x 
Empty Product
Wednesday, 05 June 2013 18:34

গাংনীতে দেড় কোটি টাকার ফরমালিন মেশানো আম জব্দ: প্রাণ কোম্পানীর প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দু’জন আটক

Written by 
Rate this item
(0 votes)

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের মাঠপাড়ায় অবৈধভাবে আম সংরক্ষণ ও ফরমালিন মেশানোর দায়ে প্রাণ আরএফএল নাটোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দু’জনের জেল ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সেই সাথে জব্দকৃত ৯০ টন ( ৯ হাজার কেজি) আম নষ্ট করার আদেশ দেয়া হয়। যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম এই রায় ঘোষনা করেন। গাংনী

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম জানান, গাংনীর কাজীপুর গ্রামের মাঠপাড়ায় আব্দুল মজিদ মাষ্টার তার নিজ বাড়িতে একটি মিনি কারখানা গড়ে তুলে সেখানে আমে বিষাক্ত ফরমালিন মেশানো হচ্ছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে অভিযান চালানো হয়। গাংনী স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ও পুলিশ নিয়ে ওই সংরক্ষিত আম পরীক্ষা করে তাতে ৩৫% বিষাক্ত ফরমালিন পাওয়া গেলে ৯০ টন আম জব্দ করে কাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের কাছে রেখে উচ্চতর পরীক্ষণের জন্য বিএসটিআই খুলনাকে জানানো হয়। ২৮ মে মঙ্গলবার বিএসটিআই এর উর্ধ্বতন পরীক্ষক মাসুম বিল্লাহ ও মাঠ কর্মকর্তা মাজহারুল আম পরীক্ষা করে বিপদজনক মাত্রায় ফরমালিন দেখতে পান। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ মাষ্টার ও প্রাণ আরএফএল কোম্পানী নাটোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুরাদ হোসেনকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ১লাখ ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে মেহেরপুর কারাগারে পাঠায় । মোট ৮’শ৮৭টি ড্রামে মোট ৯০ মেট্রিক টন আম সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সংরক্ষিত আম ছাড়াও গুদাম ঘরে বিষাক্ত ফরমালিন ও ভিনেগার পাওয়া গেছে যা মারাত্মক ক্ষতিকর। খুলনা বিএসটি আই এর উর্ধ্বতন পরীক্ষক মাসুম বিল্লাহ জানান, এমনিতেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তার পরে সাধারণ পানি মিশিয়ে বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। আম পরীক্ষা করে ১৮০ পিপিএম ফরমালিন পাওয়া গেছে। যা ০ (শুন্য) টলারেন্সের উপরে গেলে ক্ষতিকর।তিনি আরো জানান, আমে যে পরিমান ফরমালিন পাওয়া গেছে যা খেলে মানুষ এই মূহুর্তে মারা যাবে। ফরমালিন মেশানো কোন কিছু খেলে মানুষের জীবন হানি ছাড়াও ফুঁসফুসে ও কিডনিতে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। অভিযুক্ত কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ দাবী করেছেন, তিনি গত ৫ মে ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা গাবতলী সেন্ট্রাল মার্কেটের মামা গ্রুপ থেকে ২০০ টন সংরক্ষিত আম সরবরাহ করার জন্য চুক্তি করেন ও সে অনুযায়ি আম কেটে সংরক্ষণ করেছেন মাত্র। যার সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন আরএফএল কোম্পানী নাটোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন। তবে প্রাণের কর্মকর্তা মুরাদ এই ঘটনা অস্বীকার করে বলেন যে তারা শুধু আম কিনে প্রসেজ করেছে। ফরমালিন মেশায়নি। জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হোনের, গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এমরান আহমেদসহ পুলিশের কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

গাংনী নিউজ কতৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

Read 610 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:49

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.