x 
Empty Product
Thursday, 24 January 2019 21:51

আমের আঁটির উপকারিতা

Written by

সাধারণত আমরা আম খেয়ে আঁটি ফেলেই দেই। কারণ আমরা আমকেই উপকারি মনে করি। আর আঁটিকে অকেজো মনে করে ফেলে দেই। কিন্তু এই আঁটির উপকারিতা জানলে অবাক হতেই হবে আপনাকে। কখনও আর আঁটি ফেলতেও চাইবেন না। আসুন জেনে নেই আমের আঁটির যত গুণ।

১.খুশকির সমস্যায় আমের আঁটি খুব উপকারী। আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। অথবা জলের সঙ্গে মাথায় ঘষুন। এতে খুশকি কমে।

২.আম খেলে ব্লাড সুগার বেড়ে যায়। কিন্তু আমের বীজ খেলে তার প্রতিক্রিয়া পুরো ভিন্ন হয়। আমের বীজ খেলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩.ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে আমের বীজের নির্যাস খেতে পারেন। ফ্যাট বার্ন ররতে আমের বীজ অত্যন্ত কার্যকরী।

৪.ডায়েরিয়া হলে আমের বীজ শুকিয়ে গুঁড়ো করে, তা জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

৫.কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও আমের বীজ খুবই কার্যকরী।

Thursday, 24 January 2019 21:48

কাঁচা আমের উপকার

Written by

আম খেতে পছন্দ করেনা, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! আম কাঁচা অথবা পাকা যে ভাবেই খাওয়া হোক তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অনেক ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরো বেশি। কাঁচা অথবা পাকা যাই হোক না কেন, আম আমাদের শরীরকে সুস্থ রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। জেনে নিন আমের কিছু উপকারিতা-

১. কাঁচা আম ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। যা চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে, রাতকানা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে এবং চোখ ভালো রাখে।

২. আমে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন শরীরের মাঝগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। শরীরকে রাখে সতেজ। ঘুম আসতে সাহায্য করে।

৩. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি।

৪. আমে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। দাঁত, নখ, চুল, মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে ও হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৫. প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয় রোধ হয় ও ঘূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

৬. আম খেলে স্থূলকায় ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পায় এবং দেহে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৭. ত্বকের যত্নেও আম অনেক উপকারি। আম খেলে লোমের গোড়া পরিষ্কার হয়। ফলে ব্ৰণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং ত্বক উজ্বল করে।

৮. কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর হয়। এছাড়াও কাঁচা আম দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দাঁতের রোগ প্রতিরোধ করে। কিডনির সমস্যা প্রতিরোধসাহায্য করে। লিভার ভালো রাখে, পটাশিয়ামের অভাব পূরণকরে ও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে।

Thursday, 24 January 2019 21:47

পৌষে আমের মুকুল

Written by

পৌষের তীব্র শীতেই এবার গাছে গাছে উঁকি দিতে শুরু করেছে দৃষ্টিনন্দন আমের মুকুল। আম গাছের ছোট ছোট ডালের সবুজ পাতার মাঝে হলদেটে মুকুল ঝুরি যেন কনক প্রদীপ হয়ে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই মুকুল ঝুরিগুলো প্রস্ফুটিত হবে মুকুল মঞ্জরীতে। আম গাছগুলো সজ্জিত হবে সাদা, বেগুনি ও হলদেটে ফুলে ফুলে পুষ্পরানীর সাজে। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে এক নতুন ছন্দের।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ও মা ফাগুনে তোর আমের বোলের ঘ্রাণে পাগল করে’। কয়েক মাসের মধ্যেই পুষ্পরাণী আম গাছের ডালে ডালে ঝুলবে নানা জাতের, নানা বর্ণের আম। ফলের রাজা আম নিয়ে বাঙালির শিল্প-সাহিত্যে রয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা এবং প্রবাদ-প্রবচন। উপমহাদেশ তথা বিশ্ব বিখ্যাত নারী জ্যোতিষী খনার বচনে বলা হয়েছে ‘মাঘে বোল, ফাগুনে গুটি, চৈত্রে কাটিকুটি, বৈশাখে আটি, জ্যৈষ্ঠে দুধের বাটি’। খনার এই প্রবচনটি ছিল বাংলাদেশে আমের মুকুল ধরা থেকে শুরু করে আম পাকা এবং দুধ মিষ্টি দিয়ে আম খাওয়ার সময়সীমা।
কিন্তু, বিশ্ব জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ আমের ফলনের সময় সীমার উপরে রচিত যুগ যুগের পুরানো খনার এই বচনটি এখন উলটপালট হয়ে গেছে। এখন মাঘ মাসে আর আমের মুকুল ফোটে না। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ আম ফলনের সময়সীমায় ব্যাপক তারতম্য দেখা দিয়েছে। গত বছর আমের মুকুল ফুটে মধ্য মাঘে। এর আগের বছর আমের মুকুল দেখা দেয় ফাগুন মাসের মধ্যভাগে। এ বছর পৌষের প্রারম্ভেই আম গাছে মুকুল ঝুরি দেখা দিয়েছে।
কৃষিতাত্তি¡কদের মতে, প্রাচীন বাঙাল মুল্লুকই হচ্ছে আমের আদি নিবাস। বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা,আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ পাক-ভারত উপমহাদেশেই আম গাছের জন্ম হয়। নবোপলীয় যুগে প্রথম আমগাছ ‘ডমিষ্টিকেশন’ বা পারিবারিক চাষাবাদের আওতায় আসে। এরপর লাখ লাখ বছর ধরে আমগাছ বসত বাড়ির গাছ হিসেবে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব কালে বাংলাদেশ তথা পাক-ভারত উপমহাদেশে আমের চাষাবাদ শুরু হয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ৬৩২ ও ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বাংলাদেশ পরিভ্রমণ করেন। ধারণা করা হয় সে সময়ে তিনি আম ও আম গাছকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেন। ১৫ শতকের মাঝামাঝি থেকে ১৬ শতকের প্রথম ভাগে সম্রাট আকবর প্রথম ভারতের লাখবাগের দারভাঙার সন্নিকটে ১ লাখ আমের চারা রোপণ করে উপমহাদেশে আম বাগানের সৃষ্টি করেন। পরে তা আস্তে আস্তে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আম প্রায় সারা বিশ্বেই চাষাবাদ হয়। বাংলাদেশে আমের আদি নিবাস হলেও উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো পিছনেই পড়ে রয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বে আম উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৯ম স্থানে রয়েছে। বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে এমন বসতবাড়ি সংখ্যা কম যেখানে আম গাছ নেই। অথচ উৎপাদন অত্যন্ত কম। বাড়ি বাড়ি গাছ থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশী মানুষকে বাজার থেকে আম কিনে খেতে হয়।
অথচ কৃষিবিদদের মতে, আম গাছের একটু পরিচর্যা করলেই প্রতিবছর নিজ বাড়িতে উৎপাদিত আম দিয়ে পারিবারিক চাহিদা মিটে যায়। কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী আশ্বিন-কার্তিক মাসে গাছের গোড়ায় কিছু রাসায়নিক বা জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মুকুল ধরার পূর্বে গাছের ডালের আগাগুলো যখন মোটা হয় তখন গাছে কিছু কীটনাশক প্রয়োগ করলে আম গাছের হপার পোকা ধ্বংস হয়ে যায়। মুকুল ধরার পর মুকুলগুলি যখন প্রস্ফুটিত হয় তখন কিছু হরমোন জাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করলে আমের ফলন বৃদ্ধি পায়। মুকুল থেকে আম যখন গুটি ধরে তখন আরেকবার হালকা কীটনাশক স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসগুলোতে সরকারি স্প্রেয়ার থাকে। বড় গাছ হলে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে যোগাযোগ করলে প্যাডেল চালিত সরকারি মেশিন দিয়ে বড় বড় আম গাছে স্প্রে করার সুযোগ রয়েছে। ছোট গাছ হলে বাজার থেকে ছোট ছোট স্পেয়ার মেশিন কিনে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোন বা কীটনাশক প্রয়োগ করা যায়। দরকার শুধু গাছের মালিকদের একটু উদ্যোগ। বাড়ি ওয়ালা বা গাছ ওয়ালারা একটু আগ্রহ নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে তারাই সকল কিছু বলে দেবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের চাহিদা অনুযায়ী আম খেতে পারবে।

