x 
Empty Product

আমের অঞ্চল হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। অর্থকারি ফসল আম। মূলত এখানকার মানুষের প্রধান আয় হয় আম থেকে। গত কয়েক বছর টানা আমে লোকশানের পর গেল মৌসুম হতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে চাষীরা। তবে চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক বিপদ যেন পিছু ছাড়ছেনা।

একদিকে কুয়াশা অন্য দিকে ফাগুনের বৃষ্টি। এছাড়াও বিপর্যয় হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।

 

শুক্রবার বিকেল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এক রকম মুসুলধারেই হয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি। এতে আমের ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এখানকার আম চাষীরা। তারা ফাগুনের বৃষ্টিকে ক্ষতির মূল কারন হিসেবে দেখছেনন চাষিরা।

 

আম বাগানী রবিউল আওয়াল জানান, গত কয়েক বছরের টানা লোকসানের পর এবার অনেক আশা নিয়ে গাছের পরির্চযা করেছেন। আবহাওয়া বিরুপ হওয়ার পরেও কিছু গাছে ইত মধ্যে গুটি এসেছে। এছাড়াও বর্তমানে প্রায় ৭ শতাংশ গাছে এখন ফুল রয়েছে। এসব মুকুল পচে নষ্ঠ হয়ে যাবে। আশানুরুপ ফল না হলেও একেবারে পথে বসতে হবে।

 

গোমস্তাপুর আম চাষী শরিফুল ইসলাম জানান, গেল সপ্তাহে হঠাৎ বৃষ্টিতে মুকুলের কিছুটা ক্ষতি হলেও আবহাওয়া ভাল থাকায় তা পুসিয়ে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে দুই দিন যাবৎ একাধারে বৃষ্টি হওয়ায় গাছের সব ফুল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

এ ছাড়া গাছে হপার পোকা, ছত্রাক ও পাউডারি মিলভিউ নামে আরো একটি রোগ বালাই বাসা বাঁধবে। যা কোন ভাবেই স্প্রে করে দমন করা যাবেনা।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.জমির উদ্দীন জানান, টানা বৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে নিষেধ থাকার পরেও ক্ষতি মেটাতে মুকুলে স্প্রে করা যেতে পারে।

 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি বছর ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের কম।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.shadhinalo.com

 

হে কবি নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়/ বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়/ কহিল সে সিগ্ধ আঁখি তুলি/ দখিণ দুয়ার গেছি খুলি?/বাতাবী লেবুর ফুল ফুটেছি কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?/ দখিণা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল? কবি বেগম সুফিয়া কামাল তাহারেই পড়ে মনে বিখ্যাত গীতি কবিতায় এভাবেই বস্তকে স্মরণ করেছেন।

‘আম গাছে ধরল মুকুল নতুন শাখে শাখে/ ফাগুন তাকে সাজিয়েছে নতুন কনের সাঝে/ কত মাছি আসে ছুটে/ কত মধু নেয় যে চুষে/ কত পাখি গাইলো গান/ মুকুলের মন সজীব চঞ্চল’ কবি আবদুর রহমান আকনের ভাষায় আমের মুকুলের মন যেন সজীব চঞ্চল। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি-সাহিত্যিকের হাতে বসন্ত আর আমের মুকুলের সৌন্দর্য রচিত হয়েছে।

 

সময়ের ভেলায় চড়ে নিয়মের নৌকা বেয়ে এ জনপদে প্রতিটি দুয়ারে বেশ আগেই নোঙর করেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতিতে বইছে হিমেল পরশ আর মৃদু গরমের বসন্তের আবহাওয়া। বসন্ত মানেই ধরণীতে শিমুল-পলাশসহ হরেক রঙের ফুলের মেলা। এসময়ে গাছে গাছে দেখা যায় আমের মুকুল। ঝিম ধরা দুপুরে মুকুলের গন্ধ আর ফুলে ফুলে ভ্রমর-মৌমাছির ওড়াওড়ির দৃশ্য সত্যিই মনোহর। এমন দৃশ্য বাংলার গ্রাম-গঞ্জের পথে পথে হয়তো হরহামেশাই চোখে পড়ে। ইট-পাথরে গড়া ঢাকা শহরেও সত্তর-আশির দশকে এমন দৃশ্যের হয়তো দেখা মিলত। তবে এখন এ নগরীতে বসন্ত আসে শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে। বসন্তের কোনো আগুন রাঙা ফুল বা আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ দেখা যায় না বললেই চলে। তবে ব্যতিক্রম রাজধানীর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস।

