x 
Empty Product

Articles

ফ্রুট ব্যাগের সম্ভাবনা

User Rating:  / 0
PoorBest 

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ ৮ জেলার আমকে পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে জেলার আমগাছে বাণিজ্যিকভাবে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে। চীনের একটি কোম্পানি গবেষণার জন্য কিছু ব্যাগ প্রদান করে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে ১৮টি জাতের আম গাছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া যায়। পরে গবেষণা কেন্দ্রে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো সাফল্য পাওয়া যায়। সাধারণত একটি আম গাছে বিভিন্ন ধরনের যে কীটনাশক সেপ্র করা হয় তার খরচ থেকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অনে-কাংশে সাশ্রয়ী। বরং এ প্রযুক্তি ব্যব-হারের ফলে বিষমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব এবং এতে আমবাগান মালিক বা চাষিরা অধিক লাভবান হবেন। মাঠ পর্যায়ে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে গড়ে তুলতে আমবাগান মালিকরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙ্গামাটি জেলায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন বাগান মালিকরা।

 
বিশ্বের অন্যান্য আম উৎপাদনকারী দেশসমূহ এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে আম রফতানি করছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও আশা করছেন, প্রাথমিকভাবে উত্তরাঞ্চলের এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার হলেই যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্টসহ সারা বিশ্বে যাবে ‘ম্যাঙ্গো ক্যাপিটাল’ খ্যাত চাঁপাইসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আম।
 
কোনো ধরনের স্প্রে ছাড়া বিষমুক্ত আম এবং সে আমের গুণগতমান ভালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার ২০ আমচাষির বাগান থেকে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ৩ হাজার ৩৪ কেজি আম নিয়ে গেছে। ল্যাবে পরীক্ষার পর বিষমুক্ত নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম দফায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ১৬০ কেজি আম যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছে।

ওয়ালমার্ট সাতক্ষীরার চাষিদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য দিয়ে আম কিনেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশের বাইরে আমের ভালো বাজার তৈরি হলে গাছে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়ে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে চাষিরা পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আম গাছে থাকা অবস্থায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন।

উত্তরাঞ্চলের আমচাষি এবং কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সফল হলে বিশ্ববাজারে উত্তরাঞ্চলের আমের বড় বাজার তৈরি হবে। দেশের আমের চাহিদা বিদেশে তৈরি হলে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের পদ্ধতি বেড়ে যাবে। চাষিরাও চাইবে আন্তর্জাতিক বাজার ধরার জন্য এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে।

ব্যাগিং প্রযুক্তির প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
 নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের একমাত্র উপায়
 বালাইনাশকের ব্যবহার ছাড়াই শতভাগ রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণমুক্ত আম পাওয়া সম্ভব
 যে কোন জাতের আমকে রঙিন করা যায় এবং আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো যায় যেটি রপ্তানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন (সংরক্ষণকাল জাতভেদে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত)
 বালাইনাশকের ব্যবহার কমবে ৭০-৮০ ভাগ

ভালোমানের নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য আমচাষীরা এই প্রযুক্তিটি নিঃসন্দেহে ব্যবহার করতে পারেন। সঠিক সময়ে ও নিয়মকানুন মেনে ব্যাগিং করলে সবচেয়ে কম খরচে দাগমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করা যাবে। আম রপ্তানির ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আম রপ্তানির ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দেশীয় স্বার্থকেই প্রধান্য দিতে হবে তবেই দেশের সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে। এই প্রযুক্তিটির ব্যবহার মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হলে খুব সহজেই নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে


 

 

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found