x 
Empty Product
৬০ প্রকার আমসহ ১৫২ জাতের ফল
 

রাজধানীর ফার্মগেটে আ কা মু গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়াম চত্বরে চলছে ফল মেলা। তিন দিনব্যাপী এ মেলার পর্দা নামবে রোববার।  শনিবার দ্বিতীয় দিনে মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। ফরমালিনমুক্ত ফলের সমাহার ঘটায় অনেকেই ছুটছেন মেলায়। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে ৬০ প্রকার আমসহ ১৫২ প্রজাতির ফল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায় জাগো নিউজকে বলেন, দেশে বর্তমানে ২০০ প্রকার আমের চাষা হচ্ছে। এর মধ্যে মেলায় ৬০ প্রকার আম প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। প্রায় ১৫০ প্রকার আমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ফল উৎপাদনে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে।

 

মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতারা আমের প্রকারভেদ দেখে হতবাক হচ্ছেন। এত জাতের আম থাকতে পারে তারা ভাবতেই পারেননি। সাধারণ মানুষের পরিচিত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, চোষা, হাড়িভাঙা ছাড়াও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বৌভোলানী, বোম্বাই, লখ্যা, রাণী পছন্দ, ঝিনুক, মিশ্রিদানা, ফালুয়া, চীনা বোম্বাই, দুধ চোষা, শাহ পছন্দ, আশ্বিনা, বাতাসা, রাংগুয়াই, তোতাপুরি, মল্লিকা, খিরসাপাত, বারি-৪, গৌড়মতি, কাজলী, তক্তা ফজলি, ভিয়েতনামি, বারি-৬, স্থানীয় বোম্বাই, ব্রুনাইকিং, বারি-৭, গাজী ভোগ, ব্যানানা, লালপুরগুটি, সূর্য পুরইসহ ৬০ প্রকার আম।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় অঞ্চলভেদে বিভিন্ন ফলের পৃথক স্টল রয়েছে৷ উত্তরাঞ্চলের ফল, ভাওয়াল ও মধুপুর গড় অঞ্চলের ফল, উপকূলীয় অঞ্চলের ফল, পাহাড়ি অঞ্চলের ফল ইত্যাদি ভাগে ফলের পসরা সাজানো হয়েছে স্টলগুলোতে। মেলায় মোট স্টলের সংখ্যা ৭৫টি।

 

সরকারি স্টলের মধ্যে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, কৃষি বিপণন অধিদফতর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশন।

মেলায় স্টল নিয়েছে প্রাণ গ্রুপ। এ স্টলে বিভিন্ন ফলের তৈরি জুসসহ ফ্রুট-এর তৈরি নানা পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে এ স্টলে কোনো পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। এটা শুধু প্রদর্শনী ও প্রচারের জন্য।

স্টলের কর্মচারী মো. হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ক্রেতারা আসছেন কোম্পানির পণ্য দেখতে। কোথায় এসব পণ্য পাওয়া যায় এবং  কোম্পানির পণ্য সম্পর্কে নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন ক্রেতারা।

 

এছাড়া আম উৎপাদক ও বিপণনকারী বেসরকারি সংস্থার ৪৯টি স্টল বসেছে প্রদর্শনীতে।

মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাসহ রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল ক্রয় করছেন। অনেকে ফল চাষের কৌশলও জেনে নিচ্ছেন।

 
 

আমকে ফলের রাজা বলা হয়। সেই রাজাদের আছে রকমভেদ। নানা জাতের আম হয় এই দেশে। অনেকেই আছেন অল্প কয়েকটি জাতের আম চেনেন। কিছু কিছু জাত আছে দুঃস্প্রাপ্য। ফলের এই রাজার ৯০ রকমের জাতের দেখা মেললো ফল মেলায়। মেলাটি চলছে রাজধানীর খামারবাড়ির আ. ক. ম. গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়াম। ১৬ জুন শুক্রবার শুরু হওয়া এই মেলার শেষ দিন আজ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই ফল মেলায় প্রদর্শন করা হয়েছে দেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত প্রায় ১৩০ ধরনের ফল। একইসাথে মেলায় আগতরা চিনতে পেরেছেন বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্তপ্রায় ফলের গাছ সম্পর্কে।

মেলায় আগত দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রেবিন্দু ছিল আফ্রিকান ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘ব্রুনাই কিং’ নামের এক প্রজাতির আম। লম্বা গড়নের এ আম ওজনে প্রায় পাচ কেজি পর্যন্ত হয়। আম প্রদর্শনীর দায়িত্বে থাকা ঢাকা রিজিওনের মাস্টার ট্রেইনার হর্টিকালচারিস্ট জহিরুল হক ঢাকাটাইমসকে জানান, ব্রুনাই কিং আফ্রিকা অঞ্চলের ফল হলেও তা বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে চাষযোগ্য। বর্তমানে বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারে এ আম পরিক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। তবে কেউ এ গাছের চারা কিনতে চাইলে তা বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টার থেকে কিনতে পারবে।

 

এছাড়া উন্নত প্রজাতির আম পলিমার, বারি ৪ ও ৭, ব্যানান, কিউ জাই, মলদাহ, সৌদি রঙিন ইত্যাদিও কেড়েছে দর্শনার্থীদের নজর। বিদেশি ও উন্নত প্রজাতির আমের সাথে সাথে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দেশি প্রচলিত প্রজাতির আম।

এছাড়া মেলায় ছিল ফরমালিনমুক্ত আমের বিক্রয়কেন্দ্র। এসব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে দর্শনার্থীরা সংগ্রহ করতে পারবেন পছন্দনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির আম।

