x 
Empty Product
Friday, 16 August 2013 13:42

শেষ হয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর সু-স্বাদু আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

চলতি মওসুমের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর সু-স্বাদু আম। তাই আমকে কেন্দ্র করে শেষ হতে যাচ্ছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞেরও। প্রতি বছর বাংলার মধু মাস খ্যাত জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত চলে আমের এ মৌসুম।

এ সময়টা চাঙ্গা হয়ে ওঠে রাজশাহীর অর্থনীতি। গ্রামের প্রান্তিক আম চাষি থেকে বেকার যুবক কারোরই ফুরসৎ থাকে না। গতবার বর্ষার আগেই আম শেষ হলেও এবার বাম্পার ফলনের কারণে তা হয়নি।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই আড়তগুলোতে কমে আসছে আমের পসরা। আমকে ঘিরে কমে যাচ্ছে সেই নির্ঘুম ব্যস্ততা। নেই তেমন বিক্রি-বাট্টা। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে দামও।

তাই বর্তমানে আমের স্বাদ নেওয়ার সাধ্য সাধারণ মানুষের নাগালের অনেকটাই বাইরে চলে গেছে। কুরিয়ার সার্ভিস ও অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যমে রাজশাহী থেকে দেশের দূর-দূরান্তে আম পাঠানো কমে গেছে।

রাজশাহীতে এবছর আম উঠতে শুরু করেছিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই। প্রথমেই বাজারে এসেছিল গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত ও মোহনভোগ।
পর্যায়ক্রমে বাজারে আসে ল্যাংড়া, আম্রপলি, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সুরমাসহ বিভিন্ন জাতের ফজলি। এছাড়া গত দুই দিন থেকে বাজারে এগুলোর পাশাপাশি আশ্বিনা আমও উঠতে শুরু করেছে। তবে টক বলে বিক্রি কম।

এখন রাজশাহীর বাজারে ফজলি আম ৭০ থকে ৮০ টাকা, আম্রপলি (ছোট) ৬০ টাকা, আম্রপলি (বড়) ৮০ টাকা এবং ল্যাংড়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর শালবাগান আমের আড়ৎ থেকে ফরিদুর রহমান জানান, প্রায় প্রতিদিনই কেজিতে ৫/১০ টাকা করে আমের দাম বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, আমের কেনাবেচায় এবং পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ার কারণে বেড়ে যাচ্ছে আমের দামও।

তাছাড়া আমের মৌসুমও প্রায় শেষ। অল্প কিছু আম আছে রমজান উপলক্ষ করে। রমজানে ফজলি ও আম্রপলির দাম দ্বিগুণ হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত ল্যাংড়া আম যদি পাওয়া যায়, তাহলে দাম ২০০ টাকার বেশি কেজিতে গিয়ে দাঁড়াবে। ফজলি তার চেয়েও বেশি। চলতি সপ্তাহে নগরীর প্রতিটি বাজারে আমের সরবরাহ কমে আসা এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান আম ব্যবসায়ী ফরিদুর রহমান।

নগরীর সুন্দরবন, আহমেদ, এসএ পরিবহন, জননীসহ বেশ কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, আগের মত এখন আর ব্যস্ততা নেই। গ্রাহকদের আম পাঠানো একেবারেই কমে গেছে। ভরা মৌসুমের তুলনায় এখন ১০ ভাগ আমও বুকিং হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।

এদিকে, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিম উদ্দিন জানান,  এবার প্রচন্ড তাপদাহ, খরা, পোকার আক্রমণ, পুর‍ানো গাছে আম না ধরা এবং হপার পোকার সংক্রমণের কারণে আম উৎপাদনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল। এর পরেও এবার গত বছরের তুলনায় ৪১ হেক্টর বেশি জমিতে আমের আবাদ করা হয়। আর প্রতিকূলতার পরও বাম্পার ফলন হয়েছে।
যা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আম বাণিজ্য হয়েছে।

Read 3851 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:37

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.