x 
Empty Product

আমের আঁটি। প্রবাদে তার নানা ব্যবহার রয়েছে। আম আঁটির ভেঁপু বাজিয়ে বিভূতিভূষণের অপুর কথাও ভোলেনি বাঙালি। আবার আমে-দুধে মিলে গেলে নাকি আমের আঁটিটা গড়াগড়ি খায়। মানে আমের আঁটি নেহাতই তুচ্ছ। অবহেলার। আমের আঁটির আর কোনও গুণপনা নেই বলেই জেনে এসেছে বাঙালি।

এ দিকে রোদের পারদ বাড়ছে।  শেষ পাতে কাঁচা আমের চাটনি, আমের আচার কয়েক মাস বাঙালির রসনায় পাকা জায়গা করে নেবে। বাজারে উঠবে নানা প্রজাতির আম। গবেষক সমাজ কিন্তু বলছে এখানেই না থামতে। আম তো বটেই। আমের আঁটিও খুব উপকারী— এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, আম খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু আমের বীজ খেলে তার প্রতিক্রিয়া পুরো ভিন্ন হয়। আমের বীজ খেলে এই শর্করাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। শুধু তাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি রোগের দাওয়াই এই আমের বীজ। জানেন সে সব?


    খুশকির সমস্যায় আমের আঁটি খুব উপকারী। আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। অথবা জলের সঙ্গে মাথায় ঘষুন। এতে খুশকি কমে। শুধু তা-ই নয়, আমের আঁটির গুঁড়ো মাথার ত্বককে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল ওঠার সমস্যাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়।
    ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে কাঁচা আমের আঁটি খেতে পারেন। ফ্যাট বার্ন ররতে আমের বীজ অত্যন্ত কার্যকরী।

    ডায়ারিয়া হলে আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে, তা জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। ক্রনিক ডায়ারিয়া সারাতে খুবই কার্যকরী এটি।
    কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও কাঁচা আমের বীজ খুবই কার্যকরী। নরম এই বীজ কামড়েই খাওয়া যায়, তবে তা না পারলেও ক্ষতি নেই। কাঁচা আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে দুধের সঙ্গে ব্যবহার করুন।

নবাবের শহর লখনউ ছাড়িয়ে কিছুটা দূরে মালিহাবাদ। এখানকার আমের সুনাম যথেষ্ট। এখানে এক ব্যক্তি রয়েছেন নাম হাজি কলিমুল্লা। কিন্তু তাঁকে এই নামে বিশেষ কেউ চেনেন না। একডাকে চেনেন ম্যাঙ্গো ম্যান বললে। কলিমুল্লা হলেন মালিহাবাদের ম্যাঙ্গো ম্যান। যাঁর নিজেরই আমের বিশাল বাগান রয়েছে। সেখানে প্রচুর ফলন হয়। নিজে দেখভাল করেন সব আমের। সেইসঙ্গে ২টি প্রজাতির আমের শঙ্কর ঘটিয়ে নতুন আম ফলানোয় কলিমুল্লা সিদ্ধহস্ত। তেমনই একটি আম তিনি ফলিয়েছেন তাঁর বাগানে। যেহেতু এই একদম নতুন আমটি করোনা উদ্বেগের মধ্যেই জন্ম নিল তাই করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে জীবনকে তুচ্ছ করে লড়াই চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের সেলাম জানিয়ে কলিমুল্লা তাঁর এই নয়া আমের নাম রেখেছেন ডক্টর ম্যাঙ্গো।

 

এই ডক্টর ম্যাঙ্গো আদপে দশেরি ঘরানার আম। এটির বিশেষত্ব হল এই আম অনেকদিন ভাল থাকে। আর এর মিষ্টত্ব যে কোনও আম বিলাসীকে বিভোর করে দিতে পারে। হাজি কলিমুল্লাকে মালিহাবাদের মানুষ একডাকে চেনেন। অবশ্যই তাঁর অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য। তিনি আম সম্বন্ধে এতটাই ভাল জানেন, আম গাছকে হাতের তালুর মত চেনেন যে একটি আম গাছে তিনি ৩০০ রকম আমের ধরণ ফলিয়ে মানুষকে চমকে দিয়েছিলেন একসময়ে। তাঁর এই অদ্ভুত আম ফলানোর ক্ষমতার জন্য তিনি পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত হন।

