x 
Empty Product
Tuesday, 29 July 2014 19:58

রংপুর অঞ্চলে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হাঁড়িভাঙা আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

রংপুর অঞ্চলে পবিত্র রমজানে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান পেয়েছে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হাঁড়িভাঙা আম। এই রমজানে হাঁড়িভাঙা আম পাকতে শুরু করায় সব শ্রেণী-পেশার রোজাদার ইফতারের আইটেমে এই আম রেখেছেন। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় এবার বিপুল পরিমাণ এই আম রংপুর অঞ্চলেই বিকিকিনি হচ্ছে।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে হাঁড়িভাঙা আম পাকতে শুরু করে। অন্য দিকে এবার পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে ১ জুলাই থেকে। ফলে ফরমালিনমুক্ত এই আম রোজাদাররা ইফতারের আইটেমে অনিবার্য হিসেবে রেখেছেন। শ্রমিক থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ইফতারে এবার এই অঞ্চলে ইফতারের সময় শোভা পাচ্ছে এই হাঁড়িভাঙা আম। আম কেটে থরে থরে সাজানো হচ্ছে ইফতারের জন্য।
হাঁড়িভাঙা আমের জন্য বিখ্যাত রংপুরের মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ-পদাগঞ্জ এলাকা। মঙ্গলবার ইফতারের আগমুহূর্তে হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আবদুস সালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, ড্রইং রুমে প্রায় এক ডজন মানুষ ইফতারের জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে দু-একজন আগন্তুক ছাড়া অন্যরা সবাই হাঁড়িভাঙা আম বাগানের শ্রমিক। ইফতারের জন্য বুট, বুন্দিয়া, পিয়াজু, বেগুনি, খেজুর দিয়ে মাখানো মুড়ির গামলার পাশে সবার সামনে একটি করে প্লেটে হাঁড়িভাঙা আম। সবাই আম দিয়েই ইফতার শুরু করলেন। শ্রমিক আবুল কাশেম বলেন, ২০০ টাকা দিন হাজিরায় সালাম সরকারের বাগানে কাজ করি। প্রতিদিনই হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করি একসাথে। মনে হয় ইফতারে আম না থাকলে প্রশান্তিই পাবো না। অন্য শ্রমিক সরদারপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম জানান, এবার রোজার মাস এসেছে হাঁড়িভাঙার সময়ে। এ পর্যন্ত সব রোজাতেই হাঁড়িভাঙা আম দিয়েই ইফতার করেছি। আমটি সুস্বাদু হওয়ায় ইফতারও খুব তৃপ্তির সাথে হয়।
রংপুর মহানগরীর টার্মিনালে হাঁড়িভাঙা আম কিনতে আসা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আপেল মাহমুদ জানান, মূলত প্রতিদিনই তাকে আসতে হয় টাটকা হাঁড়িভাঙা আম কিনতে।  কারণ এই আম দিয়েই প্রতিদিনই পরিবারের সবাই ইফতার করি। আমটি সুমিষ্ট হওয়ায় পরিবারের সবারই এটি ইফতারের জন্য প্রথম পছন্দ।
স্থানীয় দাবানল পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম সুমন জানান, দিনভর রোজা শেষে হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করার পর শরীরের মধ্যে আলাদা এনার্জি আসে। অনেকটা ভাতের ক্ষুধা নিবারণের জন্যই আম খাই। সে জন্য এবার প্রতি রোজাতেই হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করছি।
এভাবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাতের নাগালে হওয়ায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে তারা হাঁড়িভাঙা আমকে বেছে নিয়েছেন ইফতার সামগ্রীতে।
হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারক আবদুস সালাম সরকার জানান, এবার মোটামুটি দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যেই মণ পাওয়া যাচ্ছে হাঁড়িভাঙা আম। রোজার মাস হওয়ায় প্রচুর আম বিক্রি হচ্ছে। রোজাদাররা এই আম দিয়ে তৃপ্তিসহকারে ইফতার করছেন।
ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ কনসাল্ট্যান্ট ডা: মোহাম্মদ হোসেন জানান, আম বিশেষ করে হাঁড়িভাঙা আম রোজাদারের জন্য উপকারী। কারণ আমের মধ্যে যে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেড, সুগার, বিভিন্ন ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ আছে তা সারা দিন রোজার থাকার পর রোজাদারের শরীরে ক্ষুধার কান্তি দূর করে।
আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মওসুমে শুধু রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় বাগান পর্যায়ে প্রায় ১৩ হাজার বাসাবাড়ি ও ুদ্র পরিসরে দুই হাজার ৯৫০ হেক্টরে আমের বাগান হয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় এই আম বাগান ১৭ হাজার ২৪৪ হেক্টর। এই জমিতে প্রায় ৪২ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০টি গাছ রয়েছে, যা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টন আম উৎপাদন হবে। এর বাজারমূল্য ৮০৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি। কৃষি বিভাগের হিসাবে রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় প্রায় এক লাখ হেক্টর হাঁড়িভাঙা আম চাষযোগ্য জমি আছে। এতে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদন সম্ভব। সেখানে আমের আবাদ করলে বছরে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদন সম্ভব হবে। এ জন্য সরকারকে ও কৃষি বিভাগকে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এই অঞ্চলে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাস্তবায়ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

Read 2585 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.