x 
Empty Product

চাপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে কানসাট আRajshahi Mangoমের বাজার, ছোট সোনা মসজিদ, খঞ্জনদীঘি মসজিদ, ত্বোহাখানা ছাপিয়ে প্রথমেই কেন দরসবাড়ী মসজিদ নিয়ে লিখতে বসলাম সে প্রশ্ন নিজের মনের মনের মধ্যেই একবার উঁকি দিয়েছিল। আবার কল্পনার চোখ মুঁজে যেই না সেই সৌম্যশান্ত রুপ, ভাবগম্ভীর অবয়ব, ঘন সবুজ ঘাসের উপর লোহারঙের মাটিতে রোদের ঝিলিক দেখতে পাই, তখন আর প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে ফেরা হয়ে উঠে না।

ছোট সোনামসজিদ ও বাংলাদেশ ইনডিয়া চেকপোস্ট এর মাঝামাঝি জায়গায় দারসবাড়ীর অবস্থান। রাস্তা থেকে পশ্চিমে এই জায়গাটার নাম ওমরপুর।পুরুষানুক্রমে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাটাকে ‘দারসবাড়ী’ বলে ।

খঞ্জন দিঘী মসজিদ দেখে সোনা মসজিদের দিকে ফিরে আসার সময় রিকসা নিলাম। আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ভর্তি কাদা। রিকসা ওয়ালা মূল রাস্তা থেকে পশ্চিমের কাচা রাস্তায় ঢুকতেই বেকে বসলো। বলল আর সামনে যাবে না। কি আর করা। নেমে হাটা ধরলাম। চিনি না, জানিও না। আশেপাশে কাউকে দেখাও যায় না যে, জানতে চাইবো। নিজের উপর ভরসা করেই হাটা ধরলাম। ডান দিকে আম বাগান । বাম দিকে আম বাগান। রাস্তাটাও আকাবাঁকা। দুপাশেই কোন কিছুর অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছিলাম না। প্রায় ২০ মিনিট হাটার পর একজন লোক পেলাম, তাও রাস্তা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে। নীচু জমিতে ছোট একটা আম গাছের মাথায় বসে গাছের কলম তৈরী করছে। নেমে গিয়ে জানতে চাইলাম দারস বাড়ির কথা। আঙুল সামনে নিয়ে আমার পেছনের দিকে দেখিয়ে বললেন ওই তো। আমি পেছনে তাকিয়ে রাস্তা পার করে আরো পেছনে তাকাই। হুম দেখা যাচ্ছে লাল ইটের অস্তিত্ব। নিজেকে ধমক মারলাম তখনই ডান দিকে না তাকিয়ে কেন এতদূর হেটে আসলাম। খুব ক্লান্ত লাগছিল। ভীষণ রোদ, সাথে পানির তেষ্টা। ব্যাগের ভেতর রাখা দুটো পানির বোতল সেই কখন শেষ। আশে পাশে দোকান বা বাড়িঘর দেখতে পাইনি যে পানি খাব। দারস বাড়ি মসজিদ মাটির রাস্তা থেকে সামান্য ভেতরে। ডান দিকে মোড় ঘুরতেই আরো ডানে ছোট্ট একটা পুকুরের মতো। খুব ছোটও না, আবার বড়ও না। পানি কম কিন্তু সবুজ টলটলে পরিষ্কার। ওটা পার হয়ে বামে তাকালেই উঁচু ভিটাতে সবুজ ঘাসের উপর দারস বাড়ি মসজিদ। এক পলক দেখার পর আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকার পালা। ছবি তুলতে তুলতে সামনে এগিয়ে গেলাম। সম্পূর্ন পরিত্যাক্ত কিন্ত অসম্ভব সুন্দর। আসলেই অসম্ভব সুন্দর। ছাদ নেই মসজিদটার। পাথরের পিলারগুলো পড়ে আছে। কোনটা খাড়া দাঁডিয়ে আছে, বেশীরভাগই ভাঙ্গা। বারান্দার পিলারগুলো ধ্বংস প্রায়।

কিন্তু পাথরের মধ্যেও অপূর্ব কারুকার্য এখনো পরিষ্কার। পাথরের গায়ে ঠিক হুবুহু একই কারুকার্য দেখেছিলাম সিরাজগঞ্জের শাহ মখদুম শাহী (রা: ) এর মাযার সংলগ্ন মসজিদে।