কলিমুল্লা আম ফলানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আমটিকে বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে দেন। তাঁর একটি আমের ধরণ নাম পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। একটি পেয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। একটি পেয়েছে শচীন তেন্ডুলকরের। আর অন্য একটি পেয়েছে ঐশ্বর্য রাইয়ের নাম। কলিমুল্লার আরও এক আশ্চর্য আম হল আনারকলি। আনারকলি আমের বিশেষত্ব হল এই আমের ২টি স্তর থাকে। ২টি আলাদা আলাদা শাঁস। ২টি শাঁসের আলাদা আলাদা স্বাদ ও গন্ধ। অথচ আম কিন্তু ওপর থেকে একটিই। এমনই অত্যাশ্চর্য আমের জন্মদাতা ম্যাঙ্গো ম্যান এবার তাঁর নতুন আম দিয়ে সেলাম জানালেন করোনার বিরুদ্ধে লড়ে চলা চিকিৎসকদের। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

রীষ্ম মানেই দেশীয় নানা ফলের সমারহ। এর মধ্যে ফলের রাজা আম সবারই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। পাকা বা কাঁচা সব অবস্থায়ই এটি খাওয়া হয়। ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আম ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন, আলফা-ক্যারোটিন এবং বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিন সমৃদ্ধ। যা আপনার চোখ ভালো রাখতে সহায়তা করবে। আমে থাকা পটাশিয়াম হার্ট এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়াও আমে রয়েছে পানি এবং ডায়েটরি ফাইবার। যা হজমের জন্য খুবই ভালো। তবে জানেন কি কখন আম খাওয়ার সঠিক সময়?

জেনে নিন- > দুপুর বা রাতের খাবারের পর আম খাওয়া ঠিক না। কারণ আম নিজেই পরিপূরক খাবারের কাজ করবে। দ্রুত পেট ভরাবে। > সকালে এবং বিকালে আম খাওয়া বেশি ভালো।

এটি আপনার পুরো এক সময়ের খাবারের চাহিদা মেটাবে। > যারা ওজন কমাতে চান। তাদের আম কম খাওয়াই ভালো। তবে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণ খেলে আম ওজন বাড়াতে পারে না।

> আমে চিনির মাত্রা বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা এটি এড়িয়ে চলবেন। তবে অল্প পরিমাণ আম ডায়াবেটিস রোগীরা খেতেই পারেন। কারণ আমে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করবে। > আম জুস করে না খেয়ে টুকরো অবস্থায় খান। জুস করার ফলে আমের ফাইবার এবং পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়।

আপনার বাচ্চার ডায়েটে পুষ্টিকর আমের সংযোজন কীভাবে করতে পারেন সে ব্যাপারে কি আপনি ভাবছেন? এ ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেতে আম দিয়ে প্রস্তুত নিম্নোলিখিত রেসিপিগুলির উপর একবার চোখ বুলিয়ে নিন।


1. ম্যাঙ্গো শেক

ম্যাঙ্গো শেক শুধু শরীরকে হাইড্রেটই রাখে না, এটি স্বাদেও অতুলনীয়।

উপকরণ

    ছোট ছোট টুকরো করে কাটা তাজা আম
    স্বাদের জন্য চিনি
    এক গ্লাস দুধ
    প্রয়োজনানুযায়ী বরফের টুকরো

প্রণালী


    একটি বড় বাটির মধ্যে কাটা আমের টুকরো, চিনি এবং দুধ ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
    এটিকে ভালভাবে মেশানোর জন্য একটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন।
    যতখণ না এটি ভালোভাবে মিশে পুরোপুরি তরল হয়ে যায় সেটিকে ব্লেন্ড করতে থাকুন।
    যদি প্রয়োজন বোঝেন, এর সাথে বরফের টুকরো যোগ করুন আর ঠাণ্ডা ঠান্ডা আপনার বাচ্চাকে পরিবেশন করুন।
    

2.আম– আঙ্গুরের স্মুদি

শিশুদের জন্য আমের এই স্মুদিটি হল আম এবং আঙ্গুরের একটি মিশ্রণ যা বাচ্চাদের জন্য যাদুমন্ত্রের মত কাজ করতে পারে।এটি কেবল স্বাদেই ভাল নয়, এটি সর্বোত্তম স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলিও সরবরাহ করে।

উপকরণ

    1 টি আম ছোট ছোট টুকরো করে কাটা
    2 কাপ সবুজ আঙ্গুর
    বড় 1 চামচ লেবুর রস
    1/2 কাপ জল
    স্বাদের জন্য চিনি
    2 টি পুদিনা পাতা

