টিপ প্রুনিং

User Rating:  / 0
PoorBest 

আম বাংলাদেশের প্রধান চাষযোগ্য অর্থকরী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈচিত্রপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদেগন্ধে ফলটি অতুলনীয়। যার কারণে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা

আম বাংলাদেশের প্রধান চাষযোগ্য অর্থকরী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈচিত্রপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদেগন্ধে ফলটি অতুলনীয়। যার কারণে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা

ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন বিভিন্ন ফসল ও ফলের নতুনজাত উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত জাতগুলোর আশানুরূপ ফলন প্রাপ্তির জন্য বহুমুখি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ভাবিত হল আমের ফলন ও গুণগতমান বৃদ্ধির নতুন প্রযুক্তি- আমগাছের টিপ প্রুনিং। বর্তমানে বাংলাদেশে আম চাষাবাদের এলাকা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে বড় বড় বাগান পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। বাড়ির আশেপাশে কিংবা ছাদে যে আমের জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয় সেটি হল বারি আম-৩ বা আম্রপালি। জাতটি আবার কেউ কেউ চাষ করেছেন টবে এবং ড্রামে। এছাড়াও পার্বত্যজেলা যেমন রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এলাকায় বাগান আকারে ব্যাপক চাষ হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে বারি আম-৩ বা আম্রপালি জাতটি আকারে বেশ ছোট হতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাছে প্রচুর আম ধরলে আকারে ছোট হয়, গাছকে পর্যাপ্ত খাবার না দিলে আকার ছোট হয় এবং গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথেও আকার ছোট হয়। ফলে জাতটির বাজারমূল্যে দিন দিন কমছে। আম বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন কয়েক বছর আগে। বর্তমানে সমস্যাটির সমাধান এসেছে। আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজ্ঞানী মো. শরফ উদ্দিন বারি আম-৩ জাতের উপর গবেষণা কাজটি পরিচালনা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আম সংগ্রহ করার পর অর্থাত্ জুলাই মাসে আমগাছের প্রত্যেকটি ডগার শীর্ষ প্রান্ত হতে ৩০ সে.মি. বা ১ ফুট পর্যন্ত কেটে দিলে পরবর্তী বছরে ওই গাছ থেকে বেশি ফলন ও গুণগতমানসম্পন্ন আম পাওয়া যায়।

 তবে জুলাই মাসে প্রুনিং করা ভাল। ফলন বাড়ার কারণ হিসেবে দেখা গেছে, কর্তিত অংশ হতে ৩-৪টি নতুন ডগা বের হয় এবং নতুন শাখার বয়স ৫-৬ মাস হওয়ায় প্রায় প্রত্যেকটি শাখায় মুকুল আসে। বর্তমানে এই জাতটির ওজন ৬০-১৮০ গ্রাম থেকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৫ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

অন্যান্য সুবিধাসমূহ: ১. আমের আকার ও গুণগতমান বাড়বে;
 ২. পাতার লাল মরিচা রোগ এই জাতের একটি বড় সমস্যা। কোনো প্রকার ছত্রাকনাশক সেপ্র ছাড়াই প্রায় দু’বছর পর্যন্ত রোগটি সহজেই দমন করা যাবে;
 ৩. আমবাগানে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা যাবে;
 ৪. কোনো রকম কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ভাল ফলন পাওয়া যাবে;
 ৫. বর্তমানে ঘন করে গাছ রোপণ করে যারা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না সেক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি সহায়ক হবে;
 ৬. এতে আমগাছের আকার ছোট রাখা যাবে অর্থাত্ সুন্দর ক্যানোপি তৈরি করা যাবে ও
 ৭. প্রচুর পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে।

প্রয়োগের ক্ষেত্র: ১. আমগাছের বয়স ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ও প্রুনিং প্রতি ৫ বছরে একবার করতে হবে।

সতর্কতা: প্রুনিং করার পর গাছের বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। আগস্ট মাসে প্রুনিং না করাই ভাল। কারণ এক্ষেত্রে গাছে মুকুল নাও আসতে পারে। নতুন ডগা বা কুশি বের হলে ছত্রাকনাশক সেপ্র করতে হবে। আমের পাতা কাটা দেখা দিলে কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রায় সেপ্র করতে হবে। অন্যান্য জাতগুলোর বেলায় এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার না করাই ভাল।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found