মিরপুর ১৪ থেকে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ফল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই কম। ফল মেলায় দেশের প্রায় সকল ধরনের ফল রয়েছে। ফলে এখান থেকে ফল সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। তাই তিনি সন্তানদের নিয়ে এই মেলায় এসেছি। এখান থেকে ফরমালিনমুক্ত আম কিনলাম।

 

দর্শনার্থীদের পছন্দের প্রজাতির আম ও আম গাছে নিয়ে তথ্য দেয়ার জন্য মেলায় রয়েছে তথ্য সেবা কেন্দ্র। যেখান থেকে জানা যাচ্ছে কোন আম প্রজাতির আম কোন জায়গা থেকে এসেছে, কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে। এসব তথ্য।

জহিরুল হক বলেন, এই ফল মেলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ধরনের ফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, ফল সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করা। একই সাথে মানুষকে ফলদ বৃক্ষ রোপনে উৎসাহিত করা।

 

আম ছাড়াও ফল মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে, রক মেলন, ড্রাগন ফল, জারা লেবু, ডে-ফল, চাপালিচা কাঠাল, আশফল, পাম ফল, টক আতা, তৈকর সহ অপ্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ফল।

বসন্ত পার হয়ে গ্রীষ্ম এলেই আমের জন্য মনকেমন শুরু হয়ে যায়। কাউন্টডাউন শুরু হয় ঝড়ে ঝরে পড়া কাঁচা আমের বাজারে আগমন থেকে। গরম বাড়লে আম পাকে, আর বাজার রঙিন ও সুগন্ধী হয়ে ওঠে আমের পসরায়। তবে আমবাঙালির আমচেতনা হিমসাগর আর ল্যাংড়াতেই মূলত সীমাবদ্ধ। গোলাপখাস, ফজলি বা দশেরি-চৌসা কমবেশি পাওয়া গেলেও বাকি আমের প্রজাতি সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা নেই বললেই চলে। তাই আম নিয়ে জ্ঞানগম্যি বাড়াতে চলে আসুন মিলনমেলার মাঠে। ১৫ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সেখানে চলছে বাংলার আমের মেলা।

মিলনমেলার পরিচিতি এখন বেড়েছে বইমেলার সূত্রে। ময়দানের ধুলো ছেড়ে এই কংক্রিট-শাসিত মাঠে কলকাতা পুস্তক মেলা আসার পর মানুষজনের যাতায়াত বেড়েছে। তারই একটি ২ নং প্যাভিলিয়েন তিন দিন ধরে যেন খোলা রয়েছে আমের অভিধান, আমের এ টু জেড প্রদর্শনী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর এবং ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় অতিথি বিভিন্ন জেলার আম। অতিথি বলাই শ্রেয়, যে হেতু এ সব আম কলকাতার বাজারে জ্যান্ত শিঙি মাছ বা বিচেকলার মতোই বিরল।

প্যাভিলিয়নের ভিতর চোখ বন্ধ করে পা রাখতে পারেন। নানা আমের মিশেলে তৈরি হওয়া এক স্বর্গীয় সৌরভে স্নায়ু অবশ হয়ে আসবে, মনে হবে আপনার হৃদয়বনে আম্রপালির নৃত্য এই বুঝি আরম্ভ হল! একের পর এক স্টলে নানা আকারের, নানা রঙের, নানা গন্ধের আম। না, দেখে স্বাদটা বোঝার উপায় নেই অবশ্য।

আমের এই বঙ্গীয় সমাবেশে মালদা ও মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধিরা সভামঞ্চের মূল বক্তার মতো নেতৃস্থানীয়। এই দুই জেলার আমের পসরা দেখার মতো। আপনি কি জানেন, এক ধরনের আম রয়েছে, যার নাম চম্পা? একটা আমের নাম রানি? প্রথম আমটি পছন্দ ছিল নবাবের, দ্বিতীয় আমটি বেগমদের প্রিয়। চম্পার দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা, রানির তার অর্ধেক। রানি ভবানীর স্নেহধন্য আম ভবানীর দাম ৬০ টাকা কেজি। কালোপাহাড়, চিনিচম্পা, দিলপসন্দ — যে কোনও একটা আম নিয়ে নাকের কাছে ধরুন, দেখবেন আলাদা আলাদা গন্ধে সে আপনাকে ডাকছে। এই তিন ধরনের আমের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা। দাউদিবাগের আমের নাম দাউদি, ৮০ টাকা কেজি।

ফরাক্কা থেকে এসেছেন সুলেমান শেখ। নিজের বাগানে সন্তানের মতো আম লালন-পালন করেন। তাঁর একমুখ হাসি। জানালেন, ভালোই সাড়া পেয়েছেন। সব চেয়ে বড় কথা, নিজের গাছের আম এ ভাবে বড়ো জায়গায় হাজির করতে পেরে তিনি বেশি খুশি। সুলেমানের কাঞ্চনভোগ, অমৃতভোগ, পেরা নাকি অমৃতসমান, এমনই দাবি মুর্শিদাবাদের এই আমচাষির।

ধনেখালি বললে যেমন তাঁত, কৃষ্ণনগর বললে যেমন সরপুরিয়া, তেমনই মালদা নামের সঙ্গে যেন আমের প্রাণের যোগ। পৃথিবী জুড়ে যেখানকার আম বিখ্যাত, সেখানকার মানুষেরা শুধু খোসা ছাড়িয়ে, আঁটি চুষে আম খাওয়ায় বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখবেন কেন। মালদার ধানতলার মলি দাস এসেছেন গোপালভোগ আর হিমসাগরের আমসত্ত্ব নিয়ে। গোপালভোগের আমসত্ত্বের দাম চড়া, ২০০ গ্রামের দাম ২৫০ টাকা। আমসি ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা। রয়েছে আমপান্না, আমের আচারও।