লাভজনক না হলে আম চাষ করবেন না চাষিরা। যে ফসলে শুধু খোরপোষ চলে তা আবাদের তালিকা থেকে বাদ দেবেন তারা। চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মাধ্যমে উত্পাদিত নিরাপদ আমের দেশি ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে অংশীজনদের এক পরামর্শ সভায় আম চাষিরা এমন অভিমতই জানিয়েছেন।

চাষিরা বলছেন, ভোক্তারা বেশি মূল্যে আম কিনলেও আম চাষে তাদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণে আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন আম চাষিরা। তাই আম রপ্তানি করার জন্য কৃষকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের জন্য অনুরোধ জানান তারা।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) সন্তু কুমার সাহা বলেছেন, সরকার খোরপোষ বা জীবন ধারণের কৃষি থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে যাচ্ছে। কৃষকের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিতের জন্য লাভ লস হিসাব করে ফসল উত্পাদন করতে হবে। যে ফসল লাভজনক নয়, সে ফসল কৃষক কেন উত্পাদন করবে? আম উত্পাদনে লস হলে কৃষক অন্য ফসল ফলাবে।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের চাহিদার কথা মাথায় রেখে উত্পাদন করতে হবে। সুপার মার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, চাষিদের থেকে কয়েকবার হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে আম পৌঁছে। এ কারণে চাষিরা আম চাষে লাভবান না হলেও বেশিমূল্যে আম কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এ সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ অমিদাভ দাস।

Monday, 21 January 2019 07:52

অসময়ে আম

Written by

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অসময়ে আম ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন চাষি সেরাজুল ইসলাম। ভরা এই শীতের মধ্যেও তার বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে বড় বড় আম। তার এমন সাফল্য এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন লোকজন আম দেখতে ভিড় করছে তার বাগানে। আর এই আমের বাণিজ্যিক সম্ভবনা নিয়েও দারুন আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

ভরা শীত মৌসুমে আমের ফলন ঘরে তুলতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়লিয়া গ্রামের সেরাজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন থেকে ভাবছিলেন। যেমন ভাবনা ঠিক তেমনই কাজ করে চলছেন। প্রথম দিকে ফলন নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও এবার তা কেটে গেছে। ডিসেম্বর মাস থেকে তার বাগান থেকে তিনি গাছ থেকে আম সংগ্রহ করছেন।

সেরাজুল ইসলাম জানান, তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে চার বছর আগে বারোমাসি আমের কুশি বা সায়ন সংগ্রহ করে তা এক বিঘা জমিতে ১২০টি আম্রপালি আম গাছে চারা রোপন করেন। এরপর মৌসুমে মুকুল এলেও তেমন ফলন হয়নি। পরীক্ষমূলকভাবে মৌসুমের মুকুলে অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারি মাসের মুকুলে ফলন না নিয়ে কেটে ফেলেন। এরপর আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে আসা মুকুল রেখে দেন। এ মুকুল থেকে তার বাগানে প্রচুর আম এসেছে।

তিনি বলেন, এ আম খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। দামও ভালো পেয়েছেন। প্রতি কেজি আম ২৭৫ টাকা থেকে শুরু করে বর্তমানে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এ পর্যন্ত ৪০ মণ আম বিক্রি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন।

এদিকে অসময়ে আম চাষে সেরাজুল ইসলামের এমন সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা তার আম বাগানে দেখতে আসছেন। আবার অনেকেই ভাবছেন অসময়ে উন্নত জাতের এই আমের বাণিজ্যিক সম্ভবনার কথা। বলছেন এ জাতের আমের চাষ সম্প্রসারণে আমখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

ওই এলাকার আম ব্যবসায়ী মার্শাল আলী বলেন, ‘এই বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক লাগছে। কারণ আমাদের দেশে জৈষ্ঠ মাস থেকে আষাড় মাসে আম পাওয়া যায়। কিন্তু সেরাজুল ভাই এমন একটি জাত তৈরি করেছেন সবাই আশ্চর্য হয়ে গেছে। অসময়ে এ আমের দাম ভালো পাওয়া যায় তাই আমিও এমন একটি বাগান তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জায়গা। তবে এসময়ে গাছে আম পাওয়া অকল্পনীয়। অসময়ে এমন আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক।’

স্থানীয় আম চাষি ফাইজুদ্দিন বলেন, ‘এই বাগানে অসময়ে যে আমটা আমরা পাচ্ছি এটি আমাদের যেমন চাহিদা মিটাচ্ছে সাথে সাথে সেরাজুল ভাইয়ের অর্থনৈতিক দিকটাও চাঙ্গা হচ্ছে। আমরা যদি এই আম চাষের প্রসার ঘটাতে পারি তাহলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যে আমের রাজধানী সেটা আবার প্রমাণ হবে। শুধু গ্রীষ্মকালে না শীতকালেও আম পাওয়া যায় এখন এই জেলায়।

তিনি বলেন, জেলায় এর প্রসার ঘটলে সেরাজুল ভাইয়ের মতো অন্য আম চাষিরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, এটি বারি আম-১১ জাতের। এই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে মুকুল আসে। চাষি সেরাজুল ইসলামের যে আবিষ্কার সেটি হলে- অন্য সময়ের মুকুল তিনি কেটে ফেলেছেন। আগস্ট, সেপ্টেম্বর এই সময়ের মুকুল তিনি রেখে দিয়েছেন এবং এতেই ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে আম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, এ আমের দারুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। এ আম চাষ কৃষি সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেয়া হবে।