ঢাকা কলেজে এখনো বসন্তে ফুল ফোটে, কোকিল গান গায় আর প্রেমিক হৃদয়ে লাগে দোলা। এবারও বসন্তে নতুন সাঁজে সেঁজেছে ঢাকা কলেজ। ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের পাশে, পুকুর পাড়ে, উত্তর ও দক্ষিণ হল, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হল এবং ইন্টারন্যাশনাল হলের সামনের আমগাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর আমের মুকুলে ভ্রমর-মৌমাছির ওড়াওড়ির দৃশ্য গ্রাম বাংলার ছবি হলেও ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে এখন এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলবে।

 

ঢাকা শহরের খুব কম স্থানই আছে যেখানে গ্রাম্য পরিবেশের স্বাদ পাওয়া যায়। আর তাইতো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবক এমনকি পথচারীরাও মুগ্ধ এমন দৃশ্যে।

 

রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় স্ত্রী, সন্তান, নাতি নাতনী নিয়ে দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে বসবাস করেন ষাটোর্ধ্ব রেজাউল করিম। ঢাকা কলেজের টেনিস গ্রাউন্ডের আম গাছের মুকুলের দিকে তাকিয়ে রেজাউল করিম যেন হারিয়ে গেছেন তার ছোট্ট বেলায়। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস। শৈশবে যখন গ্রামে থাকতাম তখন আম গাছে মুকুলের দেখা মিললে আনন্দের শেষ ছিল না। গাছে আম ধরবে, কাঁচা-পাঁকা আম খেতে পারব। পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম হঠাৎ আমের মুকুল চোখে পড়ায় শৈশবের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। তাই কাছ থেকে দেখতেই এখানে আসলাম।’

স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাস ছুটি না হওয়ায় দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয় না। তাই বসন্তে গ্রামের সেই সৌন্দর্য এবার দেখা হলো না । তবে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে আম্র মুকুলসহ বিভিন্ন ফুলের সমাহার সেই দুঃখ কমিয়েছে অনকেটা। এই শহুরে এই জীবনে মনে একটু হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছে।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.jagonews24.com

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে হ্লাশিং মং চৌধুরীর দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছে। মহালছড়ি উপজেলাধীন কাটামুড়া নামক ধুমুনিঘাট এলাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ শত ফুট সু-উচ্চ পাহাড়ে প্রায় ২০ হেক্টর পাহাড়ি জায়গায় তিনি গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রকার বনজ ও বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ সৃজন করেছেন। তার বাগানে প্রায় ২০ হাজার এর উপরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে ।

এই বাগানে রয়েছে বিচিত্র ফলজ গাছের সমারহ। বিভিন্ন প্রজাতির ফলের মধ্যে আম একটি। এই বারে তার বাগানে ৭০ প্রজাতির আম গাছের মধ্যে গুটি কয়েক বাদে প্রায় সব প্রজাতির আম গাছেই মুকুল এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবারে বেশি ফলনে আশাবাদী তিনি। বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছের মধ্যে তার সংগ্রহে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কতৃক উদ্ভাবিত বারি-১ থেকে বারি- ১১ পর্যন্ত জাতের আম, এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের মধ্য রয়েছে কিউজাই(থাই), পালমার(ফ্লোরিডা), জাম্বুরা আম(থাই), দোকমাই(থাই), রানী পছন্দ, রেড লেডী(ফ্লোরিডা), সূর্যো ডিম(থাই), ত্রিফলা, চৌফলা(BAU-9), শ্রাবণী-১(BAU-1), শ্রাবণী-২(BAU-2), মাহেলেসা(BAU-14), গৌরমতী, ম্যট্রোস তোতা, আলফানসো, চোষা, পূণা হাইব্রিড ও কেন্ট সহ প্রায় ৭০ প্রজাতির আম গাছ রয়েছে তার বাগানে। বিভিন্ন ফলের মধ্য রয়েছে মালতা বারি-১, সূর্যমুখী কলা সহ বিভিন্ন জাতের কলা, ড্রাগন ফল, আনার ও ডালিম সহ বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ।

