x 
Empty Product

Articles

ফ্রুট ব্যাগ কি?

User Rating:  / 0
PoorBest 

ফ্রুট ব্যাগ এক ধরনের কাগজের ব্যাগ। বিশেষ এই ধরনেরব্যা্গ দিয়ে ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এই ব্যাগ ব্যবহার করলে আম সংরক্ষণ করতে ফরমালিন নামের বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও ফলকে বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা করে। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা গেলে কোন স্প্রে ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে আম ফলকে রক্ষা করা সম্ভব।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরণের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে ব্যাগটি। আমের জন্য দুই ধরণের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। রঙিন আমের জন্য সাদা ব্যাগ আর অন্যান্য জাতের জন্য বাদামি রং এর ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। সুতরাং নির্দিষ্ট জাতের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

আমের কাঙ্খিত ফলন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ফলে বালাইনাশকের ব্যবহার উদ্রেকজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্প্রে করার প্রকৃত কারণ, ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকার কারণে আমচাষীরা এক মৌসুমে বহুবার স্প্রে করে থাকেন যা কোনভাবেই কাঙ্খিত নয়। আমচাষীরা আম সংগ্রহ করার পর থেকে পরের মৌসুমে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত ১৫-৬২ বার বালাইনাশকের ব্যবহার করে থাকেন। একইভাবে অন্যান্য ফল ফসলে বালাইনাশকের ব্যবহার বহুগুনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণার ফলাফল হতে দেখা গেছে, আমের উৎপাদনের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ২-৫ বার spray করলেই ভাল আম সংগ্রহ করা সম্ভব। মাত্রাতিরিক্ত স্প্রে যেমন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি ফসলের উৎপাদনকেও ব্যয়বহুল করে তোলে। শুধু তাই নয় অতিরিক্ত স্প্রে করার ফলে উপকারী ও বন্ধু পোকার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে আমের কাঙ্খিত পরাগায়ন বিঘ্নিত হচ্ছে।

আম উৎপাদনে বালাইনাশক স্প্রে করা হয় দেখাদেখি করে। প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক সেটি মুখ্য বিষয় নয়। অতীতেও ফল-ফসলে স্প্রে করা হতো কিন্তু বর্তমানে এর পরিমান অনেকগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জনজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, প্রতিনিয়ত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে জানা-অজানা জটিল রোগে। এই অবস্থায় বিভিন্ন ফল উৎপাদনে ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে বালাইনাশকের ব্যবহার অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে। গবেষণায় দেখা গেছে ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। আমকে সংরক্ষণ করতে প্রয়োজন হয় না ফরমালিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিকের। এছাড়াও আমকে বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যালোক এবং রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। আমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে আমের ফলছিদ্রকারী ও মাছি পোকা। এই পোকা দুইটি আমের বর্ধনশীল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। যদি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা হয় তাহলে কোন স্প্রে ছাড়াই এই ক্ষতিকর পোকা দুইটির হাত থেকে আম ফলকে রক্ষা করা সম্ভব। ব্যাগিং প্রযুক্তিতে উৎপাদিত হবে বিষমুক্ত আম, কমবে আমের উৎপাদন খরচ, কমবে পরিবেশ দুষনের মাত্রা এবং বাড়বে আমের গুনগত মান।

 

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found