x 
Empty Product
Saturday, 05 January 2013 18:22

আম পাকানো হচ্ছে বিষাক্ত কার্বাইড মিশিয়ে

Written by 
Rate this item
(0 votes)

রাজশাহীর পুঠিয়া-বানেশ্বর এলাকায় গড়ে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমের হাট। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতেই বিভিন্ন প্রজাতির আম পরিপক্ক না হতেই বেশী লাভের আশায় এক শ্রেণীর অসাধু আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকগণ আম পাকাতে ব্যবহার করছেন কার্বাইড নামের বিষাক্ত মেডিসিন। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমগুলো লালচে বা হলদে রং না হওয়ার কারণে কিছু ঔষধ ব্যবহার করতে হয় বলে জানান কিছু ব্যবসায়ীরা।




প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে ও কিছু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে রাতের আধারে ব্যবহার করছেন ক্ষতিকর বিষাক্ত কার্বাইডসহ বিভিন্ন প্রকার মেডিসিন।


আর মেডিসিন মিশ্রিত ফলমুল খেয়ে সাধারণ মানুষ নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিষাক্ত এই কার্বাইড নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকলে এক সময় হারিয়ে যাবে রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আমের কদর।


প্রতি বছর মধু মাসে উপজেলার বানেশ্বর বাজার, বিড়ালদহ, ধোপাপাড়া, সাহবাজপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠে আমের আড়ৎ। আড়ৎগুলোতে প্রতিবার নামমাত্র ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হলেও এ বছর এখনো ভেজাল বিরোধী অভিযানের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।


সারাদেশের সুনামকৃত বড় বড় আমের আড়ৎগুলোর মধ্যে উপজেলার বানেশ্বর আমের আড়ৎ এরমধ্যে একটি। যেখানে প্রতিদিনই হাটের জায়গা স্বল্পতার কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের উপর নিয়মিতভাবে সকাল থেকে রাত্রী পর্যন্ত বসছে বিশাল আমের বাজার।


প্রতিদিন এই আড়তে কোটি কোটি টাকার আম কেনা বেচা হচ্ছে। এ হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু এক প্রকার অসাধু ব্যাবসায়ীরা আমে বিষাক্ত কার্বাইড মিশিয়ে অপরিপক্ক আমগুলোতে রং তৈরি করছেন।


ভোক্তাদের অভিযোগ এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে রাজশাহীর আমের কদর।


আম ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা জানান, অপরিপক্ক আমের রং ভালো হয় না। যে কারণে অনেক ক্রেতারা এসব আম কিনতে চায় না। আর এ কারণেই বাধ্য হয়ে কার্বাইড, রাইপেনসহ বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যাল আমের মধ্যে মেশানো হয়। তারা আরো বলেন, শুধু বানেশ্বর বাজারেই প্রায় শতাধিক আমের আড়ৎ রয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, বানেশ্বরের এমন কোন ব্যবসায়ী নাই যারা মেডিসিন ব্যবহার করছেন না। আমের কদর পাওয়ার জন্য কোন কোন ব্যবসায়ীরা আবার নিজেকে ভাল সাজাতে মেডিসিন মুক্ত আম পাওয়া যায় বলে রীতিমত সাইন বোর্ডসহ মৌখিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করছেন।


অসাধু এসব ব্যবসায়ীরা আমে ভেজাল দেওয়ার ফলে গ্রামের সাধারণ আম চাষীরা পড়েছে চরম বিপাকে। আম চাষী মনিরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, আবু তালেব জানান, অসাধু ব্যবসায়ীদের মেডিসিন মিশ্রিত আমের রং আর আমাদের সাধারণ আমের রং এক না হওয়ায় দেখা মাত্রই ভোক্তারা বেশী দাম দিয়ে কিনতে চায় না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেসব ভোক্তারা বুঝতে পারছেন না কোনটি আসল কোনটি নকল।


এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অচিরেই আম আড়ৎগুলোতে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম,বুধবার, ০৫ জুন ২০১৩

Read 3675 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:50

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.