কিন্তু আকারে ছোট। ফলে গোপালভোগের সঙ্গে রানী পছন্দ মেশালে আলাদা করা কষ্টকর।

খিরসাপাত আম

এই আম বাজারে পাওয়া যায় মে মাসের শেষে বা জুনের প্রথম সপ্তাহে। খুবই মিষ্টি খিরসাপাত আম অনেকে হিমসাগর বলে বিক্রি করেন। এই আম আকারে একটু বড় হয়। আমে হালকা দাগ আছে।

আশ্বিনা ও ফজলী

আশ্বিনা আর ফজলী আম দেখতে একই রকম। তবে আশ্বিনা আম একটু বেশি সবুজ ও ফজলী আম একটু হলুদ হয়। আশ্বিনার একটু পেট মোটা হয় ও ফজলী দেখতে লম্বা ধরনের হয়।

বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ

বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ চেনার সহজ উপায় হলো নাক আছে মাঝামাঝি স্থানে। মিষ্টি কম ও পাকলে হলুদ রং আসে। সাধারণত জুন মাসের শুরুর দিকে এই আম বাজারে পা্ওয়া যায়।

রুপালী আম বা আম্রপালি

রুপালী আম বা আম্রপালি নিচের দিকে একটু সুঁচালো, উপরে একটু গোল। এই আমরা মিষ্টি বেশি ও স্বাদে ভিন্নরকম।

ল্যাংড়া

ল্যাংড়া আম দেখতে কিছুটা গোলাকার ও মসৃণ। এটির নাকটি দেখা যায় নিচের দিকে। এর চামড়া খুবই পাতলা।

পরিপক্ক আম যেভাবে চিনবেন

পাকা আম সাধারণ হলুদাভ হয় এবং পানিতে রাখলে ডুবে যায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Saturday, 19 December 2020 18:12

৩৪৬ জাতের আমের নাম

Written by

আমের প্রকারভেদ (জাত)

