x 
Empty Product

বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলসমুহের মধ্যে আম অন্যতম। স্বাদে, গন্ধে ও তৃপ্তি প্রদানে আম অতুলনীয় তাই আমকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়। আম পছন্দ করে না এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের সব এলাকাতে আম গাছ দেখা গেলেও চাপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে আম চাষ হয়ে থাকে। আমাদের দেশে আমের ফলন বেশ কম, হেক্টর প্রতি মাত্র ৪ টন। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রায় ১০ টন। আমের ফলন কম হওয়ার যে সকল কারণ দায়ী, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তাদের মধ্যে অন্যতম। পোকা-মাকড়ের আক্রমণে শুধু মাত্র ফলন কমে যায় তাই নয়, অনেক সময় আমের ফলন শূন্যের কোঠায়ও পৌঁছতে পারে। সুতরাং আমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সঠিক সময়ে পোকা দমন অপরিহার্য। আমের প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকার পরিচিতি, তাদের ক্ষতির ধরন এবং দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

১। আমের শোষক পোকা এ পোকা অন্য সব পোকার চাইতে আমের বেশী ক্ষতি করে থাকে। বাংলাদেশের সর্বত্র এবং আমের সবজাতে এ পোকা আক্রমণ করে থাকে। সারা বছর আমগাছে এই পোকাগুলি দেখা যায়।

ক্ষতির ধরণ আম গাছে কচি পাতা বা মুকুল বের হওয়ার সাথে সাথে এগুলি সক্রিয় হয়ে উঠে। এ পোকা নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক উভয় অবস্থায় আমগাছের সকল কচি অংশ থেকে রস চুষে খেয়ে বেঁচে থাকে। নিম্ফ গুলি আমের মুকুল থেকে রস চুষে খায় এতে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুণ পরিমান রস শোষন করে খায় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত আঠালো রস মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয় যা মধুরস বা হানিডিউ নামে পরিচিত। এ মধুরস মুকুলের ফুল ও গাছের পাতায় জমা হতে থাকে যার উপর এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। এই পোকার আক্রমণে আমের উৎপাদন শতকরা ২০-১০০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া হপার আক্রান্ত গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।

প্রতিকার ক) আম বাগান সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে বিশেষ করে গাছের ডাল পালা যদি খুব ঘন থাকে তবে প্রয়োজনীয় পরিমান ছাঁটাই করতে হবে যাতে গাছের মধ্যে প্রচুর আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে খ) অমের মুকুল যখন ৮/১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় তখন একবার এবং আম মটর দানার মত হলে আর একবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (যেমন রাইজ) মিশিয়ে সম্পূর্ণ গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে গ) আমের হপার পোকার কারণে সুটিমোল্ড রোগের আক্রমণ অনেক সময় ঘটে তাই সুটিমোল্ড দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ঔষধ (যেমন ঔষধ) ব্যবহার্য কীটনাশকের সাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

২। ফল ছিদ্রকারী পোকা আমের ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ ১৯৯৫ সাল থেকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ এর বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষ্য করা যায়। এর পর প্রায় প্রতি বছর এ পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। বর্তমানে আম চাষীদের নিকট এ পোকা একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

ক্ষতির ধরণ আম মার্বেল আকারের হলেই এ পোকার আক্রমন শুরু হয় এবং আম পাকার পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী পোকা আমের নিচের অংশে খোসার উপর ডিম পাড়ে। কয়েকদিনের মধ্যেই ডিম ফুটে কীড়া বের হয়। কীড়া খুব ছোট বিন্দুর মত আম ছিদ্র করে আমের ভিতর ঢুকে পড়ে এবং আমের শাঁস খেতে থাকে। পরে আটি পর্যন্ত আক্রমণ করে। আক্রান্ত স্থানটি কাল হয়ে যায়। আক্রান্ত স্থানে জীবাণুর আক্রমণের ফলে পচন ধরে যায়। বেশী আক্রান্ত আম ফেটে যায় এবং গাছ থেকে পড়ে যায়।

প্রতিকার ক) আক্রান্ত আম সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে এবং গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে। ফলে পোকার আক্রমণ কম হবে। খ) আম বাগান নিয়মিত চাষ দিয়ে আগাছা মুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে গ) পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়া মাত্র ফেনিট্রোথিয়ন বা ফেনথিয়ন জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে স্প্রে করতে হবে। তাছাড়া কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক ২ গ্রাম/লিটার পানিতে অথবা কারটাপ জাতীয় কীটনাশক ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। এক্ষেত্রে হারভেস্ট-এ ভাল ফল পাওয়া যায়

৩। মাছি পোকা মাছি পোকা দ্বারা পরিপক্ক ও পাকা আম আক্রান্ত হয়। ফজলী, ল্যংড়া, খিরসাপাত সহ বিভিন্ন জাতের পরিপক্ক ও পাকা আম গাছে থাকা অবস্থায় এ পোকা আক্রমণ করে।

ক্ষতির ধরণ স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ার অঙ্গের সাহায্যে গাছে থাকা অবস্থায় পরিপক্ক ও পাকা আমের গা চিরে ডিম পাড়ে অর্থাৎ খোসার নিচে ডিম পাড়ে। আক্রান্ত স্থান থেকে অনেক সময় রস বের হয়। বাইরে থেকে দেখে কোনটি আক্রান্ত আম তা বুঝা যায় না। আক্রান্ত পাকা আম কাটলে ভেতরে সাদা রং এর কীড়া দেখা যায়। বেশী আক্রান্ত আম অনেক সময় পঁচে যায়। সাধারণতঃ এ পোকা আমের উপর এবং নিচ উভয় অংশে আক্রমণ করে।

প্রতিকার ক) আম গাছে পাকার আগেই পরিপক্ক অবস্থায় পেড়ে আনা খ) আক্রান্ত আম সংগ্রহ করে মাটির নিচে গভীর গর্ত করে পুতে ফেলতে হবে গ) প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমের রসের সাথে ০.৫ গ্রাম সেভিন মিশিয়ে বিষটোপ বানিয়ে এ বিষ টোপ বাগানে রেখে মাছিপোকা দমন করা যেতে পারে ঘ) আম পরিপক্ক ও পাকার মৌসুমে আমবাগানে ব্লিচিং পাউডার প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে ঙ) আম পরিপক্ক ও পাকার মৌসুমে প্রতিটি আম কাগজ (ব্রাউন পেপার) দ্বরা মুড়িয়ে দিলে আমকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে চ) ফেরোমনের ফাঁদও ( মিথাইল ইউজেনল) ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রচুর পুরুষ পোকা মারা যাবে এবং বাগানে মাছি পোকার আক্রমণ কমে যাবে।

৪। কান্ডের মাজরা পোকা বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশী এ পোকার আক্রমণ দেখা যায় এবং খুব কম সংখ্যক গাছে আক্রমণ দেখা যায়।। তবে অনেক সময় সিরিয়াস পেস্ট হিসাবেও দেখা যায়।

ক্ষতির ধরণ এ পোকা আম গাছের কান্ড ও শাখাকে আক্রমণ করে। আক্রমণ স্থান দিয়ে পোকার মল নির্গত হয়। ছোট গাছ আক্রান্ত হলে গাছ মারা যেতে পারে। আক্রান্ত শাখাগুলি সহজেই ভেঙ্গে যায়।

প্রতিকার ক) গাছের কান্ড বা শাখায় কোন ছিদ্র দেখা গেলে ঐ ছিদ্র পথে সূঁচালো লোহার শিক বা সাইকেলের স্পোক ঢুকিয়ে পোকাটির কীড়াকে খুঁচিয়ে মেরে ফেলতে হবে খ) ছিদ্রটি ভালভাবে পরিষ্কার করে তার মধ্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ভিজানো তুলা ঢুকিয়ে ছিদ্রের মুখ কাদা দিয়ে ভালবাবে বন্ধ করে দিতে হবে।

