x 
Empty Product

বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকে বেশ কয়েক বছর পেশাগত কাজে খুলনা শহরে হরহামেশাই যেতে হয়েছে। খুলনা শহরের ডাকবাংলো মোড় এলাকাজুড়ে ছড়ানো-ছিটানো ফলের দোকান। দোকানগুলোতে ল্যাংড়া আম বিক্রি হচ্ছে দেদার।
মে মাসের শেষ দিকেই খুলনার বাজারে ল্যাংড়া আম! আমি রাজশাহীর মানুষ। আম সম্পর্কে, বিশেষ করে উৎকৃষ্ট জাতের আম নিয়ে আমাদের আগ্রহ ও সচেতনতা জন্মগত। ল্যাংড়া আম জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে বাজারে আসবে—এ কথা কল্পনায়ও আসে না।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, খুলনার বাজারে আগাম ল্যাংড়া আম আসছে সাতক্ষীরা থেকে। সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও কলারোয়া উপজেলা এলাকায় আমের চাষ হয়ে থাকে। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা থানা এ ব্যাপারে বেশি এগিয়ে। প্রথম প্রথম ধারণা জন্মায়, সাতক্ষীরার ল্যাংড়া হয়তোবা বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর কিংবা দিনাজপুর অঞ্চলে উৎপাদিত ল্যাংড়া আমের চেয়ে অনেকটাই আশু বা আগাম পরিপক্বতা লাভ করে। এ ধারণা নিয়ে বেশ কয়েক বছর অতিবাহিত হলো।
আমবিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের প্রকাশনার কাজের জন্য ২০১০ সালে সাতক্ষীরায় যেতে হলো। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলায় একাধিক আমবাগান স্বচক্ষে দেখলাম। আমচাষি, বাগানমালিক, আম ব্যবসায়ী ও আম-সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের সঙ্গে কথা হলো। আমবিষয়ক অনেক তথ্যের আদান-প্রদান ঘটল। একটি বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া গেল—এখানকার বাগানের ল্যাংড়া আম আগাম পরিপক্ব হয় না। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর অঞ্চলের ল্যাংড়ার সঙ্গে তা পোক্ত হয়।
পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে নিশ্চিত হলাম। সাতক্ষীরা অঞ্চলে গোবিন্দভোগ ও বোম্বাই—এ দুই জাতের আমের ফলন বেশি হয়। এর মধ্যে গোবিন্দভোগ আশু জাতের। বোম্বাই মধ্য মৌসুমি। সাতক্ষীরা অঞ্চলে ক্ষীরশাপাত আমের উৎপাদন কম নয়। ইদানীং রানিপছন্দ আম উৎপাদিত হচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলে। কিন্তু আমাদের জন্য এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে এই সাতক্ষীরার আম। বাংলাদেশের মানুষ যে জাতের আমগুলোর সঙ্গে অধিক পরিচিত, সেগুলোর মধ্যে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত ও হিমসাগর, ল্যাংড়া, রানিপছন্দ, ফজলি, আশ্বিনা, লক্ষ্মণভোগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ইদানীং যোগ হয়েছে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, মল্লিকা। সাতক্ষীরা থেকে ব্যাপকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে আসছে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, রানিপছন্দ, ল্যাংড়া ও গোবিন্দভোগ আম। সাতক্ষীরার উল্লিখিত জাতের আমগুলো পরিপক্ব হওয়ার ২০-২৫ দিন আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করে জোরজবরদস্তি পাকানো হচ্ছে।