  1. ফজলি
  2. আশ্বিনা
  3. ক্ষীরমন
  4. সেন্দুরা গুটি
  5. ল্যাংড়া
  6. গৌড়মতি
  7. গোপালভোগ
  8. মধু চুষকী
  9. বৃন্দাবনি
  10. লখনা
  11. তোতাপুরী (ম্যাট্রাস)
  12. রাণী পছন্দ
  13. ক্ষিরসাপাত
  14. আম্রপালি
  15. হিমসাগর
  16. বাতাসা
  17. ক্ষুদি ক্ষিরসা
  18. বোম্বাই
  19. সুরমা ফজলি
  20. সুন্দরী
  21. বৈশাখী
  22. িয়ার চারা
  23. রসকি জাহান
  24. হীরালাল বোম্বাই
  25. ওকরাং
  26. মালদা
  27. শেরীধণ
  28. শামসুল সামার
  29. বাদশা
  30. রস কি গুলিস্তান
  31. কন্দমুকাররার
  32. নাম ডক মাই
  33. বোম্বাই (চাঁপাই)
  34. ক্যালেন্ডা
  35. রুবী
  36. বোগলা
  37. মালগোভা
  38. হিমসাগর রাজশাহী
  39. কালুয়া (নাটোর)
  40. চৌষা লখনৌ
  41. সিডলেস
  42. কালিভোগ
  43. বাদশাভোগ
  44. কুষ্ণকলি
  45. পাটনাই
  46. গুটি লক্ষনভোগ
  47. বাগান বিলাস
  48. গুটি ল্যাংড়া
  49. পাটুরিয়া
  50. পালসার
  51. আমিনা
  52. কাকাতুয়া
  53. চালিতা গুটি
  54. রং ভীলা
  55. বুদ্ধ কালুয়া
  56. রাজলক্ষী
  57. মাধুরী
  58. ব্যাঙ্গলোরা
  59. বন খাসা
  60. পারিজা
  61. চন্দনখোস
  62. দুধ কুমারী
  63. ছাতাপোরা
  64. চোষা
  65. জিলাপি কাড়া
  66. শীতল পাটি
  67. পূজারী ভোগ
  68. জগৎ মোহিনী
  69. দিলসাদ
  70. বিশ্বনাথ চ্যাটার্জি
  71. বেগম বাহার
  72. রাজা ভুলানী
  73. নাবি বোম্বাই
  74. সিন্দি
  75. ভূতো বোম্বাই
  76. গোলেক
  77. বারি আম ৭
  78. কালী বোম্বাই
  79. চকচকা
  80. পেয়ারা ফুলী
  81. ভ্যালেনাটো
  82. সিন্দুরী ফজলী
  83. আমব্রা
  84. গুলাবজামুন
  85. আলম শাহী
  86. অস্ট্রেলিয়ান আম
  87. মায়া
  88. দাদাভোগ
  89. শরবতি ব্রাউন
  90. আলফান
  91. রত্না
  92. লাড্ডু সান্দিলা
  93. ছোটীবোম্বাই
  94. কালিজংগী
  95. দ্বারিকা ফজলি
  96. মিঠুয়া
  97. বোম্বে সায়া
  98. বোম্বে গ্রিন
  99. তোহফা
  100. কাচ্চা মিঠা মালিহাবাদ
  101. তৈমুরিয়া
  102. জাহাঙ্গীর
  103. কাওয়াশজি প্যাটেল
  104. নোশা
  105. জালিবাম
  106. বাগান পল্লি
  107. ভারতভোগ
  108. ফজরী কলন
  109. সাবিনা
  110. সেন সেশন
  111. লতা বোম্বাই
  112. আল্লামপুর বানেশান
  113. আর-২ এফ-২
  114. শ্রাবণী
  115. ইমামপছন্দ
  116. জনার্দনপছন্দ
  117. কৃষ্ণভোগ
  118. সারুলী
  119. ইলশে পেটী
  120. কলম বাজি
  121. ইয়াকুতিয়া
  122. গুটী
  123. ভুজাহাজরী
  124. ম্যাটরাজ
  125. সামার বাহিতশত আলীবাগ
  126. গোলাপবাস
  127. জুলী
  128. ভেজপুরী
  129. কালুয়া গোপালভোগ
  130. কলম সুন্দরী
  131. বনারাজ
  132. ম্যাডাম ফ্রান্সিস
  133. মিক্সড স্পেশাল
  134. মোহাম্মদ ওয়ালা
  135. সফেদা মালিহাবাদ
  136. খান বিলাস
  137. জাফরান
  138. মধু মালতী
  139. জিতুভোগ
  140. পলকপুরী
  141. কাকরহিয়া সিকরি
  142. পাথুরিয়া
  143. বোম্বে কলন
  144. কেনসিংটন
  145. কাকরহান
  146. মিছরি দমদম
  147. সামার বাহিশ্ত
  148. মানজানিল্লো নুনেজ
  149. নাজুকবদন
  150. ফারুকভোগ
  151. রুমানি
  152. টারপেন টাইন
  153. কেনসিংটন
  154. কাকরহান
  155. মিছরি দমদম
  156. সামার বাহিশ্ত
  157. মানজানিল্লো নুনেজ
  158. নাজুকবদন
  159. ফারুকভোগ
  160. রুমানি
  161. টারপেন টাইন
  162. কুমড়া জালি
  163. দুধিয়া
  164. মহারাজ পছন্দ
  165. ম্যানিলা
  166. পিয়ারী
  167. জান মাহমুদ
  168. সামার বাহিশত রামপুর
  169. মাডু
  170. লা জবাব মালিহাবাদ
  171. লাইলী আলুপুর
  172. নীলম
  173. মিশ্রীভোগ
  174. পদ্মমধু
  175. বাঙামুড়ী
  176. পুনিত (হাইব্রিড-১৩)
  177. বেলখাস
  178. শ্রীধন
  179. আমান খুর্দ বুলন্দাবাগ
  180. পালমার
  181. কারাবাউ
  182. অ্যামিলী
  183. কোরাকাও ডি বই
  184. নিসার পছন্দ
  185. পাহুতান
  186. বোররন
  187. হিন্দি
  188. সফেদা বাদশাবাগ
  189. র্যাড
  190. আরুমানিস
  191. বাংলা ওয়ালা
  192. মোম্বাসা
  193. রোসা
  194. ক্যাম্বোডিয়ানা
  195. ফজরী জাফরানী
  196. বোম্বাইখুর্দ
  197. এক্সট্রিমা
  198. বদরুল আসমার
  199. শাদওয়ালা
  200. সামার বাহিশত কারানা
  201. এসপাডা
  202. বাশীঁ বোম্বাই
  203. কর্পূরা
  204. হুসনে আরা
  205. সফেদা লখনৌ
  206. শাদউল্লা
  207. আজিজপছন্দ
  208. কর্পূরী ভোগ
  209. জিল
  210. সারোহী
  211. গ্লেন
  212. টমি অ্যাটকিনসন
  213. স্যাম-রু-ডু
  214. মাবরোকা
  215. হিমাউদ্দিন
  216. ফ্লোরিডা
  217. কেইট
  218. ইরউইন
  219. নাওমী
  220. কেন্ট
  221. টাম অ্যাটকিন্স
  222. আলফন্সো
  223. নারিকেল ফাঁকি
  224. জামাই পছন্দ
  225. লক্ষণভোগ
  226. ভাদুরিয়া কালুয়া
  227. চিনি ফজলী
  228. মল্লিকা
  229. সূর্যপুরী
  230. হায়াতী
  231. পাউথান
  232. দুধস্বর
  233. গোলাপ খাস
  234. বেনারসী ল্যাংড়া
  235. পাটনামজাথী
  236. জালিবান্দা
  237. মিছরিদানা
  238. নাক ফজলী
  239. সুবর্ণরেখা
  240. কালা পাহাড়
  241. বারি আম-২
  242. বউ ভুলানী
  243. জমরুদ
  244. অরুনা (হাইব্রিড-১০)
  245. নীলাম্বরী
  246. ফোনিয়া
  247. চৌষা
  248. ডায়াবেটিক আম
  249. সিন্ধু
  250. বোগলা গুটি
  251. রাজভোগ
  252. দুধস্বর ( ছোট )
  253. মোহন ভোগ
  254. হাঁড়িভাঙ্গা
  255. টিক্কা ফরাশ
  256. আম্রপলি (বড়)
  257. হিমসাগর (নাটোর)
  258. মৌচাক
  259. মহানন্দা
  260. তোতাপুরী
  261. বাউ আম-৩
  262. বারি-৩
  263. পুকুর পাড়
  264. কোহিতুর
  265. বিলু পছন্দ
  266. কাগরী
  267. চিনিবাসা
  268. দুধ কুমার
  269. মন্ডা
  270. লাড্ডু
  271. সীতাভোগ
  272. শোভা পছন্দ
  273. গৃঠাদাগী
  274. ছোট আশ্বিনা
  275. ঝুমকা
  276. দুসেহরী
  277. কালী ভোগ
  278. ভবানী চরুষ
  279. আলফাজ বোম্বাই
  280. মধুমনি
  281. মিশ্রীকান্ত
  282. গিড়াদাগী
  283. কুয়া পাহাড়ী
  284. বিড়া
  285. দ্বারভাঙ্গা
  286. বারি আম-৪
  287. আরাজাম
  288. গোবিন্দ ভোগ
  289. কাঁচামিঠা
  290. মতিমন্ডা
  291. পোল্লাদাগী
  292. দাদভোগ
  293. শ্যামলতা
  294. মিশ্রীদাগী
  295. কিষান ভোগ
  296. ভারতী
  297. বারোমাসি
  298. দেওভোগ
  299. বারি-৮
  300. আম্রপলি (ছোট)
  301. সিদ্দিক পছন্দ
  302. লতা
  303. বাদামী
  304. আনারস
  305. জহুরী
  306. রাখাল ভোগ
  307. গুটি মালদা
  308. বারি আম-৬
  309. রগনী
  310. বাউনিলতা
  311. গৌরজিত
  312. বেগম ফুলি
  313. আপুস
  314. ফজরীগোলা
  315. সফেদা
  316. আনোয়ার রাতাউল
  317. বাবুই ঝাঁকি
  318. মনোহারা
  319. রাংগোয়াই
  320. গোল্লা
  321. কাজি পছন্দ
  322. রাঙামুড়ী
  323. বড়বাবু
  324. করল্লা
  325. জালিখাস
  326. কালিয়া
  327. সাটিয়ারকরা
  328. সফদর পছন্দ
  329. ছুঁচামুখী
  330. বারি আম-৫
  331. কাদের পছন্দ
  332. এফটি আইপি বাউ আম-৪
  333. দিল্লির লাড়ুয়া
  334. টিয়াকাটি
  335. এফটি আইপি বাউ আম-৯(শৌখিন চৌফলা)
  336. এফটি আইপি বাউ আম-১(শ্রাবণী-১)
  337. এফটি আইপি বাউ আম-৭(পলি এ্যাম্বব্রায়নী-২)
  338. এফটি আইপি বাউ আম-২ (সিঁন্দুরী)
  339. এফটি আইপি বাউ আম-১০(শৌখিন-২)
  340. এফটি আইপি বাউ আম-৩(ডায়াবেটিক)
  341. এফটিআইপি বাউ আম-৮ (পলিএ্যাম্বব্রায়নী-রাংগুয়াই-৩
  342. এফটি আইপি বাউ আম-১১(কাচা মিঠা-১)
  343. এফটি আইপি বাউ আম-৬(পলিএ্যাম্বব্রায়নী-১)
  344. এফটিআইপি বাউ আম-১২(কাচা মিঠা-২)
  345. এফটি আইপি বাউ আম-১৩(কাঁচামিঠা-৩)
  346. এফটি আইপি বাউ আম-৫(শ্রাবণী-২)
Saturday, 19 December 2020 18:11

