x 
Empty Product
Thursday, 22 June 2017 09:43

আম বাছাইয়ে কড়াকড়ি, ৪০ কোটি টাকা ক্ষতির শঙ্কা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

 

 

বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপে ভেস্তে যেতে বসেছে রাজশাহী অঞ্চলের আম রফতানি কার্যক্রম। এতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার আমচাষিরা অন্তত ৪০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এ এলাকার আম রফতানি নিয়ন্ত্রণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং। রফতানিকারকদের দাবি, রফতানি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপের কারণে কপাল পুড়তে বসেছে চাষিদের।

Mango

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দফতরের হিসেবে, গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এ অঞ্চলের ৫৮ হাজার ৯২৪ হেক্টর জমির আম বাগানে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৮ মেট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছে। এ বছরে বাগানের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ফলে উৎপাদনও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছরে রাজশাহীর ১০০ জন চাষি ১০ লাখ আম ফ্রুটব্যাগিং করেছেন। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৯১ জন চাষি ফ্রুটব্যাগিং করেছেন ৩ কোটি আম। এ আমের মধ্যে রয়েছে ক্ষীরশাপাত, ফজলি ও আশ্বিনা আম। এ থেকে উৎপাদন হবে রফতানিযোগ্য প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিকটন আম।

 

গত বছর রাজশাহী থেকে ৩০ এবং ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০০ মেট্রিকটন আম রফতানি হয়েছে ইংল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও সুইডেনে।

রফতানি শুরু করা চাষিদের ভাষ্য, এ বছর ক্ষীরশাপাত আম রফতানি শুরুর কথা ছিলো ২৮ মে থেকে। কিন্তু নানান জটিলতায় এর ১৩ দিন পর থেকে রফতানি শুরু হয়। ফলে আগেই পেকে গিয়ে ব্যাগের মধ্যে পড়ে গেছে অধিকাংশ আম। অবশিষ্ট যা থাকছে বাছাই করার সময় তার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রফতানির অযোগ্য ঘোষণা করছে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং। এ আমের বাজারেও নায্য দাম না পাওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন চাষিরা।

 

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও আম রফতানি শুরু না হওয়ায় সেখানকার অবস্থা আরও ভয়াবহ।

এ অঞ্চলের আম রফতানির উদ্দেশে বাণিজ্যিক আম চাষিরা গড়ে তুলেছেন রাজশাহী অ্যাগ্রো ফুড প্রডিউসার সোসাইটি।

 

সংগঠনের সভাপতি আনোয়ারুল হক বলেন, ফ্রুটব্যাগের ভেতর আম থাকে ৪০ থেকে ৫০ দিন। এ সময় ভেতরে পোকামাকড় প্রবেশের সুযোগ নেই। আঘাতও থাকে না। পুরোপুরি বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত এ আমের রঙ হয় আকর্ষণীয়। অথচ উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইং অযৌক্তিভাবে এসব আমের অধিকাংশই রফতানি অযোগ্য বলছে।

তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা কমিয়ে এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। কিন্তু এগুলো রফতানি ব্যাহত হলে রাজশাহীতে ১০ কোটি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত ৩০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা। ফলে অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে রাস্তায় নামার কথাও ভাবছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারধ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুর হুদা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর আম রফতানি শুরু হয়নি। অথচ ২৮ মে থেকে ক্ষীরশাপাত রফতানির কথা ছিলো। এছাড়া ৭ থেকে ১০ জুনের মধ্যে ল্যাংড়া ও ২০ জুন থেকে ফজলি আম রফতানির কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রফতানিকারকদের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

 

তিনি বলেন, তারা জেনেছেন, কিছু রফতানিকারক উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ে আম নিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে অর্ধেকের বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রফতানিকারকরা। এর রেশ গিয়ে পড়ছে চাষিদের উপর। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে আসছে মৌসুমে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনে।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ের উপপরিচালক (রফতানি) কৃষিবিদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান বলেন, তারা কেবল আমের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করছেন। আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখতেই এ কড়াকড়ি। এ বছর দেশ থেকে এক হাজার মেট্রিকটন আম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। দেরিতে শুরু হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তিনি আশাবাদী বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, কৃষি দফতর নয়, ফ্রুটব্যাগ বিক্রেতারাই চাষিদের রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ নিয়ে চাষিদের সঙ্গে কৃষি বিভাগের কোনো চুক্তিও নেই। আমের দাম নির্ধারণেও কৃষি দফতরের সম্পৃক্ততা নেই। এটি করেন চাষি ও রফতানিকারকরা। এবার রফতানি ব্যাহত হলেও আগামীতে উৎপাদন বাড়বে বলে দাবি এ কর্মকর্তার।

Read 2399 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.