x 
Empty Product
Friday, 23 August 2013 22:49

মামলা-জরিমানার পরও আগোরার প্রতারণা থেমে নেই

Written by 
Rate this item
(0 votes)

দেশের অন্যতম চেইনশপ আগোরারবিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করার পরও ক্রেতাদের সাথে তাদের  প্রতারণা থেমে নেই।
বিভিন্ন অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কনজ্যুমার অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই ) ভ্রাম্যমাণ আদালত আগোরাকে জরিমানা করলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ঘুম ভাঙছে না।



বিএসটিআইর ভাম্যমাণ আদালত থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বিগত এক বছরে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে চেইনশপ আগোরা। খাদ্যে ফরমালিন, বিএসটিআইর অনুমোদনহীন ভেজালপণ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি করার অভিযোগে মামলা মোকাবেলা করাসহ এ জরিমানা গুণতে হয়েছে আগোরাকে।

বিএসটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আইডিয়াল ফুড প্রডাক্টসের নামে বিএসটিআইর অনুমোদনহীন ৭৭ ধরনের খাদ্যের সন্ধান পাওয়া যায়, এগুলোর বেশিরভাগেরই বিক্রেতা আগোরা। এই অপরাধে বড় মগবাজার এলাকায় আগোরাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসটিআই।

এছাড়া হাইকো কনজ্যুমারের বিএসটিআইর অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া যায়। জানা গেছে, হাইকো কনজ্যুমার রাজধানীর বাঁশেরপুল পারাডগায় অস্বাস্থ্যকর দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে প্রায় ৭০ ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করতো। বিএসটিআইএর চোখে ধুলি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মনকাড়া মোড়কে মসলা জাতীয় খাদ্য বাজারজাত করে আসছিল। অথচ এসবের সবই ভেজাল।

হাইকো কনজ্যুমার খাদ্য বিক্রির অপরাধে আগোরার ধানমন্ডি শাখাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসটিআই। এছাড়া চট্টগ্রামে আগোরার শাখায় চেরি ফলে ফরমালিন দেওয়ার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মামলা করে বিএসটিআই।

বিজিবি স্কয়ারে আমে ফরমালিন দেওয়ার দায়ে ৪০০ কেজি বিষাক্ত আম ধ্বংস করা হয়।

একের পর এক জরিমানাদেবার পরও আগোরার ক্রেতা প্রতারণা থেমে নেই। আগোরা প্রচলিত বাজারদর উপেক্ষা করে বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করছে।

জরিমানা-মামলা ও বার বার সতর্ক করার করার পরও ঘুম ভাঙছে না। আগোরার ক্রেতা ঠকানো যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার দাঁড়িয়েছে।

প্রচলিত বাজারদরও মানছে না চেইনশপটি। নিত্যপণ্যে বিশেষ করে মাছ, মাংস, ডিম ও সবজি প্রচলিত বাজারের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গরুর মাংস ২৭৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এই মাংসের বিভিন্ন ক্যাটাগরি দেখিয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে আগোরা।

যেমন প্রিমিয়াম মাটন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৯০ টাকা, বিফ টপ সাইড ৫২০, বিফ সিলভার সাইড ৫২০, বিফ বোন ৪৫০ টাকায়।

এমনকি প্রতিকেজি হাড়সহ গরুর মাংস আগোরাতে ৩১০ টাকা। হাড় ছাড়া বিক্রি হচ্ছে ৪৮৫ টাকা প্রতিকেজিতে।

ফলে দেখা যায় বিভিন্ন প্রকারভেদের দোহাই দিয়ে সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া ২৭০ টাকার বদলে প্রায় দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে আগোরা।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা থেকে ২৬৫ টাকায়। আগোরা ব্রয়লার মুরাগির বিভিন্ন ক্যাটাগরি দেখিয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আগোরায় বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দরে। ফলে প্রতিকেজি মরিচে ক্রেতার কাছ থেকে ৩০ টাকা করে পকেট কাটছে আগোরা। করলা কাঁচাবাজারে ৫০ টাকা, আর আগোরায় ৬৫ টাকা।

কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি বেগুনের দাম ৫০ টাকা হলেও আগোরায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা। ফলে এক কেজি বেগুন কিনলে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এক ডজন লাল ডিমের দাম ১১৪ টাকা। অপরদিকে আগোরায় এক ডজন লাল ডিমের দাম  ১৪০ টাকা। ফলে ক্রেতার কাছ থেকে প্রতি ডজন ডিমে ২৬ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।

আগোরায় প্রতিকেজি চিতলমাছ বিক্রি হচ্ছে ৬৭০ টাকা,বোয়াল ৫৪০,মাঝারি কাতলা ৪৫০। সবচেয়ে বেশি তারতম্য দেখা যায় রুই মাছের ক্ষেত্রে। বড় সাইজের কেজিপ্রতি রুই আগোরায় বিক্রি হচ্ছে ১১৮০ টাকা, অপরদিকে রাজধানীর অন্যান্য বাজার বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা দরে।

প্রচলিত বাজারের আগোরায় দামের পার্থক্যর বিষয়ে আগোরার ধানমণ্ডি শাখার সহকারী আউটলেট-ইন-চার্জ নিলুফা ইয়াসমিন শিলা বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা প্রচলিত বাজারদরের সঙ্গে তালমিলিয়ে নিত্যপণ্য বিক্রি করছি।”

তিনি সব পণ্যেই বাজারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের কোনো চেইনশপে ১১৮০ টাকা কেজি দরে রুই মাছ বিক্রি হয় না।”

এই বিষয়ে ক্যাবের মার্কেটিং অফিসার মোফাজ্জল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত আগোরাকে জরিমানা করে যাচ্ছি, তবু তারা ঠিক হচ্ছে না।”

“আগোরার এমন কোনো শাখা নেই যেখানে আমরা জরিমানা করিনি,  আমাদের অ্যাকশন প্রতিনিয়ত চলছে আছে আগোরারা বিরুদ্ধে। কিন্তু তবুও আগোরা সোজা পথে চলছে না।”

তিনি আরো বলেন, “দোষ সবচেয়ে বেশি আমাদের নিজেদেরই। আরো সচেতন হলে সবচেয়ে ভালো হয়।”

 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম,09 Oct 2012

Read 906 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:54

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.