চারঘাটে আম গাছগুলোতে এবার আগাম মুকুল দেখা যাচ্ছে। সাধারনত মাঘের মাঝামাঝিতে আমের মুকুল দেখা যায়। এবার পৌষের শেষের দিক থেকেই গাছে গাছে আমের মুকুল দেখা যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ কম থাকায় আগাম মুকুল দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলার পরানপুর, রায়পুর, ভায়ালক্ষীপুর এলাকায় অনেক গাছেই আমের মুকুল শোভা পাচ্ছে। সোনারাঙা সেই মুকুলের পরিমাণ কম হলেও এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছগুলো আমের মুকুলে ছেয়ে যাবে। এদিকে মুকুল আসার আগে থেকেই বাগান পরিচর্যা করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বাগান মালিকরা জানান, পৌষের মাঝামাঝিতেই গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝছেন এবার আগাম আমের মৌসুম শুরু হচ্ছে।

আগাম মুকুল দেখে আম চাষিরা অনেকে খুশি হলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীত বিদায় নেওয়ার আগেই আমের মুকুল আসা ভালো নয়। এখন ঘন কুয়াশা পড়লে আগেভাগে আসা মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ফলনেও প্রভাব ফেলবে। ভায়ালক্ষীপুর বুদির হাটের আম চাষী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি আম গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শেষ করেছেন। মুকুলের মাথাগুলোকে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। প্রায় গাছেই আমের মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তবে গুটি ও লখনা জাতই বেশি। তিনি আশা করছেন এবার আমের ফলন ভালো হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে প্রতি বছরই কিছু আম গাছে আগাম মুকুল আসে, এবারও এসেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। তবে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে। উল্লেখ্য, উপজেলায় ৩ হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে।

আম বাংলাদেশের প্রধান চাষযোগ্য অর্থকরী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান এবং স্বাদ গন্ধে এটি একটি অতুলনীয় ফল। এই উপমহাদেশে আম সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। তাই আম সব ফলের সেরা। বাংলাদেশে আমই হচ্ছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ফল। এর সাথে অন্য কোনো ফলের তুলনা হয় না কারণ উৎকৃষ্ট জাতের আম স্বাদে গন্ধে ও দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। আম এমন একটি ফল যা ছোট থেকে শুরু করে পাকা পর্যন্ত সব অবস্থায় খাওয়া যায়। আম পছন্দ করে না এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই অনেকে আমকে ফলের রাজা বলে থাকেন। বাংলাদেশে আম চাষাবাদের এলাকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আমাদের দেশে আম চাষে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো প্রতিহত করতে না পারলে আম চাষ লাভজনক হয় না। এর মধ্যে আমের নানা ধরনের রোগজনিত সমস্যা ও তাদের দমন ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে নিম্নে আলোচনা করা হলো-


এনথ্রাকনোজ : এই রোগের আক্রমণে গাছের কচি পাতা, কাণ্ড, কুঁড়ি, মুকুল ও ফলে দেখা যায়। পাতায় অসমান আকৃতির ধূসর বাদামি বা কালচে রঙের দাগ পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি দাগ একত্রিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে। বেশি আক্রান্ত হলে পাতা ঝরে পড়ে। আমের মুকুল বা ফুল আক্রান্ত হলে কালো দাগ দেখা দেয়। ফুল আক্রান্ত হলে তা মারা যায় এবং ঝরে পড়ে। মুকুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ ব্যাহত হয়। আম ছোট অবস্থায় আক্রান্ত হলে আমের গায়ে কালো দাগ দেখা দেয়। আক্রান্ত ছোট আম ঝরে পড়ে। বাড়ন্ত আমে রোগের জীবাণু আক্রমণ হলে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পাকা আমে ধূসর বাদামি বা কালো দাগের সৃষ্টি করে। গুদামের আবহাওয়া অনুকূল হলে রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে। আম বড় হওয়ার সময় ঘন ঘন বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করলে আমে আক্রমণ বেশি দেখা যায়।


প্রতিকার : রোগাক্রান্ত বা মরা ডালপালা ছাঁটাই করে পুড়ে ফেলতে হবে। গাছের রোগাক্রান্ত ঝরা পাতা ও ঝরে পড়া আম সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, প্রয়োজনে মাটির নিচে পুঁতে দিতে হবে। মুকুলে রোগের আক্রমণ প্রতিহত করতে হলে মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। মুকুল ১০-১৫ সেমি. লম্বা হলে প্রথম স্প্র্রে শেষ করতে হবে। আম মটর দানার মতো হলে দ্বিতীয় বার স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের এবং ছত্রাকনাশক মিশিয়ে একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। বাড়ন্ত আমকে রোগমুক্ত রাখতে হলে আম সংগ্রহের ১৫ দিন আগ পর্যন্ত মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক বা একরোবেট এম জেড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে বা ব্যভিস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে ১৫ দিনের ব্যবধানে ৩/৪ বার স্প্রে করতে হবে।


গাছ থেকে আম পাড়ার পরপরই গরম পানিতে (৫৫০ সে. তাপমাত্রায় ৫ মিনিট) ডুবিয়ে রাখার পর শুকিয়ে অর্থাৎ গরম পানিতে শোধন করে গুদামজাত করতে হবে।


বোঁটা পচা : আম গাছ থেকে পাড়ার পর পাকতে শুরু করলে বোঁটা পচা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে বোঁটায় বাদামি অথবা কালো দাগ দেখা দেয়। দাগ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং গোলাকার হয়ে বোঁটার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জীবাণু ফলের ভেতরে আক্রমণ করে পচিয়ে ফেলে। আক্রান্ত আম ২/৩ দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। রোগের জীবাণু বোঁটা ছাড়াও অন্যান্য আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দিয়ে আমের ভেতরে প্রবেশ করে আম পচিয়ে ফেলতে দেখা যায়।


প্রতিকার : রোদ্রোজ্জ্বল দিনে গাছ থেকে আম পাড়তে হবে। আম পাড়ার সময় যাতে আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৫ সেমি. (২ ইঞ্চি) বোঁটাসহ আম পাড়লে এ রোগের আক্রমণ কমে যায়।  আম পাড়ার পর গাছের তলায় জমা না রেখে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। আম পাড়ার পর পরই গরম পানিতে (৫৫০ সে. তাপমাত্রার পানিতে ৫-৭ মিনিট) অথবা বাভিস্টিন দ্রবণে (প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম) ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর গুদামজাত করলে বোঁটা পচা রোগের আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়।


আমের আঠা ঝরা এবং হঠাৎ মড়ক : বর্তমানে আম গাছের  যেসব রোগ দেখা যায় তাদের মধ্যে আমের আঠা ঝরা এবং হঠাৎ মড়ক সবচেয়ে মারাত্মক। কারণ এ রোগে আক্রান্ত গাছ খুব অল্প সময়ের মধ্যে মারা যায় । প্রথমে কা- অথবা মোটা ডালের কিছু কিছু জায়গা থেকে হালকা বাদামি থেকে গাড় বাদামি রঙের আঠা বা রস বের হতে থাকে। বেশি আক্রান্ত ডগা বা ডালটি অল্প দিনের মধ্যেই মারা যায়। কিছুদিন পর দেখা যায় আরেকটি ডাল একইভাবে মারা যাচ্ছে। এভাবে এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ গাছ মারা যেতে পারে।