তার সাথে কথা বলে জানা যায় এই বাগান গড়ে তোলার পিছনের গল্প, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যখন চাকরির পিছনে ছুটতে ব্যস্ত, তখন তার একটা স্বপ্ন ছিলো নিজে কিছু করার, তখনি তার মাথায় বুদ্ধি এলো বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মিশ্র ফলের বাগান করলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ, পুরোদমে নিজ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় শুরু করলেন বাগান গড়ার কাজ, তাও সুমদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ শত সু-উচ্চ পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় পুরো খাগড়াছড়ি জেলা তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে হইচই ফেলে দেন। তার বাগানে প্রায় চার হাজার ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে।

এর পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, একে একে সাফল্য আসতে থাকলো তার। বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ সংগ্রহ করে চাষ করতে লাগলেন। গত বছর ড্রাগন ফল সহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি আম বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছেন তাতে বাগানের খরচ বাদ দিয়ে তিনি বেশ স্বচ্ছল ভাবেই চলতে পারতেছেন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।

তার এই উদ্যোগের ফলে তার বাগানে মহালছড়ির প্রায় ২০/৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এই ছাড়াও তিনি যুব সমাজকে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতেছেন, বেকার যুবকদের আইডল এখন তিনি। ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভবিষ্যতে তার জামপ্লাজম সেন্টার করার পরিকল্পনা আছে। যাহাতে প্রকৃতি প্রেমিকরা তার বাগানে এসে নতুন নতুন গাছের সাথে পরিচিত হতে পারেন। বেকার যুবক তথা যারা বাগান করতে আগ্রহী তারা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কি ভাবে চাষ করে লাভবান হতে পারবেন সেই বিষয়ে জানার সুযোগ পাবেন এই সেন্টারের মাধ্যমে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রি করার পরিকল্পনা আছে তার। তাছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে যুব সমাজকে উজ্জীবিত করতেছেন যাহাতে কেউ বেকার বসে না থেকে নিজের প্রচেষ্টায় কিছু করতে পারে। তিনি আরো বলেন সরকারের কাছ থেকে যদি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা পান তা হলে তার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট:https://www.doinikbarta.com/

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাঁচা আম সংগ্রহোত্তর পরিচর্যা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শীর্ষক কৃষক কৃষানী প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষনা কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক এই কর্মসুচির উদ্বোধন করেন।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তররের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউট জয়দেবপুরের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে পোষ্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ, বিএআরআই, গাজিপুর এই প্রশিক্ষণ কর্মসুচির আয়োজন করে। প্রশিক্ষনে ৩০জন কৃষক কৃষানী অংশ নেন।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://greenbangla.news

গুড়িগুড়িবৃষ্টির কারণে দিনাজপুরের জলায় হাজার হাজার বিঘা জমিতে থাকা উন্নত মানের বিভিন্ন প্রজাতির আমবাগানে শুরুতেই দেখা দিয়েছে প্রচুর পরিমান মুকুল। ছোট বড় গাছে ভরে গেছে আমের মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন বাগানের মালিক ও আম লিচু উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকা কৃষকেরা জানায় এ বছর বাগান গুলোতে প্রচুর আম-লিচুর উৎপাদন প্রচুর পরিমাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।

এর কারণে বাগান মালিকেরা পরিচর্যা সহ গাছগুলোতে বিভিন্ন ভাবে স্প্রে করেছিল। শুক্রবারে অল্প পরিমাণ আর শনিবারে সমস্ত দিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমের মুকুল আর লিচুর মুকুলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা।উপজেলার আম উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনার স্থান মাহমুদপুর ইউনিয়ন।

ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে ধানের সাথে আম গমের সাথে আম,লিচু সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করছে কৃষকেরা ।এ বিষয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়নে আম বাগান মালিক ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ ইকরামূল হক জানান গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে বাগান গুলোতে প্রচুর ক্ষতি হবে।
গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ১০০ বিঘা আম,লিচু চাষী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান অনেক গাছে মুকুল থেকে আমের গুটি এসেছে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় বের হওয়া আমের গুটি গুলোর ক্ষতি হবে।

তবে লিচুর খুব একটা ক্ষতি হবেনা।চক নওদা গ্রামের বাগান মালিক সাজেদুর রহমান জানান তার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে থাকা উন্নত মানের আম বাগানে মুকুলের ক্ষতি হবে।এবিষয়ে বাববগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির হোসেন জানান বৃষ্টির কারণে বাগানের মুকুলের ক্ষতি হবে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://https://dinajpurnews.com