প্রণালী

    একটি বাটির মধ্যে আম এবং আঙ্গুরগুলিকে মিশিয়ে নিন এবং যতক্ষন না সেটি একটি সান্দ্র তরল আকার নেয়, ভালোভাবে সেগুলিকে মিশ্রিত করতে থাকুন।
    অন্য আরেকটা বাটিতে, লেবুর রস, জল, চিনি এবং পুদিনা পাতা নিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
    এবার মিশ্রণটিকে একটি গ্লাসে ঢালুন এবং চিনি ও পুদিনার মিশ্রণটি তার সাথে মিশিয়ে দিন।
    প্রয়োজন হলে এর সাথে বরফের টুকরো যোগ করুন আর আপনার বাচ্চাকে পরিবেশন করুন।


3.আমের কেক

আমের কেক

একটি কেকের মধ্যে আমের মিষ্টতা এবং তার অতুলনীয় স্বাদ সেটিকে আম নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে সর্ব শ্রেষ্ঠ রেসিপি করে তুলতে পারে।

উপকরণ

    1 কাপ ময়দা
    স্বাদের জন্য চিনি
    1/2 কাপ ফ্রেশ ক্রীম
    বড় 1 চামচ মাখন
    1 চামচ বেকিং পাউডার
    2 টি পাস্তুরাইজড ডিম
    2 টি আম

প্রণালী


    আমের শাঁসটিকে বের করে নিয়ে একটি বড় বাটিতে করে এক পাশে রেখে দিন।
    এবার আমের শাঁসের সাথে চিনি এবং হুইপড ক্রীম যোগ করে একটি ব্লেন্ডারের সাহায্যে সেটিকে ভালভাবে বিট করে নিন।
    এরপর মিশ্রণটির সাথে ডিম যোগ করে পুনরায় ভালভাবে বিট করুন।
    এখন ময়দা আর বেকিং পাউডারকে এর সাথে যোগ করুন আর যতক্ষণ না মিশ্রণটি ভালভাবে একসাথে সব মিশে যায় সেটিকে মিশ্রিত করতে থাকুন।
    এবার এই মিশ্রণটিকে একটি মাইক্রো ওভেন সুরক্ষিত বাটিকে ভাল করে তেল বা মাখনের প্রলেপ লাগিয়ে তার মধ্যে ঢেলে দিন।
    মোটামুটি প্রায় 10 মিনিটের জন্য মিশ্রণটিকে মাইক্রোওভেনে বেক করুন।
    ওভেন বীপ করার পর সেটি পরীক্ষা করে দেখুন, এবং কেকটি যদি না বসে, সেক্ষেত্রে তবে সেটিকে আরও 4-5 মিনিটের জন্য বেক করুন।
    একবার প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটিকে ঠান্ডা হতে দিন এবং আপনার বাচ্চাদের পরিবেশন করুন।
    

4.আম এবং দই–এর মিক্স পপসিক্যল

আম এবং দই-এর মিক্স পপসিক্যল

বাচ্চাদের জন্য আমের এই রেসিপিটি অবশ্যই একবার ট্রাই করবেন কারণ তারা এর ভরপুর স্বাদের জন্য এটিকে মনপ্রাণ দিয়ে উপভোগ করবে।

উপকরণ


    1 কাপ দই
    1 কাপ মিহি করে পেস্ট করা আম
    স্বাদের জন্য চিনি
    বড় চামচের 1/2 চামচ ভ্যানিলা এসেন্স

প্রণালী

    একটি বাটির মধ্যে সবকিছু নিয়ে মিশিয়ে নিন এবং একটি মিহি পেস্টের আকার না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে ভালভাবে ব্লেন্ড করুন।
    এবার ব্লেন্ড করা পেস্ট জাতীয় এই মিশ্রণটি দিয়ে প্লাস্টিকের পপসিক্যাল ছাঁচগুলিকে ভরে নিন।
    ভরাট করা ছাঁচগুলিকে রেফ্রিজেরেটরের মধ্যে ঢুকিয়ে সারা রাতের জন্য রেখে দিন।
    যখন আপনি পপসিক্যালগুলিকে কঠিন হয়ে জমে উঠতে শুরু করা লক্ষ্য করবেন, তখন তার মধ্যে আইসক্রীমের কাঠিগুলিকে ঢুকিয়ে দিন।
    আরও কয়েক ঘন্টার জন্য সেগুলিকে ফ্রীজে রাখুন এবং আপনার বাচ্চারা যখন স্কুল থেকে ফিরবে তাদের পরিবেশন করুন।
    

