x 
Empty Product
Wednesday, 05 June 2013 18:38

৯০ টন আম জব্দ ২ জন আটক ২ বছর করে কারাদণ্ড

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আচার তৈরির জন্য খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন মেশানোর কারণে ৯০ টন আম জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে ৮৮৭টি প্লাস্টিক ড্রাম ভর্তি এ আম জব্দ করা হয়। যার মূল্যমান প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ সময় প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের নাটোর কারখানার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ মুরাদ হোসেন ও কাজিপুর গ্রামের আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে দুই বছর করে কারাদণ্ড, এক লাখ ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আচার তৈরির লক্ষ্যে আম সরবরাহ করতে প্রাণ অ্যাগ্রো  লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার সাজ্জাদ হোসেনের সাথে দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে চুক্তিবদ্ধ হন ঢাকা গাবতলীর মামা গ্রুপের খলিলুর রহমান। আম সংরক্ষণের সময় কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর (কিউসি) ও প্রোডাকশন স্টোর এফসিএম সংরক্ষণ পদ্ধতি ও মান নিয়ন্ত্রণমূলক পরামর্শ প্রদান করবেন। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ২০০ মেট্রিক টন আম দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে কোম্পানি গ্রহণ করবে।

অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে খলিলুর রহমান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কাজিপুরকে বেছে নেন। জায়গা ভাড়া, আম কেটে টুকরো করাসহ ড্রামজাত করতে ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ মাস্টারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। সে লক্ষ্যে সাতক্ষীরা, পঞ্চগড়, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আম কিনে এনে টুকরা করে আবদুল মজিদের বাড়ির বাইরে প্লাস্টিক ড্রামে ভর্তি করা হয়। সংরক্ষণ করতে তাতে কেমিক্যাল মেশায় দ্বিতীয় পক্ষ। আর তা দেখভাল করেন প্রথম পক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। কেমিক্যালের সাথে মেশানো হয় মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম সোমবার সন্ধ্যায় আমগুলো প্রাথমিক পরীক্ষা করে ফরমালিনের সন্ধান খুঁজে পান। গতকাল দুপুরে তিনি র‌্যাব, পুলিশ, বিএসটিআই কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মাহামুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আটক প্রাণ কোম্পানির জুনিয়র এক্সিকিউটিভ মুরাদ হোসেন জানান, আমে তারা কোনো কেমিক্যাল মেশাননি। আব্দুল মজিদ জানেন কী কী মেশানো হয়েছে। আমের সাথে কী পরিমাণে এবং কী কী রাসায়নিক মেশানো হবে তা কোম্পানি বলে দিয়েছে। এর সাথে ফরমালিন মেশানোর কথা নয়।

আব্দুল মজিদ জানান, প্রাণ কোম্পানির একজন অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে আমের সাথে কেমিক্যাল মিশিয়েছেন। তিনি কিছুই জানেন না।

 

 

http://www.dailynayadiganta.com/৫ জুন, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ

Read 891 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:49

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.