রাজশাহীকে বলা হয় ফলের রাজা আম আর সেই গাছ গুলোতে আসতে শুরু করছে থোকে থোকে আমের মুকুল আবার কোন কোন গাছে আসছে আমের গুটি  আমের মুকুল আর গুটি টিকিয়ে রাখতে চাষিরাও ব্যস্ত পরিচর্যায়। তৎপর জেলা প্রশাসনও। লক্ষ্য, মুকুল থেকে বাজারজাতকরণ সবই হবে ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত। সেটি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন গঠন করে করে করেছে বিশেষ তদারকি কমিটি।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৯ হাজার হেক্টর জমির আমবাগানে গত বছর ২ লাখ সাড়ে ১৩ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছিল। তবে এবার এখনো লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেনি কৃষি বিভাগ। তবে গেলবারের চেয়ে এবার বাগানে বেশি মুকুলের সমারোহ। রাজশাহীর বাগানগুলোতে ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাতসহ আড়াইশো জাতের গাছে মুকুল এসেছে শতভাগ। সেসব মুকুল এখন গুটিতে পরিণত হতে শুরু করেছে। বিষমুক্ত আম উৎপাদনে মৌসুমের শুরুতেই তৎপরতা বাড়িয়েছে প্রশাসন।

বাগান মালিকদের জানানো হয়েছে মুকুল কিংবা গুটির পরিচর্যায় ব্যবহার করা যাবে না হরমন বা ফলবর্ধক রাসায়নিক ও ক্ষতিকর কীটনাশক। রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার আমচাষি আরশাদ আলী বলেন, আমের মুকুল এখন গুটিতে পরিণত হচ্ছে। তবে কোনো প্রকার রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে না। গাছের গোড়ায় শুধু জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে। যেহেতু এ বছরে কীটনাশক ছাড়া আম উৎপাদন হবে, আশা করি ফলন ও স্বাদ বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে ফল গবেষণা কেন্দ্র নিরাপদ আম উৎপাদনে বাগান মালিকদের করণীয় সর্ম্পকে অবহিত করছে নিয়মিত। গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, কীটনাশক মুক্ত আম উৎপাদন করার জন্য কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। সে সাথে কৃষকদের ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে এবার মুজিবর্ষে রাজশাহীতে শতভাগ রাসায়নিকমুক্ত আম উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিষমুক্ত আম হবে দেশবাসীর জন্য রাজশাহীর মানুষের মুজিববর্ষের উপহার। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম বাগান মালিকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে ও ভোগান্তি ছাড়া বাজারজাত করতে পারেন তার জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে আমের ন্যায্যমূল্য সঠিকভাবে পায় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://www.banglarchokh.com.bd

 

সেছে বসন্ত, বইছে ফাগুন হাওয়া। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে প্রতিটি আম গাছ। ফাগুন হাওয়ায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মুকুলের মন মাতানো গন্ধে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। বাগানজুড়ে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ করেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। এ যেন মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে।
চলতি বছর দেশের অন্যান্য স্থানের মত চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় শীতের প্রভাব কম থাকায় আগাম মুকুল ধরেছে আম গাছে। প্রতিটি আম গাছে শোভা পাচ্ছে থরে থরে মুকুল। উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই এবার এসেছে মুকুল বলে এমনটা জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় সব এলাকায় আমের মুকুলের সমারোহ চোখে পড়ার মত। পৌরসভা এলাকার বেশ কয়েকজন আম চাষিরা ধারণা করছে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। তারা এখন আম গাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পৌরসভা এলাকার মো. সোলায়মার নামে এক আম চাষি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বাগানে আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছে। মুকুলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বালাইনাশক স্প্রে করছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এ আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আবদুল্লাহ ওয়াহেদ এ প্রতিবেদককে জানান, এ বছর উপজেলায় বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালিতে মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালিন বাগান থেকে ১১০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া আম চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা জন্য প্রতিটি ইউনিয়নের তিনটি ব্লাকে ৩জন করে কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: http://dailypurbodesh.com

আম্রপালি, ল্যাংড়া, ফজলিসহ বাহারি মিষ্ট স্বাদের আম উৎপাদনকারী অন্যতম জেলা ঝিনাইদহ। এখানকার বাগানগুলো ছেয়ে গেছে আমের মুকুলে। 

 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় আমের আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে। এ থেকে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। গেল মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৮৪৯ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করে উৎপাদন হয়েছিল ৪৪ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন আম।

 

সাধারণত বিঘায় এক মৌসুমে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়, আর ফলন ভালো হলে লক্ষাধিক টাকার আম বিক্রি করা যায়।

