x 
Empty Product
Wednesday, 20 November 2013 07:03

পাহাড়ের রাংগোয়াই আম জনপ্রিয়তা বাড়ছে

Written by 
Rate this item
(0 votes)

Rajshahi Mango জুম চাষের বদৌলে পাহাড়ে ‘বুকসেলাই’ আম চাষে ভাগ্য বদলেছে বান্দরবানের অনেক চাষীর। মায়ানমারের জাত হিসেবে পরিচিত বুকসেলাই (রাংগোয়াই) আমের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মাঝে। খেতে বেশ সুস্বাদু এবং পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় এই আমের চাষ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগের মতে, স্থানীয়ভাবে বান্দরবান জেলায় চার ধরণের বুকসেলাই (রাংগোয়াই) আমের জাত চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে একটি আগাম জাত হিসেবে পরিচিত, আরেকটি শাঁস আঁশযুক্ত। অন্য দুটির একটির মাংস লালচে-হলুদ এবং আরেকটি নাবি জাত। যেটি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে বুকসেলাই আমগুলোর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান জেলাতেই বুকসেলাই (রাংগোয়াই) জাতের আমের চাষ সবচেয়ে বেশি। আমের এই জাতটি জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি-থানছি সীমান্ত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় ১৫/২০ বছর আগে পাহাড়ী রা এই আম মায়ানমারের পাহাড়ী অঞ্চল থেকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান নিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে কৃষি বিভাগের কাছেও বুকসেলাই (রাংগোয়াই) আম চাষ কখন থেকে শুরু হয়েছে সেটির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন জানান, স্থানীয় জাতগুলোর তুলনায় বুকসেলাই জাতের আমের পোকার আক্রমন অনেক কম। যার কারণে স্থানীয় পাহাড়ী আম চাষীরা আমটি চাষ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারছেন। মায়ানমারের আমের এই জাতটি বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় স্থাণীয়ভাবে বর্মি নাম অক্ষুন্ন রেখে রাংগোয়াইসি বললেও চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে ভোক্তাদের কাছে এটি বার্মিজ এবং বুকসেলাই রাংগোয়াই আম নামে পরিচিত।

মায়ানমারের বার্মি ভাষায় রাংগোয়াই অর্থ বুকে শিরধারার মতো সেলাই আর ‘সি’ অর্থ ফল, অর্থাৎ রাংগোয়াইসি মানে ‘বুকসেলাই ফল’। সম্ভবত ফলের গড়নের সঙ্গে সাদৃশ্যের কারণেই এমন নামকরণ। খেতে খুবই সুস্বাদু, পোকার আক্রমন কম এবং স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আমের চাষ বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় তিন হাজার ছয়শ হেক্টর পাহাড়ী জমিতে আমের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে বুকসেলাই আমের চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্টিক টন। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ৬০/৭০ টাকায় ক্রয় করে বাজারে ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি করছেন।

বান্দরবান জেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন বুকসেলাই করা আমে সয়লাব হয়ে গেছে। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি সপ্তাহে বান্দরবান থেকে ৮/৯ মিনি ট্রাক আম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় আম চাষী সাম-লিয়াম-বম ও চথোয়াই মারমা বলেন, “পাহাড়ে স্বল্প সময়ে রাংগোয়াই অর্থাৎ বুকসেলাই আম দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু পোকার আক্রমনের কারণে এবার রাংগোয়াই আম বিক্রি করে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাষীরা লাভের মুখ দেখছে না। সরকারিভাবে পোকা দমনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। একারণে অনেক চাষী জানেই না পোকা কিভাবে দমন করতে হবে।”

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, “বাগানের মালিক থেকে সাত লক্ষ টাকায় দশটি আম বাগান কিনে নিয়েছি। এখান থেকে আমি কিনে চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি। এবার আমের ফলন ভালো হওয়ায় মোটামুটি লাভবান হতে পারছি।”

Read 4009 times Last modified on Sunday, 01 December 2013 10:26

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.