বারি আমের চাষ

User Rating:  / 0
PoorBest 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ফসল ও ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ভাবিত হলো আমের নতুন চারটি উচ্চফলনশীল জাত।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ফসল ও ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ভাবিত হলো আমের নতুন চারটি উচ্চফলনশীল জাত।

এই নিয়ে বারি উদ্ভাবিত মোট জাতের সংখ্যা ০৮টি। এরমধ্যে একটি হাইব্রিড ( বারি আম-৪) ও দুইটি রংঙিন (বারি আম-২ ও বারি আম-৭). এদেশের আমচাষীদের আম চাষাবাদে আগ্রহের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট একের পর এক উচ্চফলনশীল জাত  উদ্ভাবন করে চলেছে। গত মৌসুমে ৪ টি জাত মূল্যায়নের পর জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এই নতুন চারটি জাতের মধ্যে একটি (বারি আম-৫) আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যশোর হতে এবং বাকি তিনটি (বারি আম-৬, বারি আম-৭ এবং বারি আম-৮)  আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষনা কেন্দ্র, চাঁপাই নবাবগঞ্জ হতে মুক্তায়িত হয। গত এপ্রিল মাসে জাতীয় বীজ বোর্ড বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে নতুন চারটি  জাতের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মুক্তায়নের পর অনুমোদন পাঠায়।   নতুন এই চারটি জাত প্রতি বছর ফলন দিতে সম ও উচ্চফলনশীল। নতুন জাতগুলো আমচাষীদেরকে বানিজ্যকভাবে আম চাষাবাদের জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে বিজ্ঞানীদের আশাবাদ। জাতীয় আম প্রদর্শণী ও রঙিন আম প্রদর্শণীর মাধ্যমে আমের অনেক জাত সংগ্রহ করা হয়। পরে জাতগুলোর উপর কয়েক বছর নিবিড় গবেষণা করা হয়। তারপর জাতগুলো অনুমোদনের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড পাঠানো হয়। চারটি জাতই নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে মুক্তায়িত করা হয়েছে। নিম্নে প্রত্যেকটি জাতের বৈশিষ্ট্য আলাদাভাবে দেওয়া হলোঃ

 



জাত পরিচিতি:

বারি আম-১ (মহানন্দা):

 প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়। বাংলাদেশের সবখানেই এ জাতটির চাষ করা যায়। পাকা ফলের রং আকর্ষণীয় হলদে। ফলের ওজন গড়ে প্রায় ২০০ গ্রাম।



বারি আম-২:

 প্রতি বছর ফল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন জাত। ফলের ওজন গড়ে ২৫০ গ্রাম। ফলের খোসা মধ্যম পুরু ও মসৃন। বাংলাদেশের সবখানেই এ জাতটির চাষ করা যায়।



বারি আম-৩ (আম্রপালি):

 প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়। ফলের শাঁস গাঢ় কমলা রঙের। আঁশহীন, মধ্যম রসালো, শাঁস ফলের শতকরা ৭০ ভাগ। গাছের আকৃতি মাঝারি। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ১৫৫-১৭০ টি।



বারি আম-৪ (হাইব্রিড আম):

এটি একটি উচ্চ ফলনশীল, মিষ্টি স্বাদের নাব জাত। ফজলী আম শেষ হওয়ার পর এবং আশ্বিনা আমের সাথে এ জাতের আম পাকে। এ জাতের আম কাঁচা অবস্থাতেও খেতে মিষ্টি।



বারি আম-৫ জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: আমটি লম্বা ও ছোট আকারের, প্রতিটি আমের গড় ওজন ১৯০ গ্রাম, ১০ বছরের একটি

গাছে ১৪০-১৬০ কেজি আম উৎপাদিত হয়, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আমটি সংগ্রহ করা হয়, পাকা অবস্থায় দেখতে হালকা হলুদ বর্নের ও শাঁসের রং কমলা বর্ণেও ও রসালো এবং মোট খাদ্যাংশ ৭০ ভাগ। আমের মিষ্টিমান (টি এস এস) ১৯-২০ % এবং সংগ্রহকাল ৫-৮ দিন। জাতটি স্তানীয়ভাবে প্রান্থশালা নামে পরিচিত ছিল। যশোর ও উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের জেলাগুলোতে চাষাবাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বারি আম-৬ জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: আমটি লম্বা আকারের, প্রতিটি আমের গড় ওজন ২৮০ গ্রাম, ১২ বছরের একটি গাছে ১৭০ কেজি আম উৎপাদিত হয়, জুন মাসের শেস সপ্তাহ হতে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আমটি সংগ্রহ করা হয়, পাকা অবস্থায় দেখতে হালকা হলুদ বর্নের ও শাঁসের রং হলুদ এবং মোট খাদ্যাংশ ৭২ ভাগ। আমের মিষ্টিমান (টি এস এস) ২১ % এবং সংগ্রহকাল ৫-৯ দিন। জাতটি স্তানীয়ভাবে বৌভুলানী নামে পরিচিত ছিল। বৃহত্তর পাবনা ও রাজশাহী জেলায় চাষাবাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।



