x 
Empty Product
Saturday, 21 July 2018 07:00

মাগুরায় নতুন জাতের আম “ইয়াসমিন” উদ্ভাবন

Written by 
Rate this item
(0 votes)

মাগুরায় জেলার শালিখা উপজেলার আতিয়ার রহমান নতুন আমের জাত ‘ইয়াসমিন’ উদ্ভাবন করে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার উদ্ভাবিত প্রতিটি আমের গড় ওজন ৩ কেজি। আশ বিহীন এ আম খেতে খুব ভালো। মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামে আতিয়ার রহমানের নিজ উদ্যোগে গড়া নার্সারীতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে দেশী ও বিদেশী জাতের বিভিন্ন ফল গাছে রয়েছে। আবার কিছু অংশে রয়েছে ফুলের চাষ।

সাম্প্রতিক কালে তিনি নিজ গবেষণায় নতুন একটি আমের জাত ‘ইয়াসমিন’ উদ্ভাবন করে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছেন। এ আমের চারা কিনতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৃক্ষপ্রেমী মানুষ এসেছে তার নার্সারিতে। এই চারাটি একাধিকবার শালিখা উপজেলা কৃষি মেলায় প্রর্দশিত হয়ে কুড়িয়েছে প্রশংসা, পেয়েছে পুরস্কার। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঊক্ত চারাটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় কৃষি মেলায় স্থান পেয়েছে। সেখানেও অর্জন করেছে প্রশংসা।
আতিয়ার রহমান জানান, তার এক ভাতিজা ব্রুনাই থাকেন। সেখানে রাজ পরিবারের বাগানে জন্মে ব্রুনাই  আম। তিনি শখ করে সেখান থেকে কিছু আম নিয়ে আসেন। তারপর তিনি কয়েকটি আম আমাকে দেন। পরবর্তীতে সেই ব্রুনাই কিং আমের আটি থেকে গাছ তৈরি করে নতুন আমের জাত উদ্ভাবন করি। তিনি আরো বলেন, মাগুরা হর্টি কালচারের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় আমি নতুন এ জাতটি নিয়ে আরো গবেষণা করি এবং পরবর্তীতে তাতে সফল হই। নতুন এ আমের জাতটি রোপনের ২ বছর পরই আম ধরে। প্রতিটি আম খুব মিষ্টি ও আশঁ মুক্ত। যার প্রতিটির গড় ওজন ৩ কেজি। এটি শ্রাবণের শেষের দিকে পাকে। 
তিনি আরো জানান, বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে এ চারাটি রোপন করতে হয়। এ আমের তিনটি বৈশিষ্ট্য; যথা- গড় ওজন ৩-৪ কেজি, শ্রাবণের শেষের দিকে পাকে এবং ফলন খুবই ভালো। আতিয়ার বলেন, ১৯৯২ সালে নিজস্ব উদ্যোগে ১০ শতক জমিতে শুরু করি নার্সারী। প্রথমে কোন পুঁজি ছিল না। ঘরের একটি ছাগল ৩০০ টাকায় বিক্রি করে শুরু করি এ নার্সারি। অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে ভালো অবস্থানে দাঁড় করিয়েছি এই নার্সারি। বর্তমানে এ নার্সারি ১০ শতক পেরিয়ে ২০০ একর জমিতে রূপান্তরিত করেছি। এখান থেকে নিজে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছি নতুন আমের জাত। যার নাম নিজের মেয়ে ‘ইয়াসমিনের’ নামে পরিচিত করিয়েছি। উদ্ভাবিত এ চারাটি ৩০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতি বছর এ চারা থেকে আমি ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা উপার্জন করছি। তিনি আরো বলেন , আমি এখন কমলা ফল নিয়ে গবেষণা করছি। নিজ নার্সারীতে অনেক কমলা গাছ আমি লাগিয়েছি।
মাগুরা হর্টিকালচার বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আতিয়ার রহমানের উদ্ভাবিত এ চারা খুবই ভালো। আমরা তাকে পরামর্শ দিচ্ছি। তার গবেষণার কাজে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে সে আরো ভালো কিছু করতে পারবে।

Read 2265 times Last modified on Monday, 31 December 2018 09:08

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.