 

তাই তো এ বছরও ভালো ফলন পেতে বাগানগুলোতে চলছে মুকুল পরিচর্যার কাজ। কেউ হালকা কুয়াশার হাত থেকে মুকুল রক্ষার জন্য পানি স্প্রে করছেন, কেউ বা পানি সেচ ও গাছের গোড়ার মাটি কুপিয়ে আলগা করে দিচ্ছেন। চলছে পরিচর্যার কর্মযজ্ঞ। কেন না পরিচর্যা ভালো হলে আর প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা না এলে মিলবে আমের ভালো ফলন, হবে অনেক আর্থিক লাভ। 

 

সদর উপজেলার গান্না এলাকার আম চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‌‌‌‌তি‌ন বিঘা জমিতে আমের বাগান আছে। গেল বছরের তুলনায় এবার মুকুলের অবস্থা অনেক ভালো। প্রকৃতিরও বৈরিতা তেমন নেই। এমন থাকলে আশা করা যায় ফলন অনেক ভালো হবে।

 

অপর আম চাষি সুমন মিয়া জানান, বাগানের পরিবেশ খুবই ভালো। ফলন যদি ভালো হয় আর বাজার দাম ভালো পাওয়া যায় তাহলে খরচের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি লাভ আসবে। সেভাবেই পরিচর্যা চলছে। ওষুধ ছিটানোর কাজ প্রায় শেষ। আবার আমের গুটি তৈরি হলে স্প্রে করা হবে।  

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস দৈনিক অধিকারকে জানান, আম গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গেল মৌসুমের তুলনায় আমের ফলন অনেক বেশি হবে। মুকুল ঝরে পড়া ও পোকার আক্রমণ রোধে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাগান মালিক ও চাষিদের। বাগানগুলোতে নিয়মিত যাচ্ছেন ও তাদের খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান তিনি।

সুত্র:https://www.odhikar.news

উপজেলার কাটামুড়া নামক ধুমুনিঘাট এলাকায় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৫ শত ফুট সু-উচ্চ পাহাড়ে প্রায় ২০ হেক্টর জায়গায় তিনি গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রকার বনজ ও বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ সৃজন করেছেন। তার বাগানে প্রায় ২০ হাজার এর উপরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ রয়েছে। এই বাগানে রয়েছে বিচিত্র ফলজ গাছের সমারোহ। বিভিন্ন প্রজাতির ফলের মধ্যে আম একটি। এই বার তার বাগানে ৭০ প্রজাতির আম গাছের মধ্যে গুটি কয়েক বাদে প্রায় সব প্রজাতির আম গাছেই মুকুল এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবারে বেশি ফলনে আশাবাদী তিনি।

বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছের মধ্যে তার সংগ্রহে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি-১ থেকে বারি-১১ পর্যন্ত জাতের আম। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের মধ্যে রয়েছে কিউজাই (থাই), পালমার (ফ্লোরিডা), জাম্বুরা আম (থাই), দোকমাই (থাই), রানী পছন্দ, রেড লেডি (ফ্লোরিডা), সূর্য ডিম (থাই), ত্রিফলা, চৌফলা (ইঅট-৯), শ্রাবণী-১ (ইঅট-১), শ্রাবণী-২ (ইঅট-২), মাহেলেসা (ইঅট-১৪), গৌরমতী, ম্যট্রোস তোতা, আলফানসো, চোষা, পূর্ণা হাইব্রিড ও কেন্টসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির আম গাছ। বিভিন্ন ফলের মধ্য রয়েছে মালতা বারি-১, সূর্যমুখী কলাসহ বিভিন্ন জাতের কলা, ড্রাগন ফল, আনার ও ডালিমসহ বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ।