5.মহার্ঘ আমের স্যালাড

মহার্ঘ আমের স্যালাড

শিশুদের জন্য এগুলি হল আমের সহজ স্ন্যাকস জাতীয় খাবার।এই রেসিপিটির জন্য প্রয়োজন সর্বনিম্ন প্রয়াস, তবে এটি সরবরাহ করে সর্বোত্তম ফলাফলগুলি।


উপকরণ

    2-3 টি তাজা এবং খোসা ছাড়ানো আম
    একটি লেবু
    স্বাদের জন্য লবণ
    এক চিমটে লাল মোরিচ
    লঙ্কা গুঁড়ো(ঐচ্ছিক)

প্রণালী


    আমগুলির খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করুন এবং সেগুলিকে একটি বড় বাটির মধ্যে রাখুন।
    অন্য আরেকটি বটিতে, লবণ, মরিচ, লঙ্কা গুঁড়ো এবং লেবুর রস ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
    এবার প্রস্তুত মিশ্রণটি আমের সাথে মিশিয়ে নিয়ে আপনার বাচ্চাকে পরিবেশন করুন।

এখন আপনি যেহেতু আমের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলির ব্যাপারে সচেতন, তবে এই রেসিপিগুলি করার চেষ্টা কেন একবার করবেন না? আজই এগুলি বানাবার জন্য চেষ্টা করুন তবে এর সাথে কৃত্রিম চিনি পারতপক্ষে যোগ না করার কথাটি মাথায় অবশ্যই রাখবেন।

অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে গৌড়মতি আম চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় গৌড়মতি আমেই আর্থিক সচ্ছলতা স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মেড়েয়া গ্রামের কৃষক আবু রেজা প্রামানিক বাবলু (৫৫)।

 

এক সময় তরুণ বয়সে পারিবারিক অনাবাদি পতিত জমিতে আলু, পটল, বেগুন, আদা, রসুন, মরিচ ও শাকসবজি চাষ শুরু করেন।

 

এর মাধ্যমেই খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাংসারিক জীবনের সচ্ছলতা। কিন্তু এতে কোনো সুবিধা করতে না পারায় জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম নামে এক বিদেশি এনজিওতে চাকরিতে যোগ দেন। সেখানে ১৪ বছর চাকরি করার পর প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি তা ছেড়ে দিয়ে আম, লিচুর বাগান গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন।

 

শুরুটা ছিল ২০০৭ সাল। পারিবারিক প্রায় ১২ একর জমির মধ্যে ৩-৪ একর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগ জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো।

২০০৭ সালে এসব জমিতে শাকসবজির পরিবর্তে প্রথম পর্যায়ে ১৭৫টি হাড়িভাঙ্গা আম ও ৪০০টি আম্রপালি আমের কলম রোপণ করেন। চারা রোপণের তিন-চার বছরের মাথায় এসব গাছ থেকে ফলন আসতে শুরু করে। বাজারে এসব আমের চাহিদা ও মূল্য দুটোই আবু রেজা প্রামানিক বাবুলকে আম চাষে উৎসাহিত করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালে আম বাগানের আয়তন বাড়িয়ে সেখানে ১ হাজার ২শ’ উন্নতমানের গৌরমতি আম ও ১ হাজার ১০০ বারি চার জাতের আমের চারা রোপণ করেন।

 

 

 

২০১৮ সালে আম বাগান আরও সম্প্রসারিত করে ২০০ থাই জাতের কাটিমন গাছের চারা রোপণ করেন। এভাবে বাগানের আয়তন দাঁড়ায় ৯ একরে। তবে, এ বছরই প্রথম তার বাগানের ১ হাজার ২শ’ গৌড়মতি জাতের আম গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০ গৌড়মতি ও ৪০০ বারি-৪ জাতের ভালো ফলন হয়। আমের এ দুটি জাতই নাবি জাতের।

 

বাজারে সব আমের সরবরাহ যখন শেষ। ঠিক তখন অর্থাৎ ভাদ্র মাসে এসব আম পাকতে শুরু করে। ফলে ভালো দামে এ দুটি জাতের আম বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এ দুটি জাতের মধ্যে বারি-৪ জাতের আম আকারে বড় ও মাংসল। দুই-তিনটি আমে এক কেজি হয়। মিষ্টতা কম হলেও আঁটি পাতলা।

