x 
Empty Product

'লুবনা' প্রজাতি মূলত মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলের আম। তবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর মো. সোলায়মান প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন নিলে বাংলাদেশেও এ আম ফলানো সম্ভব। লুবনাসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৪১ জাতের আম আছে তাঁর বাগানে। বাগানে নানা জাতের আম লাগিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, জাত উন্নয়নে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা–নিরীক্ষাও করে চলেছেন।
১৯৯২ সালে সোনাগাজী উপজেলার মুহুরি প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭০ একর জমিতে সোনাগাজী এগ্রো কমপ্লেক্স নামের সমন্বিত খামার প্রতিষ্ঠা করেন মো. সোলায়মান। খামারে মাছ চাষ ও গবাদিপশু পালনের পাশাপাশি কোনো ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত উপায়ে ফলের বাগান করছেন তিনি। বাগানের তিন হাজার আম গাছের মধ্যে এবছর প্রায় দুই হাজার আমগাছে মুকুলে ভরে গেছে । এ ছাড়া বাগানে আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, নারকেল, ড্রাগন ফল,আপেল কুল, ক্যাপসিকাম ,ব্রুকুলী, গাজর,চেরী টমেটো ও জামরুলের চাষও করেছেন তিনি।
সোনাগাজী উপজেলা সদর থেকে ০৯ কিলোমিটার দূরে মুহুরি প্রকল্পের পাশে মো. সোলায়মানের খামারের অবস্থান। প্রকল্পের পাঁচ একর জায়গায় তিনি গড়ে তুলেছেন আমের বাগান। গতকাল তাঁর খামার প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ চাষের জন্য খনন করা বিশাল পুকুরের দুই ধারে আমগাছের সারি। গাছে গাছে ভরে গেছে নানা প্রজাতির আমের মুকুল।
সোলায়মান জানান, খামারে অন্যসব আম গাছের পাশাপাশি প্রায় দুইশত মালয়েশিয়ান বারেমাসি 'লুবনা' আমের গাছ আছে তার বাগানে । ইতোমধ্যে খামারের বারোমাসি লুবনা প্রজাতির আম গুলো পাকতে শুরু করেছে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে বেশিরভাগ গাছের আম সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি আরো জানান ,লুবনা বেশ সুস্বাদু ও সামান্য আশ যুক্ত আম ।পরিপূর্ণ যত্ন পেলে একটি লুবনা আম ৭শ গ্রাম পর্যন্ত হয় এবং এক একটি মাঝারি চারা গাছ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত আম পাওয়া যায়।
সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সোলায়মান বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত বিদেশী প্রজাতির আমের চাষ করেন না। অথচ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে এসব জাতের আম এখানে ভালো ফলবে। তার প্রমাণ আমার এই বাগান।’
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাগানের আমে কোনো ধরনের কীটনাশক নেই। মুকুল আসার দুই মাস আগে একবার মাত্র কীটনাশক ছিটান তিনি। এ ছাড়া গাছে ইউরিয়া সার দেওয়ার পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করেন।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম 'আলোকিত সোনাগাজীকে' জানান মেজর(অব:) সোলায়মান অত্যন্ত দক্ষ একজন আম চাষী, সাধারণত যেসকল জাতের আম এই অঞ্চলে চাষাবাদ করা কষ্ট কর তিনি অত্যন্ত যত্নের সাথে সে আমের চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজন নিয়মিত বাগানের খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। উনার বাগানের আমের গুণগত মান খুব ভালো।