x 
Empty Product
Friday, 22 February 2019 19:26

মুকুল আসছে, তবে আগা শুকিয়ে ডাল মরে যাওয়ার ঝুঁকিতে আম গাছ। কি করবেন?

Written by 
Rate this item
(0 votes)

মুকুল আসতে শুরু করেছে। এসময় ঠান্ডা-গরম আবহাওয়ায় ডাইব্যাক রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের আমের গাছ। সময় মতো প্রতিরোধ করা না গেলে এই রোগের আক্রমণে আগা শুকিয়ে ডাল মরে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হক এবং বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, কপার স্বল্পতার কারণে এমন রোগ দেখা দিতে পারে। প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম সালফার দলীয় অথবা ম্যানকোজেব দলীয় ছত্রাকনাশক ৭ দিনের ব্যবধানে ২বার আম গাছে স্প্রে করলে গাছ রক্ষা করা যাবে। রোগে আক্রান্ত গাছে কপার হাইড্রোক্সাইড দলীয় ওষুধ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে স্প্রে করলে গাছ সুস্থ থাকবে এবং আমের ফলন বাড়বে। এছাড়া এসময় ক্লোরপাইরিফস ও ইমিডাক্লোরপ্রিড দলীয় কীটনাশকের মিশ্রণে তৈরী (ডাবল) কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে স্প্রে করা দরকার। এতে বাকল, ডালে ও গাছের অন্যান্য অংশে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর মা পোকার বংশবিস্তার বন্ধ ও গাছের মুকুল নিরাপদ থাকবে। ফল ধরার আগে গাছের ডাল যে পর্যন্ত ছড়ানো আছে তার গোড়া থেকে দু’ভাগ দূরে বা বাহির থেকে ১ ভাগ ভিতরে ১০ইঞ্চি চওড়া এবং ৩-৪ ইঞ্চি গভীর নালা করতে হবে। এ নালায় প্রতি দু’হাত বা ১মিটার পরিমান অংশে এনপিকেএস (১২-১৫-২০-৬ গ্রেডের) নির্ভরযোগ্য উৎসের মিশ্র সার ১ কেজি হারে দেয়া ভাল। এর সঙ্গে কার্বোফুরান-৫ জি অথবা ডায়াজিনন-১০ জি গাছের আকার ভেদে ৫০-১৫০ গ্রাম দানাদার কীটনাশক মেশাতে হবে। এ মিশ্রণ দেয়া শেষে অবশ্যই নালায় সার ও কীটনাশক মিশ্রিত মাটি ভালভাবে ভেজাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি অন্য অংশে দেয়া যাবেনা। এ ব্যবস্থাপনায় গাছে বেশি ফল ধরবে, বোঁটা শক্ত হবে এবং পোকা থেকে ফল নিরাপদ থাকবে। আমের মুকুল বের হয়ে ফুল ফোটার আগে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে ইমিডাক্লোরপ্রিড ও সালফার দলীয় ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম এবং লিটোসেন(হরমোন এবং অনুখাদ্য সমৃদ্ধ) ২ মিলিলিটার হারে একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করা হলে ফল বেশি ধরবে এবং নিরাপদ থাকবে। গুটি হওয়ার পর পানি স্প্রে করলে পাতার ময়লা ও ধুলাবালু পরিস্কার হয়ে আমের ফলন বাড়ে। এ বিষয়ে আরও জানার জন্য স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তার।

Read 99 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.