x 
Empty Product

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীতে এটাই সম্ভবত সব থেকে বড় আম গাছ। যা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে এ গাছটিকে ঘিরে প্রতিদিনই ভীর জমাচ্ছে নানা স্থানের পর্যটকরা।

সৃষ্টির অপার রহস্যের এক নিদর্শন হয়ে এই আম গাছটি কেবল ওই অঞ্চলের মানুষের মাঝেই বিস্ময়ক্ষুধা নিবারণ করছে না, আজব এই গাছকে কেন্দ্র করে এখন এই অঞ্চলকে পর্যটন অঞ্চল করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

 

জানা গেছে, এই বৃহত্তম আম গাছটিকে ঘিরে শুধু ওই গ্রামই নয়, পুরো অঞ্চলই নাকি এখন বেশ পরিচিত। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিশালাকার এই আম গাছের খবর এখন দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গেছে দেশ-বিদেশে। ফলশ্রুতিতে প্রতিদিনই আজব এ গাছের দর্শন পেতে হরিণমারী এসে হাজির হচ্ছেন অনুসন্ধিৎসু-ভ্রমণপিপাসুরা।

 

সূত্র বলছে, তিন বিঘা (এক একর) জমি জুড়ে বিস্তৃত এই আম গাছটি ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও এই বৃক্ষকে দর্শনে সড়ক অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা ব্যক্তিবর্গরা। একইসঙ্গে স্থানীয়রা আশা করেন, এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছের খ্যাতি কুড়ানো এই বৃক্ষটি একসময় গিনেজ ওয়ার্ল্ডবুকেও স্থান করে নিবে।

 

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত, বতর্মান ঠাকুরগাঁও জেলায় অন্তর্ভূক্ত  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সীমান্তবর্তী আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী (নয়াপাড়া) গ্রামে দুই শতাব্দির নীরব সাক্ষী এই বৃক্ষের অবস্থান। ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে যার দুরত্ব ত্রিশ কিলোমিটারের বেশি নয়।

 

অতিকায় এই আমগাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সূর্য্যপুরী আম’ গাছ নামে ডাকা হয়। গাছটির প্রায় ১৯ টি বৃহাদাকার শাখা বা ডাল রয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ৮০ ফুট। শাখাগুলোর ব্যসার্ধ ৩০ থেকে ৩৫ ফুট। যুগ যুগ ধরে সম্প্রসারিত হতে থাকা গাছের প্রত্যেকটি ডালের উপর অনায়াসে হাটাচলা করা সম্ভব।

 

 

 

নয়নাভিরাম শোভা ছড়ানো আমগাছটির প্রত্যেকটি শাখা বা ডাল গাছের মূলকান্ড থেকে বের হয়ে ঢেউয়ের মতো আকৃতি ধারণ করে মাটি স্পর্শ করেছে। ডালগুলো মূলকান্ড থেকে বেরিয়ে একটু উপরে উঠেই আবার তা মাটিতে নেমে গেছে। তারপর আবারও উপরে উঠে গেছে।

 

গাছের বর্তমান মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছটি তার জন্মের আনুমানিক দুশ’ বছর পার করে ফেলেছে। হরিণমারীর প্রয়াত শরিফ উদ্দীনরে দুই ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান মোল্যা(৪০) ও মোঃ নুর ইসলাম মোল্যা (৩০) উত্তরাধিকারসূত্রে গাছটির মালিকানা পেয়েছেন।

 

গাছের অন্যতম মালিক নুর ইসলাম জানান, ‘প্রতিবছর এ গাছ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ আম উৎপাদন হয়, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ টাকা।’

 

তিনি জানান, এই বৃহৎ আমগাছটির পাশেই আরো কয়েকটি একই জাতের আমগাছ রয়েছে, যা হুবুহু ওই আমগাছের মতোই ডালপালা বিস্তার করে মাটির সঙ্গে ঢেউ খেলিয়ে আলিঙ্গন করছে। তাদের আশা, অদূর ভবিষ্যতে এই গাছটিও বিশালাকার পাবে ও মানুষের বিস্ময় হয়ে থাকবে।

 

গাছটিকে ঘিরে প্রত্যন্ত এই জনপদ এখন রীতিমতো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একটিবার গাছটিকে দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও  পর্যটকরা আসছেন প্রতিনিয়ত। যার ফলে গাঠের আশাপাশে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ যানবাহন রাখার সু-ব্যবস্থাও!

 

এমনি এক সৌন্দর্য পিপাসু বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারক সম্প্রতি আমগাছটি দেখতে আসেন।

 

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘স্রষ্টার এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি এই আমগাছ। আমগাছটির মূলকান্ড থেকে বেরিয়ে গেছে অনেকগুলো ডাল, যেগুলো একটু উপরে উঠেই আবার মাটিতে নেমে গেছে-তারপর আবারো উঠে গেছে। সত্যি মহান আল্লাহর এ এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি।’

 

‘না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। স্রষ্টা যেন শিল্পীর তুলিতে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মনের মতন করে গাছটিকে একেঁছেন। গাছটিতে হাজার হাজার আম ধরে আছে’-যোগ করেন বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান।

 

তিনি মনে করেন, পৃথিবীতে যা কিছু আশ্চর্য হিসেবে পরিচিত, স্রস্টার সৃষ্টির বিচারে এ আম গাছটিও একটি আশ্চর্যই বটে।