অন্যান্য জেলা মালদা-মুর্শিদাবাদকে ওয়াকওভার দিয়ে বসে আছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। হুগলির বলাগড় থেকে এসেছেন সুব্রত কর্মকার, অসীম মালিক। হুগলি ভেজিটেবল গ্রোয়ারস প্রোডিউসার কোম্পানি-র এই দুই সদস্য একটা অদ্ভুত আম হাতে তুলে দিলেন। নাম তার সুবর্ণরেখা। এর বৈশিষ্ট্য, বোঁটা প্যাঁচানো। খুব কম ফলে, দাম ১০০ টাকা কেজি। রাজভোগ বলে আর একটা আমের সুন্দর গন্ধ, দাম একই। বাঁকুড়ার সুব্রত মণ্ডল এনেছেন মল্লিকা। না, ফুল নয়, আমই বটে। শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ে বলে এর আঁশ বেশি, কিন্তু মিষ্টি এমন যে চিনিকেও নাকি লজ্জা দেবে! ১০০ টাকা দিলে এক কেজি পাবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে এসেছে কিষাণভোগ। বিশাল আকার, ভগবান কৃষ্ণের ভোগ্য। সরিখাস নামের এক ধরনের আম নাকি মিল্কশেকের জন্য উপযোগী। দামের দৌড়ে সবাইকে হারিয়ে দেবে নদিয়ার গঙ্গাযমুনা। চমক দেবে তার বৈশিষ্ট্যে। শান্তিপুর থেকে আসা গৌতম ভৌমিক জানান, এই আমের তিন রকমের রং। নদিয়ায় মাত্র দুটি-তিনটি গাছ আছে। তাই দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা।

গরম এলেই মিষ্টির দোকানে আমের জন্য আদরের আসন পাতা হয়। মেলায় তাই হাজির মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক ও কেকের ব্যবসায়ীরাও। নলিনচন্দ্র দাসের সম্ভারে এ বারের আকর্ষণ দই, কুলফি, ছানার পায়েস, জলভরা, মালাই রোল। রিষড়ার ফেলু মোদকের চমক আমের গুজিয়া। মাংসের সঙ্গে আমের মিশেল হলে কেমন লাগে, তার নমুনা হাজির করেছে মিয়ো আমোরে। পদের নাম আম আচারি চিকেন। অনেকে চেটেপুটে খাচ্ছেন দেখে মনে হল, স্বাদে খাসা। ৪০ টাকার দেদার বিকোচ্ছে ম্যাঙ্গো মুস।

আয়োজন বেশ বড়ো হলেও সেই নিরিখে দর্শকের আগমন কম। ডানলপের দীপক হালদারের বক্তব্য, সে ভাবে প্রচারই হয় না। তাই অনেকে আসতে পারেন না। তা ছাড়া স্টলের সংখ্যাও বেশ কম। আর একটু বেশি হলে ভালো হত। সিঁথির আলপনা দাস আম কিনবেন বলে ব্যাগ নিয়ে এসেছেন। বললেন, আমের আইসক্রিম ও দই খেয়েছি। বেশ লেগেছে। একই রকম আম খেয়ে অভ্যেস, দেখি অন্য আমে স্বাদ বদল হয় কিনা। তিনিই বলেছেন, বন্ধুরা, ম্যাঙ্গো লিন খেয়ে আসতে পারেন, কাঁচা আম, পাকা আম আর আমের জেলি দিয়ে তৈরি!

বরিশালে দুদিন ব্যাপী দখিনা আমের মেলা শুরু হয়েছে শনিবার।

 

নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ইউএসএআইডি ও সিডিসিএস-এর উদ্যোগে দুদিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। 

এ মেলায় বিভিন্ন জাতের আম ও আমের চারার প্রদর্শনী, কৃষি আড্ডা ছাড়াও ছাড়কৃত মূল্যে আম বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মেলা উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রাতযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১৫ জন আম বাগানের মালিক মেলায় অংশ গ্রঞন করেন।

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাবি জাতের বারি আম ৪ এর বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে। চারা রোপনের দেড় বছরের মাথায় আম তুলতে পেরে খুশি এ অঞ্চলের চাষীরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের উদ্ভবিত দেশের প্রথম সংকর জাতের বারি আম ৪। দেশি নাবি জাত আশ্বিনার সাথে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফ্রোরিডা থেকে সংগৃহতি রঙ্গিন আমের সংমিশ্রনে উদ্ভবিত হয় বারি ৪ আম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট ১৯৯৩সালে উদ্ভবন করে বারি আম ৪। ২০০৩সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চাষ শুরু হয়।

বর্তমানে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে চাষীরা বারি ৪ আমে চাষ শুরু করেছে। একই জমিতে আম চাষের পাশা-পাশি সাথী ফসল হিসাবে বিভিন্ন ধরনের রবি শষ্য ও শাক-সবজি উৎপাদন করছে চাষীরা। আর সেক্ষেত্রে একই জমিতে আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করে ব্যাপক লাভবান হ”েছন।