আমের হরেক পদ

Written by

• আম পান্না: উপকরণ : কাঁচা আম ২টি, চিনি ১৫০ গ্রাম, সাদা জিরে শুকনো খোলায় ভেজে গুড়ো করা ১ ছোট চামচ, বিট নুন স্বাদ অনুযায়ী, পুদিনা পাতা ৫-৬টি, জল ২-৩ গ্লাস ঠান্ডা।
পদ্ধতি : কাঁচা আম কুকারে সুসিদ্ধ করে নিতে হবে। ঠান্ডা জলে মিক্সিতে আমের ক্বাথ, জিরে ইত্যাদি মিশিয়ে, ব্লেন্ড করে কাঁচের সুদৃশ্য গেলাসে ঢেলে ফ্রিজে কিছু সময় রেখে পরিবেশন করতে হবে। গরমের দিনে সুশীতল পানীয়।

• ম্যাঙ্গো মিল্ক শেক: উপকরণ : পাকা আম ১টি, চিনি ৬ চামচ, ঠান্ডা দুধ ৩ গ্লাস, সবুজ এলাচ ১টা থেঁতো করা, ভ্যানিলা ৩ স্কুপ, ড্রাইফ্রুট কুচানো সামান্য।
পদ্ধতি: পাকা আম খোলা ছাড়িয়ে টুকরো করে কেটে রাখতে হবে। মিক্সিতে কিছুটা দুধ সবটা চিনি ও আমের টুকরো মিহি করে মিশিয়ে নিতে হবে। লম্বা কাঁচের গ্লাসে মিশ্রণটি ঢেলে ওপরে আইসক্রিম ও কুচোনো ড্রাইফ্রুট দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করতে হবে।

• আমপোড়া সরবৎ: উপকরণ: কাঁচা আম দুটি, চিনি পরিমাণ মতো, লবণ ১ চিমটে, ঠান্ডা জল ২-৩ গ্লাস।
পদ্ধতি: কাঁচা আমগুলি ধুয়ে গ্যাস ওভেনে সরাসরি সমস্ত আমটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পোড়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আমের খোলা পুড়ে কালো হয়ে যাবে এবং ভেতরের অংশটা নরম হবে। ঠান্ডা হওয়ার পর খোলা ভাল করে ছাড়িয়ে ভেতরের অংশটা মিক্সিতে দিয়ে নুন ও চিনি সহযোগে ব্লেন্ড করে আরও ঠান্ডা জল মিশিয়ে ওপরে বরফকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।

• আম ডাল: উপকরণ : মুসুর ডাল ২ কাপ, কাঁচামিঠে আম ১-২টা ডুমো ডুমো করে কাটা, সরষেতেল ২ টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কা ২-৩টি, কালো সরষে ১/২ চামচ ফোড়নের জন্য, হলুদ গুঁড়ো, নুন, চিনি আন্দাজ মতো, গন্ধরাজ লেবুর খোলা হাফ চা চামচ কুচানো।
পদ্ধতি: কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে আঁটি বাদ দিয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে রাখতে হবে। গরম জলে সামান্য তেল ও হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে ডাল যেন পুরো গলে না যায়। কড়াইয়ে তেল গরম হলে কালো সরষে ও শুকনো ফোড়ন দিয়ে নেড়েচেড়ে আমের টুকরোগুলি দিয়ে সাঁতলে নিতে হবে। ডালে হলুদ নুন ও চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিতে হবে সাঁতলানো আমের সঙ্গে। ডাল তৈরি হলে ঠান্ডা করে গন্ধরাজ লেবুর খোলা কুচানো দিয়ে মিনিট পাঁচেক ঢেকে রাখতে হবে। ইচ্ছে হলে ডালের ওপর কাঁচা সরষেতেল আধ চামচ ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