প্রতিকার : গাছে মরা বা ঘন ডাল পালা থাকলে তা নিয়মিত ছাঁটাই করতে হবে। আঠা বা রস বের হওয়ার স্থানের আক্রান্ত সহ সুস্থ কিছু অংশ তুলে ফেলে সেখানে বোর্দোপেস্টের (১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়) প্রলেপ দিতে হবে। আক্রান্ত ডাল কিছু সুস্থ অংশসহ কেটে পুড়ে ফেলতে হবে। কাটা অংশে রোগের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য বোর্দোপেস্টের  প্রলেপ দিতে হবে। গাছে নতুন পাতা বের হলে মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বার স্প্রে করতে হবে।


আগামরা : এ রোগের জীবাণু প্রথমে কচি পাতায় আক্রমণ করে। আক্রান্ত পাতা বাদামি হয় এবং পাতার কিনারা মুড়িয়ে যায়। পাতাটি তাড়াতাড়ি মারা যায় ও শুকিয়ে যায়। আক্রমণ পাতা থেকে এ রোগের জীবাণু কুড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ডগার সামনের দিকে মরে যায়। মরা অংশ নিচের দিকে অগ্রসর হতে থাকে ফলে বহু দূর থেকে আগামরা রোগের লক্ষণ বোঝা যায়। ডগাটি লম্বালম্বিভাবে কাটলে বাদামি লম্বা দাগের সৃষ্টি করে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ মারা যেতে পারে।


প্রতিকার : আক্রান্ত ডাল কিছু সুস্থ অংশসহ কেটে ফেলতে হবে। কাটা অংশ পুড়াই ফেললে ভালো। কাটা অংশে বোর্দোপেস্টের (১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা যায়) প্রলেপ দিতে হবে। গাছে নতুন পাতা বের হলে মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- ডায়থেন এম ৪৫/ পেনকোজেব/ ইন্ডোফিল ইত্যাদি (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে) ১৫ দিনের ব্যবধানে ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে।


কাল প্রান্ত : ইটের ভাটা থেকে নির্গত ধোয়ায় কারণে এ রোগ হতে পারে। আমের বয়স দেড় মাস হলে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। আক্রান্ত আমের বোঁটার দিকের অংশ স্বাভাবিকভাবে বাড়লেও নিচের অংশ ঠিক মতো বাড়তে পারে না।  ফলে আমের গঠন বিকৃত হয়। নিচের অংশ কুঁচকে যায়, বেশি আক্রান্ত আমের নিচের অংশ কাল হয়ে যায়। কোনো কোনো সময় আমের বিকৃত অংশ ফেটে যেতে পারে এবং পচে যেতে পারে।
প্রতিকার : আম মার্বেল আকারের হলে প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম বোরাক্স বা বোরিক পাউডার ১০-১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।  ইটের ভাটা আম বাগান থেকে ২ কিমি. দূরে স্থাপন করতে হবে। ইটের ভাটার চিমনি কমপক্ষে ৩৭ মিটার (১২০ ফুট) উঁচু করতে হবে।


আম ফেটে যাওয়া : আম ছাড়াও কাঁঠাল, ডালিম, পেয়ারা ইত্যাদি ফল ফেটে যেতে দেখা যায়। সব ধরনের ফল ফাটার কারণ মোটামুটিভাবে একই। মাটিতে রসের দ্রুত হ্রাস-বৃদ্ধি আম ফাটার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। আবহাওয়া শুকনা হলে এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হলে আমের ওপরের খোসা শক্ত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ বৃষ্টিপাত হলে বা সেচ প্রদান করলে আম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমের ভেতরের দিক ঠিকমতো বাড়লেও বাহিরের আবরণ শক্ত হওয়ার কারণে তা বাড়তে পারে না। এ অবস্থায় আম ফেটে যায়। মাটিতে বোরণের ঘাটতি থাকলেও আম ফাটতে সহায়তা করে বলে জানা যায়। প্রতিকার মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার দিতে হবে। জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে ফলে শুকনা বা খরার সময়ও মাটিতে যথেষ্ট রস থাকবে। জৈব সারের মধ্যে গোবর সব চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত। সার দেয়ার মৌসুমে ২০ বছর বা তদূর্ধ্ববয়সের গাছে ৫০ গ্রাম বোরাক্স বা বোরিক এসিড প্রয়োগ করতে হবে।


আম চাষি ভাইয়েরা উপরোক্ত বিষয়গুলো সময় মতো সঠিকভাবে মেনে চললে উপরোক্ত রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। যেহেতু অন্যান্য ফসলের মতো আমেও বেশ কিছু রোগের আক্রমণ হয়  যা আমের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। তাই আমের উৎপাদন বাড়াতে হলে রোগ দমন ব্যবস্থাপনা জানা এবং মেনে চলা অপরিহার্য।

 

কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ-হিল-কাফি*

*আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাজশাহী

Monday, 21 January 2019 07:41

আম ফলের অবদান

Written by

আম বাংলাদেশের প্রধান ফল, গ্রীষ্ম প্রধান দেশে ফলের মধ্যে আম সবার সেরা, ফলের রাজা। নানা আকারের বাহারি আম অতি সুস্বাদু ও পুষ্টিতে ভরপুর। আমে রয়েছে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে এতে ভিটামিনস ও মিনারেলসের পরিমাণ অনেক বেশি। এককালে বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুর জেলা উন্নতমানের আমের জন্য বিখ্যাত ছিল। এসব এলাকা প্রধানত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি, হিমসাগর, মোহনভোগ, গোলাপ খাস, সূর্যপুরি, মিসরি ভোগ, আশ্বিনাসহ প্রায় কয়েক শ’ জাতের আম উৎপাদনে অগ্রগামী ছিল। দেশের অন্য প্রান্তের জনসাধারণ মধুর মাস জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণে রাজশাহী অঞ্চলের সেরা আমের জন্য অপেক্ষা করত। পরে আম সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এক ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচিতে আম্রপলি জাতের আমটিকে দেশের সব প্রান্তে সম্প্রসারণে প্রাধান্য দেয়া হয়। ফলে দেশের শুধু উত্তরাঞ্চলে নয়, বর্তমানে বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগাম এবং বরিশাল অঞ্চলের জেলাগুলোতেও এ জাতের আম প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। এ বিশেষ কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে বর্তমানে মোট যে আম উৎপাদন হচ্ছে তার প্রায় শতকরা ৪০-৪৫ ভাগই আম্রপলি জাতের আম।