হলাচিংমং এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যখন চাকরির পিছনে ছুটতে ব্যস্ত, তখন তার একটা স্বপ্ন ছিলো নিজে কিছু করার, তখনি তার মাথায় বুদ্ধি এলো বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মিশ্র ফলের বাগান করলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ, পুরোদমে নিজ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় শুরু করলেন বাগান গড়ার কাজ, তাও সুমদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ শত সুউচ্চ পাহাড়ে। ঝুঁকি নিয়ে ড্রাগন ফলের চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় পুরো খাগড়াছড়ি জেলা তথা পার্বত্য চট্টগ্রামে চমক সৃষ্টি করেন। বর্তমানে তার বাগানে চার হাজারের অধিক ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, একে একে সাফল্য আসতে থাকলো তার। বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করে চাষ করতে লাগলেন। গত বছর ড্রাগন ফল সহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি আম বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছেন তাতে বাগানের খরচ বাদ দিয়ে তিনি স্বচ্ছল ভাবেই চলতে পারতেছেন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। তার এই উদ্যোগের ফলে তার বাগানে নিয়মিত প্রায় ২০/৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই ছাড়াও তিনি যুব সমাজকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বলা যায় বেকার যুবকদের আইডল এখন তিনি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তার জামপ্লাজম সেন্টার করার পরিকল্পনা আছে। যাহাতে প্রকৃতি প্রেমিকরা তার বাগানে এসে নতুন নতুন গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। বেকার যুবক তথা যারা বাগান করতে আগ্রহী তারা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কি ভাবে চাষ করে লাভবান হতে পারবেন সেই বিষয়ে জানার সুযোগ পাবেন এই সেন্টারের মাধ্যমে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি করার পরিকল্পনা আছে তার।

তাছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে যুব সমাজকে উজ্জীবিত করছেন, যাহাতে কেউ বেকার বসে না থেকে নিজের প্রচেষ্টায় কিছু করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের কাছ থেকে যদি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা পান তা হলে তার স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।


সুত্র: https://www.ittefaq.com.bd

 

ফাল্গুন মাস প্রায় শেষের দিকে। এরইমধ্যে গাছে গাছে ভরে গেছে আমের মুকুল। এত্ত এত্ত ফুল যে গাছের পাতাই দেখা যায় না। মাস গড়াতেই গাছ ভরে উঠবে ছোট ছোট গুটিতে। ঝড়-ঝঞ্ঝা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা আমে চলবে বাঙালির মধুমাস উদযাপন।

 

 

 

আম গাছের এই এত্ত এত্ত ফুলের সবগুলো যদি ফলে পরিণত হতো তাহলে কী হতো? তাতে এত আম হতো যে খেয়ে হয়তো শেষই করা যেত না। তবে চারদিকের এই কাল্পনিক আমময় অবস্থা হওয়ার সুযোগ নেই। বিজ্ঞান অন্তত সে কথা বলে না।  
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং উদ্ভিদ গবেষক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, শতভাগ ফুল আমে পরিণত না হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে পরাগায়ন। শতভাগ পরাগায়ন না হওয়ার ফলে আমগাছের সবগুলো স্ত্রী-ফুল আমে রূপান্তরিত হয় না। আমের মুকুলে যদি শতভাগ পরাগায়ন হতো আম দিয়ে সারাদেশ ভরিয়ে দেওয়া যেতো। আমের মুকুলে কখনোই শতভাগ পরাগায়ন ঘটে না।
 
তিনি বলেন, দেখা যায় একটি আমের স্টিকে প্রায় হাজার ফুল থাকলেও আম থাকে গুটি কয়েক। তার মানে বাকিগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। দুই থেকে চারটা মাত্র সাকসেস (সফল) হয়। আমের সব ফুলে যদি পরাগায়ন না ঘটে তাহলে সেগুলো আমে পরিণত হবে না। পরাগায়ন হলো পুরুষ এবং স্ত্রী ফুলের মিশ্রণ। এই পরাগায়ন কাজটি করে থাকে নানার ধরনের কীট-পতঙ্গ; মৌমাছি ও প্রাকৃতিক বাতাস।
 

উদাহরণ টেনে ড. জসীম উদ্দিন বলেন, উদাল গাছেও কিন্তু হাজার হাজার ফুল হয়। কিন্তু উদালে যদি সবগুলো ফল হতো; তাহলে উদাল গাছ ঝুলে পড়তো। এখানেও আম গাছেও ধরেন, সব ফুলগুলো যদি আমে পরিণত হতো তাহলে আমগাছ ভেঙে নিচের দিকে ঝুলে পড়তো। সে ফলের ভারও বহন করতে পারতো না। এটা ব্যালেন্স (নিয়ন্ত্রণ) করার জন্য প্রতিটি আমগাছে শতভাগ পরাগায়ন কখনো নিশ্চিত হয় না। নিশ্চিত না হওয়াতে যতটুকু ব্যালেন্স হওয়া দরকার ততটুকু হয়ে থাকে। এটি সম্পূর্ণ ন্যাচারাল (প্রকৃতিক)।
 