• আম-ঝিঙের শুকনো চচ্চড়ি: উপকরণ : কচি ঝিঙে ৩-৪টি, আলু ৩টি, কাঁচা আম ১টি, পেঁয়াজ ২টি কুচোনো, হলুদগুঁড়ো হাফ চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা-চামচ, জল পরিমাণ মতো, নুন ও চিনি স্বাদ অনুয়ায়ী, ঘি রান্নার জন্য বড় দুই চামচ।
পদ্ধতি: ঝিঙে ও আলুর খোসা ছাড়িয়ে লম্বা ও সামান্য পুরু করে কেটে নিন। কাঁচা আমের খোসা ছাড়িয়ে লম্বালম্বি চার ফালি করে কেটে নিন। সব জলে ধুয়ে আলাদা পাত্রে রাখুন। পোঁয়াজ কিছুটা বাটা ও কিছুটা কুচিয়ে রাখতে হবে। কড়াইতে তেল দিয়ে কুচোনো পেঁয়াজ ভেজে তার পর বাটা পেঁয়াজ হলুদ ও লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে কম আঁচে কষে আলু ও জিঙে দিয়ে নেড়েচেড়ে নুন ও চিনি দিয়ে ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ হতে দিতে হবে। আমও দিয়ে দিতে হবে সঙ্গে। তবে আম খুব টক হলে গোটা আম না দিয়ে ২ ফালি দিলেই হবে। ভাল করে কষে সেদ্ধ হয়ে এলে শুকনো করে নামিয়ে নিতে হবে।

• আম-শোল: উপকরণ : কাঁচা আম ১টি, শোল মাছ ৫০০ গ্রাম, ধনেগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো ১ চা চামচ করে, আদা-রসুনবাটা ১ বড় টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, টমেটো কুচি ১ কাপ, সাদা জিরে ১ চামচ, কালো সরষে
১ চা চামচ, কারি পাতা ৬টি, নারকেল বাটা দুধ আধ কাপ।
পদ্ধতি: শোলমাছের টুকরো ধুয়ে নুন হলুদ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কড়া করে ভেজে নিতে হবে। ওই একই তেলে বাকি মশলা সমস্ত উপকরণ দিয়ে কষতে হবে। মশলা কষা হয়ে গেলে তেল ছাড়লে ভাজা মাছগুলো এক এক করে দিয়ে ঢাকা দিয়ে ফুটতে দিতে হবে। নামানোর আগে নারকেল দুধ ছড়িয়ে মিনিট তিনেক রেখে নামিয়ে নিতে হবে।

• আম কাতলা মাছ: উপকরণ : কাতলা মাছের বড় টুকরো ৮টি, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, আধ চামচ কালোজিরে, তেজপাতা ১টি, কাঁচালঙ্কা ৩-৪টি চেরা, চিনি আধ চামচ, কাঁচা আম ১টি লম্বা করে খোসা ছাড়িয়ে কাটা, হিং ১ চিমটে, কাসুন্দি ১ টেবিল চামচ, সরষে তেল ১ কাপ, নুন।
পদ্ধতি: কাতলা মাছের টুকরো নুন হলুদ মাখিয়ে গরম সরষে তেলে ভেজে তুলে রাখতে হবে। ওই তেলে তেজপাতা কালোজিরে ফোড়ন দিয়ে নেড়ে কাসুন্দি মিশিয়ে ৩/৪ কাপ জল ঢেলে তাতে হিং ও স্বাদ মতো নুন চিনি দিয়ে ফুট ধরলে কাতলে মাছের টুকরো ঝোলে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। নামানোর আগে চেরা কাঁচা লঙ্কা সাজিয়ে নামিয়ে নিন।

• আম-রাঙালু ঝাল: উপকরণ : কাঁচা আম ১টি লম্বা সরু ফালি করে কাটা, রাঙা আলু ২-৩টি খোসা চেঁচে লম্বা ফালি করে কাটা, সরষে তেল ২ টেবিল চামচ, কালো সরষে ও ২-৩টি শুকনো লঙ্কা ফোড়নের জন্য, নুন ও চিনি স্বাদ মতো, কারিপাতা ৬-৭টি, চাটমশলা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো পরিমাণ মতো।
পদ্ধতি: রাঙা আলু অল্প ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে রাখতে হবে। কাঁচা আমের টুকরোগুলো জলে আধসেদ্ধ করে নিতে হবে। কড়াইয়ে তেল গরম হলে কারিপাতা-সরষে-লঙ্কা ফোড়ন দিয়ে আমসেদ্ধ ও রাঙা আলু নুন চিনি হলুদ দিয়ে নেড়ে কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করতে হবে। মাখামাখা হয়ে গেলে নামিয়ে উপরে চাটমশলা ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিতে হবে।

Saturday, 19 December 2020 18:10

রূপচর্চায় আম

Written by

রূপচর্চার ক্ষেত্রে আমের জুড়ি মেলা ভার; চলুন জেনে নেই রুপচর্চায় আমের ভূমিকা –
– প্রতিদিন একটি আম গ্রহণে ভেতর থেকে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।
– প্রতিবার খাওয়ার সময় এক টুকরো আম ত্বকে বু্লিয়ে নিন। এতে ত্বকের ডালনেস কমবে আর জেল্লা বাড়বে।
– পাকা আম ব্রণ সারাতেও সাহায্য করে।
– রোদে পোড়া ত্বকে পাকা আমের ক্বাথ ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করুন। উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন।
– তাছাড়া ত্বকের দাগে নিয়মিত আমের রস ব্যবহারে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

আমরা সবাই কম বেশি আম খেতে ভালবাসি, তবে সবাই কি জানতাম আমের এত গুণের কথা? আমের সব গুণ লিখে শেষ-ও করা যাবে না। উপভোগ করুন গ্রীষ্মকাল – আমের মধুতে।

