x 
Empty Product
Saturday, 19 December 2020 18:02

গৌড়মতি আমে রঙিন স্বপ্ন

Written by 
Rate this item
(0 votes)

গৌড়মতি আম চাষে আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছেন পার্বতীপুরের কৃষক বাবলু। অন্যান্য ফসল চাষের চেয়ে গৌড়মতি আম চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আমেই তিনি আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে বিশ^াস করেন। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মেড়েয়া গ্রামের কৃষক আবু রেজা প্রামাণিক বাবলু (৫৫) তরুণ বয়সে তিনি পারিবারিক অনাবাদি পতিত জমিতে আলু, পটোল, বেগুন, আদা, রসুন, মরিচ ও শাকসবজি চাষ শুরু করেন। এর মাধ্যমেই খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাংসারিক জীবনের সচ্ছলতা। কিন্তু এতে কোনো সুবিধা করতে না পারায় জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম নামে এক বিদেশি এনজিওর চাকরিতে যোগ দেন। সেখানে ১৪ বছর চাকরি করার পর প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সঙ্কট দেখা দিলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে আম ও লিচুর বাগান গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন। শুরুটা ছিল ২০০৭ সাল। পারিবারিক প্রায় ১২ একর জমির মধ্যে ৩ থেকে ৪ একর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ জমি অনাবাদি পড়ে
থাকত। ২০০৭ সালে এসব জমিতে শাকসবজির পরিবর্তে প্রথম পর্যায়ে ১৭৫টি হাঁড়িভাঙ্গা আম ও ৪০০টি আম্রপালি আমের কলম রোপণ করেন। চারা রোপণের ৩ থেকে ৪ বছরের মাথায় এসব গাছ থেকে ফলন আসতে শুরু করে। বাজারে এসব আমের চাহিদা ও মূল্য দুটোই আবু রেজা প্রামাণিক বাবলুকে আম চাষে উৎসাহিত করে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালে আম বাগানের আয়তন বাড়িয়ে সেখানে ১ হাজার ২শ উন্নতমানের গৌড়মতি আম এবং ১ হাজার ১০০ বারি-৪ জাতের আমের চারা রোপণ করেন। ২০১৮ সালে আম বাগান আরও সম্প্রসারিত করে ২০০ থাই জাতের কাটিমন গাছের চারা রোপণ করেন। এভাবে বাগানের আয়তন দাঁড়ায় ৯ একরে। তবে এ বছরই প্রথম তার বাগানের ১ হাজার ২শ গৌড়মতি জাতের আম গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০ গৌড়মতি ও ৪০০ বারি-৪ জাতের ভালো ফলন হয়। আমের এ দুটি জাতই নাবি জাতের। বাজারে সব আমের সরবরাহ যখন শেষ ঠিক তখন অর্থাৎ ভাদ্র মাসে এসব আম পাকতে শুরু করে। ফলে ভালো দামে এ দুটি জাতের আম বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। এ দুটি জাতের মধ্যে বারি-৪ জাতের আম আকারে বড় ও মাংসালো। দুই-তিনটি আমের ওজন এক কেজি হয়। মিষ্টতা কম হলেও আঁটি পাতলা। অন্যদিকে গৌড়মতি আম মিষ্টতা
ও স্বাদের দিক থেকে অসাধারণ। আম দেখতে ল্যাংড়া আমের মতো হলেও আকারে বড় ও মিষ্টতা অনেক বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর এটি বাজারে আসতে শুরু করে। বারি-৪ জাতের প্রতি কেজি আম বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি গৌড়মতি আম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গৌড়মতি আম বিক্রি করে ইতোমধ্যে ভালো অর্থ উপার্জন করায় গোটা আম বাগানটিকে গৌড়মতি আম বাগানে রূপান্তর করবেন বলে জানান আমচাষি বাবলু।
তিনি বলেন, বাগান প্রতিষ্ঠায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাদিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও বাবলু নামে তিন শ্রমিক প্রতিদিন বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। এমনিতেই গৌড়মতি আমের চাহিদা যথেষ্ট সন্তোষজনক। তা সত্তে¡ও এ বাগানের আমের চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আম উৎপাদনে কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। এ ছাড়া ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ ও জৈবসার ব্যবহার করায় এ বাগানের আমের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এ বাগানের গৌড়মতি আমের একটি বড় চালান গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পঞ্চগড়, রংপুর, বগুড়া ও খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, আবু রেজা প্রামাণিক বাবলুর গৌড়মতি আম বাগানের পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকদের কাছে পার্বতীপুরে উৎপাদিত গৌড়মতি আমের চাহিদা থাকায় আমচাষি আবু রেজা বাবলুর আম চাষ সাফল্য ও সচ্ছলতা বয়ে আনবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

নিউজটি আমাদের নিজস্ব না। এটির সকল কৃতিত্ব ও স্বত্ত শুধুমাত্র https://www.shomoyeralo.com

Read 565 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.