x 
Empty Product

কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা

User Rating:  / 0
PoorBest 

ব্রিটিশ আমলে ইংরেজরা আমাদের দেশে ঘোড়দৌড় বা রেস খেলার প্রচলন করে। খেলা দেখা ও বাজি ধরায় প্রচন্ড উত্তেজানা সৃষ্টি হত। শহরাঞ্চলেই ঘোড়দৌড় মাঠ বা রেসকোর্স ছিল। রেসের নেশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন। অনেকে এ খেলায় সর্বস্বান্ত হয়েছে। কার্যত আয়োজকরাই লাভবান হয়েছে। রাজশাহী শহরের রেসকোর্স

ব্রিটিশ আমলে ইংরেজরা আমাদের দেশে ঘোড়দৌড় বা রেস খেলার প্রচলন করে। খেলা দেখা ও বাজি ধরায় প্রচন্ড উত্তেজানা সৃষ্টি হত। শহরাঞ্চলেই ঘোড়দৌড় মাঠ বা রেসকোর্স ছিল। রেসের নেশায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন। অনেকে এ খেলায় সর্বস্বান্ত হয়েছে। কার্যত আয়োজকরাই লাভবান হয়েছে। রাজশাহী শহরের রেসকোর্স

ছিল পদ্মার পাড়ে। এখন এই রেসকোর্স ময়দান রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার এক পুরনো তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, রেসের পর এখানে টমটম বা ঘোড়াগাড়ী দৌড়ও হতো। রেস ও টমটম বন্ধ হওয়ার পর রাজশাহীর রেসকোস ময়দান দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। উদ্যান প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক আহম্মদ আব্দুর রউফ এর প্রচুর ভূমিকা ছিল। তাদের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে রাজস্ব বিভাগ হতে অনুমতি প্রাপ্ত ৩২.৭৬ একর এই  জমিতেই কেন্দ্রীয় উদ্যান স্থাপিত হয় ও ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫শ টাকার ১টি প্রকল্প তৈরী করে টেস্ট রিলিফের টাকায় লেক খনন, সাইট উন্নয়ন ও কিছু বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থাকরা হয়। মূল্যবান গাছের চারা রোপণ, ফুল গাছের কোয়ারি ও কুঞ্জ তৈরি, লেক ও পুকুর খনন, কৃত্রিম পাহাড় তৈরি অর্থাৎ সামগ্রিক কাজ শুরু হয় ১৯৭৪-৭৫ ও ১৯৭৫-৭৬ সালে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শফিউর রহমান ও নজরুল ইসলামের সময়ে কিছু দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষরোপণ ও উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালানো হয়। তখন বাগানে ২টি বানর ছিল। ১৯৭৫ সালের শেষ ভাগে আব্দুর রহিম খানের প্রচেষ্টায় পটুয়াখালির জেলা প্রশাসক আব্দুস সাত্তারের  নিকট থেকে ১ জোড়া হরিণ এনে রাখা হয়েছিল। তবে তখন চিড়িয়াখানা স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা ছিল না। হরিণ দুটির বংশ বিস্তার হয়ে ১৮টিতে দাঁড়ালে রক্ষণা-বেক্ষণের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। যার কারণে ১২টি হরিণ ঢাকা চিড়িয়াখানায় দান করা হয়। সে সময় সুষ্ঠু পরিচর্যার অভাবে বাগানের মূল্যবান বৃক্ষের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল।

প্রকৃত পক্ষে ১৬/২/১৯৮৩ তারিখে চিড়িয়াখানা আরম্ভ হয়। জেলা পরিষদের সীমিত অর্থে ও রাষ্ট্রপতির ১০ লক্ষ টাকার অনুদানে এবং পরবর্তীতে বিভাগ উন্নয়ন বোর্ড হতে প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকায় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন ব্যবস্থা নেয়া হয়। সম্ভবত ১৯৮৩ সালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুস সালাম একটি বড় ড্রামে এক জোড়া ঘড়িয়ালের বাচ্চা ছেড়ে দিয়ে চিড়িয়াখানার পত্তন করেন। ১৯৮৫ সালে জেলা প্রশাসক ও পরে বিভাগীয় কমিশনার ছৈয়দুর রহমান ও জেলা পরিষদের প্রকৌশলী (মরহুম) আবদুর রহিম এর প্রচেষ্টায় একটি পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানায় উন্নীত হয়। ১৯৮৬ সালের জুন পযর্ন্ত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা উন্নয়নে ব্যয় হয় ৩৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৪৯২ টাকা। ৩/৬/১৯৮৬ তারিখে বিএডিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান কর্ণেল (অবঃ) আনসার আলী উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে ১টি গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। তার পূর্বে  এখানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ছিলনা । ফলে উদ্যান, পশু-পাখি ও মাছ সংরক্ষণ বিঘ্নিত হতো। উন্নয়ন ও সুষ্ঠু রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য রাজশাহী সিটি কপোরেশন জেলা পরিষদের কাছ থেকে প্রকল্পটি কিনে নিয়েছে। ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী  উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান মিনুর কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করেন। ২৬ জুন ২০০৩ এর এক তথ্যানুসারে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় ২টি সিংহ, ১টি  রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ১৯৪টি চিত্রল হরিণ, ২টি মায়া হরিণ, ২৬টি বানর, ৯টি বেবুন, ৪টি গাধা, ২টি ভাল্লুক, ১টি ঘোড়া, ২টি সাদা ময়ূর, ৩টি দেশী ময়ূর, ৮৫টি তিলা ঘুঘু, ৬৮টি দেশী কবুতর, ৪টি সজারু, ২৮টি বালিহাঁস, ২টি ওয়াকপাখি, ১টি পেলিকেন, ৬টি  টিয়া, ৪টি ভুবন চিল, ৪টি বাজপাখি, ১টি হাড়গিল, ৩টি হুতুম পেঁচা, ৯টি শকুন, ২টি উদবিড়াল, ৩টি ঘড়িয়াল, ১টি অজগর আছে। দশনার্থীদের জন্য লেকে আছে প্যাডেল বোট, নাগর দোলা। প্রধান প্রবেশ পথে জিরাফের ভাস্কর্য ও মৎস্যকুমারী ফোয়ারা সৌন্দর্য  বৃদ্ধি করেছে। কৃত্রিম পাহাড়ে উঠলে চোখে পড়ে বিস্তৃত পদ্মা। যার দখিনা বাতাসে প্রাণ জুড়ায়। রাজশাহীর মানুষ ছাড়াও প্রতিদিন শিক্ষা সফরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথী ও  পযর্টকদের এখানে আগমন ঘটে। শীতকালে বন ভোজনের দল আসে প্রচুর। বনভোজন স্পটের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। সাধারণ দর্শণার্থীদের প্রবেশ মূল্যও নিধারিত। ৯/৬/২০০৬ তারিখের এক তথ্য মোতাবেক কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার জনবল ৪৭ জন। মাসিক গড় আয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found