রসনা তৃপ্ত করে হাত ডুবিয়ে দুধে ভাতে রসে সে এক ভিন্ন রকম স্বাদ। আম যত মজাদার হয় এর স্বাদও তত বেড়ে যায়। আমের স্বাদের যে ভিন্নতা সেটি মূলত এর জাতের ওপর নির্ভরশীল। টক আর অতি মিষ্টি এবং এর মাঝখানে যত রকম স্বাদ রয়েছে সবই আমাদের আমের জাতগুলোতে রয়েছে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা হাজার হাজার বছর ধরে নানা রকম আমের জাত বাছাই করে নিয়েছে। বংশপরম্পরায় এসব জাত বাড়ির আশপাশে বা ক্ষেতে খামারের আইলে রোপণ করে দিয়ে এদের সংরক্ষণ করে আসছে। এদেশের গ্রামেগঞ্জে কত ভিন্ন রকম আমের দেখা মেলে। নানা রকম নাম দিয়ে এদের একটা জাতের গাছকে অন্য জাতের গাছের থেকে আলাদা করে চেনানোর চেষ্টা সেই লক্ষ করেছি ছোটবেলায়ই । আমাদের দেশের জনপ্রিয় জাতের আমগুলোর কিন্তু সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে। এক নামে সারাদেশের মানুষ এদের চিনতে পারে। এসব জাতের একটা আলাদা কদর আর চাহিদা রয়েছে আমাদের কাছে। মৌসুমে এসব আম পেতে আমাদের ইচ্ছে করে। স্বাদে গন্ধে এসব জাতের কোন তুলনা হয় না। সে রকম জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- ল্যাংড়া, গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, মোহনভোগ, ক্ষীরপুলি, শাহী-পছন্দ, রাজভোগ, মির্জাপুরী, কিষাণভোগ, ফজলি, চসা, আশ্বিনা, খিরসা পাতি, হিমসাগর, অমৃতভোগ, রানী পছন্দ, কৃষ্ণভোগ, দিল পছন্দ, বোম্বাই (মালদা), সূর্যপুরী, মিসরীভোগ, শ্রীধন, গোলাপ খাস, বৃন্দাবনী, দিল খোশ, হাড়ি ভাংগা, কোহিতুর ইত্যাদি। বাংলাদেশে জন্মায় তেমন কিছু উৎকৃষ্ট জাতের মধ্যে রয়েছে লক্ষণভোগ, মোহনভোগ, ক্ষীরপুলি, শাহী-পছন্দ, রাজভোগ, মির্জাপুরী, অমৃতভোগ, রানী পছন্দ, কৃষ্ণভোগ, দিল পছন্দ, বৃন্দাবনী, দিল খোশ, হাড়ি ভাংগা, কোহিতুর ইত্যাদি। এদেশে আবাদ করা হচ্ছে তেমন অন্য জাতগুলো হল আশ্বিনা, বারমাসী ও কাঁচা মিঠা। আমের জাতের কিছু মনোহরা নামও আছে। কোহিনুর, চৈতালী, জাফরান, দিল খোস, দুধ কুমার, দুধসর, বাবুই ঝাঁকি, মধুচাকী, মিঠুয়া, শ্রাবণী, স্বর্ণরেখা, সুবর্ণরেখা, ক্ষীরপুলি ইত্যাদি। এদের কোন কোনটা দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের প্রধান আম হল ফজলি। সব জাতের আম যখন শেষ হয়ে যায় তখন বাজারে আসে আঁশহীন, অতি সুস্বাদু এই জাতের বৃহদাকৃতির আম। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত হল ল্যাংড়া। সুগন্ধী, অতি সুমিষ্ট, আঁশহীন এই জাতটি আবার আগাম। মিষ্ট শাঁসযুক্ত সুস্বাদু আঁশহীন আর একটি প্রিয় জাতের আম হল গোপালভোগ। হিমসাগরও এদেশের আর একটি উৎকৃষ্ট জাত। এদের ফল রসাল, মিষ্টি ও আঁশবিহীন। কিষাণভোগ জাতটির শাঁস সুমিষ্ট ও সুগন্ধীযুক্ত। আশ্বিনা আম জাতটি দেখতে অনেকটা ফজলির মতো। গুণেমানে এটি ফজলির চেয়ে নি¤œমানের। এই আমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে নাবি জাত। অন্য আম যখন থাকে না তখন স্বাভাবিকভাবেই এর কদর কিছুটা বাড়ে। ‘বারমাসী’ নামে আমের যে জাতটি রয়েছে এটিতে বছরে দুই-তিন বার আম ফলে। মোটামুটি সুস্বাদু এর আম। কাঁচা মিঠা জাতের আম কাঁচা অবস্থায়ই মিষ্টি বলে এ রকম নাম পেয়েছে। তবে পাকলেও মন্দ নয় এসব আম। আমের জাতের মধ্যে বেশ ছোট জাতের আম যেমন রয়েছে তেমনি বিশালাকৃতির কেজি ছুঁই ছুঁই বা কেজি ছাড়িয়ে যাওয়া আমও রয়েছে। অধিকাংশ স্থানীয় গুটি আমগুলো আসলে ছোট জাতের আম। এরা খুব একটা মাংসল নয়। এদের বীজটা ফলের বড় অংশ দখল করে নেয় বলে এসব জাতের আম খুব একটা লোভনীয় নয়। তবে এসব আম সহজেই মুখের ভেতর পুরে দেয়া সম্ভব হয়। তবে উন্নত জাতের জনপ্রিয় আমের অনেকগুলোর ফলও কিন্তু তুলনামূলকভাবে ছোটই বলা চলে। এসব জাতের আমের মধ্যে রয়েছে- ল্যাংড়া, খিরসা পাতি, বৃন্দাবনী, দুধিয়া, মিঠুয়া ইত্যাদি। মাঝারি আকৃতির জনপ্রিয় আমের জাতই আমাদের বেশি। গোপালভোগ, কিষাণভোগ, হিম সাগর, কোহিতুর, মোহনভোগ, মিসরীভোগ, বোম্বাই এসব হল মাঝারি ধরনের আম জাত। বড় আকৃতির আমের মধ্যে ফজলি অন্যতম। এর আরেক নাম মালদা। এটি বাংলাদেশে একটি অতি জনপ্রিয় জাতের একটি। মাঝারি থেকে বড় আকারের আমের মধ্যে রয়েছে হাড়ি ভাংগা, মোহনভোগ, মিসরীভোগ এসব আম। হাড়ি ভাংগা আমগুলো ফজলি আমের মতো লম্বাটে নয়। বরং এরা বেশ খানিকটা গোলাকৃতি ধরনের। বড় বেশি মাংস এদের বীজের চার পাশে। খুবই আশু জাতীয় আম হল দুধিয়া। এটি মে মাসেই পেকে যায়। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে যেসব আম আসে সেসব জাত হল গোপালভোগ, মহানন্দা, খিরসা পাতি, কোহিতুর, বৃন্দাবনী, মিঠুয়া। এসব আম মৌসুমের শুরুতেই জুন মাসে পাকে বলে এদের আশু জাত বলা হয়। মাঝারি মৌসুমের জাতগুলো হল কিষাণভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বোম্বাই, মোহনভোগ, মিসরীভোগ। এরা মধ্য জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পাকে। আমের মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে আসে ফজলি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, শ্রীধন এসব জাতের আম। মধ্য জুলাই থেকে আগস্ট সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এরা পাকে। ফজলি, চসা, ল্যাংড়া কিংবা হিমসাগর আমাদের দেশের মতো ভারতেও বেশ জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিক আম জাত। ভারতের কেবল পশ্চিমবঙ্গে এদের পাওয়া যায় তা কিন্তু নয় বরং পশ্চিম বাংলাসহ আরও ১১টি রাজ্যে এদের কোন কোনটা অত্যন্ত জনপ্রিয় জাত। ফজলি আম বিহার, হরিয়ানা, মধ্য প্রদেশ ও পশ্চিম বাংলায় আবাদ করা জাত। চসা জাতটি বিহার, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের একটি বাণিজ্যিক জাত। হিমসাগর জাতটির আবাদ করা হয় বিহার ও পশ্চিম বঙ্গে। আম্রপালী জাতটি দিন দিন আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ভারতের একটি জনপ্রিয় জাত। ভারতের বিহার এবং উত্তর প্রদেশে এই জাতটির আবাদ করা হয়। এটি আসলে আম প্রজনন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উদ্ভাবিত একটি জাত। ‘দেশারী’ আর ‘নিলাম’ নামক দুটি ভারতীয় জাতের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে আম্রপালী জাতটি। ছোট খাটো আম্রপালী গাছে লম্বা বোঁটায় ঝুলে থাকে অনেকগুলো আম। প্রতি বছরই এ জাতের গাছে ফুল ফোটে বলে সব মৌসুমেই আম পাওয়া যায়। গাছের আকার আকৃতি ছোট বলে নির্ধারিত স্থানে অনেক বেশি সংখ্যক গাছ লাগানো যায়। পাকা আমের আকৃতি মাঝারি, মাংস গাঢ় কমলাবর্ণ, বেশ মিষ্টি আর আঁশবিহীন।

