x 
Empty Product
Wednesday, 14 February 2018 07:34

ফলন্ত আম গাছের পরিচর্যা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিমানের বিবেচনায় আমাদের দেশে আম সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। উন্নত জাতের আম চাষ এবং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে আমের উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা সম্ভব। ফলন্ত গাছের বৃদ্ধি এবং ফল ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিম্নোক্ত পরিচর্যাগুলো নিয়মিত করা প্রয়োজন।
সেচ প্রয়োগ : যেহেতু আমের শেকড় প্রণালি অত্যন্ত প্রসারিত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত তাই সাধারণভাবে বাংলাদেশে অনেক স্থানেই আমের গাছ বেঁচে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না। তবে শুষ্ক মৌসুমে আম গাছে পানি সেচের বিশেষ দরকার হয়। মাটি ও আবহাওয়ার তারতম্য অনুসারে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আম হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা হলো বর্ষা মৌসুম শেষে কমপক্ষে তিন মাস বা মুকুল হওয়ার আগ পর্যন্ত শুষ্কাবস্থা বিরাজ করা। মুকুল হওয়ার আগে বৃষ্টিপাত বা পানি সেচ উভয়ই মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় মুকুল না হয়ে সবুজ পাতায় পরিণত হয়। আমের মুকুল পূর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার পর ১৫ দিন অন্তর দু-তিন বার সেচ দিতে পারলে গুটি ঝরা বন্ধ হয়ে উৎপাদন আশানুরূপ বেড়ে যায়। আমবাগানে পানি বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে দেয়া যায়। বেসিন পদ্ধতিতে পানি দিলে গাছের চারপাশে আইল বেঁধে পানি আবদ্ধ রাখতে হবে এবং প্রতি গাছে আলাদা করে পানি দিতে হবে। আম গাছে গর্ত আকারেও পানি দেয়া যায়। যেমন আম গাছের গোড়া থেকে ১.৫- ২.০ মিটার দূরত্বে ২০ সেন্টিমিটার গভীর ও ১৫ সেন্টিমিটার প্রশস্ত চারটি গর্ত গাছের চারদিকে করতে হবে। প্রতিটি গর্ত পানি দ্বারা ভর্তি করতে হবে এবং গর্তের পানি সম্পূর্ণ শোষণের পর পুনরায় পানি ভর্তি করতে হবে।

পরগাছা দমন : আম গাছে একাধিক জাতের পরগাছা জন্মাতে দেখা যায় যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতিকারক। পরগাছায় শেকড়ের মতো একপ্রকার হস্টোরিয়া হয়, সেগুলো গাছের মধ্যে ঢুকে যায় এবং গাছের রস শোষণ করে। ফলে গাছের খাদ্যাভাব দেখা দেয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। পরগাছার প্রাদুর্ভাব বেশি হলে গাছের পাতার আকার ছোট হয়ে যায় এবং অনেক সময় গাছের কোনো কোনো ডাল সম্পূর্ণ মারা যায়। ফলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। আম গাছ থেকে সব পরগাছা উৎপাটন করতে হবে। ক্ষতিকর পরগাছা মূলত ডালের অগ্রভাগে জন্মে। গাছের যে জায়গায় পরগাছার শেকড় ঢোকে ঠিক এর ৮-১০ সেন্টিমিটার নিচে ডালটিকে কেটে দিলে আর অন্য জায়গায় পরগাছা জন্মাতে পারে না।
পোকা ও রোগ দমন : আম বা আম গাছ বিভন্ন প্রকার পোকামাকড় ও রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত হতে দেখা যায়। পোকার মধ্যে পাতা ও ফুলের শোষক পোকা, ডগার গল পোকা, ফলের ভোমরা পোকা, পাতার বিছা পোকা, পাতা কাটা উইভিল, পাতায় গল সৃষ্টিকারী পোকা, কা-ের মাজরা পোকা, মিলিবাগ ও ফলের মাছি পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। অন্যদিকে রোগের মধ্যে এনথ্রাকনোজ, পাউডারি মিলডিউ, সুটিমোল্ড, ডাইব্যাক, গ্যামোসিস ও রেডরাস্ট প্রধান। আম গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও ফল উৎপাদনের জন্য সময়মতো কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে উল্লেখিত পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিশেষে বলা প্রয়োজন যে গাছ রোপণের পর গাছের জীবনধারণ, সুষ্ঠু বর্ধন ও ফলদানের জন্য উপযুক্ত পরিচর্যা ও খাদ্যের প্রয়োজন। তাই আমরা যদি আম গাছের প্রতি যত্নবান হই এবং সঠিকভাবে পরিচর্যা করি তবে উৎপাদন বেড়ে লাভজনক ফসলে পরিণত করা সম্ভব।

 

Read 2573 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.