x 
Empty Product
Friday, 05 July 2013 22:43

শহর জুড়ে বিক্রি হচ্ছে কেমিক্যাল মিশ্রিত আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

শহরের বিভিন্ন দোকান ও আড়তে মৌসুমী রসালো ফল আম বিক্রি ধুম পড়েছে । কিন্তু এসব আম তরতাজা, দীর্ঘদিন রেখে বিক্রি ও পচন থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত ফরমালিন । সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভেজাল বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় এক শ্রেণীর অসাধু বিক্রেতা আমের সাথে ফরমালিন সহ বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে বিক্রি করছে । রাজশাহী, বান্দরবান ও মিয়ানমার থেকে আনা আমের মজুদ র্দীঘদিন সতেজ রাখার জন্য তারা এ অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে ক্রেতারা বুঝতে পারছে না ফরমালিন মুক্ত আমের স্বাদ । এ রকম

শহরে ৪টি আড়ৎ সহ প্রায় ২৫টি সংশ্লিষ্ট দোকানের পিছনে চলছে এ কেমিক্যাল মিশ্রিত আম বিক্রির রমরমা বাণিজ্য । যা খেলে মানব দেহের জন্য হুমকি স্বরূপ বলে জানান চিকিৎসকরা ।
 অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরে ৪টি আড়ৎ সহ ২৫টির অধিক ফলের দোকানে বিক্রি হচ্ছে ফরমালিন মিশ্রিত ফল । এ আড়ৎ গুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব লালদীঘি পাড়ে আল্লাহর দান ষ্টোর, লালদীঘির দক্ষিণ পাশে বিহারী হোমিও চিকিৎসালয়ের পাশে রাজশাহী আমের আড়ৎ, কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে মোবারক হোসেন ফুডস ও লিটন ফুডস সহ ৩টি দোকানের পিছনে রয়েছে আমের আড়ৎ, হাসপাতাল সড়কের পাশে ১টি আড়ৎ। এছাড়া রয়েছে শহরের বন বিভাগের সামনে ৬টি দোকান,  লালদীঘির পাড় হোটেল বলাকায় পাশে ৩টি, বিরাম হোটেলের পাশে ১টি, বাজার ঘাটা প্রধান সড়ক
 হোটেল সী-স্টারের নিচে ৪টি, কে.ডি.এম মার্কেটিং সহ ২টি, আলীর জাহানে ২টি, বাস টার্মিনালে ৫টি, কলাতলী ৩টি ও বাহারছড়া ২টি সহ প্রায় অর্ধশত আড়ৎ ও দোকানে কেমিক্যাল মিশ্রিত আম বিক্রি হচ্ছে।
 জানা যায়, এসব আম রাজশাহী, বান্দরবন ও মিয়ানমার থেকে সংগ্রহ করে কক্সবাজার বিক্রি করা হয়। ট্রাক করে প্লাষ্টিকে কাঁচা ভর্তি করে আম কক্সবাজারে নিয়ে আসে। তবে  আড়ৎ মালিক ও দোকানদারদের দাবি তারা কোন ফরমালিন দেয়না। যেখান থেকে আনা হয় সেখানে ফরমালিন দিলে তা তাদের অজানা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঘষ্ঠিত দোকানদার জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে আম সংগ্রহ করে তারা বিভিন্ন আড়ৎ ও দোকানের পিছনে মজুদ করে রাখে। সেখানে পলিথিন মোড়িয়ে, প্লাষ্টিকের কাঁচায় কাগজ মোড়িয়ে এক ধরনের ফরমালিন মিশ্রিত পানি মিশিয়ে রাখে। যা দীর্ঘ দিন পঁচন রোধ করে ধীরে ধীরে কাঁচা আমগুলো পাকানোর রং ধরে।
 সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এসব দোকানের পিছনে মিনি আড়ৎ করে আম মজুদ করে রাখা হয়েছে। মজুদকৃত আমে ব্যবহার করার জন্য একাধিক বোতলের মধ্যে পানি মিশ্রিত কেমিক্যাল রাখা হয়েছে। যা ক্রেতাদের চোখের বাইরে। শহরের লালদীঘির পূর্বে পাড়ে আল্লাহর দান ষ্টোরের কর্মকর্তা শহিদ্ল্লুাহ জানান, এসব আম বান্দরবান থেকে বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। বান্দরবানের আমে কোন প্রকার ফরমালিন নেই। তিনি বলেন, রাজশাহীর আমে ফরমালিন মেশানো থাকে।
 উখিয়ার আমির হামজা নামে এক খুচরা আম বিক্রেতা জানান, প্রাকৃতিক গাছের টাটকা ফল আম ২০/২৫ দিন আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন বাজারে যেসব আম পাওয়া যায় এগুলো ফরমালিন মিশ্রিত। কারণ গাছের টাটকা ফল কমপক্ষে ৪/৫ দিন রাখা যায়। এর পরে পঁচে যায়। কিন্তু বর্তমানে বাজারের মাসের পর মাস থাকলেও এসব আমে পচন ধরে না, সৌন্দর্য্যও নষ্ট হয় না।
 বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এসব বিষাক্ত ফল খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে ক্যান্সার, শরীরের হাড়ের জোড়া ফাঁকা হয়ে যাওয়া, যৌন শক্তি কমে যাওয়া, ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি, শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টিসহ মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়। মানুষ এসব গ্রহণ করে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এতে জনস্বাস্থ্য দারুন হুমকির মুখে পড়েছে।

 

The Daily Dainandin, Cox's Bazar, Fri, 22 Mar 2013

Read 961 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:53

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.