 
কয়েক বছর ধরে আম্রপলি জাতের আমের পাশাপাশি যেসব জাতের আম চাষে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছে তার মধ্যে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা, ঠাকুরগাঁওয়ের বান্দিগুড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৌরমতি, বারি উদ্ভাবিত বারি-৪, বাউ উদ্ভাবিত বাউ-১৪ (ব্যানানা ম্যাংগো),  ‘রাংগুয়াই’ (বার্মা), পলিমার (ভারত), নান ডকমাই (থাই) অন্যতম।
 
আম ফলের অবদান : আম ফল চাষে অগ্রগামী জেলাগুলোতে বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমে ৩-৪ মাসব্যাপী আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সব শ্রেণী ও বয়সের ছেলেমেয়ে, পুরুষ, মহিলা প্রচুর কাজের সুযোগ পায়, আয় বাড়ে, পারিবারিক সচ্ছলতা আসে। স্থানীয় পরিবহন (রিকশা, বাইসাইকেল, অটোরিকশা, নসিমন, করিমন, মিনিট্রাক-পিকআপ) খাতে আয়  বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট সবার যথেষ্ট আয় বাড়ে। এ ছাড়া আন্তঃজেলা পরিবহনে (বাস, ট্রাক, ট্রেন, ট্রলার, কুরিয়ার সার্ভিস) সঙ্গে জড়িত সবার প্রচুর আয় বৃদ্ধি পায় ।
 
আম উৎপাদনকারী এসব এলাকা ঝড় বাতাসে ঝরে পড়া কাঁচা-পাকা আম খাওয়ার প্রচুর সুযোগ পায়। এ সময় বেশি আম খাওয়ার প্রভাবে  সবার স্বাস্থ্য ভালো হয়, দৈনন্দিন ভাত আহার করার প্রবণতা অনেক কমে যায়। মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে যায়, এ সময় তাদের বেশি মধু আহরণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। আম মৌসুমে এলাকায় হরেক রকম পাখির (বাদুড়, কাক, কোকিল, ঘুঘু ইত্যাদি) আনাগোনা বেড়ে যায়। এ সময় তাদের খাদ্য, আশ্রয় ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বন্য ও গৃহপালিত পশুদের কাঁচা-পাকা আম ও পরিত্যক্ত অংশ (ছিলকা, আঁটি) খাবার সুযোগ বাড়ে, ফলে সবাই সুস্বাস্থ্য ফিরে পায়।
 
কাঁচা-পাকা আম থেকে আমচুর, আমসত্ত্বসহ নানা রকম আচার তৈরির কাজে এলাকায় হিড়িক পড়ে যায়। রান্নায় প্রাধান্য পায় আম-বেগুন-বড়ির তৈরি তরকারি, ডালে আম, সজিনায় আম এ এক মধুর ব্যাঞ্জন। স্থানীয়ভাবে তৈরি আমের জ্যাম, জেলি এলাকাবাসী নিজেরা খায়, অন্য জেলার আত্মীয়স্বজনকে সরবরাহ করে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান (প্রাণ, এসিআই, স্কয়ার) কাঁচা-পাকা আম সংগ্রহ করে। এগুলো তারা প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত হরেক রকম প্রডাক্টস সারা বছরব্যাপী দেশে-বিদেশে বাজারজাত করে প্রচুর আয় করে।
 
আম বাজারজাতকরণ পরিস্থিতি ও প্রভাব : এককালে আম চাষে অগ্রগামী বৃহত্তর রাজশাহীর আমচাষিরা বড় বড় বজরা-নৌকা দিয়ে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে আম বাজারজাত করত। পরে সহজ এ রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাক, বাস, ট্রেন, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে  আম বাজারজাতকরণের বিকল্প পরিবহন ব্যবহার হয়ে আসছে। আমচাষিদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছর আগে কোনো রকম কেমিক্যাল ব্যবহার ছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়  পরিপক্ব কাঁচা আম বাজারজাত করার প্রচলন ছিল। পাকা আমের সেলফ লাইফ কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পক্ষে তা দূর-দূরান্তে বেচার সুযোগ থাকে না। কাজেই স্থানীয়ভাবে খুব কম দামে স্থানীয় এলাকাবাসী পাকা আম কেনার সুযোগ পান। বিগত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে আম ব্যবসায়ীদের মাঝে ঢাকাসহ অন্য জেলাগুলোতে আম বাজারজাত করতে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লেগেছে। আমকে সমভাবে পাকাতে ও আকর্ষণীয় রঙ হতে ও কিছুটা আয়ু (সেলফ লাইফ) বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কিছু আম ব্যবসায়ীর আমে কয়েক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ইথোফেন, ফরমালিন ও কার্বাইড অন্যতম। আম ফলে এসব রাসায়নিকের প্রভাব সম্বন্ধে কোনো প্রকার জ্ঞান বা ধারণা আহরণ না করেই অনেক পরিবেশবাদী, বুদ্ধিজীবী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন মিডিয়া কেমিক্যাল ব্যবহারের কুফল সম্বন্ধে অপপ্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ প্রচারণার কুফলে আম ফলের প্রতি অনুরাগী ভোক্তার মনে ভয় ঢুকেছে, বাজারের আম কিনতে তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের টিকে থাকাই বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃহত্তর রাজশাহীসহ অন্য অধিক আম উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে মুকুল আসার শুরুতে এমনকি তার অনেক আগেই ২ থেকে ৫ বছরের জন্য আম বাগান কিনে নিতে প্রয়াসী ছিল। এ ব্যবস্থায় আমচাষিদের বাগান অনেক আগেই কিনে নিতো। বেশি লাভের আশায় তারা কেনা বাগানের সঠিক পরিচর্যা ও রোগ পোকামাকড় দমন করে বেশি আম উৎপাদন পদক্ষেপ নিতো। তাতে বাগানের মালিক ও ক্রেতা উভয়েই বেশি  লাভবান হতো। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতায় এসব আম ব্যবসায়ী বাগান কেনায় নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছে। আমচাষিরা এ খাতে অধিক আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন আম বাগান সৃষ্টি হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি পুরনো বাগানগুলো রাখা যাবে কিনা এ চিন্তায় বাগানীর মাথায় হাত।
 
প্রশিক্ষণ : বিভিন্ন মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, পরিবেশবাদীদের অপপ্রচারে অনুপ্রাণিত হয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আম ফল নিধনে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে তাদের তৎপরতায় কত হাজার টন যে আম নিধন হয়েছে তার প্রকৃতি তথ্য দেয়া কঠিন। অথচ যারা এ দায়িত্বে আছেন তাদের ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য সম্বন্ধে কোনো প্রশিক্ষণ বা ধারণা দেয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আমে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ব্যবহারে পূর্ণ ধারণার অভাবের কারণে আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীর বর্তমানে বেহাল অবস্থা। বিরাজিত পরিস্থিতি থেকে আম সম্পদ ও আমচাষিদের বাঁচাতে এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক।
 