আমের বিভিন্ন ব্যবহারবিধি ও উপকারিতাসমূহ
পোড়া ঘায়ে : পোড়া ঘায়ে আম পাতা পুড়ে ছাই করে সেই ছাইকে ঘি অথবা নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ঘায়ে (ক্ষতস্থানে)মাখলে অতি দ্রুত পোড়া ঘা সেরে যায়।
দাঁতের সমস্যায় : কচি আমপাতা দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়, নড়াদাত শক্তভাবে লেগে যায় । এ দিয়ে রীতিমত দাঁত মাজলে দাঁত মরা এবং অকালে দাঁত ঝরে পড়া বন্ধ হয় । আমপাতার ক্বাথে কুলি করলে দাঁত ব্যথার উপশম হয়।
চুলের সমস্যায় : কচি আমের আঁটির শাঁস এবং শুকনো আমলকী অল্প পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি মাথায় মাখলে অকালে চুল পাকা বন্ধ হয় । কচি আমের আঁটির শাঁস ভেজানো পানি মাথায় মাখলে চুল পড়ে যাওয়া বন্ধ হয়। এছাড়া কচি আমের আঁটির শাঁস এবং হরিতকী ভালভাবে বেটে মিহি করে মাথায় মাখলে মাথার খুসকেও কমে যায়।