গোবিন্দভোগ আম পরিপক্ব হয় মে মাসের ২০ তারিখ পার করে। অথচ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে গোবিন্দভোগের প্রথম চালান আসে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না, কার্বাইড ব্যবহার করে সে আম পাকানো হয়েছে। রাজধানীর মানুষ আগাম সে আম কিনছেন একটু বেশি দাম দিয়েই। কিন্তু খাবার টেবিলে আমের আসল স্বাদ পাচ্ছেন না। খুবই স্বাভাবিক। আম পোক্ত হওয়ার ১৫-২০ দিন আগেই গাছ থেকে নামালে আসল স্বাদ আসবে না। টক ভাব থেকেই যাবে। রসাল হবে না। সুগন্ধি থেকেও ভোক্তা হবেন বঞ্চিত।
এরপর গোপালভোগ। অতি উৎকৃষ্ট এই জাতের আম পোক্ত হতে শুরু করে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। আমরা ধরে নিতে পারি, মে মাসের ২৫ তারিখের পর থেকে গোপালভোগ আম বাজারে এলে দোষের কিছু নেই। তবে যিনি গোপালভোগ আমের আসল সমঝদার, তিনি জুন মাসের ১ তারিখের আগে কখনোই এই উৎকৃষ্ট স্বাদের আমটি খেতে চাইবেন না। অথচ সাতক্ষীরা থেকে অপরিপক্ব গোপালভোগ আম জোর করে পাকিয়ে মে মাসের ১০-১২ তারিখেই ঢাকার বাজারে তোলা হয়।
ক্ষীরশাপাত বা হিমসাগর আম বাংলাদেশের অতি উৎকৃষ্ট জাতের আমগুলোর মধ্যে একটি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামের মানুষ হিমসাগর আমের বড় ভোক্তা। হিমসাগরের প্রতি এদের দুর্বলতা যেন জন্মগত। হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত আম পোক্ত হতে শুরু করে জুন মাসের ১০-১২ তারিখের পর থেকে। ক্ষীরশাপাত কিংবা হিমসাগর আমের বনেদি ভোক্তারা জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে কখনোই এই আম ক্রয় করতে উৎসাহী হবেন না। না হওয়াই উচিত। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই ঢাকার বাজারে ক্ষীরশাপাত আমের ছড়াছড়ি। বিক্রি হচ্ছে হিমসাগর বলে। ঢাকার নাগরিকদের দুর্বলতার জায়গায় প্রতারণা করে অপরিপক্ব আম খাওয়ানো হচ্ছে।
জুন মাসের ১৫ তারিখের আগে ল্যাংড়া আম বাজারে এলে সেই আম কখনোই কেনা উচিত হবে না। অতি উৎকৃষ্ট এবং দামি এই জাতের আম অপরিপক্ব অবস্থায় বেশি পয়সা খরচ করে কেনার কোনো যুক্তি নেই। ধারণা করছি, মে মাসের ২৫ তারিখের মধ্যেই শুরু হবে সাতক্ষীরা থেকে ল্যাংড়ার চালান আসা। এই আম খেতে মোটেই সুস্বাদু হবে না।
বাংলাদেশের আম ভোক্তাদের বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার অগণিত আম ভোক্তার অবগতির জন্য প্রাকৃতিক নিয়মে আম পরিপক্ব হওয়ার সময়পঞ্জি (ক্যালেন্ডার) দেওয়া হলো। ভোক্তা সচেতনভাবে সঠিক সময়ে তাঁর পছন্দের আমটি ক্রয় করতে পারলে বিষমুক্ত আমের প্রভাব থেকে নিজেকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মুক্ত রাখতে সক্ষম হবেন।