৫। পাতা কাটা উইভিল নার্সারীতে চারা গাছের কচি পাতায় এই পোকার আক্রমণ বেশী দেখা যায়। তাছাড়া অনেক সময় বড় আম গাছের কচি পাতা কাটতেও দেখা যায়। এ পোকা সাধারণতঃ আম ছাড়া অন্য কোন গাছের ক্ষতি করে না।

ক্ষতির ধরণ এ পোকা আম গাছের শুধু কচি পাতা কেটে ক্ষতি করে। কচি পাতার নিচের পিঠে মধ্যশিরার উভয় পাশে স্ত্রী পোকা ডিম পাড়ে এবং পরে পাতাটির বোঁটার কাছাকাছি কেটে দেয়। ভালো করে দেখলে কাঁচি দ্বারা কেউ কেটেছে বলে মনে হয়। এ পোকার আক্রমণে গাছের নতুন পাতা ধবংস হয়। বেশী আক্রমণে একটি ছোট গাছ পাতাশূন্য হতে পারে।

প্রতিকার ক) নতুন কাটা পাতা মাটি থেকে সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে খ) গাছে কচি পাতা বের হওয়ার সংগে সংগে ফেনিট্রোথিয়ন বা ফেনথিয়ন জাতীয় কীটনাশক ২ মিলি/ লিটার পানিতে স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়। তাছাড়া কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে অথবা কারটাপ জাতীয় কীটনাশক ১ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলেও পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়। এক্ষেত্রে হারভেস্ট-এ ভাল ফল পাওয়া যায়।

৬। পাতার গল মাছি ক্ষতির ধরণ কয়েক প্রকারের গল সৃষ্টিকারী পোকা আম গাছের কচি পাতায় আক্রমণ করে তাতে বিভিন্ন আকারের গল রোগের সৃষ্টি করে। পাতার উপর কিংবা নিচের পৃষ্ঠে কিংবা উভয় পৃষ্ঠে গল দেখা যায়। গল গুলি বিভিন্ন রং এর হয় যেমন- ধুসর, বাদামী, সবুজ, লাল ইত্যাদি। স্ত্রী পোকা আমের কচি পাতার নীচের দিকে ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। ৩-৪ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ম্যাগোট বা বাচ্চা পোকা বের হয়। পরে পাতার কোষ এবং টিস্যু সমুহে প্রবেশ করে রস খাওয়ার কারণে পাতায় গলের সৃষ্টি হয়। পাতায় গলের পরিমান বেশী হলে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বিঘœ ঘটে। অনেক সময় গাছের পাতা শুকিয়ে মারা যেতে পারে।

প্রতিকার ক)আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে খ) ঘনভাবে রোপণকৃত আম বাগানে ছায়া থাকে বিধায় আম গাছের পাতায় গলের আক্রমণটা বেশী হয়। এজন্য আম পাড়ার পরে কিছু ডালপালা ছাঁটাই করা ভাল গ) ডাইমিথয়েট জাতীয় কীটনাশক ২ মিলি/ লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলে আমের পাতায় গল মাছি দমন করা যায়। অথবা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক যেমন মেজর ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

৭। এপসিলা পোকা এপসিলা আমের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা। বর্তমানে এ পোকার আক্রমণ তেমন একটা দেখা যায় না। তবে এপসিলা পোকার আক্রমণ হঠাৎ করে বিক্ষিপ্ত ভাবে কোথাও কোথাও অল্প করে হলেও দেখা যায়। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় এটি তাবিজ পোকা নামে অনেকের নিকট পরিচিত।

ক্ষতির ধরণ কচি পাতায় পাড়া ডিমের ভিতর ভ্রুণাবস্থায় থাকা প্রথম ধাপের নিম্ফ পাতার ভিতর থেকে রস চুসে খায় এবং এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে যার কারণে পত্রকক্ষে সুচালো মুখবিশিষ্ট সবুজ রংয়ের মোচাকৃতি গলের সৃষ্টি হয়। এই গল সৃষ্টি হওয়ার কারণে পত্রকক্ষে আর কোন নতুন পাতা বা মুকুল বের হতে পারে না। গাছে বেশী পরিমানে গল সৃষ্টি হলে গলযুক্ত ডগা শুকিয়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও সেই সাথে আমের ফলন কমে যায়।

প্রতিকার ক) অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সমস্ত আম গাছ থেকে নিম্ফসহ গল (তাবিজ) সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে খ) মার্চ এপ্রিল মাসে আম গাছের পাতায় এপসিলা পোকার ডিম পাড়ার ক্ষতচিহ্ন দেখতে পাওয়া গেলে প্রতি লিটার পানির সাথে ডাইমিথয়েট জাতীয় কীটনাশক ২মিলি/ লিটার হারে মিশিয়ে পাতা ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। অথবা ডেল্টামেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক যেমন মেজর ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।ররর

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://www.mandaup.dhaka.gov.bd

আম গাছের বোটায় বোটায় মুকুল ধরেছে। কয়েকদিনের মধ্যে গুটি হয়ে যাবে আমের। এসময় আম গাছে হপার পোকায় আক্রমণ করে থাকে। এ থেকে প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে অনেকেই জানেন না। চলুন জেনে আসি কিভাবে আমের হপার পোকা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়।

আমের হপার পোকা প্রকার ইংরেজি নাম- Mango Hooper

হপার পোকার লক্ষণ
ফুল আসার সময় এই পোকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ।
ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গাছের বাকলের কোটরে লুকিয়ে থাকে এর পর সক্রিয় হয়।
কচি ডগা ও মুকুলের রস চুষে খায়, মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে যায়।
নিম্ফগুলো রস চোষার সাথে সাথে আঠালো মধুরস নিঃসরণ করে যা মুকুল ও গাছের
পাতায় আটকে গিয়ে মুকুলের পরাগায়ন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করে।
মধুরসে শুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মে কাল হয় ও পাতার সালোক সংশ্লেষন ব্যহত হয়।
মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এদের প্রকোপ বেশী হয়।

প্রতিকার:
বাগান ও গাছ পরিস্কার পরিছন্ন রাখা,বৎসরে দুইবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা। বর্ষা মৌসুম শেষে গাছের অপ্রয়োজনীয়, মৃত, অর্ধমৃত ডালপালা ছাঁটাই করে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে হপারের প্রাদুর্ভাব প্রায় ৩০-৮০ শতাংশ কমে যায়।
গাছে মুকুল আসার পূর্বে ১ম বার, আম মটর দানার মত হলে ২য় বার এবং মার্বেল দানার মত হলে ৩য় বার অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করা।
সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি (রিপকর্ড)=১মিঃলিঃ/ লিঃ পানি স্প্রে।
ডেল্টামেথ্রিন ২.৫ ইসি-ডেসিস = ১মিঃলিঃ/ লিঃ পানি স্প্রে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://farmsandfarmer24.com

ফসল : আম

পোকার নাম : হপার পোকা

পোকার স্থানীয় নাম : : শোষক পোকা

পোকা চেনার উপায় : গাছের নীচ দিয়ে হাটলে পোকা লাফিয়ে লাফিয়ে গায়ে পড়বে।

ক্ষতির ধরণ : গাছের কচি পাতা ও ডগার রস চুষে খায়। এ পোকা তাদের দেহের ওজন এর ২০ গুন পরিমান রস খেয়ে আঠালো রস দেয় যা মধুরস নামে পরিচিত এবং গাছের মুকুল, পাতা ও কান্ডে এই রস জমা হয়ে থাকে এবং যার উপর এক প্রকার ছত্রাক (শুটি মোল্ড) জন্মায়। এটি মারাত্মক ক্ষতি করে, গাছের বৃদ্ধি কমে যায়।

