x 
Empty Product
Sunday, 10 January 2021 08:21

বারোমাসি আম চাষে কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুলের সাফল্য

Written by 
Rate this item
(0 votes)

অসময়ে আম খেতে পাওয়া কতনা মজাদার? তাও আবার শীত মৌসুমে, বারি-১১ ও আশিনা আমের ফলন ফলাচ্ছেন তিনি। বলছিলাম গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের কথা। 

তিনি ২০১৯ সালের জুন মাসে পার্বতীপুরের মহেশপুর গ্রামে 'বারমাসী ম্যাংগো ফার্ম' আমরুপালি আমের বাগান নিয়ে শুরু করে পরিচর্যা। নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ১৫'শ' গাছের সাইনিং শুরু করেন তিনি। 

কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর আগে থেকে আমার সখ ছিল, যখন মানুষ আগ্রহ করে আম খায়, যখন শেষ হয়ে যায়, তখন আর থাকে না ও পায়ও যায় না। কিন্তু এই যে আম থাকে না, কিন্তু আম পছন্দ করে, সারা বিশ্বব্যাপী আমের একটা চাহিদা আছে, পরিচিতিও আছে। কিন্তু শেষ হয়ে গেলেও আম খাওয়ার আনন্দটা হারায় না। 

সেগুলো ভেবে আজ থেকে পনের বছর আগে একটি জাত সংগ্রহ করেছিলাম আমি, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে এক বিঘা বাগানের প্রজেক্ট  করেছিলাম আমি, কিন্তু আম পাকার পরে তা আর খাওয়া যেত না। এই বিষয়কে মাথা রেখে আমি ২০১৮সালে আমার ভাই কমান্ডার রেজাউল করিমের পরামর্শে একটি বাগান তৈরি করি। ফলে নিজের বাগানে একটি প্রজেক্ট তৈরি করি আমি। সেই প্রজেক্টে পরীক্ষামূলকভাবে আমি আম উৎপাদনে সফলতা অর্জন করি এবং ভালো একটা মুনাফা পাই।

 
তার সুবাদে উপজেলার পার্বতীপুর ইউপি’র মহেশপুর গ্রামে ১২ বিঘা জমিতে বাড়ি-১১ জাতের আম বাগানের চাষ শুরু করেন তিনি। 

২০১৯ সালের জুন মাসে আম বাগান প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন। আমরুপালি থেকে সাইনিং করে বাড়ি-১১ আমের ফলন ফলান তিনি। বছরে বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার করে, ১২বছরে তিনি ৩০লক্ষ টাকায় জমি লিজ নিয়ে প্রজেক্টের কাজ শুরু করেন। 


পরিচর্যার বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি নিজে বই পড়ে মেধা ও কঠোর পরিশ্রম করে গাছের পরিচর্যা করে এখন গাছকে সতেজ রেখে ভালো মানের ফলন ফলিয়েছেন। অন্য কৃষকের থেকে তার পরিচর্যার বিষয়টা একটু অন্যরকম। অন্যরকম বলতে কী? 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জৈব সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেহেতু খরচ অনেক বেশি, তাই গাছের ফলন আসার পূর্ব মুহূর্তে সঠিক পরিচর্যায় কম খরচে উপযুক্ত সময়ে গাছে জৈব সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোস্ট ও কিছু পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করি। 

তিনি উপযুক্ত সময় কীটনাশক ব্যবহার করে হপার ও উইপোকার আক্রমণ কিছু পরিমাণ দেখা গেলে তা ভালোভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এক কথায়, তিনি বলেন গাছের খাদ্য সঠিক সময়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায় আর আমি সেটাই করে থাকি। 

তার বাগানে বারি-১১ আমের আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮ মাসে অর্থাৎ ১ বছর ৬ মাসে তার আনুমানিক ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, যেহেতু প্রথম বছরে তার ইচ্ছে ছিল লাভবান হওয়ার, তাই তিনি নানা প্রতিকূলতা পের করে ১৫ লক্ষ টাকা আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এখনও তিনি বাজারজাত করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। 
আম উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ি-১১ গাছে ৬১টি করে প্রতিটি আমের পরিমাণ আনুমানিক ৩৫০-৭৫০ গ্রাম করে ২০ কেজি করে হয়ে থাকে। আম খেতে মাঝারি মিষ্টি, যার মিষ্টতা অর্থাৎ টি,এস,এস প্রায় ১৮/১৯, হালকা আঁশযুক্ত খুব সুস্বাদু। 

উপজেলার সফল উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের সম্ভাবনায় আম উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়। তিনি সরকারি প্রণোদনা পেলে বেশি বড় প্রজেক্ট করে আম উৎপাদনে বাংলাদেশ তথা বিদেশে অর্থনৈতিকভাবে রপ্তানি করে দেশের মানুষের অসময়ে আমের চাহিদা পূরণ করা তার ইচ্ছা। 

কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস আগে সিরাজুল ইসলামের বাগান পরিদর্শন করেন এবং বাগান পরিচর্যার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এই উপজেলার মধ্যে অসময়ে এতো বড় বারোমাসি বাগানের আম চাষী নতুন উদ্যোক্তা সিরাজুল ইসলামের লক্ষ্যমাত্রা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

Read 522 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.