 

আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ স্থানটির প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি পাবে এবং যোগাযোগের জন্য রাস্তাটির উন্নয়ন সাধন করে স্থানীয় প্রশাসন একে ঘিরে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে।’

 

“এধরণের আমের চারা দেশের অন্যান্য স্থানে রোপণ করে আম উৎপাদনে বড় বিপ্লব সাধন করা যায়’ বলেন গাছটি দেখতে আসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উফসী পাট বীজ উৎপাদন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) নারায়ন চন্দ্র সরকার।

 

পীরগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী মোঃ বাদশা আলম বলেন, ‘একটি আমগাছ এত বড় হতে পারে তা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি। এই আমগাছ না দেখলে জীবনের অনেক বড় একটা অপূর্ণতা থেকে যেতো। গাছটি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সদর থেকে দশ কিলোমিটার পশ্চিমে নিভৃত পল্লী হলেও এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল থাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক দর্শনার্থী এই আমগাছটি দেখতে আসেন। এটি এখন এই অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে। এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় এই আমগাছকে দেখতে যে কেউ আসতে পারেন সপরিবারে।
 
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বালিয়াডাঙ্গী পর্যন্তত সরাসরি বাস যোগাযোগ রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থেকে আমগাছ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ইজি বাইক, অটোরিক্সাসহ তিন চাকার ভ্যান রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থেকে আমগাছ পর্যন্ত পৌছাতে সময় লাগবে প্রায় ২০ মিনিট।

উত্তর প্রদেশের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব সাবট্রপিকাল হর্টিকালচার রিসার্চ-এ কাজ করেন এই বিজ্ঞানীরা৷ এই দলের প্রধান নিলিমা গার্গ বললেন, ‘‘পশ্চিমা বিশ্বের আছে আঙ্গুরের সমাহার৷ তাই তারা সেটা দিয়েই মদ তৈরি করে৷ কিন্তু আমাদের আছে হাজার জাতের আম৷ তাই আমরা আম দিয়েই মদ বানানোর চেষ্টা করেছি৷ আশা করছি, ভবিষ্যতে আমের মদ আঙ্গুরের মদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে৷''

একেক আমের স্বাদ একেক ধরণের হওয়ার কারণে মদগুলোর স্বাদও একেক রকমের৷ তবে আমের মদে অ্যালকোহলের পরিমাণ ৮-৯ শতাংশ৷ যেখানে আঙ্গুরের মদে অ্যালকোহলের পরিমাণ হয় সাধারণত ১০-১৫ শতাংশ৷

এদিকে জানা গেছে, পশ্চিম ভারতের দাপোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানিশ কাস্তুর কাজু বাদাম আর কালো জাম থেকে মদ তৈরি করেছেন৷ আর এসব আবিস্কারের পেটেন্টের জন্য তিনি আবেদন করছেন৷ মানিশ বলেন, আঙ্গুরের মদের চেয়ে এসব মদ বেশি স্বাস্থ্যকর৷

উল্লেখ্য, ভারতের মদ তৈরির সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গ্রোভার ও সুলা৷ ইউরোপ থেকে প্রযুক্তি ও মদ কীভাবে বানাতে হয় তা শিখে তারা মদ তৈরি করে থাকেন৷ আর উচ্চহারে করের কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের বিখ্যাত ব্র্যান্ডের মদ নিয়ে ভারতে ঢুকতে চায়না৷

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খর্দ্দোবাউসা গ্রামে আমবাগানের সেই পাখির জন্য ‘বাসাভাড়া’ বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান।
এই টাকা আমবাগানের মালিক ও ইজারাদারদের দেয়া হবে। ফলে আর কেউ বাসা থেকে পাখি তাড়াতে পারবে না। যত দিন ইচ্ছা পাখি এ বাসায় থাকবে। সরকার প্রতি বছর এই ব্যয় বহন করবে। আমবাগানে দলবেঁধে শামুকখোল অতিথি পাখি বাসা বেঁধেছে। গত চার বছর ধরে পাখিরা এই বাগানে বাচ্চা ফোটাতে আসে। বর্ষায় মৌসুমে এসে বাসা বানিয়ে বাচ্চা ফোটায়। শীতের শুরুতে বাচ্চা উড়তে শিখলে আবার তারা বাচ্চা নিয়ে চলে যায়।
এবারও পাখি বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। বাচ্চা এখনো উড়তে শেখেনি। কিন্তু ইজারাদার এ সময় বাগানের পরিচর্যা করতে চান। বাগান মালিক বাসা ভেঙে আম গাছ খালি করতে চান। গত ৩০ অক্টোবর বাগান ইজারাদার একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় পাখি প্রেমী কিছু মানুষ বাগান ইজারাদারকে বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে ইজারাদার পাখি বাসা ছাড়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আরজি জানান সুপ্রিমকোর্টে। আদালত পাখির বাসা না ভাঙতে রুলসহ এক আদেশ জারি করেন। আদেশে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এটিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগান মালিক ও বাগান ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ৩৮টি আম গাছে পাখি বাসা বেঁধেছে। আমের সম্ভাব্য দাম ও পরিচর্যার ব্যয় নিরূপণ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন ঢাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ টাকা বরাদ্দ এলে বাগান মালিক ও ইজারাদারদের দেয়া হবে।