আক্রমণের পর্যায় : কুশি, চারা, ফলের বাড়ন্ত পর্যায়

ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : কাণ্ড , পাতা , ডগা

পোকার যেসব স্তর ক্ষতি করে : পূর্ণ বয়স্ক , নিম্ফ

ব্যবস্থাপনা :

আমের মুকুল যখন ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন প্রথমবার এবং আম যখন মটর দানার মতো আকার ধারণ করে তখন দ্বিতীয়বার সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (রিপকর্ড বা সিমবুস বা ফেনম বা এরিভো ১০ ইসি  ১০ মিলিলিটার ) ১০লিটার পানিতে মিশিয়ে পুরো গাছে স্প্রে করতে হবে। আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে তাই রোগ দমনের সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন: কুমুলাস ডিএফ ৪০ গ্রাম ১০ লিটার বা থিওভিট ৪০ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে) ১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলের দিকে স্প্রে করুন।ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

বালাইনাশক সম্পর্কে  বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

 

বালাইনাশক ব্যবহারে সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

 

পূর্ব-প্রস্তুতি :

গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ছাটাই করে প্রচুর পরিমান আলো বাতাস এর বাবস্থা করতে হবে।

তথ্যের উৎস :

 সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন, কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ২০১৭।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://aisekrishi.org/Pests/view/238

আম গাছের অন্যতম ধ্বংসাত্মক পোকা হল আমের হপার। পূর্নাঙ্গ কীট বাদামী বর্ণের এবং দেখতে কীলকাকৃতি বা ত্রিকোনাকার হয়ে থাকে। এদের শুককীট ও একি রকম আকৃতির হলেও আকার ও গায়ের বর্ণ এ ভিন্নতা রয়েছে। এরা উপযুক্ত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে মোটা ঝোপঝাড় ধরনের গাছে বেশি আক্রমণ করে। শুককীট ও পূর্নাঙ্গ কীট উভয়েই গাছের ক্ষতি করে থাকে। এদের আক্রমণের সবচাইতে উপযুক্ত সময় হচ্ছে জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং মে হতে জুলাই।

আরও পড়ুনঃ আমের শত্রু মিলিবাগ দমন

আমের হপার পোকা

শুককীট ও পূর্নাঙ্গ কীট গাছের বিভিন্ন অংশে যেমন পাতা, ফল, ফুল এ একধরনের ছিদ্র করে ও টিস্যুরস শুষে নেয়। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। পাতা, ফুল, ফল, ডালপালা শুকিয়ে যায়। গাছ বিবর্ণ হয়ে যায় এবং বাদামী বর্ণ ধারণ করে। এছাড়াও এরা একধরনের লালা ক্ষরণ করে যা অন্যান্য পোকাকে আকৃষ্ট করে এবং এক ধরনের কালো রং এর ছত্রাক বৃদ্ধিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ছোট গাছ মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হলে এরা যখন বড় হয় তখন আর ফল দিয়ে থাকে না। ফলে কৃষকের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ আমের মুকুল ঝরা প্রতিরোধের উপায়

প্রতিকারের উপায়

ক) আমের বাগান প্রায়ই চাষ করে ও আগাছা নির্মূল করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

খ) আমের গাছ ঘন ভাবে রোপণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

গ) জমিতে যাতে আবদ্ধ পানি না থাকে এবং স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ না থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে।

ঘ) অধিক্রমনকৃত গাছগুলো ছেঁটে ফেলে দিতে হবে।

ঙ) নিম দিয়ে আমের হপার দমন করা সম্ভব।

চ) বাগানে সূর্যের আলো প্রবেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

ছ) ফুট পাম্প দিয়ে কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে হবে।

জ) Cypermethrin 10EC অথবা Lamda cyhalothrin 2.5EC প্রতি এক লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার করে মিশিয়ে নিতে হবে।

ঝ) অথবা Actara 25WG প্রতি এক লিটার পানিতে আধা মিলি অথবা Admire 200Sl প্রতি এক লিটার পানিতে আধা মিলিলিটার মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

ঙ) Sumicidin 20EC অথবা Fentox 20EC প্রতি এক লিটার পানিতে এক মিলিলিটার মিশিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://greeniculture.com

 

আমচাষীদের অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। এর মধ্যে আমের গুটিঝরা অন্যতম। গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে ঝরে যায়। এসব কারণ ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো।

প্রাকৃতিক কারণ :

সাধারণত আমগাছে প্রতি মুকুলে ১০০০ থেকে ৬০০০টি পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়। গুটি আসার ২৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক থেকে দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোনো কোনো মুকুলে কদাচিৎ চার থেকে পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার :

অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয় এবং আমের গুণগতমান ও ফলন কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়। তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০ ও ২০ দিন পর দুইবার দশ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সব ফুল ফোটা অবস্থায় জিবেরেলিক অ্যাসিড প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব হলে :

মাটিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার :

মাটিতে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চার পাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। সেচের পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়। যেমন- আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার হারে প্লানোফিক্স হরমোন পানিতে মিশিয়ে হালকা সূর্যের আলোতে আমের গুটিতে স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে যায়।

পোকার আক্রমণ হলে :

গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কিড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার :

রোগ-পোকা থেকে আমের গুটি রক্ষার জন্য গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি গ্রুপের যেকোনো একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব ৮০ ডচ গ্রুপের যেকোনো একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

পরিচর্যা : আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://krishi.gov.bd/content/829

 

গুটি থেকে আমে পরিণত হতে শুরু করেছে মুকুল। এসময় বাড়তি যত্ন বিশেষ করে সেচ, পোকামাকড় ও রোগ দমনে সচেতন হলে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত আমের ফলন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচারাল উইংয়ের গবেষণা কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ স্বদেশ কুমার পাল বাংলানিউজকে বলেন, পুষ্টিকর এ ফল ঘরে তুলতে হলে অবশ্যই বিশেষ যত্ন নিতে হবে। আমের গুটি ঝরার সমস্যায় বেশি পরেন চাষীরা। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।  

এ সময় গুটি আমের যত্ন নিয়ে আম চাষীদের জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন তিনি।  
 
পানি সেচ: আমের গুটি যখন মার্বেল আকারের মত হয় তখন সেচ দিতে হবে। এতে গুটি ঝরা কমে যাবে। প্রতিবার সেচ দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মাটি তা শুষে নেয়। পানি যেন জমে না থাকে। আমের গুটি যত বড় হতে থাকে পানির প্রয়োজনও তত বাড়ে। সেজন্য আম পুষ্টতার পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত, মাটির রসের অবস্থা অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

আমে পোকার আক্রমণ: আমের গুটি আসার পর আম যখন আরো একটু বড় হয় তখন উইভিল পোকা কচি আমের গায়ে ডিম পাড়ে। সে ডিম থেকে বাচ্চা হয় এবং তা ভেতরে প্রবেশ করে আমের আঁটি ছিদ্র করে আঁটির ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে।
 
আম পুষ্ট হওয়ার আগেই আমের নিচ দিকে ছিদ্র করে পোকা বের হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং মাটিতে পুত্তলি দশা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয়। ছিদ্র করা আমটি ছিদ্র বরাবর ফেটে যায়। আক্রান্ত আম পচতে শুরু করে। একবার যে গাছে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়, প্রায় প্রতি বছরই সে গাছে এ জাতের পোকার আক্রমণ হতে পারে।
উইভিল পোকা দমন: উইভিল পোকা দমনের জন্য গাছের গোড়াসহ চারদিকের মাটি চাষ করে দিতে হবে এবং আগাছামুক্ত রাখতে হবে, যাতে ওই পোকার পুত্তলি মাটিতে লুকিয়ে থাকতে না পারে। এতে রোদের তাপে পোকা মারা যাবে বা পাখি খেয়ে নষ্ট করে দেবে।

উইভিল পোকার আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত গাছের মরা, পোকাক্রান্ত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে দিতে হবে।