পা ফাটা রোগে আম : শীতকালে অনেকের পায়ের গোড়ালি গেঁটে যায়। একসময় ফাটা এমন বড় হয়ে যায় যে তা দিয়ে রক্ত পড়ে এবং চলাফেরাও কষ্ট সাধ্য হয়ে যায়। এ সব ফাটার প্রথমাবস্থায় আমের আঠা দিয়ে ফাটা পূর্ণ করে দিলে ফাটা আর বৃদ্ধি পায় না এবং চলা ফেরা করতেও কোন প্রকার অসুবিধা হয় না।
কাশি সমস্যায় : আমের ফলি (কাঁচা আমের শুকনো খণ্ড), সামান্য আদা, সামান্য পিপুল, একটু তালমিশ্রী ও মধু এক সঙ্গে বেটে খেলে কাশি ভালভাবেই উপশম হয়।
পেটের সমস্যায় : আমের ছাল রক্ত আমাশয়ে ব্যবহৃত হয়। দুই চামচ ছালের রস, একটু চিনি ও এক কাপ দুধ একত্রে মিশিয়ে কয়েকবার খেলে রক্ত আমাশয় ভাল হয়ে যায়। আম বীজের শাঁস ২০/৩০ গ্রেন মাত্রায় খেলে কেঁচো ক্রিমি পড়ে যায়। আমগাছের ছালের রস খেলে প্রমেহ রোগ সেরে যায়। এছাড়াও আমের ছাল ও পাতা অন্যান্য অনেক অসুখে ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যান্য রোগে আম :
কুনিনখ বাড়লে- যাদের কুনিনখ বাড়ে (বিশেষ করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের কোণা অধিক বৃদ্ধি পেয়ে মাংসের ভিতরে ঢুকে যায়) তাঁরা যদি আমের নরম আঠা ওই নখের কোণে ঢুকিয়ে দেন তবে বেদনা থেকে মুক্তি পাবেন।
উদারময় উপশমে- আমের আঁটির শাঁসের ক্বাথ এবং আদার রস মিশিয়ে খেলে উদারময় উপশম হয়।
বহুমূত্র রোগে- কচি আমপাতা শুকিয়ে ভালভাবে গুঁড়ো করে নিয়ে অল্পমাত্রায় নিয়মিত খেলে বহুমূত্র রোগ উপশম হয়।
গলা ব্যথা নিবারণে- পোড়া আমপাতার ধোঁয়া গা করে মুখের ভিতর নিলে গলা ব্যথা নিবারণ হয় এমনকি হিক্কাও নিবারণ হয়।
মেয়েদের শ্বেতপ্রদর রোগে- আম বীজের (বড়ার) শাঁস শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা অল্প মাত্রায় কয়েকদিন খেলে মেয়েদের শ্বেতপ্রদর রোগ উপশম হয়।
আমগাছ অনেক উপকারী একটি গাছ। এর ফল যেমন সুমিষ্ট তেমনি গাছ ও গাছের অন্যান্য অংশও অনেক উপকারী । এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণাগুণ। তাই আমাদের উচিত এর যথাযথ ব্যবহার করা।

বউ ভুলানি, বৃন্দাবনি, গোলাপবাস, টিক্কাফারাশ, মতিচুর, দুধিয়া, দাদভোগ, গোড়ভোগ, ফুনিয়া, দিলশাদ, কাঞ্চন খোসাল, সিন্দুরি, খুদি ক্ষিরসাপাত, গোলাপ খাস, দুধিয়া, দেওভোগ, দুধস্বরসহ এমনি প্রায় আটশ’ প্রজাতির আমগাছ ছিল আমাদের দেশে।

 

নগরায়ণ, নতুন বসতি স্থাপন, উচ্চ ফলনশীল জাতের আমের প্রতি মোহ ও এককালীন বেশি টাকার প্রয়োজনে বয়স্ক গাছ কেটে ফেলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এসব দেশি আমের জাত।

 

সারাদেশেই আমের গাছ দেখতে পাওয়া যায়।

আমরা জানি আর না-ই জানি প্রত্যেকটা আমের রয়েছে একেকটি নাম। অনেক আমগাছ প্রকৃতিগতভাবেই হাইব্রিড (শংকর প্রজাতির) হয়ে জন্মায়। এসব আম অন্য আমের চেয়ে আকার, স্বাদ কিংবা রঙয়ে পার্থক্য হলে সে পাই নতুন একনাম। জন্ম হয় নতুন একটি প্রজাতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. শরফ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ‌'এই পর্যন্ত বাংলাদেশে কত প্রজাতির আম রয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা বিভিন্ন আমবিষয়ক পুস্তক ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় এদেশে আমের প্রায় ৮শটি জার্মপ্লাজম রয়েছে। এসব আমের নামকরণও হয়েছে ভিন্নভাবে। বাগান মালিক নিজেই নিজ নামসহ স্ত্রী, পুত্র, কন্যার নামে আমের নামকরণ করেছেন। আমের নামকরণ সত্যেই বিচিত্র রকমের'।

 