আম কত দিনে পুষ্ট হয়

আমের নাম  পরিপক্বতার সময়
গোবিন্দভোগ  ২৫ মের পর
গুলাবখাস  ৩০ মের পর
গোপালভোগ  ১ জুনের পর
রানিপছন্দ  ৫ জুনের পর
হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত  ১২ জুনের পর
ল্যাংড়া  ১৫ জুনের পর
লক্ষ্মণভোগ  ২০ জুনের পর
হাঁড়িভাঙা  ২০ জুনের পর
আম্রপালি  ১ জুলাই থেকে
মল্লিকা  ১ জুলাই থেকে
ফজলি  ৭ জুলাই থেকে
আশ্বিনা  ২৫ জুলাই থেকে

মাহবুব সিদ্দিকী, লেখক ও গবেষক। প্রকাশিত গ্রন্থ আম।



এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.prothomalo.com

কাঁঠাল জাতীয় ফল হলেও জনপ্রিয়তায় আম সবার ওপরে। উৎপাদন ও বাণিজ্যের বিচারে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল এটি। আমের মৌসুম পাঁচ মাস। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাস আমের বাজার থাকে রমরমা। ১৫ মে থেকে উন্নত জাতের আমের মৌসুম শুরু হয়। চলে সেই প্রায় আগস্ট মাস পর্যন্ত। পুরোটা সময় বাজারে বাহারি আমের দেখা মেলে। দেশের অন্যান্য ফলের সঙ্গে আমের তুলনা হয় না। এর প্রধান কারণ, আম এমন একটি ফল, যা অতিমাত্রায় শৃঙ্খলা মেনে চলে। প্রতিটি জাতের আম প্রায় নিজ নিজ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পরিপক্ব হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত উন্নত জাতের আমের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে আসে প্রায় ২৫ জাতের আম। এর মধ্যে অতি উন্নত জাতের আম রয়েছে মাত্র ১০টি। তবে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জাতের বাণিজ্যসফল আম দেশের বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাণিজ্যসফল আমের জাত রয়েছে মাত্র ১০টি। মুশকিলের বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষ আমভক্ত ও ভোক্তা হিসেবে বিশ্বে প্রায় শীর্ষ স্থানে থাকলেও সঠিক জাতের আম এখনো বেশির ভাগ ক্রেতা চিনতে ভুল করেন।

বেশির ভাগ মানুষ ভালোভাবে চিনতে পারেন মাত্র দুই থেকে তিন জাতের আম। এগুলো হলো ফজলি, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা। এর মধ্যে অনেকেই ফজলি ও আশ্বিনাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আম–সংস্কৃতির এই হচ্ছে বাংলাদেশের হাল অবস্থা। সত্যের যুগ তো নেই, এখন চলছে ছলচাতুরী ও প্রতারণার যুগ। তাই ফলের বাজারে রাসায়নিকের প্রভাবে চলছে একধরনের নীরব মৃত্যুর হিমেল হাতছানি। এর বড় কারণ, সাধারণ মানুষ নানা রঙের দারুণ স্বাদ ও গন্ধের আম পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেনার নেশায় ভুল করে বসেন। তাঁরা জানেন না প্রাকৃতিকভাবে কোন আম কখন পাকে এবং পরিপক্ব আম খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.prothomalo.com/life



রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ যাদের এলাকায় ভাল মানের প্রচুর আম উৎপন্ন হয়, আমের বড় বাজার বসে, এবং কাছাকাছি বড় কোন ক্যুরিয়ার সার্ভিসের অফিস আছে।

প্রাথমিক মূলধন যা লাগবে

আইটিতে দক্ষতা (ওয়ার্ডপ্রেস ও উকমার্স ব্যবহার, ইমেইল, গুগল এ্যাড, ফেইসবুক এ্যাড, গ্রাফিক্স ডিজাইন)।
৩-৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ।

সম্ভাব্য মূনাফা

৩০ হাজার থেকে ১.৫ লাখ টাকা প্রতি মাসে গ্রোস মুনাফা আমের সিজনের তিন মাস।
বাকী সময়ে মার্কেটিং-এর কাজ চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর জুড়ে কোন আয় ছাড়া। এটা সম্পূর্ণই সিজনাল ব্যাবসা।

