x 
Empty Product

মৌসুমি ফল আম নিয়ে চলছে নানা প্রতারণা। বাজার ছেয়ে গেছে রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত আমে। পাশাপাশি নগরীর কয়েকটি পয়েন্টে রাসায়নিকমুক্ত আমও বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব আমের দাম একটু বেশি। চেনার উপায় না থাকলেও আম কিনতে সচেতন হতে বললেন ব্যবসায়ীরা। সৌন্দর্য না দেখে গুণগত মান বুঝে আম কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিক্রেতারা।
 ব্যবসায়ীরা জানান, রাসায়নিক দ্রব্য 'কার্বাইড' দিয়ে আম পাকানো হচ্ছে। এছাড়া আমের পচন রোধে ব্যবহার হচ্ছে 'ফরমালিন'। এসব মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হলেও এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী আমসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলে দেদারচে মেশাচ্ছে 'কার্বাইড' ও 'ফরমালিন'। ভ্রাম্যমাণ আদালতও ফলের আড়তগুলোতে অভিযান চালিয়ে কোনো প্রতিকার করতে পারছে না।
 চট্টগ্রামের প্রধান ফলের আড়ত রেলওয়ে মেনস্ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী শফিউল আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা থেকে আসছে আম। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মেহেরপুর, চুয়াডাঙা ও কুষ্টিয়া থেকে আসবে। একই সময়ে পাওয়া যাবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম। তবে রাজশাহীর ফজলী আম চট্টগ্রামের বাজারে আসতে আরো এক মাস সময় লাগবে।'
 আড়ত সূত্র জানায়, এখন বাজারে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, মল্লিকা ও আম্রপালি আম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আগামী মাসের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কানসাট, মির্জাপুর এলাকা থেকে আম আসবে। বাজারে দেশি আমের পাশাপাশি আমদানি করা প্রচুর আমও রয়েছে। আমদানি করা আমে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
 রাসায়নিক মিশ্রিত আম প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হাসিনা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত যেকোনো ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম খেলে কিডনি ও লিভার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
 এদিকে মেরিডিয়ান ও ইস্পাহানী গ্রুপ তাদের নিজস্ব বাগান থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন জাতের দেশি আম বাজারজাত করছে। এসব আম রাসায়নিক মিশ্রণমুক্ত। এছাড়া নগরীর কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মির্জাপুর ও নওগাঁ জেলার নিজস্ব বাগান থেকে সরাসরি আম নিয়ে আসছেন চট্টগ্রামে। তারা নগরীর জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, হালিশহর এলাকায় অস্থায়ী স্টলে বিক্রি করছে রাসায়নিক মিশ্রণমুক্ত আম।
 এ প্রসঙ্গে এস কে এগ্রো প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরহাদ উদ্দিন সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে নিজস্ব আমের বাগান থেকে সরাসারি আম নিয়ে আসছি। রাসায়নিক মিশ্রন মুক্ত পণ্যের নিশ্চয়তা দিয়ে আমরা আম বিক্রি করছি। কারণ বাগান থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আম নিয়ে আসায় আমরা এ নিশ্চয়তা দিতে পারছি। এক্ষেত্রে দামটা একটু বেশি।'

দেশের অন্যতম চেইনশপ আগোরারবিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করার পরও ক্রেতাদের সাথে তাদের  প্রতারণা থেমে নেই।
বিভিন্ন অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কনজ্যুমার অ্যাসেসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই ) ভ্রাম্যমাণ আদালত আগোরাকে জরিমানা করলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ঘুম ভাঙছে না।