 

অন্যদিকে, গৌড়মতি আম মিষ্টতা স্বাদের দিক থেকে অসাধারণ। আম দেখতে ল্যাংড়া আমের মতো হলেও আকারে বড় ও মিষ্টি অনেক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সকল আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর এটি বাজারে আসতে শুরু করে।

 

বারি-৪ জাতের প্রতি কেজি আম বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি গৌড়মতি আম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে গৌড়মতি আম বিক্রি করে ইতিমধ্যে হাতে ভালো পয়সা আসায় গোটা আম বাগানটি কে গৌড়মতি আম বাগানে রূপান্তরের চিন্তা ভাবনা করছেন বলে জানান আম চাষি আবু রেজা প্রামানিক বাবুল (৫৫)।

 

তিনি বলেন, বাগান প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাদিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও বাবলু নামে তিন শ্রমিক প্রতিদিন বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। এমনিতেই গৌড়মতি আমের চাহিদা যথেষ্ট সন্তোষজনক। তা সত্ত্বেও এ বাগানের আমের চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আম উৎপাদনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।

 

এ ছাড়া ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ ও জৈব সার ব্যবহার করায় এ বাগানের আমের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।

 

এ বাগানের গৌড়মতি আমের একটি বড় চালান গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ইতিমধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, বি-বাড়িয়া, পঞ্চগড়, রংপুর, বগুড়া ও খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

 

পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, আবু রেজা প্রামানিক বাবলুর গৌড়মতি আম বাগানের পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।

 

দেশের বিভিন্ন স্থানের গ্রাহকদের কাছে পার্বতীপুরে উৎপাদিত গৌড়মতি আমের চাহিদা থাকায় আম চাষি আবু রেজা বাবলু’র আম চাষ সাফল্য ও সচ্ছলতা বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.deshrupantor.com/mofossol/2020/08/31/242337

নওগাঁর সাপাহারায় সৈয়দপুর গ্রামে রাতের আধারে দুর্বৃত্ত কর্তৃক বিন্নামারা বিষ প্রয়োগ করে এক কৃষকের ২ বিঘা জমির নার্সারীর ১৫ হাজার আমের চারা ও আম গাছ বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।   জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আতাউর রহমান (৪৫) নামের এক কৃষক ২বিঘা জমিতে আম বাগান ও নার্সারী তৈরি করে আম গাছ রোপণ করেন এবং নার্সারীতে আমের বীজ রোপন করেন।

হঠাৎ গত ১ সেপ্টেম্বর রাতের আধারে কে বা কাহারা আম বাগানে ও নার্সারীতে প্রবেশ করে বিন্নামারা বিষ প্রয়োগ করে বাগানের ও নার্সারীর প্রায় সকল গাছ পুড়ে দিয়েছে। 

এতে করে নার্সারীর প্রায় ১৫ হাজার গাছ নষ্ট হয়েছে বলে বাগান মালিক আতাউর রহমান জানান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

এলাকাবাসী এমরান আলী জানান, বিষয়টি শুনতে পেরে আমি আতাউর রহমানের বাগানে গিয়ে দেখি প্রায় গাছ লালচে ও পুড়ে গেছে।  উপজেলায় একের পর এক বাগানের গাছ দুর্বৃত্ত কর্তৃক নষ্ট করলে এলাকাবাসী আম বাগান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তাই দ্রুত জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

 

পাহাড়ি এলাকায় মিশ্র ফলের বাগান দিনে দিনেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পতিত জমিতে দেশীয় প্রচলিত ফলফলাদির পাশাপাশি অপ্রচলিত বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হচ্ছেন অনেকে। সেই পথে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন খাগড়াছড়ির হ্লাচিংমং চৌধুরী। বিচিত্র ও বিলীনপ্রায় বহু প্রজাতির ফলফলাদির গাছের সমাহার ঘটিয়েছেন তার বাগানে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তার বাগানটি গোটা দেশের অনুকরণীয় মিশ্র ফল বাগান হবে। তার বাগানের প্রধানতম আকর্ষণ হলো, এখানে ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর এ বাগানের নাম রেখেছেন মারমা ভাষায়- ক্রা এ এ অ্যাগ্রো ফার্ম।