আম চাষী সরদার অহিদুজ্জামান বলেন, নগরকান্দা কৃষি অফিসারের পরামর্শে দেড় বছর আগে দুই বিঘা জমিতে নাবি জাতের বারি-৪, বারি-৮, ব্যানানা জাতের আমের বাগান শুরু করি। একই সাথে আম বাগানে সাথী ফসল হিসাবে ধান, গম, তিল চাষ করছি। ফলে একই জমিতে আমসহ বিভিন্ন ধরনে ফসল উৎপাদন করতে পরছি। এতে লাভও হ”েছ প্রচুর।  আমের চারা রোপনের দেড় বছরের মাথায় আম গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আসা করছি আম বিক্রি করেও ভাল টাকা আয় করতে পারব। কারন বাজার থেকে যখন সব আম শেষ হয়ে যাবে, তখন আমার আম পাকবে। তখন আমের চাহিদা ও থাকবে দামও ভাল পাব।  তিনি আরও জানান, এলাকার অনেকেই আমার বাগান দেখে মুগ্ধ হয়ে তারাও নতুন নতুন বাগান করছে। আগামীতে আমি আরও বড় আমের বাগান করব।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত কৃষিবিদ আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, দ্বিতীয় শষ্য বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় আমরা বারী ৪, বারী ৮, ব্যানানা ও গোরমতি নাবি জাতের আম বাগান করতে চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি। আর সে কারনে নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় বছরের মধ্যে প্রায় ৩০টি আমের বাগান ¯’াপিত হয়েছে। এছাড়াও বসত বাড়িতে বিক্ষিপ্ত ভাবে প্রায় ২ হাজার ৫শত চারা রোপন করা হয়েছে। চারা রোপনের দেড় বছরের মাথায় চাষীরা আম তুলতে পেরে ভীষন খুশি। বারি আম ৪ এর মুকুল আসে ফাল্গুন মাসে। আর আম পাকে শ্রাবন মাসে। প্রতিটি ফলের ওজন ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাঁচা অব¯’ায় হালকা সবুজ আর পাকলে হলুদ। রসাল আঁশ বিহীন আমটি উ”চ ফলন শীল। কাঁচা কালে কাঁচা মিঠা আমের মত খাওয়াযায়। শুধু বারি আম ৪ নয়, এই অঞ্চলের চাষীরা এখন বারি ৮, ব্যানানা, গোরমতি আমের বাগানও করছে। অন্য চাষীদের সাফল্য দেখে অনেকেই চলতি বছর নতুন আমের বাগান করছে। এই ভাবে আম চাষ অব্যহত থাকলে আগামী দুই-তিন বছর পর নগরকান্দা উপজেলার উৎপাদিত আম দিয়েই ফরিদপুর জেলার আমের চাহিদা অনেকটা পুরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

রাজশাহীতে জমে উঠেছে আমের বেচাকেনা। ব্যাপক চাহিদা থাকায় রমজানে ফরমালিনমুক্ত আম কিনছেন সবাই। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স বলছে, জেলায় আমকে ঘিরে এই মৌসুমে প্রায় ৫শ' কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

বছর ঘুরে চিরচেনা রূপ নিয়ে ফিরেছে রাজশাহী। হাটে মাঠে পাড়ার অলিগলিতে, পথে প্রান্তরে, বাগানে বাগানে শুধুই আম। কাঁচা পাকা আমে সড়ক ও মোহনাগুলো ছেয়ে গেছে। বড় বড় ঝুড়ি বোঝাই করে আম আসছে প্রতিটি বাগান থেকে। এখানকার বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আমের মৌ মৌ গন্ধ।

মহানগরীর সাহেব বাজার, শালবাগান মোড়, শিরোইল বাস টার্মিনাল, বিন্দুর মোড়, বাঘা চারঘাটসহ প্রতিটি উপজেলায় জমে উঠেছে আমের ব্যবসা। হাট বাজারে আঁটি, গোপালভোগ ও মোহনভোগ জাতের আম বিদায় নিতে শুরু করায়, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, লখনা, রানিপ্রসাদ আমের  বেচাকেনা চলছে।

বাগান মালিকেরা জানায়,  'বাজারটা বর্তমানে ভালো। আম বেঁচে খুব শান্তিতে আছি। আমের বর্তমানে যে মূল্যে আছে তাতে কোনো কৃষকের ক্ষতি হবে না।

আর বাজারে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আম কিনতে পেরে সন্তুষ্ট ক্রেতারা।

ক্রেতারা বলেন, ‘অরিজিনাল আম কিনতে এ বাজারে চলে আসি। সাধারণ মানুষেরা এ বাজার থেকে আম কিনতে পেরে উপকৃত হচ্ছে।’

জেলার ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আমকে ঘিরে এই মৌসুমে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘রাজশাহীর আমগুলো অনেক উন্নতমানের। এখানে অনেক রকমের আম পাওয়া যায়। এই আম দিয়ে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি।’

