x 
Empty Product
Monday, 23 October 2017 09:12

চাঁপাইয়ে হচ্ছে বিশেষায়িত আম বাজার

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের খ্যাতি ছাড়িয়েছে দেশের গন্ডি। কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জই নয় আশেপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়েছে বাণিজ্যিক আম চাষ।

দেশের মোট আমের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এখান থেকেই। যদিও উৎপাদিত আম বিপণনে প্রান্তিক চাষীদের পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। ভোক্তাপর্যায়ে ফলটির দাম বাড়লেও এর সুবিধা তারা পান না। আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে না পেরে অবিক্রীত ফল নিয়েও অনেক সময় বাড়ি ফিরতে হয়। অথবা সড়ক বা ফুটপাতে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হয়।

কৃষকরা যাতে সহজে ও ন্যায্যমূল্যে আম বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে গড়ে তোলা হচ্ছে আম বিশেষায়িত বাজার। জেলা সদরে তিন তলাবিশিষ্ট এ বাজার নির্মাণে এরই মধ্যে দরপত্রও আহ্বান করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সংস্থাটি বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতোই ফলের বিশেষায়িত বাজার গড়ে তোলা হবে অন্যান্য জেলায়। এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হবে ওই জেলায় সর্বাধিক উৎপাদিত ফলকে। এ হিসাবে টাঙ্গাইলে গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে আনারসের বিশেষায়িত বাজার।

জানা গেছে, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফল বিশেষায়িত এ বাজারে তুলবেন। দূর থেকে আসা কৃষকদের জন্য থাকবে ডরমিটরির ব্যবস্থা। পাশাপাশি থাকবে সাময়িক সময়ের জন্য ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দরকষাকষির সুযোগ পাবেন। বাজার দেখভালের দায়িত্বও থাকবে কৃষকদের ওপর— সমবায়ের ভিত্তিতে। সমিতি গঠন ও তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজটাও করা হবে প্রকল্পের মাধ্যমেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ফলের বিশেষায়িত বাজারটি গড়ে তোলা হচ্ছে বৃহত্তর রাজশাহী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়। জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক মন্মথ রঞ্জন হালদার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তবে প্রতি বছরই আম নিয়ে লোকসানে পড়তে হয় এ অঞ্চলের কৃষকদের। দরকষাকষির সুযোগের অভাবে আড়তদারদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য পান না তারা। কারণ তাদের মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই। আমরা তাদের মাথার ওপর ছাদের ব্যবস্থা করছি, যাতে তারা নিশ্চিন্তে তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করতে পারেন।

এলজিইডির এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এ অঞ্চলের আমচাষীরাও। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তালিকাভুক্ত একাধিক আমচাষী জানান, আম নিয়ে অনেক সময়ই লোকসান ও ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয় তাদের। ব্যবসায়ীরা অনেক সময়ই তাদের পণ্য সময়মতো কিনতে চান না। অনেক সময় আবার দামও দিতে চান না। আমের জন্য একটি বিশেষায়িত বাজার পেলে এ সমস্যা দূর হবে।

প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেলেই যে বাজারটি খালি পড়ে থাকবে, তা নয়। পেয়ারা বা বরইয়ের মতো অন্যান্য দেশী ফল যেগুলো সারা বছর পাওয়া যায়, সেগুলো এ বাজারে রাখা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বিশেষায়িত বাজার গড়ে তোলা হলেও ফলভিত্তিক একই ধরনের বাজার গড়ে তোলা হবে অন্যান্য অঞ্চলেও। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আনারসের বিশেষায়িত বাজার গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে টাঙ্গাইলে। কারণ দেশে আনারসের অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদন হয় এ জেলায়। এছাড়া কলারও বড় জোগানদাতা জেলাটি। তাই টাঙ্গাইলে বিশেষায়িত বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে এ দুটি ফল।

বর্তমানে দেশে ৭০ ধরনের প্রায় ৪৭ লাখ টন ফল উৎপাদন হচ্ছে। বিবিএসের তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর দেশে আম উৎপাদন হয় ১১ লাখ ৬১ হাজার টন। একই অর্থবছর কাঁঠাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৩১ হাজার টন। অন্যান্য ফলের মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছর দেশে কলা উৎপাদন হয় ৭ লাখ ৭৭ হাজার টন। এছাড়া আনারস উৎপাদন হয় প্রায় দুই লাখ, পাশাপাশি অর্থবছরটিতে পেয়ারা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার টন।

সব দেশী ফলের জন্যই পর্যায়ক্রমে বিশেষায়িত বাজার গড়ে তোলা হবে বলে জানান এলজিইডির পরিকল্পনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর সাদিক। তিনি বলেন, মূলত প্রান্তিক চাষী, স্থানীয় ভোক্তাদের সামর্থ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিষয়টি মাথায় রেখেই মূলত বিশেষায়িত এ ফলবাজার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ফলচাষীদের দক্ষতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

এলজিইডি বলছে, এরই মধ্যে আইএফএডি, ডানিডা, আইডিএ ও সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বাজার উন্নয়নের কাজ করেছে এলজিইডি। এসব প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, প্রান্তিক এলাকার কৃষকের আয় বৃদ্ধির জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের স্তরটি নির্মূল করতে হবে।

এছাড়া এলজিইডির প্রকৌশলীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের মার্কেট ও সংরক্ষণাগার তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে। জাপানে কৃষকদের সমবায় হিসেবে জাপান এগ্রিকালচার অত্যন্ত জনপ্রিয়। সফলতার সঙ্গে জাপানের প্রত্যেকটি অঞ্চলে এটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের সমবায় ব্যবস্থা চালু রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

বাংলাদেশেও কৃষকদের পণ্য বিপণনে বিদ্যমান বাধা দূর করতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সংস্থাটি। এলজিইডি ছাড়াও এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহায়তার প্রয়োজন হবে।

Read 2129 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.