পাহাড়ি জেলার খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হ্লাচিংমং চৌধুরী অনেকের মত চাকরির পেছন পেছন ঘুরে বেড়াননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে মিশ্র ফলবাগানের প্রতি মনোনিবেশ করেন। শুরুর দিকে অনেকটা শখের বশেই পাহাড়ি জমি পরিস্কার করে ফলজ বাগান গড়ে তোলেন তিনি। প্রতিবছর ফল বিক্রির লাভের টাকায় বাগান সম্প্রসারণ করেন।

বর্তমানে তার বাগানের ১০ একর পাহাড়ি ভূমিতে প্রচলিত ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারসের পাশাপাশি অপ্রচলিত ফল লটকন, মাল্টা, আতা, জামরুল প্রভৃতি ফল শোভা পাচ্ছে। এছাড়াও ড্রাগন, ফ্যাশন, রামবুটান, চেরিফল ছাড়াও কলাবতী, মিয়াজাকি, কিউজাই ও রেডলেডির মত বিদেশি আমের গন্ধে মৌ মৌ করছে বাগানটি। এ সময়েও তার বাগানে বিভিন্ন জাতের কিছু আম শোভা পাচ্ছে ।

বিশেষ জাতের আম ‘আম্রপালি’ ছাড়াও তার বাগানেই একমাত্র দেশি-বিদেশি ৭০ প্রজাতির আম গাছ সংরক্ষণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এজন্য এ বাগানকে জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে তোলার আশা করছেন তিনি।

এ বাগানের সত্ত্বাধিকারী হ্লাচিংমং চৌধুরী জানান, বাগানে বিচিত্র ও বিলুপ্তপ্রায় বহু প্রজাতির ফলফলাদির সমাহার ঘটানো হয়েছে। এসব ফলফলাদি বিক্রি করে গতবছরের মত এবারও ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন।

শুধু মধুমাস জ্যেষ্ঠ নয় বছরের বারোমাস জুড়েই কোন না কোন দেশি-বিদেশি ফল পাওয়া যায় এ বাগানে। কেবল ফলজ বাগানই নয় বনজ ও ঔষধী গাছও দৃষ্টি কাড়ছে সবার। বাগানটি এখন পার্বত্যাঞ্চলের পরিচিত নাম। অনেক পর্যটক ছুটে আসছেন এ বাগান দেখতে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মর্তুজ আলী জানান, নিজের প্রচেষ্টা এবং নিষ্ঠার কারণেই হ্লাশিংমং তার বাগানকে দেখার মত করে গড়ে তুলতে পেরেছেন। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের মিশ্র ফলবাগান হিসেবে এটিকে দেশের মডেল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী রাশীদ আহমদ জানান, বিলীন ও হুমকির মুখে থাকা প্রায় সব ধরনের ফলের জাত সংরক্ষণ করায় এই মিশ্র বাগানটি জার্মপ্লাজম সেন্টার হিসেবে একদিন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী কৃষি বিজ্ঞানীরাও।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.somoynews.tv

ত্রাণের সঙ্গে আম, লিচুসহ দেশীয় ফল দেওয়ার অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

 

 

শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা সম্মেলন কক্ষ থেকে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্মে) মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভাল দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। আমে ফরমালিন বা ক্ষতিকর কিছু নেই মর্মে জনগণকে সচেতন ও আশ্বস্ত করতে হবে। ত্রাণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফল অন্তর্ভূক্ত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিকট অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

 

ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরামর্শও দেন তিনি।

 

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ,এবং জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.risingbd.com

জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ১৫ মে (শুক্রবার) থেকেই গুটি জাতের আম নামানোর কথা ছিলো। তবে প্রথম দিনে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাগানগুলোতে আম নামানোর খবর পাওয়া যায়নি।

তবে আম না নামানোর বিষয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, করেনা আতঙ্কে মানুষই বের হতে পারছে না, সেখানে আম পেড়ে বিক্রি করবো কোথায়। অন্য দিকে গুটি জাতের আম এথনো পরিপক্কতা আসেনি বলে দাবি উপজেলায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুটি আমের কেবল আঁটি হয়েছে। পরিপক্বতা আসেনি এখনো। তাই চাষিরা আম নামাচ্ছেন না। করোনা সংকটকালে বাজার না পাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের তড়িঘড়ি আম নামানোরও ব্যস্ততা নেই। অথচ আগের বছরগুলোতে চাষিরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন। বাগানে বাগানে শুরু হতো আম নামানোর উৎসব।