তবে মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার প্রতি লিটার পানিতে ১ মি.লি. হারে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড/সিমবুস/ফেনম/বাসাথ্রিন) ১০ ইসি জাতীয় কীটনাশক মিশিয়ে গাছের কাণ্ড, ডাল ও পাতায় ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।
 
আমে রোগের আক্রমণ: আমের মুকুলের ন্যায় গুটি যখন মটর দানার মত হয় তখন, অ্যানথ্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। আমের ছোট মটর দানায় অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হলে আমের গায়ে কালো দাগ দেখা যায়। এ অবস্থায় কচি ফল ঝরে পড়ে।
 
রোগ নিয়ন্ত্রণ: আমের আকার মটর দানার মত হলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. টিল্ট-২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম ইন্ডোফিল এম-৪৫ মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া গাছের নিচ থেকে মরা পাতা কুড়িয়ে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.banglanews24.com

আম চাষিদের জন্য চলতি মৌসুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এরমধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম। আম গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

প্রাকৃতিক কারণ: আম গাছে প্রতি মুকুলে ১ হাজার থেকে ৬ হাজারটি পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তারমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়। গুটি আসার ২৫-৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক-দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোন কোন মুকুলে চার-পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

প্রতিকার: অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয়। ফলে আমের গুণগতমান ও ফলন কমে যায়। প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়। তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০-২০ দিন পর দুইবার দশ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড স্প্রে করলে ভালো হয়। এছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্থায় জিবেরেলিক অ্যাসিড প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

মাটিতে রসের অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

প্রতিকার: মাটিতে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চারপাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেওয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। সেচের পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়। আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার হারে প্লানোফিক্স হরমোন পানিতে মিশিয়ে হালকা সূর্যের আলোয় আমের গুটিতে স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে যায়।

পোকার আক্রমণে: গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কিড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

প্রতিকার: গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি গ্রুপের যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব ৮০ ডচ গ্রুপের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা: আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

প্রতিকার: এ সমস্যা দেখা দিলে আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমনকি গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.jagonews24.com

Wednesday, 27 January 2021 17:27

বারোমাসি আম বাগান

Written by

অনেকদিন ধরেই বাসায় আটকে আছি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে। বাইরে তেমন একটা যাওয়া হচ্ছিল না। এর আগে বেসরকারি পর্যটন সংস্থা ‘কাছে এসো’র উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলা ট্যুরের যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম তাতে ছেদ পড়ে। সর্বশেষ আমরা গত বছরের ৫ মার্চ সুন্দরবন ট্যুর করি। এরপর থেকেই মূলত ঘরে বসা। তাই কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও আমরা পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় এবং ফেনী জেলা ট্যুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ফেনী সফরের উদ্দেশ্য ছিল অবসরপ্রাপ্ত মেজর সোলেমানের নিজ হাতে গড়ে তোলা দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বিখ্যাত সমন্বিত কৃষি খামার, বিশেষ করে বারোমাসি আম বাগান দেখা। ক’দিন আগে ‘চ্যানেল আই’-এ দেশের বরেণ্য কৃষিব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের উপস্থাপনায় এ আম বাগান সম্পর্কে জানতে পারি। সে থেকেই ইচ্ছে ছিল সুযোগ পেলেই মেজর সাহেবের আম বাগান দেখতে যাব। অবশেষে গত ১৫ জানুয়ারি আমরা (মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, কেজি মোস্তফা, হেলাল উদ্দিন এবং আমি) ফেনী জেলার মুহুরী প্রজেক্টের উদ্দেশে যাত্রা করি। আগেই ট্রেনের টিকিট কেনা ছিল। আমরা সকালবেলা চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতীতে যাত্রা শুরু করি। আমরা তিনজন নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুক্ষণ আগেই কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত হই। টেন সিডিউল মতোই সকাল পৌনে ৮টায় যাত্রা শুরু করে। টেনে ওঠার পর আমরা বেশ রিল্যাক্স অবস্থায় চারদিকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি। ট্রেন বেশ ভালোভাবেই চলছিল। ট্রেনে আমরা গল্প করতে করতে কফি খেলাম। এক সময় আমরা ফেনী স্টেশনে উপস্থিত হই। তখন বেলা ১টা বেজে গেছে। আমরা জুমার নামাজ আদায় করি স্টেশনসংলগ্ন স্থানীয় একটি মসজিদে। নামাজ শেষে একটি হোটেলে দুপুরের খাবার গ্রহণ করি। আগেই মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান (অব.) সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, শুক্রবার বিশেষ কাজে নোয়াখালী যাবেন। কাজেই তিনি প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তবে তিনি প্রকল্পের দায়িত্বরত অন্যদের নির্দেশ দিয়ে যাবেন, যেন বাগান দেখতে আমাদের কোনো অসুবিধা না হয়। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম তিনি থাকা অবস্থায় আমরা আম বাগান দেখব। তাই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে আমরা রামগড় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

 

রামগড় বাজারে গিয়ে যখন উপস্থিত হই, তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমরা স্টেশনে অবতরণ করে জানতে পারি এলাকায় কোনো ভালো হোটেল নেই। যে ক’টি হোটেল ছিল তাও করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ করোনার কারণে এলাকায় এখন আর কোনো পর্যটক আসে না। আমরা একটি অটোরিকশা নিয়ে রামগড় হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে উপস্থিত হই। হর্টিকালচার সেন্টারটি উঁচু পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত। আমরা বেশ কষ্ট করে পাহাড়ের ওপরে চলে যাই। সেখানে হর্টিকালচার সেন্টারের একজন কর্মচারীর কাছে আমাদের থাকার বিষয়টি জানালে তিনি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মিজানুর রহমান মজুমদারের কাছে নিয়ে যান। আমরা ঢাকা থেকে এসেছি এবং আসার আগে কোথায় রাত্রীযাপন করব তা ঠিক করে আসিনি, জানতে পেরে তিনি হর্টিকালচার সেন্টারের বাংলোতে থাকার অনুমতি দিলেন। তার আচার-আচরণ ছিল খুবই সুন্দর এবং আন্তরিকতাপূর্ণ। আমরা সেখানে রাত্রীযাপন করি। আমরা যেখানে রাত্রীযাপন করি তার আশপাশে প্রচুর জঙ্গল এবং গাছ-গাছালিতে পূর্ণ। বাংলোর বারান্দায় দাঁড়ালে চারদিকে অনেক দূর পর্যন্ত দৃষ্টি চলে যায়। ক্রমেই রাত গভীর হতে থাকে। আমরা অনেক রাত পর্যন্ত জেগেই ছিলাম। মাঝেমধ্যে রাতজাগা পাখির ডাক শুনতে বেশ ভালোই লাগছিল। নিকষ কালো অন্ধকার এবং নিস্তব্ধ নৈঃশব্দ্যের যে আলাদা চমৎকার একটি রূপ আছে তা এখানে না এলে কেউ অনুভব করতে পারবেন না। সম্ভবত এটাই কবিতা লেখা এবং পড়ার উপযুক্ত স্থান। এমন নির্জন স্থানে মনে বিভিন্ন চিন্তার উদ্ভব হয়। আমাদের একজন বলছিলেন, এলাকাটি অনেকটা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মিল আছে। এখানকার রাস্তাগুলোও খাগড়াছড়ির মতোই। তাকে বুঝিয়ে বলা হলো, রামগড় খাগড়াছড়ি জেলারই একটি থানা। কাজেই এর সঙ্গে মূল খাগড়াছড়ি জেলার ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিল থাকাটাই স্বাভাবিক। রাতে বেশ ভালোই ঘুম হলো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, পাহাড়ি অঞ্চল হলেও এখানে আমরা একটা মশার দেখাও পেলাম না। ফলে রাত্রীযাপনে কোনো অসুবিধাই হলো না। রাতের শেষ প্রহরে অজানা পাখির ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। ধীরে ধীরে পূর্ব আকাশে আলোর রেখা ফুটিয়ে সূর্য উদয় হলো। আমরা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। সকালবেলা পাহাড়ি এলাকার অপরূপ সৌন্দর্য দর্শনে মুগ্ধ না হয়ে পারা গেল না। এখানে বাংলোয় দায়িত্বরত কর্মচারী সুজন চাকমার আন্তরিক ব্যবহারের মুগ্ধ না হয়ে পারা গেল না। সকালবেলা সুজন চাকমা বাজার থেকে আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে এলো। আমরা সবাই মিলে সেই নাস্তা গ্রহণ করি। এরপর হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক মিজানুর রহমান মজুমদারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা একটি অটোরিকশায় রামগড় বাজারে চলে আসি। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় তা হলো, আমরা রামগড় রাস্তার দু’পাশে বেশ কিছু চায়ের বাগান দেখতে পেলাম। বাগানগুলো বেশ সজীব এবং তরতাজা মনে হলো। রামগড়ে ভালো এবং উন্নত মানের চা উৎপাদিত হয় তা আগেই শুনেছিলাম। কিন্তু স্বচক্ষে দেখা হয়নি কখনোই। চা বাগান দেখতে পাওয়া আমাদের জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। মাঝেমধ্যে বেশ কিছু রাবার বাগানও দেখতে পেলাম। রাবার আহরণের জন্য ছোট ছোট পাত্র গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। রামগড় পরিদর্শনে গিয়ে আমার শুধুই মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ জনসংখ্যাধিক্য একটি ছোট দেশ; কিন্তু এর ভৌগোলিক বৈচিত্র্য কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। রামগড় যাত্রার আগেই শুনেছিলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি একবার রামগড়ে এসেছিলেন। তিনি এখানে অবস্থানকালে বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছিলেন। তবে এই তথ্যের কোনো সত্যতা আমরা আবিষ্কার করতে পারিনি। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হলেও তারা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কাজেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রামগড় আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটা ঠিক যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি সত্যি এখানে এসে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চিয় খুব খুশি হয়েছিলেন।