যেভাবে শুরু করতে হবে

প্রথমে নিয়ত করতে হবে ৫* মানের কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার। পুরো ব্যাবসাটাই হবে কাস্টমারের সন্তুষ্টির জন্য। এর সাথে কোন ভাবেই আপোষ করা যাবে না। প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হলেও কাস্টমারের সন্তুষ্টি আদায় করতে হবে। এমন কোয়ালিটির কাস্টমার সার্ভিস হতে হবে, যাতে একজন কাস্টমার একবার আম কেনার পরে বার বার আপনার কাছে ফিরে আসে। আমের দামের চেয়ে আপনার সার্ভিসটাই যেন তার কাছে মূখ্য হয়।
এক শব্দের একটা সহজবোধ্য নাম সিল্টেক্ট করতে হবে ব্যবসার যেটার ডোমেইন নেম খালি আছে এবং সহযেই ব্র্যাণ্ডিং করা যাবে।
ব্যাসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক একাউন্ট করতে হবে।
এরপর ওয়ার্ডপ্রেস এবং উকমার্স ব্যবহার করে মোবাইল ফ্রেণ্ডলী একটা চমৎকার দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে। দক্ষতা থাকলে নিজে করতে পারেন, বা কাউকে দিয়ে করাতে পারেন।
অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেড করতে হবে, যাতে কাস্টমার সহযেই নিজের কার্ড, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি দিয়ে অটোমেটিক পেমেন্ট করার মাধ্যমে অর্ডার করতে পারে।
একটা ফেইসবুক পেইজ খুলতে হবে ব্যাবসার জন্য যেটা মার্কেটিং-এর জন্য ব্যবহার করতে হবে।
আম ডেলিভারীর জন্য কাগজের ব্র্যাণ্ডেড কার্টন তৈরী করতে হবে বিভিন্ন সাইজের। প্রাথমিক ভাবে বাজারে পাওয়া নন-ব্র্যাণ্ডেড কার্টন দিয়েও শুরু করতে পারেন, কিন্তু অর্ডার আশা শুরু হলে পরে তৈরী করে নিতে হবে। সাফল্য পেতে হলে ব্যাবসাটাকে ব্র্যাণ্ড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে যেকোন মূল্যে।
সেটাপ হয়ে গেলে আপনি ব্যাবসার জন্য রেডি।

