x 
Empty Product
Friday, 16 August 2013 13:51

শারিরীক প্রতিবন্ধি খায়রুল ইসলাম আম বাগান করে সাবলম্বি

Written by 
Rate this item
(0 votes)

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মালঞ্চা গ্রামের এক সময়ের অসহায় কৃষক শারীরিক প্রতিবন্ধি খায়রুল ইসলাম আম বাগান করে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। মানুষের বাগান লীজ নিয়ে নিজেই বিভিন্ন প্রজাতির আম আবাদ করে নিজেও লাভবান হয়েছেন পাশাপাশি তার অধীনে ৭০টি পরিবার কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছেন।
 মনের অদ্যম ইচ্ছা শক্তি সাহস থাকলে যে কোন কাজই মানুষের কাছে যে সহজ হতে পারে তার প্রমান রেখেছেন প্রতিবন্ধি খায়রুল ইসলাম (৪৮); অভাব অনটনের সংসারে ২০০১ সালে এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় শারিরীক প্রতিবন্ধিতে পরিণত হন খায়রুল।

সে দুঃসময়ে নিজের স্ত্রী সন্তান তাকে একা ফেলে চলে যায়। মানুষ তাকে বিভিন্ন ভাবে তাচ্ছিল ও করুনার চোখে দেখতে থাকে। মনের ক্ষোভে ও জিদে খায়রুল নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্ঠা করতে থাকে।

২০০৩ সালে ব্যাংকের জমানো এসপিএস এর ২০ হাজার টাকা ভাঙ্গিয়ে মানুষের সাথে ফলের ব্যবসায় নামেন তিনি। প্রতিবন্ধি এই মানুষটি শুধুমাত্র মনের জোরেই নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে মানুষের বাগান লীজ নিয়ে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির আম আবাদ করে গত ১০/১২ বছরে কয়েক লক্ষ টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রতিবন্ধি খায়রুলের এই সাফল্যে কথা নিয়ে তার সাথে কথা হয় বোচাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর পি,এস,পি এগ্রো বাগানে। প্রায় ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ রয়েছে এই বাগানে। খায়রুল ইসলাম ৩ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন এই বাগানটি। পাশাপাশি আরোর ১০টির মত ছোট বড় আম বাগান প্রায় ২কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছেন তিনি।

এবছর আম হয়েছে ভাল তাই খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তিনি। খায়রুল নিজের বাগান নিজেই পরিচর্চা করেন। এক বাগান থেকে অন্য বাগান ঘুরি ফিরে নিজের হাতেই পরিচর্চা করতে ভালবাসেন তিনি। বাজারে যখন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ফরমালিন বা বিভিন্ন ঔষধ মিশিয়ে আম পাকিয়ে বিক্রি করছেন সে সময়ে ঠিক তার উল্টো তিনি বাগানের আম গাছে পাকানো অবস্থায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারজাত করছেন।

যাতে করে করে আম পাকানোর জন্য কোন বিষ প্রয়োগ করতে না পারেন কেউ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের আম্র‌পলি, ন্যাংড়া, সূর্যপুরি, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ সহ নানা প্রজাতির আম দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকেন। প্রতি বছরই ১০/১২টি বাগান লিজ নিয়ে তিনি নিজে সহ প্রায় ৭০টি পরিবারের মানুষ এখন সাবলম্বির পথে। এক সময়ের দরিদ্র কৃষক খায়রুল এখন কোটি পতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

ইতিমধ্যে প্রায় ১০/১২ বছরের তার অদম্য শ্রমেই তাকে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার মালিক। তবে সরকার বা ব্যাংক থেকে কোন ঋণ তিনি পান নি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

পি,এইচ,পি এগ্রো সুলতানপুর, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর বাগানের ইনচার্জ ফরেষ্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মহিদুর রহমান জয় এর সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রতিবন্ধি খায়রুল অনুপ্রানিত হয়েই ব্যাপক সাফল্য ও সুনাম অর্জনের পাশাপাশি এখন আর্থিক ভাবেই সাবলম্বি। অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও এখন প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার মালিক হওয়ার পরও আট দশ জনের মত সাধারন জীবন যাপন করেন তিনি। গাছ বাগান নিয়েই যেন থাকতে ভালবাসেন এই গাছ প্রেমিক মানুষটি।

কিভাবে গাছ পরিচর্চা করতে হবে, কিভাবে ভাল ফলন আসবে আর কিভাবে ফরমালিন বা বিষমুক্ত গাছ পাকা আম মানুষদের কাছে দিতে পারবেন এটাই তার একমাত্র কাজ। তার মতে পরিশ্রমেই মানুষের জন্য যে সাফল্য বয়ে আনে এটা তিনি বিশ্বাস করেন। এছাড়াও মনের জেদ ও ত্যাগ থেকেও মানুষ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে তার প্রমান প্রতিবন্ধি খায়রুল।

খায়রুলের এই সাফল্যে এখন অনেকেই অনুসরন করছে। পীরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সেক্রেটারী খায়রুল ফরমালিন মুক্ত গাছ পাকা আম বাজারজাত করে যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাশাপাশি একজন প্রতিবন্ধি মানুষ হয়েও যে মাত্র ১০/১২ বছরে অদম্য পরিশ্রম করে নিজেও সাবলম্বি হয়েছেন তা অনেকেরই কাছে অনুকরনিয় হয়ে থাকবে।

Read 3690 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:36

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.