বারি আম-৭ জাতটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: জাতটি দেখতে আপেলের মতো তাই এটি স্থানীয়ভাবে আপেল আম নামে পরিচিত। বিদেশে রপ্তানির কথা মাথায় রেখে আম গবেষণার সাথে জড়িত বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন যাবৎ গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে এই জাতটি উদ্ভাবনের মধ্যে দিয়ে তা সফল হলো। আমটি দেখতে গোলাকার, প্রতিটি আমের গড় ওজন ২৯০ গ্রাম, ৮ বছরের একটি গাছে ১৬০ কেজি আম উৎপাদিত হয়, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমটি সংগ্রহ করা হয়, পাকা অবস্থায় দেখতে সিদুর লাল হতে হালকা হলুদ বর্নের ও শাঁসের রং হলুদ বর্নের এবং মোট খাদ্যাংশ ৭৭ ভাগ। আমের মিষ্টিমান (টি এস এস) ১৯ % এবং সংগ্রহকাল ৯-১৩ দিন। বিদেশে রপ্তানীর জন্য যে বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবগুলোই এই আমে বিদ্যমান। বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সমুহে চাষাবাদের জন্য জাতটি  সুপারিশ করা হয়েছে। বারি আম-৮ জাতটির



বারি আম-৮

‌‌‌‌'বারি আম-৮' বিএআরআই হতে উদ্ভাবিত একটি পলিএম্ব্রায়োনিক নাবী জাত। পাহাড়ী এলাকা হতে সংগ্রহ করে নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে ২০০৯ সালে জাতটি অবমুক্ত করা হয়। এটি একটি সুস্বাদু ও উচ্চফলনশীল জাত।



গাছ মধ্যম আকৃতির, উচ্চ ফলনশীল, প্রতিবছর ফল দেয় এবং আমের বাণিজ্যিক জাত ল্যাংড়ার সাথে থাকে।



ফল লম্বাটে ডিম্বাকৃতির, আকারে মধ্যম, গড় ওজন ২৭০ গ্রাম, লম্বায় ১১.৩ সেমি ও প্রস্থে ৭.০ সেমি, পুরুত্বে ৬.০ সেমি, পাকা ফলের রং হলুদাভ সবুজ, চামড়া পাতলা ও শাষের রং কমলা বর্ণের, স্বাদ মিষ্টি (টিএসএস ২১%), শাস হালকা আশমুক্ত, চামড়া সহজেই ছাড়ানো যায়, আটির এজন ২৬ গ্রাম, খোসার ওজন ৫০ গ্রাম, ভক্ষণযোগ্য অংশ শতকরা ৭০ ভাগ এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা ভাল (৫-৯ দিন), জাতটি পলিএম্ব্রায়োনিক হওয়ায় বীজ থেকে মাতৃগুণাগুণ সম্প্ন্ন চারা উৎপাদন করা যায়।






উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এটি আমের একটি পলিএমব্রায়োনি জাত এবং আঁটির সাহায্যে মাতৃগাছের গুনাগুন সম্পন্ন চারা পাওয়া যায়। আমের আকার লম্বাটে, প্রতিটি আমের গড় ওজন ২৩০ গ্রাম, ৮ বছরের একটি গাছে ১২৯-১৬০ কেজি আম উৎপাদিত হয়, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমটি সংগ্রহ করা হয়, পাকা অবস্থায় দেখতে হালকা হলুদ বর্নের ও শাঁসের রং কমলা বর্নের এবং মোট খাদ্যাংশ ৭৩ ভাগ। আমের মিষ্টতা (টি এস এস) ২১ % এবং সংগ্রহকাল ৫-৯ দিন। বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সমুহে চাষাবাদের জন্য জাতটি  সুপারিশ করা হয়েছে। মুক্তায়িত জাতগুলোর কলম আগামী মৌসুম হতে আম চাষীদের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found