কৃত্রিম পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন আমরা তো ধরেন উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমগাছে নানা ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই। সে ক্ষেত্রে আমি জানি না, কৃত্রিমভাবে এটা কেউ করে কিনা যে, আমগাছ বা আম বাগানে মৌমাছির সংখ্যা যদি বাড়ানো যায় তাহলে এর সাফল্য বাড়বে। কারণ, আমের ফুলে ফুলে তো মৌমাছি ভিজিট (ভ্রমণ) করে। এখন মৌমাছি ভিজিট করলে পরাগায়নের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার কথা।
 
আম গাছকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে ড. জসীম উদ্দিন বলেন, যে সব ফুল ক্রসপলিনেটেড (পরপরাগী) সেসব উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে ফুল হয়। যেহেতু পরাগায়নটা অনিশ্চিত যে জন্য সে সব গাছে প্রচুর পরিমাণ ফুলের সৃষ্টি হয়। কোনোটা না কোনোটা যাতে ফল হয়। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। পরপরাগী গাছে প্রচুর ফুল ঘটলেও ফল হয় কম। ফল হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর জন্য ফুল পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। একটা না একটা যাতে কাজে লাগে। আমের ক্ষেত্রেও হয়তো এমন একটা ঘটনা ঘটেছে।
 
‘আম গাছ যেহেতু পরপরাগী তাই এর প্রচুর ফুল হয় পরাগায়নকে সাকসেস (সফল) করার জন্য। এখন প্রকৃতিতে যদি বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ কম থাকে তখন পরাগায়নের হার আস্তে আস্তে কমে যায়। এটা কমে গেলে ফলধারণও কমে যাচ্ছে। আর পরাগায়নের হার যত বেশি হবে ফলও তত বেশি হবে। এটা নির্ভর করছে প্রকৃতিকে কীটপতঙ্গ যেগুলো আছে তার পরিমাণের উপর।

সুত্র: banglanews24.com

 

ফলের রাজা আম। বাংলাদেশে আমই হচ্ছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ফল। এ ফলটি দেশের সব জায়গাতেই কমবেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রধান চাষযোগ্য অর্থকারী ফলগুলোর মধ্যে আম অন্যতম। বৈচিত্রপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদ-গন্ধে আম একটি অতুলনীয় ফল।

আম চাষ তেমন কঠিন না হলেও চাষিরা পোহাতে হয় বিভিন্ন ধরণের সমস্যা। তারমধ্যে বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ রয়েছে। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে ব্যর্থ হলে আমের ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। এই সমস্ত রোগ ও পোকামাকড় দমনের জন্য সঠিক বালাইনাশক/ছত্রাকনাশক নির্বাচন করে নির্দিষ্ট মাত্রায় বা ডোজে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার।

আম গাছে ফুল আসার ১৫ দিন আগে পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে দুই-তিন বছর বয়সের গাছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম, চার-পাঁচ বছর বয়সের গাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, ছয়-সাত বছর বয়সের গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম, আট-নয় বছর বয়সের গাছে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে এক হাজার ২০০ গ্রাম প্রতি গাছে দিতে হবে। 

ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এতে গাছের পাতা, কচি ডগা, মুকুল ও কচি আমে কালো দাগ পড়ে।

প্রতিকার হচ্ছে মুকুল আসার ১০ দিনের মধ্যে একবার প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ১ মিলিলিটার রিপকর্ড বা সিমবুস ১০ ইসি এবং ০.৫ মিলিলিটার টিল্ট ২৫০ ইসি একসাথে মিশিয়ে আমের মুকুল, পাতা, কাণ্ডে স্প্রে করতে হবে। প্রাকৃতিক পরাগায়ণের জন্য আম বাগানে মৌমাছি পালন, বাগানের চারদিকে ফুলের গাছ রোপণ এবং বাগানে বিভিন্ন জাতের আমগাছ লাগানো প্রয়োজন। আমগাছে মুকুল আসার সময় হপার পোকা কচি অংশের রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। 

এ ছাড়া রস চোষার সময় পোকা আঠালো পদার্থ নিঃসৃত করে। এতে ফুলে পরাগরেণু আটকে পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটে। এ পোকা দমনের জন্য রিপকর্ড বা সিমবুস ও টিল্ট আগের নিয়মে স্প্রে করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ ফুল এবং বর্ধিষ্ণু ভ্রুণের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য মুকুল ধরার ১৫ দিন আগে উপরিউক্ত নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে।