উপজেলার কালুহাটি এলাকার চাষি বাহাদুর রহমান বলেন, আমার গুটি আম খুব বেশি নেই। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী এখন গুটি আম পাড়া যাবে। তবে আম এখনও পাড়ার মতো হয়নি। গুটি আম আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর নামানো হলে আমের পরিপক্বতা আসবে।

তিনি বলেন, এবার বাজারের যে অবস্থা তাতে আম কখন নামালে ঠিক হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। আবার এবার আম পাড়ার সময়টাও ঠিকমতো নির্ধারণ হয়নি। আম পাড়ার সময় কিছুটা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনজুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য লকডাউনের বাইরে। তাই বাজারজাত করতে সমস্যা হবে না। গাছে যখন আম পাকবে তখনই চাষিরা বাজারে নিতে পারবেন।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা সামিরা বলেন, আম পরিপক্বতা না হলে আম নামাবেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে আমে ক্যামিকেলের মিশ্রণ ঘটিয়ে কেউ অপরিপক্ব আম নামানোর চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গ শুক্রবার (১৫ মে) থেকে গুটি আম পাড়ার সময় শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এই সময় নির্ধারণ করে দেয়।


এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://bn.observerbd.com/

সাতক্ষীরার বাজারে পাকা আম উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে ক্রেতা যেমন কম, তেমনি দামও। ফলে দুঃশ্চিন্তা ভর করেছে আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। আর রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিষমুক্ত আম উৎপাদনকারী বাগান মালিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

কৃষি বিভাগ বলছে, আম ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য জেলার বাইরে বিক্রি ও পরিবহনের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া দেবহাটা উপজেলায় সর্বাধিক আমের বাগান রয়েছে। এরমধ্যে ১শ হেক্টর জমিতে রপ্তানিযোগ্য বিষমুক্ত নিরাপদ আম চাষ করা হয়েছে। এবার পর্যাপ্ত মুকুল আসলেও আশানুরুপ ফলন হয়নি।বিদেশে রপ্তানির কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি উৎপাদিত আমের দরও কমে গেছে। এ অবস্হায় চরম দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিকরা।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা রঘুজিত কুমার গুহ বলছেন, আম রফতানি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাগান মালিকরা।
করোনার প্রভাবে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করেন সাতক্ষীরা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী।

তবে আম বাগান মালিকদের আতংকের কথা স্বীকার করে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, জেলার বাইরে আম পাঠাতে পরিবহনের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

জেলার ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ৫ হাজারের বেশি বাগানে এবার ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

 

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.somoynews.tv

পৃথিবীতে অদ্ভুত অদ্ভুত সব কতই না ঘটনার কথা শোনা গেছে ইতোপূর্বে। অদ্ভুত জিনিসের প্রতি মানুষেরও আগ্রহ চিরকালের। তেমনি এবার মুরগি ‘আম’ আকৃতির ডিম পাড়ার মত এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে আমাদের দেশেই।

অদ্ভুত এ ঘটনাটি ঘটেছে বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার চাম্পাতলী পাড়ারের বাসিন্দা ও উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহসিন রেজার ঘরে।

 

এলাকার উৎসুক জনতা মুরগির এই আমের মতো পারা ডিম দেখতে গত দুদিন ধরে ভিড় জমাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বাড়িতে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, ইতোপূর্বে এরকম আকৃতির ডিম তারা দেখেননি।

মুরগির মালিক মহসিন রেজা জানান, ডিম পাড়া কালো রংয়ের মুরগিটির বয়স এক বছর। প্রথমদিকে মুরগিটি স্বাভাবিক আকৃতির ডিম পারতো। কিন্তু গত তিনদিন মুরগিটি ঠিক আমের আকৃতির ডিম পাড়ছে। তবে ডিমের ভেতর কুসুম অন্য ডিমের মতোই স্বাভাবিক।

‘‘মুরগিটি এ পর্যন্ত ৩টি ডিম পেরেছে আমের আকৃতির। আম আকৃতির ডিম পাড়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এক নজর ডিমটি দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা।’’

তিনি আরো বলেন, আম আকৃতির ডিম পাড়ার বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অদ্ভুত আকৃতির ডিমগুলো গবেষণার জন্য ঢাকায় প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলার লামা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইসহাক আলী বলেন, এ রকম ঘটনা খুবই কম। তবে মুরগির খাবারে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কম হলে বা ডিম পাড়ার আগ মুহূর্তে কোনো সমস্যা হলে এমন ডিম পাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া অন্য সমস্যার কারণেও এ রকম হতে পারে।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.newsg24.com