যেভাবে অর্ডার প্রোসেস করতে হবে

  • ওয়েব সাইটে আপনার প্রোডাক্ট আপলোড করে দিতে হবে। আমের প্যাকেটের সাইজ হবে ১০, ১৫, ২০ কেজির। সাইট থেকে যে কেউ এই প্রোডাক্টগুলো বিভিন্ন কোয়ান্টিটির অর্ডার করতে পারবে।
  • কেউ অর্ডার করতে চাইলে যেকোন ধরনের আম ও প্যাকেট সাইজ সিলেক্ট করে পেমেন্ট করে দিলে অটোমেটিক অর্ডার কনফার্মেশন পাবে। আপনিও অর্ডারের নোটিফিকেশন পাবেন।
  • প্রতিদিন দূপুর ১২ টার মধ্যে যতগুলো অর্ডার আসবে, সেগুলো সেইম ডে তে বাজার থেকে কিনবেন, প্যাক করবেন, এবং ক্যুরিয়ারে বুকিং দিয়ে দিবেন। যত দ্রুত কাস্টমারের কাছে আম পৌছাবে, কাস্টমার ততই খুশি হবে। ওয়েব সাইটে এটা ফলাও করে প্রচার করবেন যে ১২ টার মধ্যে অর্ডার দিলে সেইম ডেতে অর্ডার প্রোসেস করা হবে।
  • এখানে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেই আম আপনি বাজার থেকে কিনবেন, সেটা যাতে সবচেয়ে ভাল মানের আম হয়। আর কিনতে হবে দামাদামি করে সবচেয়ে কম দামে। এখানে স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে। যত কম দামে আম কিনতে পারবেন, ততই ভাল। কিছু আড়তদার এবং বাগান মালিক/ব্যাবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে হবে যাতে তাদের কাছ থেকে দমদামে ভাল মানের আম কিনতে পারেন।
  • আমের ব্যাসার নাম নিলে প্রথমেই মাথায় আসতে পারে বাগান কেনার কথা। ভুলেও এই কাজটা করা যাবে না। এটা হবে একটা বাজে বিনিয়োগ। রিস্ক বেড়ে যাবে। বাজারে যেই আম পাওয়া যায় সেখান থেকেই ভাল মানের আম কিনবেন বাজার দরে এবং দামাদামি করে। এতে আপনার আমের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে না। প্রথমেই যে প্রাথমিক বিনিয়োগের কথা বলেছি, সেটা আসলে খরচ করতে হবে ওয়েবসাইট তৈরী, আইটি ট্রেনিং, এবং মার্কেটিং এর পেছনে।
  • এই ব্যাসাটা যেহেতু ক্ষুদ্র ব্যবসা, এখানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে রানিং কস্ট কমাতে। যত দিক দিয়ে সম্ভব খরচ কমাতে হবে।
    অফিস হবে নিজের বাড়িতেই। আলাদা কোন অফিসের দরকার নেই। স্টোরও হবে নিজের বাড়ি। সেই কারনেই স্থানীয়দের জন্য এই ব্যবসাটা আদর্শ হবে।
  • আম পরিবহনের জন্য নিজের একটা ভ্যান কিনে ফেললে পরিবহন খরচ বেঁচে যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে অন্যের ভ্যান দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে।
  • ক্যুরিয়ার সার্ভিসগুলো প্যাকিং-এর জন্য আলাদা চার্জ করে। এই খরচটা কমাতে হবে। নিজে প্যাকিং করতে হবে নিজের ব্র্যাণ্ডেড কার্টনে। কাস্টমার আম খুলে যাতে আগে নিজের ব্র্যাণ্ডটা দেখতে পায়। সেজন্য প্রফেশনাল লোগো ডিজাইন করতে হবে। কার্টনের ডিজাইনও প্রফেশনাল হতে হবে।
  • ওয়েবসাইটে আমের দাম রেগুলার আপডেট করতে হবে বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। যদি কখনো এমন হয়, আজকে যেই দাম হিসেব করে অর্ডার নিয়েছেন, বাজারে তার চেয়ে বেশী দামে আম কিনতে হয়েছে, পকেটের টাকা খরচ করে তখন অর্ডার মূল্যেই কাস্টমারকে আম পাঠাতে হবে। কোন ভাবেই অর্ডার ক্যান্সেল করা যাবে না বা কাস্টমারকে এই ব্যাপারে কিছুই বলা যাবে না (এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যদিও খুবই কম)।
  • আমের দাম হিসেব করতে হবে আমের ক্রয় মূল্য + কুরিয়ার চার্জ + প্যাকিং খরচ + মার্কেটিং খরচ + লাভ যোগ করে। উদাহরন হিসেবে এক মন (৪৫ কেজি) ল্যাংড়া আম ক্রয় মূল্য ১,৪০০ + ভ্যান ভাড়া ২০ টাকা বাজার থেকে ক্যুরিয়ার অফিস পর্যন্ত + প্যাকিং কস্ট ১০০ টাকা (৪ প্যাকেট) + ক্যুরিয়ার কস্ট ৫৮৫ টাকা (১৩ টাকা কেজি ঢাকার জন্য) + মার্কেটিং কস্ট ৪৫০ টাকা (১০ টাকা প্রতি কেজি) + লাভ ৪৫০ টাকা (১০ টাকা প্রতি কেজি) = মোট ৩,০০৫ টাকা / ৪৫ কেজি = ৬৭ টাকা কেজি। সেফটি মার্জিন রেখে আপনি দাম সেট করবেন ৭৫-৮০ টাকা কেজি। দাম হঠাৎ রেড়ে গেলে এই মার্জিন থেকে সমন্বয় হয়ে যাবে।