রাসায়নিক পরীক্ষা যন্ত্র : ক্ষেত্র বিশেষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি নিরূপণে যে যন্ত্র ব্যবহার করছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গবেষকদের কাছে প্রতীয়মাণ হয়েছে যে তা ডিফেক্টিভ, তা থেকে প্রকৃত ফল পাওয়া যায় না। তাই এ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে আমচাষি-ব্যবসায়ীদের আম নিধন করার এখতিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বোপরি এসব রাসায়নিক (ফরমালিন, ইথোফেন, কার্বাইড) মানবদেহের জন্য গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় মাত্রা সম্বন্ধে গবেষক কর্তৃক তাদের ধারণা দেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
 
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দলে বিশেষজ্ঞের অন্তর্ভুক্তিকরণ : সীমিত ধারণা নিয়ে আমচাষি-ব্যবসায়ীদের ওপর ঢালাওভাবে আম নিধন, জরিমানা, জুলুম ও হয়রানি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি টিমে একজন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ-বিজ্ঞানী-অভিজ্ঞ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করা অত্যাবশ্যক। অন্যথায় অসহায় আমচাষি আর্থিক ক্ষতি ও বিব্রতকর বিভিন্ন পরিস্থিতি থেকে অব্যাহতি পেতে হয়তো তারা তাদের প্রিয় আম বাগানটিকে নিধন করতে বাধ্য হবে। এর প্রভাবে প্রাণিকূলের চাহিদাকৃত অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেবে, দেশে পরিবেশ বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা হবে, বাজারে আমের সরবরাহ কমে যাবে, আম ফল অনুরাগীদের তা ক্রয়ে সুযোগ ব্যাহত হবে।
 
আমে ব্যবহৃত সম্ভাব্য রাসায়নিক দ্রব্য
১। ইথোফেন-ইথরেল (২ ক্লোরোইথেন ফসফরিক এসিড) : ইথোফেন একটি প্লান্ট গ্রোথ হরমোন, তবে ইহা পরিপক্ব ফলকে পাকাতে এবং সংরক্ষণে ব্যবহার প্রচলন সারা পৃথিবীতে রয়েছে। গবেষকেরা বিভিন্ন মাত্রায় (২৫০-১০০০০ পিপিএম) ইথোফেন পরিপক্ব কাঁচা আমে স্প্রে করার ২৪ ঘণ্টা পর পুনরায় তার উপস্থিতি মাত্রা নির্ণয় করতে গিয়ে দেখতে পান যে উহা দ্রুত ফলের উপরিভাগ থেকে উড়ে যায়। তবে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা ঋঅঙ/ডঐঙ কর্তৃক নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতা মাত্রার (এমআরএল-২পিপিএম) অনেক নিচে নেমে যায়। তাই ইথোফেন দিয়ে ফল পাকানোর স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই বলে বিজ্ঞানীদের মতামত। তবে আম চাষিরা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার না করে এবং উহা কেবলমাত্র পুষ্ট কাঁচা আমে ব্যবহার করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান ও বহুল প্রচার ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক।
 
২। ফরমালিন : আমের স্বাস্থ্য, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও আয়ু (সেলফ-লাইফ) বৃদ্ধির জন্য কোনো কোনো আম ব্যবসায়ী কাঁচা আমে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে। তবে ব্যবহারের ৫-৭ দিন পর এ ধরনের ফরমালিনের তেমন কোনো প্রভাব থাকে না বলে গবেষকদের অভিমত। অধিকন্তু আমের বাইরের চামড়া বা ছিলকা পুরু হওয়ার কারণে আমের আহার্য অংশে তা প্রবেশ সম্ভবনা খুবই কম। ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ণয়ে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে যে ফরমালডিহাইড টেস্ট মিটার (জেড-৩০০) ব্যবহার করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা নিরূপণে গবেষকরা ব্যবস্থা নেন। ইথোফেন মিশ্রিত পানিতে এবং ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে আম চুবানোর একদিন পর এ টেস্ট মিটার দিয়ে তারা পরীক্ষায় একই ফল দেখতে পান। কাজেই ফরমালডিহাইড মিটার (জেড-৩০০) দিয়ে ফরমালিন মাপা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তাদের অভিমত। প্রকৃত পক্ষে ফরমালিন হলো ৩৭% ফরমালডিহাইড। মানবদেহে প্রতি মিলিলিটার রক্তে প্রকৃতিগতভাবে সর্বোচ্চ ২.৫ মাইক্রোগ্রাম ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মানবদেহে মেটাবিলিজম প্রক্রিয়ায় ফরমালডিহাইড প্রয়োজন। হজম প্রক্রিয়ায় উহা ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয় এবং তা প্রস্রাবের সাথে এবং সামান্য অবশিষ্ট অংশ নিশ্বাসের সাথে কার্বনডাইঅক্সাইড আকারে বের হয়ে যায়। এমনকি তা দেহের চর্বিতে ও জমা থাকে না। ফরমালিন পানিতে দ্রুত গলে বা মিশে যায় এবং কর্পুরের মতো বাতাসে উড়ে যায়। গবেষকেরা বিভিন্ন ফলবাজার ঘুরে সংগৃহীত নমুনায় কোনো ফরমালিনের উপস্থিতি পাননি। তথাপি সন্দেহ হলে আহারের আগে ফলকে পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে একদিন পরে তা আহার করলে নিরাপদ বলে বিবেচিত। তাই আমে ফরমালিনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে যে নানামুনি নানা প্রচারণা ছড়াচ্ছে তা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মাণ হয়।
 
৩। ক্যালসিয়াম কার্বাইড : পরিপক্ব ও অপরিপক্ব উভয় ধরনের আমে কার্বাইড ব্যবহার করলে তাতে ফলের উপরিভাগে পাকা আমের মত রঙ আসে। অপরিপক্ব টমেটোতে ইহা প্রয়োগ করে আগাম পাকানোর প্রচলন দেখা যায়। তবে অপরিপক্ব আমে কার্বাইডের ব্যবহার তেমন একটা লক্ষ করা যায় না। কোনো কোনো অসাধু আম ব্যবসায়ী পরিপক্ব কাঁচা আম ঝুড়িতে রাখার আগে ৫ থেকে ৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে ঝুড়ির তলায় রেখে আম দিয়ে ঝুড়ি ভর্তি করে। এতে ঝুড়ির ভেতর গ্যাস তৈরি হয়। ভেতর গরম হয় এবং আমের গায়ে ঘাম ঝরে। এ আমের ঝুড়ি নির্দিষ্ট বাজারে পৌঁছলে তা খুলে দিলে গ্যাস আকারে (কার্বন মনোঅক্সাইড) উড়ে যায়। মার্চ এপ্রিল মাসে দেশের আগাম জাতগুলো (গোপালভোগ, হিমসাগর, খুদিখিরসা, গোলাপ খাস) অপরিপক্ব থেকে যায়। তবে মে মাসের প্রথম ভাগে সাতক্ষীরা বেল্টের আম থেকে রাজশাহী অঞ্চলে আগাম জাতের আম পরিপক্ব হতে প্রায় ৩ সপ্তাহ বেশী সময় লাগে। তাই আগাম জোনের (সাতক্ষীরা, যশোহর, কুষ্টিয়া) এ ধরনের আগাম জাতের আম মে মাস থেকে এবং রাজশাহী জোনের আম মে মাসের শেষ ভাগে কাঁচা আম পরিপক্ব হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে এসব আগাম জাতের স্থানীয় আম বাজারে পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে তা কার্বাইড দিয়ে পাকানো। কাজেই এ সময়ে বাজারে প্রাপ্ত আম খাওয়া কোনো মতেই ঠিক হবে না। ফল পাকাতে কোনোক্রমেই যেন ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা কার্বাইড ব্যবহার না করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা আনায়ন দরকার। কেননা ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
 