আমরা রামগড় বাজারে আসার পর ফেনীগামী একটি বাসে উঠে পড়ি। উদ্দেশ্য ফেনী শহরে যাওয়া। এক সময় আমরা ফেনী শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবতরণ করি। সেখান থেকে আমরা মোবাইল ফোনে মেজর সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার প্রকল্পের লোকেশন জেনে নিই। তারপর একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করে মুহুরী প্রকল্পের দিকে যাত্রা শুরু করি। আমার জোহরের নামাজের ঠিক আগ মুহূর্তে মুহুরী প্রকল্প সংলগ্ন চর সাহাপুর এলাকার সোয়াস অ্যাগ্রো লিমিটেড প্রকল্পে উপস্থিত হই। মেজর সাহেব প্রকল্প অফিসেই ছিলেন। আমরা তার সঙ্গে পরিচিত হয় এবং প্রকল্প মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে মেজর সাহেব আমাদের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে নিয়ে যান। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ এবং অন্যান্য ফলের গাছ আমাদের দেখালেন। তিনি জানালেন, তার পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকায় যেন বারোমাসি আমের চাষ হয়। যেন সবাই সারা বছর আম খেতে পারেন. সেই লক্ষ্যে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। মোহাম্মদ সোলায়মান তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার বাবাকে হারান। স্থানীয় জমিদাররা তাদের জমিজমা নিয়ে যান। ১৯৬৮ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি অর্জনের মাধ্যমে মেজর র‌্যাংকে উন্নতি হন। পরবর্তী সময়ে তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি কৃষি খামার গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হন। তিনি গত ২৭ বছর ধরে কৃষি খামারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। মেজর সোলায়মান যে কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন তা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যম-িত একটি সমন্বিত খামার। তিনি দেশের জনগণের জন্য ফলের জোগান দেওয়ার লক্ষ্যে এখনও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। বর্তমানে তার খামার এলাকার আওতায় ২২টি পুকুর রয়েছে। এগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। তার প্রকল্প এলাকায় ৪ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। বেশিরভাগ গাছেই এখন আম ধরে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আরও ১ হাজার আম গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার বাগানে যেসব আম গাছ রয়েছে, তার বেশিরভাগই উন্নতজাতের। ভারত, থাইল্যান্ড থেকে বারোমাসি আমের চারা এনে তিনি এখানে রোপণ করেছেন। অনেকগুলো জাত বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। তার বাগানের বারোমাসি আমগাছগুলো সবার মনেই বিস্ময়ের উদ্রেক করে। প্রকল্প এলাকায় ৩০০টি কাঁঠাল গাছ আছে। এছাড়া রয়েছে ৫০০টি সুপারি গাছ। ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে ৫০টির মতো। সোয়াস অ্যাগ্রো প্রকল্পে মোট ৩০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রকল্পে মধু উৎপাদিত হয়। এ প্রকল্পের মধু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। সোয়াস অ্যাগ্রো লিমিটেড প্রকল্পে বছরের সব সময়ই আম পাওয়া যায়। প্রতি বছর গড়ে ২২ থেকে ২৫ টন আম উৎপাদিত হয়। মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান (অব.) তার প্রকল্পে উৎপাদিত খাঁটি মধু দিয়ে ক্লিনহার্ট নামে এক ধরনের হারবাল ওষুধ তৈরি করেছেন। এটা নিয়মিত সেবন করলে হার্টের ব্লক থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সারা দেশে এ ওষুধ সরবরাহ করা হয়। মেজর সাহেব জানালেন, ক্লিনহার্ট সেবন করে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। ফলে এর চাহিদা দিন দিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আম বাগান দেখনোর সময় মেজর সোলায়মান বারবারই বলছিলেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকব, এই বাগানের পরিচর্যা করে যাব। পরবর্তী সময়ে তার উত্তরাধিকারীরা এই বাগান দেখাশোনা করবে। তিনি চান সারা দেশে তার আম বাগানের মতো আম বাগান গড়ে উঠুক। যেন বাংলাদেশ আম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। সৃষ্টিশীল এক ব্যক্তি একটি এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তনে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান (অব.) তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করার পর নিজেদের অপাঙ্ক্তেয় মনে করেন। নিজেকে সমাজের বোঝা ভাবেন তাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান (অব.)। আমরা চাই দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে মেজর মোহাম্মদ সোলায়মান (অব.) এর মতো সৃষ্টিশীল মানুষের আবির্ভাব ঘটুক। বাংলাদেশ একটি আশ্চর্যজনক দেশ। এখানে জনসংখ্যাধিক্য থাকলেও সম্ভাবনার কোনো কমতি নেই। বাংলাদেশের ফল এবং মাছসহ অন্যান্য খাবার সবচেয়ে সুস্বাদু। এর কোনো তুলনা হয় না। শুধু উদ্যোগের অভাবে বাংলাদেশ এখনও তার সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না।

কৃষিবিদ ড. এম এ মজিদ মন্ডল : আম হলো বাংলাদেশে ফলের রাজা এবং গাছ হলো জাতীয় গাছ। আম সাধারণত উষ্ণ ও অবউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের স্বার্থকভাবে জন্মে। ইন্দো-র্বামা অঞ্চলে আমের উৎপত্তিস্থল বলে ধারণা করা হয়, তবে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহামহাদেশে আম সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। কারণ- আমের বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। বাংলাদেশে প্রায় সব অঞ্চলে আম জন্মে কিন্তু দেশের উরাঞ্চলে এর বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। সাধারণত দুই প্রকারের সমস্যার কারণে আম চাষিরা প্রতি বছর অনেক ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন। এগুলো হচ্ছে- (১) প্রাকৃতিক কারণ (যেমন- ঝড়, শিলাবৃষ্টি, খরা প্রভৃতি) এবং (২) রোগ ও পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত। সঠিক পরিচর্যা ও রোগ-পোকামাকড় দমন করে প্রথম ক্ষতি আংশিক এবং দ্বিতীয় ক্ষতি প্রায় সম্পূর্ণরুপে সমাধান করা সম্ভব। আম গাছের ফল ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ফলন বাড়ানোর জন্য নিম্নলিখিত পরিচর্যাগুলো করা একান্ত প্রয়োজন:

পরগাছা দমন

আমগাছে একাধিক জাতের আগাছা জন্মাতে দেখা যায় যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরগাছাসমূহে শেঁকড়ের মতো এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া হয় যা গাছের মধ্যে প্রবেশ করে রস শোষন করে খায় এবং গাছেকে দুর্বল করে ফেলে। পরগাছার প্রাদুর্ভাব বেশি হলে গাছের পাতার আকার ছোট ও ফ্যাকাসে হয় এবং অনেক সময় গাছ মারা যায়। এর ফলে গাছের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। তাই ভালো ফলন পেতে হলে অবশ্যই পরগাছা অপসারন করতে হবে।

সার প্রয়োগ

গাছের বৃদ্ধি ও ফল উৎপাদনের জন্য সারের ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। ফলন্ত গাছের আকার, বয়স ও মাটির উর্বরতার ওপর সারের পরিমাণ নির্ভর করে। দুপুর বেলা যতটুকু স্থানে ছায়া পড়ে সেটুকু স্থানে মাটি কুপিয়ে সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

সেচ প্রয়োগ

সাধারণত জমির উপরের স্তরে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান থাকে যা সার হিসেবে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়। তাই আম বাগানের উপরের ২-৩ মিটার অংশকে জমির পানি সংরক্ষণ স্তর হিসেবে ধরা হয়। তাই শুস্ক মৌসুমে আম বাগানে পানি সেচ দেয়া দরকার। আমের গুটি মটর দানার মতো হওয়ার পর থেকে ১৫-২০ দিন পর পর ২-৩ বার সেচ দিলে আমের গুটি ঝরা বন্ধ হয়।

টক আমগাছকে মিষ্টি গাছে রূপান্তরকরণ

বাগানের কোন গাছের আমের গুনাগুন খারাপ হলে সে গাছকে নষ্ট না করে ভিনিয়ার কলমের মাধ্যমে উন্নতি সাধন করা য়ায়। বয়স্ক গাছের ২-৩ টি ডাল কেটে দিলে সেখান থেকে ন’তন শাখা বের হলে তার পর নতুন শাখাতে ভিনিয়ার কলম করে নিতে হবে। এভাবে ৩-৪ বারে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

পুরাতন বাগান নবায়ণ

আম বাগানের বয়স বেশি হলে ফল ধারণ কমে যায়। এক্ষেত্রে গাছ কেটে না ফেলে পুরাতন গাছের ভারী শাখা কেটে দিলে সেখানে নতুন শাখা বের হবে এবং গাছ নবায়ণ হয়ে যাবে। এভাবে ২-৩ বছরে বাগান নবায়ণ করা যায়।

ফসল সংগ্রহ

ফল ধরার ৩-৫ মাসের মধ্যেই জাতভেদে ফল পাকা শুরু করে। বাণিজ্যিকভাবে কখনো সম্পূর্ণ পাকা আম গাছ থেকে পাড়া ঠিক নয়। গাছের ফল দুই চারটি পাকা শুরু করলে বাঁশের কোটার মাথায় থলে সদৃশ্য জালতি লাগিয়ে আম পাড়তে হবে যেন আঘাত না লাগে। গাছের নিচে সাময়িকভাবে রাখতে হলে খড় বিছিয়ে তার উপর রাখতে হবে। নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখে ফল সংগ্রহ করতে হবে-

(১) আমের বোটার নীচে হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। (২) পানিতে দিলে ডুবে যাবে। (৩) কস বের হলে দ্রুত শুকিয়ে যাবে। (৪) দুই একটি পাকা আম গাছ থেকে ঝরে পড়বে।

ফল সংরক্ষণ

আম পচনশীল ফল। বেশি পাকা অবস্থায় সংগ্রহ করলে সংরক্ষণকাল কম হয়। অধিকাংশ জাতের আম ১৩-১৭ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ও ৮৫-৯০% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় বাঁশের ঝুড়ি, বাস্কেট, খড় বিছানো প্রভৃতিতে স্থানে  ৪-৭ সপ্তাহ সংরক্ষণ করা যায়।