যেভাবে মার্কেটিং করতে হবে

  • পুরো ব্যবসাটাই নির্ভর করবে কোয়ালিটি প্রোডাক্ট ও মার্কেটিং এর উপরে।
  • প্রথমেই জানতে হবে আপনার টার্গেট কাস্টামার কারা। পুরো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আপনার টার্গেট কাস্টমার না। মাত্র সামান্য কিছু মানুষ আপনার টার্গেট। আপনি যদি তিন মাসে ৪,৫০০ অর্ডার সরবরাহ করতে পারেন, প্রতি মাসে দরকার ১,৫০০ অর্ডার, প্রতি দিনে ৫০ টা। এটা করতে পারলেই আপনার গ্রোস লাভ হবে ৪,৫০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা প্রতি কেজিতে লাভ = ৪৫০,০০০ টাকা লাভ সিজনে। সেখান থেকে শুধু একজন সাহায্যকারীর বেতন দিবেন। দিনে ১০ টা অর্ডার সরবরাহ করতে পারলে মাসে ৩০০ অর্ডার, সিজনে ৯০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা লাভ = মোট ৯০,০০০ টাকা তিন মাসে। যত দিন যাবে, ব্যবসার সুনাম বাড়বে, ততই ব্যবসাও বড় হবে।
  • সুতরাং যেটা বলছিলাম, আপনাকে শুধুমাত্র এই ৪,৫০০ কাস্টমার জোগাড় করার টার্গেট নিয়ে নামতে হবে।
  • টার্গেট করতে হবে এই কাস্টমারগুলোকে আপনার সার্ভিস দিয়ে সন্তুষ্ট করে পার্মানেন্ট কাস্টমার বানানোর। তার জন্য যা প্রয়োজন সবই করতে হবে। ভাল সার্ভিস বলতে বোঝাচ্ছি সবচেয়ে ভাল মানের আপ সরবরাহ করা – খেতে মিষ্টি দেখতেও সুন্দর, যত কম দাম সম্ভব রাখা, যত দ্রুত সম্ভব অর্ডার সরবরাহ করা যেটা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ, কোন সমস্যা হলে সৎভাবে সেটার সমাধান দেয়া যত দ্রুত সম্ভব – সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সাময়িক ক্ষতি হলেও মেনে নিতে হবে। তখনই একজন কাস্টমার সন্তুষ্ট হবে, একবার অর্ডার দিলে আবারো অর্ডার দিবে, নিজের পরিবারের জন্য দিবে, আত্মীয়দের জন্য দিবে। তারা যতই ফিরে আসবে, ততই আপনার লাভ।
  • প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে ক্যুরিয়ার সার্ভিসের ব্রাঞ্চগুলো ঢাকার কোন কোন জায়গায় আছে। সেই ব্রাঞ্চগুলোর ১ কি.মি. রেডিয়াসের মধ্যে ৩০+ বয়সের সমস্ত বিবাহিত লোককে টার্গেট করে গুগলে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এজন্য গুগল ডিসপ্লে নেটোয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। ক্যুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেহেতু হোম ডেলিভারী দেয় না, সুতরাং যেসব এলাকায় তাদের অফিস আছে তার কাছাকাছি লোকজনকে টার্গেট করলে তারা সহযেই আম ডেলিভারী নিতে পারবে এবং ঝামেলা কম বলে অর্ডার দিতে উৎসাহিত হবে।
  • একবার যারা আপনার সাইটে আসবে, তাদের সারা বছর রিমার্কেটিং করে আপনার ব্র্যাণ্ডের নাম স্মরন করিয়ে দিতে হবে যাতে আমের সিজনে আপনার এ্যাড দেখেই তাদের নিতান্ত পরিচিত ব্র্যাণ্ড বলে মনে হয় এবং অর্ডার করতে ভরসা পায়। এই কাজগুলো গুগল এ্যাডে সহযেই করা যায়। ফেইসবুকেও এই রিমার্কেটিংটা করতে হবে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগেই বলেছি, ব্যবসাটা সিজনাল, কিন্তু মার্কেটিং-এর কাজ চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর।
  • প্রশ্ন আসতে পারে, ফুটপাতে ৬০ টাকা কেজিতে যখন আম পাওয়া যায়, তখন আপনার কাছ থেকে তারা ৮০ টাকা কেজিতে কেন কিনবে? তারা কিনবে কারন মানুষের মনে ফুটপাতের / বাজারের আম সম্বন্ধে আতঙ্ক আছে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্যামিক্যালের। তাছাড়া মানুষের কিছু জিনিস সম্বন্ধে সহজাত ঝোক আছে – যেমন দেশী মুরগী, খাঁটি দুধ, হাঁসের ডিম, রাজশাহীর / ভেজালমুক্ত আম ইত্যাদি সম্বন্ধে। কাজেই তাদের এই দুর্বলতাটাকেই পুঁজি করে মার্কেটিং করতে হবে। আপনাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আপনার ব্র্যান্ড ঝামেলাহীনভাবে বাগানের ভেজালমুক্ত আম তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিবে। এই বিষয়ে যখনই কাস্টমারের বিশ্বাস আনতে পারবেন, তখনই আপনার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবে।
  • ফেইসবুক পেইজে নিয়মিত পোষ্ট করতে হবে বাগান, আম, আমের কোয়ালিটি, আম উৎপাদন, পরিচর্যা ইত্যাদি নিয়ে। তবে কখনোই বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেইসবুক লাইক আদায় করা যাবে না। এটা খুবই খারাপ বিনিয়োগ। স্বেচ্ছায় যারা পেইজে লাইক দিবে, সেটাই যথেষ্ট।
  • সাইটে একটা ব্লগ সেকশন রাখতে পারেন, যেখানে আম বিষয়ক বিভিন্ন লেখা ও ছবি পোষ্ট করতে পারেন।
  • সিজনের সময় এসে বিজ্ঞাপনটা জোর দিয়ে করতে হবে, এবং কল-টু-এ্যাকশন ব্যাবহার করতে হবে যাতে মানুষ এখনই অর্ডার করতে উৎসাহিউত হয়।