ব্যবসায়ীরা জানান, আর দিন দশেক পর বাজারগুলোতে উঠবে ফজলি ও আম্রপালি এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে পাওয়া যাবে পরিপক্ব আশ্বিনা জাতের আম। জেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমির বাগানে ২ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় বগ এ মৌসুমে ওজন ও মন প্রতি কমিশন সহ বিভিন্ন জটিলতায় দেরীতে আম কেনাবেচা শুরু হলেও বিভিন্ন সমস্যায় হতাশায় জর্জড়িত আম ব্যবসায়ীরা। সরজমিনে গিয়ে আম ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জের আমের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় একদিকে আমের উৎপাদন কম, অন্যদিকে দেরীতে আম কেনাবেচার শুরু হওয়াল বড় বড় ব্যাপারীরা এখনো কানসাট মুখী না হওয়ায় আমের বাজার জমজমাট হচ্ছে না। শুক্রবার সকালে কানসাট বাজারে ঘুরার সময় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।, দুই একটা ভ্যান ও সাইকেল আম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কানসাটের মূল বাজারে দেখা গেল, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাইকেলে, ভ্যানে করে আম নিয়ে হুসেন আলি জানান নিজ বাগানের বোমবাই ও ল্যাংড়াজাতের আম নিয়ে এসেছি। কিন্তু বড় ব্যাপারী না থাকায় কেউ আম নিচেছ না।যে কয়জন আছে তারা আশানুরূপ দাম বলছে না। বেশি ব্যাপরী নামলে আমের দাম ভালো পাওয়া যায়।
মাসুদ রানা নামে একজন আম চাষী ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আম বিক্রী করলেন ২হাজার ৩শ ৫০ টাকা মন ধরে। তিনি জানালেন ফ্রুট ব্যাগ করেছিলেন ৫০ হাজার আমে, নানাবিদ কারনে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না, তাই কানসাটে নিয়ে এসেছি।
কানসাট বাজারে আম কেনা আম ঢাকায় পাঠান শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার কানসোটে আমের দর বেশী হওয়ায় ঢাকায় আম পাঠিয়ে লাভ হচ্ছে না। তবে আম ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের ক্ষতি হচ্ছে, আপনি বলছেন দাম চড়া এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন এবার ঝড় ও শিলার কারনে শিবগঞ্জে আমের উৎপাদন কম হওয়ায় আম ব্যবসায়ী(ব্যবসায়ীদের) লক্ষ্যমাত্র ঘাটতি হওয়ায় গত বারের চেয়ে দাম কিছু বেশী হলে তারা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখীন।
অন্যদিকে যখন আম পাঠানোর চিন্তা করছি, তখন দেখছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য এলাকার আম কিছুটা কম দামে ও বেশি ওজনে কিনে ব্যাপারিরা ঢাকা পাঠাচ্ছে, তখন ঢাকার আড়তে বেশি দামে আমাদের আম নিতে চায় না।
কানসাট আম বাজর ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের খিরসাপাত (হিম সাগর ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২হাজার ৫শ-২ হাজার৬শ টাকায়, মাঝারি মানের ২হাজার-২হাজা ২শ টাকা ও ছোট সাইজের ১হাজার ৪শ -১হাজার ৬শ টাকা।
অন্যদিকে ভালো মানের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২হাজার টাকায়, মাঝারি মানের ১হাজার ৫শ টাকায়, ছোট সাইজের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে ১হাজার ২শ হতে১হাজার ৩শ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮শতথেকে ১ হাজার ২শ টাকার মধ্যে। সব আমই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ কেজিতে মণ হিসাবে। সেই সাথে আরো ১ কেজি আম দিতে হচ্ছে আড়তদারকে।
এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আম পাঠানোর প্রতিবছরের ন্যায় কানসাট বাজারে গড়ে উঠা প্রায় আড়াইশ আমের আড়তের এখনো অর্ধেকমত চালু হয়নি।
কানসাটে একটি বড় আমের আড়ত মেসার্স শফিকুল ট্রেডার্সর মা মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে জানান, এবছর আমের আমদানি কম, এবছর ঝড় ও শীলার কারনে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই ব্যবসার পরিস্থিতি খুব ভালো না।
তিনি জানান, অন্যান্য বছর এই সময় তার আড়ত থেকে প্রতিদিন ৫-৬ ট্রাক আম পাঠাতে পারলেও এবার অনেক ব্যাপারী এখনো না আসায় গড়ে ২ ট্রাক আম নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান তার আড়তে কাজ করার জন্য ৬০ জন শ্রমিকের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০জনকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। ঈদের পর বড় বড় ব্যাপারীরা কানসাট মুখী হলে ব্যবসা ভাল হবে।
তবে ঝড় ও শিলায় আমের ক্ষতি হলেও সব মিলিয়ে গড় উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে মনে করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। তিনি জানান, জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মে.টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার মে.টন। তবে তিনি ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্বীকার করেন।

ইফতারির খাবারের তলিকায় রাখুন আম
 

এখন চলছে পাকা আমের মৌসুম। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাস। এই রমজান মাসে ইফতারির সময় খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন এই পাকা আম। এই ফল কেবল স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও ভরপুর। আপনি যদি চান তাহলে এই পাকা আম আপনি খেতে পারেন জুস বানিয়েও। এছাড়াও চোখের নানা রোগ, চুল পড়া, খসখসে চামড়া, হজমের সমস্যা ইত্যাদি দূর করে পাকা আম। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে পবিত্র রমজান মাসের ইফতারিতে কেন রাখবেন পাকা সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হল-

১। পুষ্টিগুণ-

পাকা আমে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘বি-১’ ও ‘বি-২’। সঙ্গে আছে ফাইবার, যা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে রক্তের লাইপোপ্রোটিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আমে আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’।

২। হজমশক্তি-

আমে রয়েছে টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এসিড, যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া রয়েছে প্রয়োজনীয় এনজাইম, যা শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙে হজমশক্তি বাড়ায়।

৩। রোগ প্রতিরোধ-

আমে থাকা আয়রন অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করে। এর ক্যালসিয়াম হাড় সুগঠিত করার পাশাপাশি দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখে। আমের ভিটামিন ‘সি’ প্রতিরোধ করে স্কার্ভি রোগ।

৪। সুন্দর ত্বক-

ত্বকের যত্নেও অনেক উপকারী আম। ত্বকের ভেতর ও বাহির—দুই দিকেই যত্ন নেয় এই ফল। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে; ফলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