নিরাপদ, বালাইমুক্ত আম উৎপাদন করেও গেল বছর বিদেশে রপ্তানি করতে পারেননি রাজশাহীর বেশিরভাগ চাষি। কোয়ারেন্টাইন পরীক্ষার কড়াকড়িতে তার আগের বছর আম পাঠানো সম্ভব হয়েছিল খুব সামান্যই। বিদেশের বাজার ধরতে চলতি বছরেও বেশ কয়েকজন চাষি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করছেন। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত বিদেশে আম পাঠানো।

 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এবার বিমান বন্ধ। আম রপ্তানির কী যে হবে তা বুঝতে পারছি না! বিদেশে আম রপ্তানি করতে চান, এমন কোনো ব্যবসায়ী এ পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি রাখছি। বেশ কয়েকজন চাষি উন্নত প্রযুক্তিতে আম উৎপাদন করছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আর ক’দিন পর বোঝা যাবে।

 

বিদেশে রপ্তানির জন্য জেলায় এবার এক লাখ ১৫ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া এলাকায় শফিকুল ইসলাম সানা নামের এক চাষি ১০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছেন। পবার হরিপুর, কসবা এবং রাজশাহী মহানগরীর জিন্নানগরেও কিছু আম ব্যাগিং করা হয়েছে। কিন্তু চাষিরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেশি পরিমাণ আমে ব্যাগিং করার সাহস পাচ্ছেন না তারা।

 

জিন্নানগরে ১০ হাজার খিরসাপাত ও ল্যাংড়া আমে ব্যাগিং করেছেন রাজশাহী এগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত রপ্তানিকারক কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। তারপরেও উন্নত প্রযুক্তিতে নিরাপদ ও বালাইমুক্ত কিছু আম উৎপাদন করছি। বিদেশে পাঠাতে না পারলেও দেশেই যদি ঠিকমতো আম বাজারজাত করা যায় তাহলে হয়তো লোকসান হবে না। সে আশাতেই করছি। জানি না কী হবে!

 

গত বছর ৪০ হাজার আমে ব্যাগিং করেছিলেন আনোয়ারুল হক। বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার কানবার হোসেন বর আনোয়ারুলের বাগানে যান। নিজ হাতে আম পেড়ে খান। বলেছিলেন, রাজশাহীর আম খুব সুস্বাদু। স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু আনোয়ারুল বিদেশে আম পাঠাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে দেশের বাজারেই ব্যাগিং করা ৪০ হাজার আম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন তিনি।

 

আনোয়ারুল বলেন, সর্বশেষ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঠিকমতো আম ইউরোপের বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ঢাকায় প্ল্যান কোয়ারেন্টাইন উইং সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউসে কোয়ারেন্টাইনের নামে খুব কড়াকড়ি শুরু হয়। সামান্য দাগ থাকলেই আম বাদ দেয়া শুরু হয়। ফলে তারা আম পাঠাতে পারেননি। এবারও করোনার কারণে হয়তো পারবেন না।

 

আশার বাণী শোনাতে পারেনি কৃষি বিভাগও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, গতবার তো ৩৬ মেট্রিক টন আম পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। এবার কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে চাষিরা ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছেন। আম নামানোর দুই মাসে আমে ব্যাগ পরাতে হয়। এক মাস আগে কিছু খিরসাপাতে ব্যাগিং করা হয়েছে। কিছু দিন পর ল্যাংড়া, ফজলি ও আশি^নায় ব্যাগিং করা হবে।

 

রাজশাহী জেলায় আম বাগান রয়েছে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। অপরিপক্ব আম নামানো ঠেকাতে গেল কয়েক বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

সে অনুযায়ী গাছে পাকলেই শুক্রবার (১৫ মে) থেকে সব ধরনের গুটি আম নামানোর সময় শুরু হয়েছে। কিন্তু চাষিদের গাছে এবার আম পাকেনি। কেবল আঁটি এসেছে। আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগবে পরিপক্ক হতে। তাই এখনই আম ভাঙছেন না রাজশাহীর চাষিরা। বাজারেও নেই আম।

 

বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, আগামী ২০ মে থেকে গোপালভোগ নামাতে পারবেন চাষিরা। এছাড়া রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ বা লখনা ২৫ মে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন এবং ফজলি ১৫ জুন থেকে নামানো যাবে। সবার শেষে ১০ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা এবং বারী আম-৪ জাতের আাম।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.dhakatimes24.com

Page 10 of 52