x 
Empty Product
Wednesday, 04 September 2013 07:39

৫ বছরে লোকসান ৬০ কোটি টাকা : রাজশাহীতে আমে পচন ধরায় হতাশ ব্যবসায়ী ও মালিকরা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

রাজশাহীর আমের জন্য বিখ্যাত পুঠিয়া ও চারঘাট এলাকায় এ বছরও আমে ব্যাপক হারে পচন রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় বেশিরভাগ আম বাগানের মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ পচন রোগে গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন এলাকায় আম বাগানে অন্তত ৬০ কোটি টাকার আম লোকসান হয়েছে বলে বাগান মালিকরা জানান।
 স্থানীয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন ও পুরাতন মিলে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৫০ মেট্রিক টন এবং উত্পাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন। এ বছর বেশিরভাগ গাছে আম দেখা দেয়ায় এবং অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরু হওয়ার পর থেকে আবারও আমে পচন রোগের প্রভাব দেখা দিয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেকেরও কম ফলন হওয়ার আশঙ্কা করছেন আম বাগান মালিকরা।
 এলাকার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ আমের গঠন দু’ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি আমের উপরের অংশ স্বাভাবিক থাকলেও নিচের অংশ কুচকে এবং বিবর্ণ কালো রং ধারণ করছে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই নিচের অংশ থেকে আস্তে আস্তে পচন শুরু হয়। ৭-৮ দিনের মধ্যে পুরো আম পচে ঝরে পড়ছে।
 ধাধাশ গ্রামের আম বাগান মালিক মাসুদ করিম জানান, তার প্রায় দুই একর আম বাগান রয়েছে। এর আগে আমে কোনো রোগ-বালাই না থাকলেও পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের রোগে বাগান আক্রান্ত হচ্ছে। আমের মুকুল থেকে শুরু হয় অজ্ঞাত এই রোগ। কৃষি অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক পরিচর্যা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ওষুধ ৫-৬ দফা ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ পচন রোগে গত পাঁচ বছরে আমার বাগানে ১৫ লক্ষাধিক টাকার আম নষ্ট হয়ে গেছে। পুঠিয়া সদর এলাকার আম চাষী সরদার আরিফ, মাজেদ আলী ও জিল্লুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তাদের আম বাগানগুলোতে দু’বছর ধরে পচন রোগের আক্রমণ শুরু হয়েছে। এ থেকে রেহাই পেতে বাজারের বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না; বরং বাগানের একটি গাছে আক্রমণ শুরু হলে রাতারাতি সবগুলোতে পচন ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়ার প্রভাবে আমে এ রোগের আক্রমণ শুরু হয়েছে বলে তারা অভিযোগ তুলছেন। অপরদিকে বানেশ্বর এলাকার আম ব্যবসায়ী শফিকুল আলম জানান, এর আগে বাগানে কোনো রোগ-বালাই না থাকায় এ অঞ্চলের আমের অনেক চাহিদা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আমের নিচের অংশে কুচকে এবং পচনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমাদের সরবরাহ করা আমের মূল মোকামে পাকা ও সঠিক গঠনের আম না হওয়ায় চাহিদা অনেক কমে যাচ্ছে।
 এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, কৃষকদের আম বাগানে মাত্রাতিরিক্ত ঝাপড়া বা পাতা পরিষ্কারে অবহেলা এবং বাগানে আলো-বাতাস চলাচলের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সেখানে হোপার পোকা অবস্থান করে। আম বাগানের পাতার নিচের অংশ ও গাছের গোড়ায় সঠিক মাত্রায় স্প্রে করলে এ পোকা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং মাত্রারিক্ত গরমে আম বাগানগুলোতে পোকার আক্রমণ বেশি দেখা দিয়েছে। সাফসিন ও নিপাসিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে অনেকটাই পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষা করা সম্ভব।

Read 3200 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.