রিজুভেনাইজেশন বা উজ্জ্বীবিতকরণ হচ্ছে এমন একটি  পদ্ধতি যার মাধ্যমে বয়স্ক বা ঘন করে লাগানো গাছ/বাগান, যে গাছে/বাগানে আদৌ ফল ধরে না বা  খুবই কম ফল দেয় সে ধরণের ফল গাছ/বাগানকে ফল উৎপাদনক্ষম করে তোলার পদ্ধতি। সাধারণত ১৫-২০ বছর বয়সী বাগানে আগের চেয়ে ফল উৎপাদন কমে যায়, গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে, গাছ বা বাগান ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পাদন করা জটিল হয়ে উঠে এবং রোগ ও পোকা-মাকড় দ্বারা গাছ বেশী আক্রান্ত হয়। পোকা-মাকড় সহজে দমন করা যায় না। এমতাবস্থায় নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা যায়।
* ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় অথবা হয়-ই না।
* ডালে শর্করা ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয় অনুপাতের (ঈ:ঘ) ব্যাঘাত ঘটে। আমের ডালে মুকুল আসতে হলে, ফুল আসার আগে ডালটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে অধিক শর্করা ও কম নাইট্রোজেন দুই-ই থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, শর্করার ভাগ নাইট্রোজোনের ভাগের চেয়ে যথেষ্ট বেশী থাকতে হবে। আর যদি দু’টির ভাগ সমান হয় বা বিশেষ করে ডালটির নাইট্রোজেনের মাত্রা শর্করার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ঐ ডালের ডগায় মুকুল আসার বদলে পাতা  এসে যায়।
* ঘন করে লাগানো বাগানের ক্ষেত্রে, গাছের মধ্যে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা চলে। ফলে গাছ পরিমিত খাদ্য পায় না।
* ঘন ডালপালা থাকার কারণে আলো ও বায়ু চলাচল ঠিকমত হয় না বলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
বয়স্ক/ঘন বাগানে মরা, রোগাক্রান্ত এবং পোকাক্রান্ত ডালপালা বেশি থাকে। উক্ত ডালপালা গুলো খাবার নেয় কিন্তু কোন ফলও ধরে না, ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়।
* গাছের নীচের দিকের ডালপালায় রোদ কম পড়ে, ফলে ফলন হয় না বললেই চলে। তাছাড়া ঐ সমস্ত ডালগুলো রোগ ও পোকার আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
রিজুভিনাইজেশন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা: রিজুভেনাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বয়স্ক, অনুৎপাদনশীল/ঘন আম বাগান বা গাছকে উজ্জ্বীবিত করা যেতে পারে যা নি¤েœ বর্ণনা করা হলো-
* বয়স্ক, অধিক ঘন এবং ফল হয় না এমন বাগান/গাছ আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে মাটি থেকে ২.৭৫ মি- ৩.০০ মিটার উচ্চতায় গাছের সমস্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে।
* কর্তিত অংশে আলকাতরা/রং এর প্রলেপ দিতে হবে।
* সার, সেচ ও নিকাশ ব্যবস্থা করতে হবে।
* ডাল কাটার পর ৩-৪ মাসের মধ্যে নতুন কুশি বের হবে।
* ডাল কাটার পর ৬-৭ মাসের মধ্যে ঘন শাখা প্রশাখা বের হবে।
* প্রতিটি শাখায় সুস্থ-সবল, মোটা-তাজা ৫-৭টি ডাল রেখে, রোগাক্রান্ত, মরা, কীটাক্রান্ত, দূর্বল ডালসহ বাকীডালগুলো কেটে ফেলতে হবে।
* ডাল কাটার পর মূলগাছে ও নতুন গজানো পাতায় রোগ ও পোকামাকড়েরর উপদ্রব বেশি হয়। এজন্য গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
* কর্তিত গাছে প্রথম বছরে কোন ফল পাওয়া যায় না।
* দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত কর্তিত গাছের নতুন গজানো ডাল পাতলাকরণের কাজ চলতে থাকবে।
* দ্বিতীয় বছরে জানুয়ারি- ফেব্রæয়ারি মাসে কর্তিত গাছের গজানো শাখায় ফুল আসবে।
* দ্বিতীয় বছরে কর্তিত গাছের নুতন গজানো শাখায় ফল ধরে।
যথাযথ ব্যবস্থাপনায় তৃতীয় বছরে কর্তিত গাছটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফলবান বৃক্ষে পরিণত হবে।
সার প্রয়োগ : কর্তিত গাছে নতুন ডালপালা গজানো ও সতেজ করার লক্ষ্যে আম বাগানে চাষ দিয়ে বা গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত করে জৈবসার প্রয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা অত্যাবশ্যক। গাছের গোড়ায় সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গোড়া থেকে ১.০-১.৫ মিটার দূরে নালা পদ্ধতিতে সার দেয়া যেতে পারে।  এ ক্ষেত্রে যে সমস্ত সার প্রয়োগ করতে হবে তা সারণি-১ দ্রষ্টব্য।
উল্লেখিত সারগুলোর অর্ধেক পরিমাণ সার গাছের ডাল কাটার পর পরই প্রথম ধাপে প্রয়োগ করতে হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাকি অর্ধেক সার  আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ও নিকাশ: সার প্রয়োগের পর উক্ত সার যাতে গাছ গ্রহণ করতে পারে সে জন্যে আম বাগানে প্রথমে একটি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। এর পর মাঝে মাঝে গাছের প্রয়োজন অনুসারে এমন ভাবে সেচ দিতে হবে যেন মাটিতে রস থাকে। লক্ষ রাখতে হবে যেন আম বাগানে বা গাছের গোড়ায় যেন কোন অবস্থায় দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে।
পোকামাকড় ও ব্যবস্থাপনা
পাতাখেকো শুঁয়োপোকা
এ পোকার কীড়া (বাচ্চা) চারাগাছ ও বড় আমগাছের পাতায় আক্রমণ করে। স্ত্রী মথ আমপাতার ওপরের পিঠের কিনারায় লাইন করে মুক্তার দানার মতো সাদা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হলে, কীড়াগুলো প্রথমে  ঐ পাতার ওপর গুচ্ছাকারে থাকে, পরে গাছে ছড়িয়ে যায় এবং পাতার মধ্যশিরা রেখে পুরো পাতা খেয়ে ফেলে  আক্রান্ত গাছ সম্পূর্ণ বা আংশিক পাতাশূন্য হয়ে পড়ে। এতে গাছের খাবার তৈরি বাধা পায় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রমণ খুব বেশি হলে গাছে ফুল ও ফল হয় না।
দমনব্যবস্থা
ডিমসহ পাতা দেখামাত্রই সংগ্রহ করে পুড়িয়ে মারতে হবে। গুচ্ছাকারে বা ছড়ানো অবস্থায় থাকা শুঁয়োপোকাগুলো সংগ্রহ করে পা-দিয়ে পিষে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পা-দিয়ে পিষে মারার সময় অবশ্যই পায়ে স্যান্ডেল বা জুতা থাকতে হবে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার ডাইমেক্রন/ ডায়াজিনন ৬০ ইসি (৪ কর্ক) বা সুমিথিয়ন ৫০ ইসি (৪ কর্ক) মিশিয়ে পাতা ও           ডাল-পালাসহ গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে।
পাতাকাটা উইভিল ক্ষতির ধরন: এ পোকা কচি আমপাতার নিচের পিঠে ছোটছোট গর্ত করে ডিম পাড়ে। এরপর ডিমসহ কচিপাতাটি (লাল পাতা) রাতের বেলা বোঁটা থেকে একটু দূরে কাঁচি দিয়ে কাটার  মতো করে কেটে ফেলে দেয়। এতে গাছের নুতন পাতা ধ্বংস হয় এবং খাবার তৈরি কমে যায়। ফলে চারা বা গাছ দুর্বল হয়ে যায়।
দমনব্যবস্থা
আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে গাছে কচিপাতা দেখার সাথে সাথে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ মিলিলিটার সুমিথিয়ন ৬০ ইসি (৪ কর্ক) মিশিয়ে গাছসহ গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে ¯েপ্র করতে হবে। এ পোকা দিনের বেলায় গাছের নিচে পড়ে থাকা পাতার নিচে ও আগাছার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাই গাছের নিচে পড়ে থাকা কচিপাতা দেখামাত্র সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ফল ধারণ: আম গাছকে উজ্জীবিতকরণ করার প্রথম বছরের পর ঐ গাছে সাধারণত কোন ফল ধরে না তবে ঠিকমত ব্যবস্থাপনা দিলে দ্বিতীয় বছর থেকে গাছে ফল ধরা শুরু হয়।

 

তথ্যৎ ১পরিচালক, বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টার, বা.কৃ.বি., ময়মনসিংহ। ২এসএসও, উদ্যানতত্ত¡ বিভাগ, বিনা, মোবা : ০১৭১১১২৪৭২২ ই-মেইল : This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

এক গাছেই মুকুল, গুটি আর পাকা আম। বিষয়টি শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই সত্যি! বগুড়ার শেরপুরের তিন বন্ধুর ওই আমবাগানে গেলে যে কারোরই চোখ আটকে যাবে। মামুন, সোহেল ও শহিদুল, মেধাবী এই তিন তরুণের কৃষির প্রতি দুর্নিবার টান। তাই পড়ালেখা শেষে গড়ে তোলেন মিশ্র ফলের বাগান। নাম দিয়েছেন ‘ফুল অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’। বারোমাসি আম চাষে বেশ সফলতাও পেয়েছেন তাঁরা। এরই মধ্যে বাগানের উৎপাদিত রকমারি ফল বাজারজাত শুরু হয়েছে।

তিন বন্ধুর বারোমাসি এই ফলের বাগান ছাড়াও বরেন্দ্র জনপদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নাচোল, রহনপুর; নওগাঁর সাপাহার, পোরশাসহ বিভিন্ন স্থানে এখন বারোমাসি আমের দেখা মিলছে।

বছরে তিনবার ফল দেওয়া বারি-১১ এবং থাইল্যান্ডের কাটিমন জাতের আম চাষে ঝুঁকছেন অনেকেই।

বগুড়ার শেরপুরের খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়াতাইর গ্রাম। ওই গ্রামের প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই মিশ্র ফলের বাগান। এর মধ্যে ১৮ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে বারোমাসি আম। সেখানে রয়েছে ৯ হাজার আমের গাছ। একই গাছের এক ডালে ধরেছে মুকুল, পাশাপাশি অন্য ডালে একই সঙ্গে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম।

উদ্যোক্তা তিন তরুণ জানান, ২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয় বাগানটি। পরে আরো ৩৫ বিঘা জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে বাগানের পরিসর বাড়ানো হয়। তাঁদের বাগানে প্রায় ১৫ হাজার রকমারি ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বারোমাসি আম কাটিমন ও বারি-১১, মাল্টা, পেয়ারা ও বরই রয়েছে। বাগানের ফল খুবই সুস্বাদু ও গুণগত মানেও সেরা। অন্যান্য ফলের উৎপাদন ভালো হলেও বর্তমানে বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত উদ্যোক্তারা। অ সময় পাওয়া এই ফলের চাহিদাও বাজারে অনেক বেশি।