৫। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-

আমের মধ্যে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়া এর উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, কোলন ক্যান্সারসহ প্রস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে আম।

৬। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ-

পাকা আম রক্তে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম বের হয়ে যায়। কাঁচা আম খেয়ে শরীরের সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

৭। সতর্কতা-

আম খাওয়ার সময় একটু সাবধানতাও অবলম্বন করতে হবে। ছোট শিশুদের দিতে হবে পরিমিত পরিমাণে। এ ছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদেরও বুঝেশুনে খেতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে মিষ্টি আম খাওয়া যাবে না।

নওগাঁর সাপাহারে গতবছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আমের বাজার মূল্য কম হওয়ার ফলে বিপাকে আমচাষীরা। কয়েকদিন আগেও আমের সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য ছিল কিন্তু বেশ কয়েকদিন থেকে আমের বাজার মূল্য হঠাৎই নেমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আমচাষীরা।
বিভিন্ন এলাকার আম চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমের জন্য বিখ্যাত সাপাহার উপজেলায় গত কয়েকদিন যাবৎ হঠাৎই আমের দাম কমে যায়। যার ফলে হতাশার প্রহর গুনছে আমচাষীরা। গত বছর আমের বাজার বেশ চাঙ্গা থাকার ফলে চলতি বছরে বেড়ে যায় অনেক আম চাষীর সংখ্যা। যার ফলে গতবারের তুলনায় উপজেলায় এ বছরে আমের ফলন প্রায় অনেক বেশি। কিন্তু আমের ফলন বেশি হলেও সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য না থাকায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন আমচাষীরা। গত বছরে ক্ষীর্সাপাত আমের মূল্য ছিল প্রতিমণ ২৫শ টাকা, এ বছরে ১৩শ টাকা, নাগ ফজলী প্রতিমণ ২৭শ টাকা এ বছওে ১৫শ টাকা, গোপাল ভোগ ২২ থেকে ২৩শ টাকা, এ বছরে ১১ থেকে ১২ শ টাকা, গুটি আম প্রতিমণ ১৩ শ, এ বছরে ৬শ টাকা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সাড়ে ১৩ লক্ষ গাছ হতে প্রায় ২ লক্ষ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আমের এত মূল্য কমার ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকার আম চাষীরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যে সব জাতের আম বাজারজাত হয়নি সেসব আমে ন্যয্য মূল্য পাবেন বলে আশাবাদী এলাকার আমচাষীরা।

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম কেনাবেচার সবচেয়ে বড় বাজার শিবগঞ্জের কানসাট আম বাজার। এবার ওজন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কয়েকদিন দেরিতে সেই বাজারে আম বাজারজাত শুরু হয়। তবে কানসাট আম বাজারে মন ভালো নেই ব্যবসায়ীদের। শনিবার কানসাট আম বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে পাওয়া যায় হতাশার চিত্র।

হতাশার কথা বলতে গিয়ে তারা জানান, এ বছর ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জের আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে কমেছে আমের উৎপাদন। অন্যদিকে ওজন সংক্রান্ত জটিলতায় দেরিতে কানসাটে আম বেচাকেনা শুরু হওয়ায় ব্যাপারীরা কানসাটমুখী হচ্ছেন না। এই দুই কারণেই জমে উঠেনি দেশের বৃহৎ আমের বাজার কানসাট আম বাজার।

শনিবার সকাল ১০টা। কানসাটে অন্য বছর যেখানে রাস্তায় দুই ধারে আম বেচাকেনার কারণে চলাচল ছিল দায়, এ বছর অনেকাংশেই সেই চিত্র নেই। দুই একটা ভ্যান ও সাইকেল আম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কানসাটের মূল বাজারে দেখা গেল, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাইকেলে, ভ্যানে করে আসা আমে ভরে গেছে।

সেখানে কথা হয় নিজ বাগানের বোম্বাই ও ল্যাংড়াজাতের আম নিয়ে বাজারে আসা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার হুসেন আলীর সাথে। বাজারের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে বলেন, ঢাকার ব্যাপরীরা নাই, আমের দাম বলে না। যে কয়জন আছে তারা আশানুরূপ দাম বলছে না। বেশি ব্যাপারি নামলে আমের দাম ভালো পাওয়া যায়।

মাসুদ রানা নামে একজন নিয়ে এসেছেন ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আম। তার আম বিক্রি হলো ২৩৫০ টাকা মন ধরে। তিনি জানালেন ফ্রুট ব্যাগ করেছিলেন ৫০ হাজার আমে, নানা ঝামেলায় বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না, তাই কানসাটে নিয়ে এসেছি।

কানসাট বাজারে আম কিনছেন শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান। তিনি কানসাট থেকে আম কিনে ঢাকায় পাঠান।

তিনি বলেন, এ বছর আম পাঠিয়ে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। এবার কানসাটে বাজার একটু চড়া। তবে তার কাছে প্রশ্ন ছিলো আম ব্যবসায়ীরা বলছেন তাদের ক্ষতি হচ্ছে, আপনি বলছেন দাম চড়া। উত্তরে তিনি জানান, এবার ঝড় ও শিলার কারণে শিবগঞ্জে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যে আমের কথা চিন্তা করে বাগান কিনেছিলেন তার অনেক কম পাচ্ছেন, ফলে দাম কিছুটা গতবারের চেয়ে বেশি হলেও কিছুটা ক্ষতি হচ্ছেই তাদের। আমার নিজেরও বাগান আছে আমারও ক্ষতি গুনতে হবে।
অন্যদিকে যখন আম পাঠানোর চিন্তা করছি, তখন দেখছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য এলাকার আম কিছুটা কম দামে ও বেশি ওজনে কিনে ব্যাপারিরা ঢাকা পাঠাচ্ছে, তখন ঢাকার আড়তে বেশি দামে আমাদের আম নিতে চায় না।