এই রকমের কতটা সাইট চলতে পারে

এক কানসাট বাজারে ঢাকা থেকে কতজন ব্যবসায়ী নিয়মিত আম কিনতে যায়? ততোটা ওয়েব সাইট শুধু কানসাট বাজারের উপর নির্ভর করে চললেও কোন সমস্যা নেই। একটা সাইট মাত্র হাজার পাঁচেক মানুষকে সার্ভ করলে কতগুলো সাইট ব্যবসা করতে পারবে ভেবে দেখেন। যে যত ভাল সার্ভিস দিতে পারবে, ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করাতে পারবে, তার ততই ব্যাবসা বেশি হবে।

পরিশেষ

এই ডকে যা লিখলাম, এটা সমস্তটাই থিওরী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই মডেলটা খুব ভাল চলবে যদি যোগ্য লোক দ্বারা সঠিক ভাবে অনুসরন করা হয়। আমি নিজে যদি ব্যবসাটা করতাম, ঠিক এভাবেই করতাম। যেহেতু করছি না, তাই সবাইকে জানালাম। যদি কেউ পারবেন মনে করেন, করে দেখতে পারেন। যদি আরো কোন পরামর্শ দিতে পারি, অবশ্যই দিব। আমি এখানে শুধু আম বিক্রির কথা বললাম। লিচুও একই ভাবে বিক্রি করা সম্ভব দিনাজপুর থেকে। অথবা বরিশাল থেকে পেয়ারা। কুমিল্লা অঞ্চল থেকে সবজিও হতে পারে। মানুষ বাগান থেকে সরাসরি ভেজালমুক্ত টাটকা জিনিস পেতে বরাবরই আগ্রহী, বিশেষ করে ঢাকায়। আর এগুলো সবকিছুতেই চলছে মধ্যস্বত্তভোগীদের রাজত্ব। সুযোগ আছে এখানে ব্যবসা করার।

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://www.uddokta.net