x 
Empty Product

ল্যাংড়া

User Rating:  / 3
PoorBest 

বাংলাদেশে যে কয়টি অতি উৎকৃষ্ট জাতের আম রয়েছে এগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া আম জনপ্রিয়তার বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে। ভারতের বেনারসে এর উদ্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশে যে কয়টি অতি উৎকৃষ্ট জাতের আম রয়েছে এগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া আম জনপ্রিয়তার বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে। ভারতের বেনারসে এর উদ্ভব হয়েছে।

সেখানকার এক খোড়া ফকিরের নামে আমটির নামকরণ হয়েছে। সেই খোড়া বা ল্যাংড়া ফকিরের আস্তানা থেকে এই জাতটি প্রথম সংগৃহীত হয়েছিল, যে কারণে হয়তোবা এরূপ নামকরণ হয়েছে। সেই খোড়া ফকির যেখানে বাস করতেন তার আশেপাশে বী থেকে উৎপন্ন শত শত আমের গাছ ছিল। তারই একটি থেকে ল্যাংড়া নামের অতি উৎকৃষ্ট জাতটি বেরিয়ে এসেছে। সেই ফকিরের প্রচেষ্টায় নির্দিষ্ট বা নির্বাচিত গাছটি থেকে কলম চারা আশে পাশে ছড়িয়ে যায়। আমটি আকৃতিতে অনেকটা ডিম্বাকার গোলাকৃতি। পাকা অবস্থায় হালকা সবুজ থেকে হালকা হলুদ রাং ধারণ করে। ফলের শাঁস হলুদাভ। কাঁচা অবস্থায় আমের গন্ধ সত্যিই পাগল করা। অত্যন্ত রসাল এই ফলটির মিষ্টতার পরিমাণ গড়ে ১৯.৭%। আমটির ঠোঁট ষ্পশ্প। বোঁটা চিকন। আটি অত্যন্ত পাতলা। পোক্ত হবার পর সংগ্রহীত হলে গরে ৮-১০ দিন রাখা যাবে। ফলটির খাওয়ার উপযোগী অংশ গড়ে ৭৩.১%, গড় ওজন ৩১৪.১ গ্রাম। ল্যাংড়া মধ্য মৌসুমি জাত। আমটি বাজারে আসে। আষাঢ় মাসের শেষ অবধি অর্থ্যাৎ জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে আমদানিকৃত ভারতীয় ল্যাংড়া ( বেনারস, লখনৌ) বাংলাদেশের বড় বাজাগুলোতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রায় সব জেলাতেই ল্যাংড়া আম জন্মে থাকে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী,নওগা ও নাটোর এলাকায় ল্যাংড়া আম বেশি জন্মে। সাতক্ষীরা শহর সহ এই জেলাধীন দেবহাটা উপজেলার শ্রীপুরে জমিদারদের পুরাতন আমবাগানের ল্যাংড়া আম স্বাদে, মানে বেশ উন্নত। কিন্তু এই আমের সুনাম আশঙ্কাজনকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে বহিরাগত গুটি কয়েক অসাধু আম ব্যবসায়ীর কারনে। এরা সাতক্ষীরা, কলারোয়া, দেবহাটা এলাকাগুলোর বাগান থেকে ল্যাংড়া আম পোক্ত হবার ২০-২৫ দিনপূর্বেই গাছ থেকে পেড়ে কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে নেয়। এভাবেই এই উৎকৃষ্ট জাতের আমটিকে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে আশু জাতের আমে রূপান্তর ঘটায়। ফলে আমের আসল স্বাদগন্ধ থেকে ভোক্তারা বঞ্চিত হন। খুলনা শহরের ডাক বাংলা মোড়ে এবং ইদানীং ঢঅকা মহানগরীতেও সাতক্ষীরারর তথাকথিত এই আগাম ল্যাংড়া আম অসাধূ ব্যবসায়ীরা দেদার বিক্রি করছে। বাংলাদেশে ফজলী আমের পরেই ল্যাংড়া আমের বাণিজ্যিক সফলতার অবস্থান। জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতেও ফজলীর পাশাপাশি এর স্থান। বাংলাদেশসহ ভারতের পশ্টিম বাংলা, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চলে ল্যাংড়া আম প্রচুর পরিমাণে জন্মে। ফজলীর পাশাপাশি ল্যাংড়াও বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। এই আমের ফলন বেশ ভাল। তবে আমটি অনিয়মিত। এক বছর ভাল ফলন হলে পরের বছরে মুকুল নাও আসতে পারে। ফুল আসা থেকে আম পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার মাস সময় লাগে। মে মাস কিম্ব জুন মাসের ১ম সপ্তাহের মধ্যে এই আমটি পোক্ত হয় না। জুন মাসের ১৫ তারিখের পরথেকে ল্যাংড়া আম ক্রয় করার উপযুক্ত সময়। ল্যাংড়া অনেক রকমের রয়েছে। এগুলোর মধ্যে হাজিীপুরী ল্যাংড়াকেই সর্বোত্তম বলা হয়ে থাকে। এছাড়া রয়েছে ল্যাংগারহি, ডেভিডফোর্ড, রূহ আফজা , দারভাঙ্গা, হারিআল, আজিজ, ল্যাংড়া পাটনা, হারদৈল্যাংড়া, টিকারী, বেনারসিল্যংড়া, ল্যাংড়া ফকিরওয়ালা ইত্যাদি।

 

আরও কিছু ছবিঃ

Leave your comments

0
terms and condition.

People in this conversation

  • Guest (ডাঃ মোঃ দেওয়ান সবুর)

    আম কেন....পাতারও ছবি দেখছি। এত তথ্য স্বপ্নেও আশা করি নি।
    দোয়া রইলো আর আমার জন্য ৫মন আম এ্যডভান্স বুকিং থাকলো..হা হা হা