কানসাট আম বাজর ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের খিরসাপাতি (হিম সাগর) বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২৫০০-২৬০০ টাকায়, মাঝারি মানের ২০০০-২২০০ টাকা ও ছোট সাইজের ১৪০০-১৬০০ টাকা।

অন্যদিকে ভালো মানের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২০০০ টাকায়, মাঝারি মানের ১৫০০ টাকায়, ছোট সাইজের ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। সব আমই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ কেজিতে মণ হিসাবে। সেই সাথে আরো ১ কেজি আম দিতে হচ্ছে আড়তদারকে।

এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আম পাঠানোর কাজ সহজ করতে কানসাট এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২ শতাধিক আমের আড়ত। তবে সরেজমিনকালে দেখা যায় এ বছর এই আড়তগুলোর অর্ধেকও এখনো চালু হয়নি।

কানসাটে একটি বড় আমের আড়ত মেসার্স শফিকুল ট্রেডার্স। কথা হয় এর মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে। এ বছর ব্যবসা বাণিজ্য কেমন প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, এ বছর আমের আমদানি কম, এ বছর ঝড় ও শিলার কারণে আমের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই ব্যবসার পরিস্থিতি খুব ভালো না।

তিনি জানান, গতবছর এই সময় তার আড়ত থেকে প্রতিদিন ৫-৬ ট্রাক আম পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। এবার তার আড়ত থেকে কয়েকজন ব্যাপারি মিলিয়ে গড়ে ১ বা ২ ট্রাক আম নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার অনেক ব্যাপারি এখনো আসেনি বলে তিনি জানান। তার আড়তে কাজ করার জন্য ৬০-৬৫ জন শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ২০ জনকে কাজে লাগাতে পেরেছেন। তবে আড়তদার আশাবাদী ঈদের পর দেশের অন্য স্থানের আমের জোগান শেষ হলে কানসাটমুখী হবেন ব্যাপারীরা। একই আশাবাদের কথা জানিয়েছেন আড়তদার, আম ব্যবসায়ীসহ সকলেই।

তবে ঝড় ও শিলায় আমের ক্ষতি হলেও সব মিলিয়ে গড় উৎপাদন ব্যাহত হবে না বলে মনে করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা। তিনি জানান, জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪০ হাজার মে. টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার মে. টন। তবে তিনি ঝড় ও শিলায় শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্বীকার করেন।

রাজশাহী অঞ্চলে আমেই ঘুরছে অর্থনীতির চাকা। জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই উঠতে শুরু করেছে আম। এখন আমের ভরা মৌসুম। বাজারে ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর, ল্যাংড়া, রানীপছন্দ ও ফজলি আমের ছড়াছড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে প্রতিদিন শত শত ট্রাক আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিভাগ বলছে, এ মৌসুমে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি করবেন। এতে চাষিদের ঘরে যেমন আসছে সচ্ছলতা, তেমনি মৌসুমজুড়ে মিলেছে হাজারো মানুষের কাজের সুযোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি বিভাগ এবার রাজশাহী জেলার প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় দুই লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যদিও কয়েকটি বড় ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবুও কৃষি বিভাগ বলছে, আম পর্যাপ্ত এসেছিল গাছে। তাই ঝড়ে ঝরে পড়লেও আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। বিভিন্ন আমের গড় মূল্য কেজিতে ৩৫ টাকা ধরা হলে দুই লাখ টন আমের মূল্য আসবে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

আম উৎপাদনে বিখ্যাত আরেক জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সেখানে এবার ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ টন। ঝড়ে ক্ষতি হওয়ার পরও কৃষি বিভাগের দাবি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। সেই হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা এবার প্রায় সাড়ে আটশ' কোটি টাকার আম বিক্রি করবেন।

এ বছর জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে উঠতে থাকে মধু ফল আম। শুরু থেকেই এবার আমের বাজার ভালো যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। শুরুতেই বিভিন্ন গুটি আম ও গোপালভোগ বাজার দখলে নেয়। এবার ভালোমানের গুটি আমও ৯০০ থেকে দেড় হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ভরা মৌসুমে গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর এবং ল্যাংড়া আম মণ ১৬শ' থেকে ২২শ' টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা বলছেন, এই মূূল্য বেশ ভালো। লক্ষণভোগ

বা লকনা আম বিক্রি হচ্ছে ১১শ' থেকে ১২শ' টাকা মণ। এখন ফজলি আম প্রতি মণ ১২শ' থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পুরোদমে এখনও ফজলি নামতে শুরু করেনি। ল্যাংড়া আমের মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফজলি বাজারে আসবে। শেষ পর্যন্ত ফজলির দাম ভালো থাকলে চাষিরা ঝড়ের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন জানান, ঝড়ে অনেক আম ঝরেছে বলে মনে হলেও এই পরিমাণ ঝরার কথাই ছিল। কারণ গাছে যত আম এসেছিল তা কোনোভাবেই ধারণযোগ্য ছিল না। তিনি জানান, প্রতি বছরই নতুন নতুন বাগান হচ্ছে। গাছে ফল আসছে। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। চাষিরাও বেশ যত্নবান হওয়ায় এখন আর আমের অফইয়ার বা অনইয়ার বলে কিছু থাকছে না।

