x 
Empty Product
Wednesday, 05 June 2013 18:18

দামুড়হুদার অধিকাংশ আম বাগানেই মৌসুমী ফল আমে স্প্রে করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসয়ন

Written by 
Rate this item
(0 votes)

দামুড়হুদা উপজেলার সর্বত্রই এখন আম, কাঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন প্রকারের মরসুমী ফলের সমারোহ। ফলের পূর্ণ বয়স হতে না হতেই বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর রাসয়নিক কেমিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে আমসহ বাহারী রঙের এসব মরসুমী ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছে বেশকিছু অসাধু ফল ব্যবসায়ী। আর এসব বাহারি রঙের মরসুমী ফলের প্রতি সবচেযে বেশী আকৃষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। দাম একটু চড়া হলেও শিশুদের বায়না মেটাতে অনেক সচেতন অভিভাবকও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব রাসয়নিক কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল কিনতে বাধ্য

হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি আম বাগান থেকে শুরু করে হাট বাজার গুলোতেও একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব কেমিকেল মিশ্রিত ফল প্রকাশ্যে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন রয়েছে নিরব। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে একাধিক বার পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও বন্ধতো হয়ইনি বরং এর প্রবনতা বেড়েছে কয়েকগুণ । জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব অপদ্রব্য প্রয়োগ বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
     সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলা সদর, শিল্পনগরী দর্শনা, কার্পাসডাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজার এবং বাসস্ট্যা- এলাকার দোকান গুলোতে ক্ষতিকর রাসয়নিক ক্যামিক্যাল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে আম ও লিচুর বাহারী রং করে এসব মরসুমী ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছে অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা। সে সকল দোকানে শোভা পাচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো ও রং করা বিষাক্ত সব ফল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী জানান, আগে ভাগে ফল বাজার জাত করতে পারলে মূল্য বেশি পাওয়া যায়। তাছাড়া ফলের রং আকর্ষনীয় না হলে ক্রেতারা নিতে চাইনা। তাই গাছ থেকে পেড়ে বাগানেই ফলে হরমন জাতীয় রাসয়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া মৌসুমি ফলকে দ্রুত পাকানো ও আকর্ষনীয় রং করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইথরিন (গ্রোথহরমন) ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড। এছাড়াও কৃত্রিম উপায়ে দীর্যদিন ফল সতেজ রাখার জন্য ফরমালিন, হরমনসহ ভিটামিন প্যানোফেক্স ও ওকোজিন ব্যবহার করা হয়। ঢাকা বাদামতলীর আম ব্যবসায়ী মেসার্স মেঘনা ফার্মের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, কারবাইড, ফরমালিন বা রাসয়নিক কেমিক্যাল মিশ্রিত আম ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশনা থাকায় চলতি মরসুমে সকল আম ব্যবসায়ীকেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারপরও কেউ কেউ গোপনে চুরি করে বাগানেই স্প্রে করছে। ফলে অপদ্রব্য প্রয়োগ রোধে গত বছর প্রশাসনিক ভাবে বেশ কিছু স্থানে মোবাইল অভিযান পরিচালিত হলেও চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তেমন কোন অভিযান শুরু করা হয়নি।
      এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, মরসুমী ফল আম, কাঠাল. লিচুসহ বাজারের অধিকাংশ ফলেই এখন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন ধরনের কেমিকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের দেহে দির্ঘ মেয়াদি প্রভাব পড়ে আর তা একদিন ক্যান্সারে পরিনত হয়। এ সমস্ত ফল কেনা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসমস্ত তরল রাসয়সিক ক্যামিকেল স্প্রে বন্ধ করতে উপজেলার প্রতিটি আম বাগানেই অভিযান পরিচালনা করবেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট এলাকার সচেতন মহলের এমনটাই প্রত্যাশা ।

 

বখতিয়ার হোসেন বকুল
 উদয়নিউজ২৪.কম, ২৪ মে ২০১৩

Read 902 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:51

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.