x 
Empty Product
Monday, 24 September 2018 06:58

পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নত জাতের আমের চাষ

Written by 
Rate this item
(0 votes)

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি উন্নতজাতের আমের সফল উত্পাদন হচ্ছে। ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল ও পাকিস্তানের উন্নত জাতের আমের চাষ করা হচ্ছে। এসব বিদেশি আমের মধ্যে রয়েছে আম্রপালী, থাইডকমাই, থাইকাঁচামিঠাই, থাইস্বর্ণালী, থাই রেইনবো, থাইবানানা, থাইপ্রিমিয়াম, রানগুওয়াই, মল্লিকা, ফনিয়া, হিমসাগর, প্রভৃতিজাতের আম। এসব আমের বৈশিষ্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন। অত্যন্ত সুস্বাদু, মিষ্টি, আঁশবিহীন, আঁটিপাতলা, চামড়া পাতলা ও ঘ্রাণ লোভনীয়। এসব ভিন দেশীয় আমের উত্পাদনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও মাটি খুবই উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন দেশি আম চাষ সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে আলাপ হয় চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামালের সঙ্গে। বিদেশি আম চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল লামায় সর্বপ্রথম বিদেশি আমের চাষ শুরু করি। অনেকটা শখের বশে ২০০৪ সালের দিকে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল লামায় সর্বপ্রথম বিদেশি আমের চাষ শুরু করি। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্পপরিসরে আমের চাষ শুরু করি। পরবর্তী পর্যায়ে ব্যাপক ভিত্তিতে আম চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বর্তমানে প্রায় একশত একর জায়গার উপর ৩২ প্রজাতির আম উত্পন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫/১৬ প্রকারের আম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

 

আমরা পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি আমের চাষ শুরু করার পর এখন অনেকেই এব্যাপারে এগিয়ে আসছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ছোট বড় অসংখ্য আমের বাগান গড়ে ওঠেছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে যেভাবে বিদেশি আমের চাষ হচ্ছে তাতে আম চাষের এক বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমানে এটি একটি শিল্পে পরিণত হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে আম উত্পাদন এবং বিপণনে প্রায় ৫০ হাজার লোক নিয়োজিত আছে। ভবিষ্যতে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি আম উত্পাদনে আমচাষিদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে আম উত্পাদনে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব, দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের অসুবিধা, বিদ্যুত্ সমস্যা, কৃষি ঋণের দুষ্প্রাপ্যতা, বাজারজাত করণের সমস্যা, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব, আম প্রক্রিয়াজাত করণের ব্যবস্থার অভাব সহ বিভিন্ন সমস্যা। আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার টন আম পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে আম চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নতজাতের বিদেশি আম উত্পাদনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান, স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুত্ ব্যবস্থা এবং আম সংরক্ষণের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের দেশ আম উত্পাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। উন্নত জাতের আমের জন্য বিদেশের উপর আর নির্ভর করতে হবে না। আম উত্পাদন একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশে আমের উত্পাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের চাহিদা মিঠিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। এজন্য  বাগানে বারোমাসী আম উত্পাদনের ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। এ ব্যাপারে থাইল্যান্ডের আম গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা নেওয়া যায়। আমাদের দেশে সম্ভবনাময় আমচাষের ব্যাপারে সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে।
Read 2023 times Last modified on Monday, 31 December 2018 08:55

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.