x 
Empty Product
Wednesday, 05 June 2013 18:43

মধুর চেয়েও মিষ্টি : ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে পাহাড়ের রাংগোয়াই আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

তিন পার্বত্য জেলায় স্বাদে সুস্বাদু মিষ্টিয় আম হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে পাহাড়ের রাংগোয়াই আম। পাহাড়ীদের বেশিরভাগ গ্রামের ঘরবাড়ীর আশ পার্শ্বে দুই চারটা রাংগোয়াই আম গাছ দেখা যায়। অতিরিক্ত গাছে ফলন হওয়াতে ওজনের কারনে গাছের ডাল ঢুলে পড়েছে। সেই জন্য মালিকরা বাশঁ বা কাঠের খুটি দিয়ে আম গাছ গুলো আটকিয়ে রাখছে । চাষীদের বক্তব্য দেশীয় আমের মত কাঁচা আম সহজে কেউ খায় না। এই আম মুকুল থেকে পাকা পর্যন্ত কাঁচা অবস্থায় খুবই টক। ফলে সহসা ছেলে-মেয়েরা পেরে খাচ্ছে না।


 
 আবার মালিকরা কাচাঁ অবস্থায় আমগুলো পেরে ঝুড়িতে রেখে দেয়। এ আম পাকলে খুবই মিষ্টি এবং সুস্বাদু বটেই। জানা যায়, আশি দশকের দিকে প্রতিবেশী দেশ, মায়ানমার(বার্মা) থেকে সুস্বাদু স্বাদ বুঝে আমের বীজ গুলো সংগ্রহ করে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকার আদিবাসীরা। প্রথম দিকে বান্দরবান জেলার থানছি, রুমা, মধুক, রেমাগ্রী নাইক্যছড়ির ঘুমধুম এলাকায় এবং কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এলাকায়। ক্রমেই এ আম উৎপাদিত হয়ে রাজস্থলীতে ব্যাপক আকাঁরে বর্তমান চাষাবাদ হচ্ছে। এ আমের দুটি নাম পরিচিতি রয়েছে যেমন, মারমা ভাষায় রাংগোয়াই আম এবং বাংলা ভাষায় বার্মিজ আম নামে পরিচিত । বাঙ্গালীরা মনে করছে পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার(বার্মা) থেকে এ আম বাংলাদেশে আসছে, এ জন্য দেশের নাম ধরে বার্মিজ আম বলে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের গবেষণা মতে এ প্রজাতির আম চার ধরণে জাত পাওয়া গেছে।  আগাম, শাঁস আশঁযুক্ত, মাংসের লালচে হলুদ ও নাবি জাত। এ চারটি জাতের মধ্যে সবচেয়ে স্বাদে জনপ্রিয় বাড়ছে মাংসে লালচে হলুদ জাতটি।
 
 বর্তমানে এ আম অনেকটা বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করছে।একজন কৃষক এ আম গাছের নার্সারী করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষক এ প্রতিনিধি কে বলেন, প্রতিবছর প্রায় বিশ হাজার রাংগোয়াই আমের চারা বিক্রি হচ্ছে। দামও ভাল, প্রতিটি চারা বর্তমানে ৩০-৪০.টাকা বাজারের বিক্রি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে প্রায় ষাট ল টাকার উর্ধ্বে। তিনি মনে করেন, বিগত ৮-১০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন মৌজায় বাগান করেছে প্রায় নয়শত হেক্টর। ম্রংওয়া পাড়া এলাকার কৃষক চিংপ্রুমং মারমা বলেন, খাবার সুস্বাদু ও বাজার জাত হওয়াতে পাঁচ একর জায়গায় বাগান করেছি। এ বছর মুকুল ধরে ছিল বেশি করে কিন্তু ফলন হয়েছে অপ্রতুল। তাইতং পাড়া নামক এলাকার কৃষক মিতিমং মারমার এক একর বাগানে প্রতিটি গাছে ঝুলছে এ আম।
 
  কমবেশি এখন রাজস্থলীতে প্রতিটি গ্রামের ঘরবাড়ীর আশে পার্শ্বে রাংগোয়াই আম এর দেখা মিলছে। কিছু বাগানের আম পাকা শুরু করছে। কিন্তু বিক্রেতারা বলেন, আমের দাম এখন অনেকটা কমিয়ে আসার কারনে প্রতি কেজি ৩০-৪০টাকার বেশি পায় না।আমের দাম কমিয়ে আসার কারন জানতে চাইলে কৃষকরা বলেন, এলাকার চাহিদা অনুসারে ব্যাপক আকারে চাষাবাদ হচ্ছে।  রাংগোয়াই আম ব্যবসায়ী মোঃ লোকমান বলেন, রাজস্থলী উপজেলায় প্রচুর রাংগোয়াই আমের চাষ হচ্ছে। যে পরিমান পুজিঁ আছে তা নিয়ে ৪-৫টি বেশি আম বাগান কেনা সম্ভব পর হচ্ছে না। প্রতি বাগান কমপে ৩০-৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়।
 
 ফলে চট্টগ্রাম থেকে ব্যাবসায়িরা আম বাগান কিনতে আসলে বাগান মালিকরা আরো লাভবান হতে পারে।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, এ আম বাস্তবে খেতে খুবই সুস্বাদু। কিন্তু চাষাবাদ হচ্ছে এলাকায় প্রচুর। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে এ ব্যাপারে সঠিক কোন তথ্যা নেই। তবে এক হাজার হেক্টর বেশি জায়গায় চাষাবাদ হতে পারে। গাছের আকার কিন্তু ছোট ফলন ধরে খুব বেশি, কম জায়গায় অনেক গাছের চারা লাগানো যায়। স্থানীয় কৃষকরা অন্যন্যা ফষলাধী চাষের চেয়ে ও এ আম চাষের উৎসাহ বাড়াছে। চাষের কিন্তু বানিজ্যিক ভাবে প্রসার হয়নি। বাজারজাত করণে সুবিধা হলে চাষীরা ভাল লাভবান হতে পারতো। তাই রাজস্থলী উপজেলায় এখন আনাচে কানাচে পরিত্যাক্ত জায়গাগুলোতে রাংগোয়াই আমের চাষের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছে চাষীরা।
 


বার্তা লাইভ ২৪ ডটকম,১৮মে ২০১৩

Read 959 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:49

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.