x 
Empty Product

'আম্রপালি' আমের চাষ

User Rating:  / 5
PoorBest 

আমাদের দেশে নানা জাতের আমের চাষ হয়। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি অসংখ্য উন্নত উচ্চ ফলনশীল বাহারি নামের আম এ দেশে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় জাত রয়েছে।

আমাদের দেশে নানা জাতের আমের চাষ হয়। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি অসংখ্য উন্নত উচ্চ ফলনশীল বাহারি নামের আম এ দেশে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় জাত রয়েছে।

এসব জাতের আম স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিতে অতুলনীয়। সে রকমই একটি আমের জাত 'আম্রপালি'। এ জাতটি ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
 আম্রপালি আমের বৈশিষ্ট্য
 নীলম্ ও দশহরি জাতের সংমিশ্রণে অন্য একটি সঙ্কর জাত সৃষ্টি করে এর নাম দেওয়া হয় 'আম্রপালি'। বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে এ দেশের জলবায়ুতে চাষের উপযোগিতা যাচাইয়ের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আম্রপালিকে 'বারি আম-৩' নামে অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশের সর্বত্রই জাতটি চাষের জন্য উপযোগী। ইতিমধ্যে আমচাষিদের মধ্যে বারি আম-৩ নিজেকে ঠাঁই করে নিয়েছে। বারি আম-৩ নামের চেয়ে আম্রপালি নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয়।
 গাছের আকৃতি মাঝারি। পাতা ডিম্বাকার, বর্শাকৃতি এবং পুষ্পমঞ্জরী দেখতে পিরামিডের মতো। ফলের আকার লম্বাটে ডিম্বাকৃতির। আমের শাঁস গাঢ় কমলা রঙের। আঁশহীন মধ্যম রসালো। আমে শাঁসের হার শতকরা ৭০ ভাগ। খোসা মধ্যম পুরু ও মসৃণ। ফলের গড় ওজন ২১০ থেকে ২২০ গ্রাম। আম পাকলে হলুদাভ সবুজ রঙ ধারণ করে। প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়। প্রতিটি গাছে ফলের সংখ্যা ১৫৫ থেকে ১৭০। পাকা আম সুগন্ধযুক্ত এবং খুবই মিষ্টি। মিষ্টতার পরিমাণ শতকরা ২৩ দশমিক ৪০ ভাগ।
 চাষাবাদ প্রযুক্তি

 মাটি : সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটিতে আম্রপালির ফলন ভালো হয়। চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করা উচিত।
 চারা রোপণের সময় : জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ় মাস এবং ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাস আম্রপালি আমের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে সারাবছরই চারা লাগানো যায়।
 চারা নির্বাচন : কমপক্ষে এক বছর বয়স্ক সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কলমের চারা নির্বাচন করা উচিত। এক বছর বয়সের কলম করা টবের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
 চারা রোপণ পদ্ধতি : বাণিজ্যিকভাবে বাগান করলে সমতল ভূমিতে বর্গাকার, আয়তাকার ও ষড়ভুজ প্রণালিতে নকশা করে চারা রোপণ করা যায়। জমির আকার-আকৃতির ওপর ভিত্তি করে সুবিধাজনক যে কোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া যেতে পারে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব পাঁচ মিটার এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব পাঁচ মিটার হওয়া বাঞ্ছনীয়।
 গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ : প্রথমে এক মিটার দৈর্ঘ্য, এক মিটার প্রস্থ ও এক মিটার গভীর করে গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তের ওপরের অংশের মাটি নিচে দিয়ে এর সঙ্গে ১৫-২০ কেজি জৈব সার, ১০০-২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪৫০-৫৫০ গ্রাম টিএসপি, ২০০-৩০০ গ্রাম এমওপি, ২০০-৩০০ গ্রাম জিপসাম, ৪০-৬০ গ্রাম দস্তা এবং চার-পাঁচ কেজি ছাই মিশিয়ে দিতে হবে। নিচের অংশের মাটি ওপরে দিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর গর্তের মাটিতে পানি দিয়ে ১৫-২০ দিন রেখে দিতে হবে। পরে মাটি কুপিয়ে ঝুরঝুরে করার পাঁচ-সাত দিন পর নির্বাচিত চারা রোপণ করতে হবে।
 চারা রোপণ : গর্ত প্রস্তুত শেষে সংগৃহীত চারার গোড়ার মাটির বলসহ গর্তের ঠিক মাঝখানে সোজাভাবে রোপণ করতে হবে। পলিব্যাগের চারা হলে অবশ্যই পলিথিন ফেলে দিয়ে চারা বসাতে হবে। রোপণের পরপানি দিয়ে গাছের গোড়া ভিজিয়ে দিতে হবে। চারাটি একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দেওয়া দরকার যাতে বাতাসে নড়াচড়া করতে না পারে। চারা রোপণের পরপরই বেড়া দিয়ে বাগান রক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
 সতর্কতা : 'আম্রপালি' আমের বাগান করতে গেলে জাতের বিশুদ্ধতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আসল 'আম্রপালি' না হলে অর্থ ও শ্রম দুটিই ভেস্তে যাবে। আঁটি বা বীজের চারায় মার্তৃগুণ বজায় থাকে না, তাই কলমের চারাই কিনতে হবে। ভাসমান ফেরিওয়ালা বা ভ্যানে বিক্রেতাদের কাছ থেকে চারা-কলম ক্রয় করা ঠিক নয়। এতে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা থাকে। যত্রতত্র গড়ে ওঠা অখ্যাত বেসরকারি নার্সারি কিংবা ফুটপাতের চারাও নির্ভরযোগ্য নয়।
 সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার, নার্সারি কিংবা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের চারা নিশ্চিন্তে সংগ্রহ করা যায়। প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্ত নামকরা বেসরকারি নার্সারির উপরও ভরসা করা যায়। তবে সরকারি কিংবা বেসরকারি যাই হোক না কেন সুপরিচিত এবং বিশ্বস্ত উৎস থেকেই 'আম্রপালি' আমের কলম (চারা) সংগ্রহ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এর অন্যথা হলে লক্ষ্য অর্জনের ঝুঁকি থেকেই যায়।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found