তিনি আরও বলেন, দেশীয় আমের উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, গোপালভোগ, ফজলি, আশ্বিনা, বোম্বাই, অগ্নি, অমৃত ভোগ, আলফাজ বোম্বাই, আতাউল আতা, আরিয়াজল, আরাজনমা, আলম শাহী, গিলা, গোলাপবাস, আনারস, ইলশাপেটি, কলাচিনি, কাঁচামিঠা, কালিয়া, কৃষ্ণচূড়া, টিক্কাফারাশ, টিয়াকাঠি, কালাপাহাড়ী, কালিভোগ, কালুয়া, কাঞ্চন খোসাল, কাজলা সিন্দুরি, কিষাণ ভোগ, কোহিনুর, কোহিতুর, কুয়া পাহাড়ি, টোফা, কাজল ফজলি, কাইয়া ডিপি, কাটাসি, গোলাপ খাস, গোলাপ বাস, গোল্লা, গুল্লি, গৌরজিত, গুলগুল্লি, চেপি, চরবসা, চম্পা, চন্দন খোস, চিনি কালাম, চিনি বড়ই, চিনি পাতা, ছাবিয়া, ছানাজুর, ছফেদা, জালী বান্ধা, ভাঙা, জিলাপির ক্যাড়া, জোয়ালা, জিতুভোগ, গোবিন্দভোগ, জর্দা, জর্দালু, ত্রিফলা, বাওয়ানী, বাউনি লতা, তাল পানি, দার ভাঙা, দর্শন, দাদভোগ, দেউরি, দিলসাদ, দোফলা, দিল্লির লাডুয়া, দুধিয়া, দেওভোগ, দুধসর, বড়বাবু, নারিকেলি, নারকেল পাথী, নয়ন ভোগ, প্রসাদ ভোগ, জিতুভোগ, সীতাভোগ, বোগলাগুটি, পাথুরিয়া, ফজলি কালান, ফনিয়া, বারমাসি, বোতল বেকি, বোতলা, বড়শাহী, বাতাসা, বাউই ঝুলি, বিড়া, বেগম পছন্দ, কমল পছন্দ, বেল খাস, বিমলা, বিশ্বনাথ, বোম্বাই কেতুল্লা, বদরুদ্দোজা, বোম্বাই গোপাল ভোগ, বোম্বাই খিরসা, বউ ভুলানী, বৃন্দাবনী, সাহা পছন্দ, বাদশা ভোগ, ভাদুরি, ভবানী, ভবানী চৌরাস, ভারতী, মাল ভোগ, মাংগুড়া পাকা, মিসরীদাগী, মিসরী ভোগ, মিসরী দানা, মিসরী কান্ত, ভূত বোম্বাই, মতিচুর, মোহন ভোগ, মোহন পছন্দ, রাজরানী, রাম প্রসাদ, রানি পছন্দ, কাজী পছন্দ, বিলুপছন্দ, রানি ভোগ, রাজ ভোগ, কালিভোগ, জিবাভোগ, লাক্ষৌ, লাদুয়া, লাডুয়া, লোরাল, লালমুন, লক্ষণ ভোগ, লতা খাট, লতা বোম্বাই, নাবী বোম্বাই, লোহাচুর, শ্যাম লতা, রসবতী, সাটিয়ার ক্যাড়া, সাদাপাড়া, সবজা, সুবা পছন্দ, শাহী পছন্দ, সরিখাস, শরিফ খাস, সিন্দুরি, সারাবাবু, শোভা পছন্দ, সুলতান পছন্দ, সফদরপছন্দ, সূর্যপুরী, সুরমাই ফজলি, হায়াতী, হিমসাগর, খুদি ক্ষিরসাপাত, ক্ষিরপুরি, ক্ষিরমন, ক্ষির টাটটি, ক্ষির বোম্বাই, বেলতা, হাড়িভাঙা, বৈশাখী, গৌড় মতি, হুক্কা, লাড়ুয়ালী, ডালভাঙা, মণ্ডা, মিছরী দমদম, নীলাম্বরী, খান বিলাস, বাতাসা, মনাহারা, পাথুরিয়া, তোহ্ফা, ফোনিয়া, মধুচুষকি, মধুমামি, নকলা, মোহিনিসিন্দুরী, ভুজাহাড়ি, সন্ধ্যাভারুতি, পদ্মমধু, অমৃতভোগ, লতারাজ, বৃন্দাবনি ইত্যাদি।

 

এছাড়াও দেশে স্বল্প পরিমাণে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত বিদেশি আমের উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো, আব্দুল আজিজ, আলফানসো, আলী চৌরস, আম্রপালী, আমবাজান, আমন দাশেহারী, মল্লিকা, চৌসা, তোতাপুরী, বোম্বাই গ্রিন, আনানাস খাশ, আনোয়ার রাতাউল, আনোয়ার আতাউল, আগমামাশু, আওবেক, ইরউইন, কেন্ট, কেনসিংটন, কেইট, কারাবাও, কাইটুক, পিকো, পকনা, পাহুতান, ছিদরালী, ছওসি, জাওনিয়া, ঝিল, ডক্টর পছন্দ, দিল রৌশন, দিল বাহার, দিল ওয়ালা, দালুয়া, চন্দ্রকরণ, কেরি, বোয়ার, ফ্লোরিগ্যান, জিলেট, ভাদুরী, দাসেহারি, ধুপা, নীল উদ্দিন, নোড়া, নাম-ডক-মাই, নওয়াব পছন্দ, নিলাম্বরী, পীরের ফলী, রওশান টাকী, পালমার, পাহুতান, বেগম ফুলি,  ভুলীয়া, মালদাহ, মালগোবা, মাদ্রাজী, মিঠুয়া পাটনা, রাগ, র‌্যাড, রুবি, রত্না, লাভ-ই-মশগুল, লিটল ফ্লাওয়ার, সবদেরাজ, সামার বেহেস্ত, সামার বেহেস্ত চৌসা, সাদওয়ালা, সুকুর খন্দ, সেভেন-ইন-ওয়ান, সুগার কিং, হিটলার পছন্দ, হেডেন, বানানা আম, টমি এটকিনস, জিনহুয়াং, জিনসুই, জিহুয়া, গুইরা, হং শিয়াং ইয়া, তাইনং নম্বর ১, চোকানান, ডট, ডানকুন, অ্যাডওয়ার্ড, সেনসেশন, এলডন, ফ্যাসেল, ফোর্ড, গোল্ড নাগেট, আইভোরি, জাকার্তা, পারভিন, অসটিন, সান-ই-খোদা, সানসেট, গেডং, গোলেক, মালগোয়া, মাসমুদা, প্রায়র, কেরালাডোয়ার্ফ, ওনো, জিল, নীলাম, টংডোম, দাশেহারী, হানিগোল্ড এবং আরুমানিস।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি শামিম খান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সময় বৃন্দাবনি, গোলাপবাস, দাদভোগ, গোড়ভোগ, ফুনিয়া, দিলশাদ, কাঞ্চন খোসাল, সিন্দুরি, খুদি ক্ষিরসাপাত, গোলাপ খাস, টিক্কাফারাশ, দুধিয়া, দেওভোগ, দুধস্বর, নারিকেলি, নয়ন ভোগ, নাগ ফজলি, বৈশাখী, বারমাসি, বোম্বাই, বৌ ভুলানি, বাদশাভোগ, মতিচুর, মোহনভোগসহ শত শত প্রজাতির আম পাওয়া যেতো। বর্তমানে সেগুলো তেমন একটা দেখা যায় না।

নিউজটি আমাদের নিজস্ব না। এটির সকল কৃতিত্ব ও স্বত্ত শুধুমাত্র  https://www.banglanews24.com

Page 7 of 52