তাঁরা জানান, আগে পাকা আম পাইকারি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করলেও এখন ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এরই মধ্যে দুই লাখ টাকার আমও বিক্রি করেছেন। আরো এক লাখ টাকার আম বাগানে রয়েছে। এই সাফল্য দেখে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই জাতের আম চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাই অনেকেই বারোমাসি আমের চারা কিনতে আসছেন। যেভাবে সাড়া দেখা যাচ্ছে তাতে এ বছর ১০ লাখ টাকার ওপর এই ফলের চারা বিক্রি হতে পারে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই মিশ্র ফলের বাগান থেকে এক কোটি টাকার আম, বরই ও পেয়ারা বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশা তাঁদের।

উদ্যোক্তা মামুনুর রশিদ ও সোহেল রেজা জানান, তাঁরা কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে ছুটে যেতেন ক্ষেতে। এর আগেও বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করে এলাকার সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশসেরা কৃষক হিসেবে নির্বাচিত করে মামুনকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। তিনি সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন। এরই মধ্যে সোহেল রেজা বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) থেকে বারোমাসি আম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

আরেক উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরেন। ওই সময় স্কুলজীবনের বন্ধু মামুন ও সোহেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফল বাগানের স্বপ্ন বোনেন। তিন বন্ধু বগুড়ার মহাস্থান, হর্টিকালচার সেন্টারসহ স্থানীয় মহিপুর এলাকার বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। এরপর আরো জমি লিজ নিয়ে সেখানে লাগান বারোমাসি আম, পেয়ারা, মাল্টা ও বরই চারা। সময়ের ব্যবধানে বাগানটিতে লাগানো হয় রকমারি ফলের আরো ১৫ হাজার গাছ।

উদ্যোক্তা মামুনুর রশিদ জানান, সারা বছর আম পাওয়া যাবে তা কখনো কেউ ভাবতেও পারেনি। বিষয়টি স্বপ্নের মতো মনে হলেও এটাই বাস্তব হয়েছে। বছরে তিনবার এসব গাছে মুকুল ধরে। সেই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে একই গাছের বড় বড় আমগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়। আমগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে ব্যাগে ঝুলিয়ে গাছেই রাখা হয়। সেটা গাছে পাকার পর বিক্রি করা হয়।

শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, এ উপজেলায় মিশ্র ফলের বাগান বাড়ছে। আমরা পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। মাগুড়াতাইর গ্রামে গড়ে ওঠা ফুল অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড নামের মিশ্র ফলের বাগানের উদ্যোক্তাদেরও সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিন বন্ধুর এই মিশ্র ফলের বাগানটি সবার জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।

বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, বারোমাসি আম চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। যার উত্কৃষ্ট উদাহরণ শিক্ষিত এই তিন তরুণ উদ্যোক্তা। বারোমাসি আমের বাগান করে তাঁরা বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। সেই সঙ্গে সবার আদর্শ হয়েছেন। তিনি আশা করেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে বারোমাসি আম চাষ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

অসময়ে আম খেতে পাওয়া কতনা মজাদার? তাও আবার শীত মৌসুমে, বারি-১১ ও আশিনা আমের ফলন ফলাচ্ছেন তিনি। বলছিলাম গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের কথা। 

তিনি ২০১৯ সালের জুন মাসে পার্বতীপুরের মহেশপুর গ্রামে 'বারমাসী ম্যাংগো ফার্ম' আমরুপালি আমের বাগান নিয়ে শুরু করে পরিচর্যা। নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ১৫'শ' গাছের সাইনিং শুরু করেন তিনি। 

কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর আগে থেকে আমার সখ ছিল, যখন মানুষ আগ্রহ করে আম খায়, যখন শেষ হয়ে যায়, তখন আর থাকে না ও পায়ও যায় না। কিন্তু এই যে আম থাকে না, কিন্তু আম পছন্দ করে, সারা বিশ্বব্যাপী আমের একটা চাহিদা আছে, পরিচিতিও আছে। কিন্তু শেষ হয়ে গেলেও আম খাওয়ার আনন্দটা হারায় না। 

সেগুলো ভেবে আজ থেকে পনের বছর আগে একটি জাত সংগ্রহ করেছিলাম আমি, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে এক বিঘা বাগানের প্রজেক্ট  করেছিলাম আমি, কিন্তু আম পাকার পরে তা আর খাওয়া যেত না। এই বিষয়কে মাথা রেখে আমি ২০১৮সালে আমার ভাই কমান্ডার রেজাউল করিমের পরামর্শে একটি বাগান তৈরি করি। ফলে নিজের বাগানে একটি প্রজেক্ট তৈরি করি আমি। সেই প্রজেক্টে পরীক্ষামূলকভাবে আমি আম উৎপাদনে সফলতা অর্জন করি এবং ভালো একটা মুনাফা পাই।

 
তার সুবাদে উপজেলার পার্বতীপুর ইউপি’র মহেশপুর গ্রামে ১২ বিঘা জমিতে বাড়ি-১১ জাতের আম বাগানের চাষ শুরু করেন তিনি। 

২০১৯ সালের জুন মাসে আম বাগান প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন। আমরুপালি থেকে সাইনিং করে বাড়ি-১১ আমের ফলন ফলান তিনি। বছরে বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার করে, ১২বছরে তিনি ৩০লক্ষ টাকায় জমি লিজ নিয়ে প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন। 


পরিচর্যার বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে বই পড়ে মেধা ও কঠোর পরিশ্রম করে গাছের পরিচর্যা করে এখন গাছকে সতেজ রেখে ভালো মানের ফলন ফলিয়েছেন। অন্য কৃষকের থেকে তার পরিচর্যার বিষয়টা একটু অন্যরকম। অন্যরকম বলতে কী? 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জৈব সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেহেতু খরচ অনেক বেশি, তাই গাছের ফলন আসার পূর্ব মুহূর্তে সঠিক পরিচর্যায় কম খরচে উপযুক্ত সময়ে গাছে জৈব সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোস্ট ও কিছু পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করি। 

তিনি উপযুক্ত সময় কীটনাশক ব্যবহার করে হপার ও উইপোকার আক্রমণ কিছু পরিমাণ দেখা গেলে তা ভালোভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এক কথায়, তিনি বলেন গাছের খাদ্য সঠিক সময়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায় আর আমি সেটাই করে থাকি। 

তার বাগানে বারি-১১ আমের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮ মাসে অর্থাৎ ১ বছর ৬ মাসে তার আনুমানিক ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, যেহেতু প্রথম বছরে তার ইচ্ছে ছিল লাভবান হওয়ার, তাই তিনি নানা প্রতিকূলতা পের করে ১৫ লক্ষ টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এখনও তিনি বাজারজাত করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। 
আম উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ি-১১ গাছে ৬১টি করে প্রতিটি আমের পরিমাণ আনুমানিক ৩৫০-৭৫০ গ্রাম করে ২০ কেজি করে হয়ে থাকে। আম খেতে মাঝারি মিষ্টি, যার মিষ্টতা অর্থাৎ টি,এস,এস প্রায় ১৮/১৯, হালকা আঁশযুক্ত খুব সুস্বাদু। 

উপজেলার সফল উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের সম্ভাবনায় আম উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়। তিনি সরকারি প্রণোদনা পেলে বেশি বড় প্রজেক্ট করে আম উৎপাদনে বাংলাদেশ তথা বিদেশে অর্থনৈতিকভাবে রপ্তানি করে দেশের মানুষের অসময়ে আমের চাহিদা পূরণ করা তার ইচ্ছা। 

কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস আগে সিরাজুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন করেন এবং বাগান পরিচর্যার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এই উপজেলার মধ্যে অসময়ে এতো বড় বারোমাসি বাগানের আম চাষী নতুন উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের লক্ষ্যমাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

Page 3 of 49