আম শোধনে রাসায়নিক ব্যবহার : গাছ থেকে আম পাড়ার পর আমের কস বা দুধ বের হয়ে গেলে আম শোধন উপযোগী হবে। প্রতি লিটার পানিতে ০.৫৫ মি.লি. ‘প্লোক্লোরাজ’ নামক রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো পানিতে আম ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এভাবে আম শোধনে আমের পচন রোধ হয় ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। অধিকন্তু, আম পাড়া থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত আমের জীবনী (সেলফ লাইফ) ২-৩ সপ্তাহ বজায় থাকে। আম রপ্তানিকারক সব দেশেই এ পদ্ধতির ব্যবহার প্রচলন আছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫-১.০০ গ্রাম ‘বেনোমিল’ নামক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তাতে একইভাবে আম শোধন করা যাবে। এ পদ্ধতিতে আম শোধন ব্যবস্থা ভারতে অতি জনপ্রিয়। অধুনা, কিছু সচেতন আমচাষি ভারত থেকে ‘বেনোমিল’ এনে আম শোধন করে সুফল পেয়ে আসছে।

গরম পানিতে আম শোধন : গরম পানিতে পরিপক্ব কাঁচা আম শোধন করা হলে, আমের গায়ে লেগে থাকা রোগ জীবাণু ও পোকা মুক্ত হবে। গ্রাহকের কাছে অন্য আমের তুলনায় এ শোধিত আমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। মৌসুমে পরিপক্ব পুষ্ট কাঁচা আম গাছ থেকে সাবধানে পেড়ে তা আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর কোন পাত্রে ৫২০- ৫৫০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি (পানিতে হাত ডুবালে সহনীয়মাত্রায়) গরম হলে তাতে পরিষ্কার করা আমগুলো ঠিক ৫ মিনিট রেখে এক সাথে উঠিয়ে নিতে হবে। আমের গা থেকে পানি শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক নিয়মে আমগুলো প্যাকিং করে বাজারজাত করতে হবে। এ ব্যবস্থায় আমের জাতের প্রকারভেদে সাধারণ আমের (নন ট্রিটেট) চেয়ে গরম পানিতে শোধন করা আমের আয়ু (সেলফ লাইফ) ১০ থেকে ১৫ দিন বেড়ে যাবে। তবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ সীমিত পরিমাণ আমের জন্য প্রযোজ্য।
১। ইথোফেন-ইথরেল (২ ক্লোরোইথেন ফসফরিক এসিড) : ইথোফেন একটি প্লান্ট গ্রোথ হরমোন, তবে ইহা পরিপক্ব ফলকে পাকাতে এবং সংরক্ষণে ব্যবহার প্রচলন সারা পৃথিবীতে রয়েছে। গবেষকেরা বিভিন্ন মাত্রায় (২৫০-১০০০০ পিপিএম) ইথোফেন পরিপক্ব কাঁচা আমে স্প্রে করার ২৪ ঘণ্টা পর পুনরায় তার উপস্থিতি মাত্রা নির্ণয় করতে গিয়ে দেখতে পান যে উহা দ্রুত ফলের উপরিভাগ থেকে উড়ে যায়। তবে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা ঋঅঙ/ডঐঙ কর্তৃক নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতা মাত্রার (এমআরএল-২পিপিএম) অনেক নিচে নেমে যায়। তাই ইথোফেন দিয়ে ফল পাকানোর স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই বলে বিজ্ঞানীদের মতামত। তবে আম চাষিরা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার না করে এবং উহা কেবলমাত্র পুষ্ট কাঁচা আমে ব্যবহার করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান ও বহুল প্রচার ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক।
 
২। ফরমালিন : আমের স্বাস্থ্য, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও আয়ু (সেলফ-লাইফ) বৃদ্ধির জন্য কোনো কোনো আম ব্যবসায়ী কাঁচা আমে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে। তবে ব্যবহারের ৫-৭ দিন পর এ ধরনের ফরমালিনের তেমন কোনো প্রভাব থাকে না বলে গবেষকদের অভিমত। অধিকন্তু আমের বাইরের চামড়া বা ছিলকা পুরু হওয়ার কারণে আমের আহার্য অংশে তা প্রবেশ সম্ভবনা খুবই কম। ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ণয়ে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে যে ফরমালডিহাইড টেস্ট মিটার (জেড-৩০০) ব্যবহার করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা নিরূপণে গবেষকরা ব্যবস্থা নেন। ইথোফেন মিশ্রিত পানিতে এবং ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে আম চুবানোর একদিন পর এ টেস্ট মিটার দিয়ে তারা পরীক্ষায় একই ফল দেখতে পান। কাজেই ফরমালডিহাইড মিটার (জেড-৩০০) দিয়ে ফরমালিন মাপা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তাদের অভিমত। প্রকৃত পক্ষে ফরমালিন হলো ৩৭% ফরমালডিহাইড। মানবদেহে প্রতি মিলিলিটার রক্তে প্রকৃতিগতভাবে সর্বোচ্চ ২.৫ মাইক্রোগ্রাম ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মানবদেহে মেটাবিলিজম প্রক্রিয়ায় ফরমালডিহাইড প্রয়োজন। হজম প্রক্রিয়ায় উহা ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয় এবং তা প্রস্রাবের সাথে এবং সামান্য অবশিষ্ট অংশ নিশ্বাসের সাথে কার্বনডাইঅক্সাইড আকারে বের হয়ে যায়। এমনকি তা দেহের চর্বিতে ও জমা থাকে না। ফরমালিন পানিতে দ্রুত গলে বা মিশে যায় এবং কর্পুরের মতো বাতাসে উড়ে যায়। গবেষকেরা বিভিন্ন ফলবাজার ঘুরে সংগৃহীত নমুনায় কোনো ফরমালিনের উপস্থিতি পাননি। তথাপি সন্দেহ হলে আহারের আগে ফলকে পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে একদিন পরে তা আহার করলে নিরাপদ বলে বিবেচিত। তাই আমে ফরমালিনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে যে নানামুনি নানা প্রচারণা ছড়াচ্ছে তা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মাণ হয়।
 