এই আম ঘিরে এখন হাজার হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়েছে। এক সময় যাদের কোনো কাজ ছিল না, তারা এখন কেউ বাগান পাহারা দিচ্ছেন, কেউ বাগানের পরিচর্যার কাজ করছেন। কেউ ভ্যান-ট্রলি চালিয়ে আম পরিবহনের কাজ করছেন। কেউ আড়ত খুলে বসেছেন, কেউ প্যাকেটিংয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি আম কুরিয়ারে করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এ ছাড়া আম বাজারজাত করতে ধানের খড়, চটের বস্তা ও ঝুড়ির কদর বেড়েছে কয়েকগুণ।

রাজশাহীর বৃহত্তম বানেশ্বরহাটে এবারও বসছে আমের পাইকারি হাট। সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকার মানুষ রিকশাভ্যান, নসিমন-করিমন ও ভটভটিতে করে আম নিয়ে আসছে। হাটের ভেতরে আমভর্তি হয়ে যাওয়ার পর রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের দু'ধারে আমের ঝুড়ি বহনকারী শতশত ভ্যান ও ভটভটি অপেক্ষা করছে। তবে সন্ধ্যার মধ্যেই সব আম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। রাতেই এসব আম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, এখাসে প্রতি মণ লকনা বা লক্ষণভোগ ১২শ', গোপালভোগ ১ হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার, ক্ষীরসাপাতি দুই হাজার, ল্যাংড়া ১ হাজার ৮০০, বিভিন্ন প্রজাতির গুটি বা আটি আম ৮০০ থেকে ১৫শ' টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক আম ঢাকা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

নওশাদ আলী নামে এক শ্রমিক জানান, বানেশ্বরে প্রায় ২০০ আমের আড়ত রয়েছে। এই আড়তগুলোর অধীনে কাজ করছে প্রায় চার হাজার মৌসুমি শ্রমিক। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুল আওয়াল জানান, গত বছর ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা রাজশাহীর ৩০ টন আম বিদেশে রফতানি করা হয়েছে। এবার ১০০ টন রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তবে দেশের ভেতরেও কীটনাশকমুক্ত ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করা আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন।

চাষিরা জানান, গত বছর ব্যাগিং করে আম প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে। তাই এবার অনেক চাষি ব্যাগিং করেছেন। গত বছর ৭ হাজার আম ব্যাগিং করেছিলেন বাঘা উপজেলার মনিগ্রামের চাষি জিল্লুুর রহমান। লাভ দ্বিগুণ হওয়ায় এবার তিনি এক লাখ আম ব্যাগিং করেছেন। জিল্লুর রহমান বলেন, সাধারণভাবে চাষ করা আশ্বিনা আম বাজারে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। তখন ব্যাগিং করে চাষ করা আশ্বিনা আম ঢাকার বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৯৫ টাকায়। ৫০ টাকা দরের ফজলি আম ব্যাগিং করে ঢাকার বাজারে বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকা কেজি দরে।

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আর এখন বাজারে নানান ধরনের আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েও কারো সন্দেহ নেই। কিন্তু আম পাতাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি যা আনেকেই জানেন না। আম পাতা ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর।

 

আসুন আজ জেনে নেই ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে আম ও আম পাতা কী ভূমিকা রাখে ?

আম পাতার গুণাগুণ

আম পাতা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে এক চমৎকার ওষুধ। কচি আম পাতায় ট্যানিনস নামক অ্যান্থোসায়ানিডিন থাকে, যা ডায়াবেটিকের প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া কমাতে সাহায্য করে আম পাতা। তাই নিয়মিত এটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কচি আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো রাখতে পারেন। আবার গরম পানিতে সেদ্ধ করে চায়ের মতো পান করতে পারেন অথবা তাজা পাতা পানিতে ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে সকালে এ পানি ছেঁকে নিয়ে এ পানি পান করতে পারেন।

ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আম পাতার আছে আরও বিশেষ কিছু গুণ। আমপাতা রক্তচাপ কমাতে সাহাস্য করে।  আম পাতার চা পান করলে সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমতে সাহায্য করে। এছাড়া আম পাতার আছে পোড়া ক্ষত নিরাময়ের আশ্চর্য ক্ষমতা।

আম পাতা গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া যারা অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে সকালে পান করলে কিডনির শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

ডায়াবেটিক রোগীরা আম কম খান

আম এমন একটি ফল যা কম-বেশি সবারই প্রিয়, কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় তাই বেশি আম খেলে যাদের ক্ষতি হয় সে সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।

চিকিৎসকরা বলেছেন, পাকা আমে রয়েছে নানা ভিটামিন যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন। আবার রয়েছে উচ্চমাত্রার চিনি, কার্বোহাইড্রেড ও গ্লাইসেমিক। তাছাড়া পাকা আমে ফিনোলিকস জাতীয় উপাদান থাকার কারণে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।

তবে পাকা আমে চিনির পরিমাণ বেশি থাকার ফলেই শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। যাদের ডায়াবেটিক রয়েছে, তারা একেবারেই আম থেকে দূরে থাকুন। কেননা আম রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীরের নানা ক্ষতি সাধন করে। আবার যারা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রয়োজনে কম খান আম। কিডনির সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের পক্ষেও বেশি আম খাওয়া উচিত নয়।

চিকিৎসকরা আরও বলেছেন, পাকা আম অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যাবে। বেড়ে যাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ। রক্তে সুগারের পরিমাণও বেড়ে যাবে।তাই আমের এই ভরা মৌসুমে আম খান পরিমিত।

Page 1 of 18