একই ডালে অনেক ফল ধরলে পুষ্টির জন্য ফলগুলো প্রতিযোগিতা করে বলে ফল ঝরে যায়। অতিরিক্ত ফল পাতলা করে দিতে হবে। হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ স্প্রে করলেও আমের মুকুল ও কচি আম ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করা যায়। যেমন- আমের মুকুল গুটি বাঁধার দুই সপ্তাহ পর ২০ পিপিএম মাত্রায় ২৪-ডি স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। আমের গুটি মসুর দানার মত বড় হলে ১০ লিটার পানিতে দুই থেকে তিন মিলিলিটার প্লানোফিক্স স্প্রে করলে ফল ঝরা বন্ধ হয়।

শীতকাল শেষ, বসন্ত এসেছে।  আম ও কাঁঠাল গাছে মুকুল এসেছে। ভালো ফলন পেতে এই দুটি গাছে এখন পরিচর্যা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।উৎকৃষ্ট ফলন পেতে এই সময়ে আম ও কাঁঠাল গাছে পরিচর্যা দরকার।

অনেক চাষির প্রশ্ন থাকে, কাঁঠাল গাছের ফল কালো হয়ে ঝরে পড়ছে। এর সমাধান কি? তাঁদের জন্য এটাই বলার যে, কাঁঠাল গাছে দু’ধরনের ফুল হয়। একটি পুরুষ ফুল ও একটি স্ত্রী ফুল। সাধারণতঃ কাঁঠাল গাছের গোড়া থেকে যে ফুল হয়, সেগুলি স্ত্রী ফুল। এবং গাছের সরু ডালে অর্থাৎ গাছের গোড়া থেকে দূরে উপরের দিকে যে ফুল ফোটে, সেগুলি পুরুষ ফুল।

মৌমাছি, বোলতা ও বাতাসের মাধ্যমে পরাগ মিলন হয়। ঠিকঠাক যদি পরাগমিলন হয়, তা হলেই কাঁঠাল ভালো হবে। ফল পুষ্ট হবে। কিন্তু দেখা যায়, অনেক সময় ছত্রাকঘটিত কারণে স্ত্রী ফুল কালো হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা থেকে সুরাহা পাওয়ার জন্য কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার পানিতে চার গ্রাম মাত্রায় মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এর কিছুদিন পর কুড়ি শতাংশ বোরন প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম মাত্রায় মিশিয়ে স্প্রে করলে কাঁঠালের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

কুয়াশায় আম গাছের মুকুল ঝরে পড়ে কিংবা চুপসে যায়। এর ফলে ফলন অনেক কমে। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে সালফেক্স ৩ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে গুলে সঙ্গে ২ গ্রাম বোরন মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। এতে কুয়াশা হোক বা না হোক, গাছে মুকুল টিকে থাকবে। ফলের বৃন্ত শক্ত হবে। আম ফেটে যাবে না।

যদি গরম পড়ে যায়, তাতে শোষক পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এর জন্য অন্তর্বাহী কীটনাশক হিসেবে ইমিডাক্লোরোপিড ১ মিলি প্রতি তিন লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা থায়ামেথক্সাম ১ গ্রাম প্রতি তিন লিটার পানিতে মিশিয়ে তা স্প্রে করতে হবে।

আমগাছের পরিচর্যায় মাটির উর্বরাশক্তি বাড়াতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় জৈবসার দিতে হবে। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য ট্রায়াকোপ্টানল জাতীয় হরমোন প্রয়োগ করা দরকার। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে কিংবা শুকনো আবহাওয়া থাকলে গাছে সাদা পানি ছিটাতে হবে বিকেলের দিকে। বাড়ির কিংবা বাগানের পুরনো আমগাছের বেশি করে যত্ন নিতে হবে।

পুরনো গাছে যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। সেইসঙ্গে পরগাছা পরিস্কার করতে হবে। কারণ, পরগাছা আমগাছের ডাল থেকে রস শুষে নেয়। এবং মুকুলের ব্যাঘাত ঘটায়।

প্রসঙ্গত, এবারের খামখেয়ালি আবহাওয়ায় চিন্তায় ফেলেছে চাষিদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত গাছে এক বছর অন্তর বেশি মুকুল আসে। কেউ যদি ভাবেন ওষুধ প্রয়োগ করলেই গাছে প্রতি বছর খুব ভালো ফল ধরবে, এই ধারণা ভুল। তবে মুকুল ধরার সঙ্গে সঙ্গে পরিচর্যা জরুরি।

Page 10 of 48