৩। ক্যালসিয়াম কার্বাইড : পরিপক্ব ও অপরিপক্ব উভয় ধরনের আমে কার্বাইড ব্যবহার করলে তাতে ফলের উপরিভাগে পাকা আমের মত রঙ আসে। অপরিপক্ব টমেটোতে ইহা প্রয়োগ করে আগাম পাকানোর প্রচলন দেখা যায়। তবে অপরিপক্ব আমে কার্বাইডের ব্যবহার তেমন একটা লক্ষ করা যায় না। কোনো কোনো অসাধু আম ব্যবসায়ী পরিপক্ব কাঁচা আম ঝুড়িতে রাখার আগে ৫ থেকে ৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে ঝুড়ির তলায় রেখে আম দিয়ে ঝুড়ি ভর্তি করে। এতে ঝুড়ির ভেতর গ্যাস তৈরি হয়। ভেতর গরম হয় এবং আমের গায়ে ঘাম ঝরে। এ আমের ঝুড়ি নির্দিষ্ট বাজারে পৌঁছলে তা খুলে দিলে গ্যাস আকারে (কার্বন মনোঅক্সাইড) উড়ে যায়। মার্চ এপ্রিল মাসে দেশের আগাম জাতগুলো (গোপালভোগ, হিমসাগর, খুদিখিরসা, গোলাপ খাস) অপরিপক্ব থেকে যায়। তবে মে মাসের প্রথম ভাগে সাতক্ষীরা বেল্টের আম থেকে রাজশাহী অঞ্চলে আগাম জাতের আম পরিপক্ব হতে প্রায় ৩ সপ্তাহ বেশী সময় লাগে। তাই আগাম জোনের (সাতক্ষীরা, যশোহর, কুষ্টিয়া) এ ধরনের আগাম জাতের আম মে মাস থেকে এবং রাজশাহী জোনের আম মে মাসের শেষ ভাগে কাঁচা আম পরিপক্ব হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে এসব আগাম জাতের স্থানীয় আম বাজারে পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে তা কার্বাইড দিয়ে পাকানো। কাজেই এ সময়ে বাজারে প্রাপ্ত আম খাওয়া কোনো মতেই ঠিক হবে না। ফল পাকাতে কোনোক্রমেই যেন ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা কার্বাইড ব্যবহার না করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা আনায়ন দরকার। কেননা ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।

দেশজুড়েই চলছে রসালো ফল আম খাওয়ার উৎসব। সেই উৎসবের রং ছড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন আম। ফলে গতকাল সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া আমের উৎসবে মেতে ওঠেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সংসদে কর্মরতদের জন্য আম পাঠান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেককে দুটি করে হিমসাগর জাতের আম দেওয়া হয়। সংসদের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী অঞ্চল থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আমগুলো কিনে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে রাখা হয়। সেখান থেকে সবার মাঝে আম বণ্টন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে এ কর্মযজ্ঞ চলে বিকেল পর্যন্ত। আম বিতরণকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সবাই আম কেনে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্নেহ করে আম উপহার দেন। সবার মাঝে তাই অন্যরকম এক উৎসাহ কাজ করছে। কর্মকর্তারা আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তাঁরা সবাই খুশি। অনেকে গর্ব করে এ নিয়ে গল্পও করছেন।

আগের বছরের তুলনায় এ বছর ভারতের আম রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল সর্ববৃহৎ গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এ মৌসুমে ভারত থেকে আম আমদানি বাতিল করেছে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিশ্ববাজারে ভারত মোট ৪৯ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে। যেখানে ২০১৬-১৭ মৌসুমে রপ্তানি ছিল ৫২ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। হিসাবে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ মৌসুমে দেশটির আম রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ।

ইউএই এবার ভারতের জন্য তাদের আমের বাজার বন্ধ রেখেছে নিপা ভাইরাস আতঙ্কে। গত বছর ভারত শুধু ইউএইতে রপ্তানি করেছে ২৩ হাজার ৫৪২ টন আম। যার মূল্য আসে ২৮.৬১ মিলিয়ন ডলার। বাকি ২৮ হাজার ৪৮৩ টন আম রপ্তানি করে ৩৭.৪৮ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মতে, নিপাহ ভাইরাস প্রাণী ও মানবদেহে মারাত্মক রোগের কারণ। আর এটির বিস্তার ঘটে ফল খাওয়া বাদুড় থেকে। গত মাসে নিপা ভাইরাসের কারণে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় সতর্ক নির্দেশনা জারি করা হয়। ভারতের আম রপ্তানিকারক রাজ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক এবং অন্ধ্র প্রদেশ।

ম্যাংগো গ্রোওয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট এস ইনসারাম আলী বলেন, ‘ইউএই আমদানি বাতিল করায় আমাদের আম রপ্তানি কমেছে। আমরা একটি ব্যাখ্যাও পাঠিয়েছি যে নিপা ভাইরাস কাঁচা আম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না বরং পাকা আমে হয়। কিন্তু আমাদের কাঁচা আমই বেশির ভাগ রপ্তানি হয়। অথচ তারা আমাদের কোনো জবাব দেয়নি।’

শুধু রপ্তানি নয়, ভারতে আম উৎপাদনও কমেছে। উত্তর প্রদেশের ১৪টি অঞ্চলে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন করে আম উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন কম। আলী বলেন, ঝড়ের পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণেও আমের উৎপাদন কমেছে। এ ছাড়া মানুষ আমে ভুল কীটনাশক ছিটিয়েছে, যা কোনো কাজে আসেনি। এ কারণে এ বছর কৃষকদের আয়ও অনেক কমে গেছে। বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

 


ভারত থেকে পাকা আম এবং চার ধরনের সবজি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২৮ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত ১ মে থেকে কার্যকর হবে। এদিকে ভারতের প্রধান রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা ইউরোপে আম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ব্রাসেলসে আবেদন জানিয়েছে। ইইউ এসব ফল ও সবজির চালানে অ-ইউরোপীয় ফলের পোকার (নন-ইউরোপিয়ান ফ্রুট ফ্লাইজ) মতো অবাঞ্ছিত পোকা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে সব ধরনের চালান প্রত্যয়ন ও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। ইইউর এই নিষেধাজ্ঞা এক কোটি ৬০ লাখ টন আমের ওপর প্রভাব ফেলেছে। পৃথিবীর বৃহত্তম আম রপ্তানিকারক দেশ ভারত বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন জাতের ৭০ হাজার টন আম রপ্তানি করে। অবশ্য রপ্তানিকারকেরা বলছে যে উপসাগরীয় এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রেতারা ভারতের আম আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপ ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স (ইআইসিসি) পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের সঙ্গে ২০০৭ সাল থেকে চলে আসা মন্থরগতির মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ইআইসিসির মহাসচিব এই সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ইইউর স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত কমিটি গত মাসে ভারতের ফল ও সবজির ২০৭টি চালানে পোকার উপস্থিতি লক্ষ করে এই পদক্ষেপ নেয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তেতো লাউ ও বেগুনও রয়েছে।
Page 1 of 29