এখানে দেখলাম অন্যান্য পুরনো মসজিদগুলার মতো এটি বর্গাকার না। দারস বাড়ি মসজিদ আয়তাকার। তিনভাগে ভাগ করা। উত্তরের অংশটায় অন্য দুই অংশের চেয়ে মোটা পাথরের পিলার। মেহরাবের আকৃতির। অল্প অভিজ্ঞতায় অনুমান করলাম এই অংশে দোতলা ছিল। মহিলাদের নামাযের ব্যবস্থার জন্য। দেয়ালগুলো এখনও মজবুত। চমৎকার দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যে ভরা, একেবারে পুরো দেয়াল জুড়ে। রোদের আলোয় চকচকে রঙে সবুজ মেঝেতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পুরনো ঐতিহ্যের অহংকারে আর মসজিদের পবিত্রতায় বুকের ভেতর কেমন করে। ছবি তোলা ভুলেই গেলাম মুহুর্তের জন্য। হটাৎ জানি না কেন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়ল। মুহুর্তের সিদ্ধান্তে পাশের পুকুরটায় অযু করে দু’রাকাত নফল নামায পড়লাম। এত ভালো লাগল। ভেতরটা একেবারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ঘন গাঢ় সবুজ ঘাসে ভরা। বুঝা যায় লোকজন এখানে খুব কম আসে।

ঢাকায় ফিরে এসে যথারীতি খোঁজ লাগালাম নেট, পাবলিক লাইব্রেরী আর চাপাইনবগঞ্জ থেকে কেনা ‘গৌড় থেকে চাঁপাই’ ও ‘চাপাইনবগঞ্জের ইতিহাস’ বইয়ে। খুব বেশী কিছু পেলাম না। আরো হতাশ হলাম। খুব মন খারাপ হল। এসব ইতিহাস কি কোথাও লেখা নেই? এভাবেই কি হারিয়ে যাবে সব? যতটুকু খুঁজে পেলাম তা হল, দারস বাড়ির মূল নাম দর্সবাড়ি। দর্স অর্থ পাঠ। একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল সেখানে। মাদ্রাসাটার অস্তিত্ব এখনও আছে, সেটা পরে বলছি। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্যার কানিংহ্যাম এর ভাষ্যও একইরকম। তো এই তথ্য অনুযায়ী মসজিদটার বয়স ৫৩১ বছর।


মসজিদ এর আয়তন লম্বায় ১০০ ফুট, পার্শ্বে ৩৫ ফুটের চেয়ে একটু কম। পূব পার্শ্বের বারান্দাও ১১ ফুটের একটু কম। এ মসজিদটিও বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্যের কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এখানে প্রাপ্ত ভোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। লিপিটির দৈর্ঘের কারণে নাকি একে দু’ভাগ করতে হয়েছে। লিপির অর্থ হচ্ছে- ‘‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই সব মসজিদ আল্লাহর, সুতরাং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নবীও বলেছেন, আল্লাহর জন্য যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তে অনুরূপ একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন। এই জামে মসজিদ ন্যায় পরায়ণ ও মহান সুলতান, জনগণ ও জাতি সমূহের প্রভু, সুলতানের পুত্র সুলতান, তাঁর পুত্র সুলতানের পুত্র শামসুদ্দুনীয়া ওয়াদ্দীন আবুল মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহ সুলতান, পিতা মাহমুদ শাহ সুলতান কর্তৃক নির্মিত। আল্লাহ তার শাসন ও সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী করুন এবং তার উদারতা ও উপচিকীর্ষা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। তারিখ ৮৮৪ হিঃ’’। একটা রেফারেন্সে পেলাম কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত এই লিপিটার ক্রম নম্বর -৩১৩৯।


মসজিদ থেকে ফেরার পথে হাতের বাম পাশেই আবার আমবাগান। আমবাগানের ভেতর দিয়েই পায়ে চলা পথ। বাগানের ভেতর দিয়ে এগুতেই সামনে সাদা রং করা একটা দেয়াল চোখে পড়ল। আরেকটু সামনে গেলেই দেখলাম ওটা একটা বাউন্ডারি ওয়াল। বিস্তর জায়গা নিয়ে ঘেরা। উচ্চতা খুব বেশী নয়। ৪/৫ ফুট হবে। দরজা ছোট। কোন গেট নেই। খোলা। দূর থেকেই লাল ইট চোখে পড়তেই উৎসাহ বেড়ে গেল। তখনও ভাবিনি একটু পরেই আমার জন্য বিস্ময় অপেক্ষা করছে। বাউন্ডারীর ভেতরে একেবারে কুমিল্লার ময়নামতি বিহারের চার পার্শ্বের কক্ষগুলোর মতো। আবার অনেকটা পাহাড়পুরেও মতো। খোপ খোপ কক্ষের আকৃতি। পুরোটাই বর্গাকার। চারদিকেই প্রবেশপথ। উত্তর দিকের পথ আটকানো। তিনদিক খোলা। বর্গাকার স্থাপনাটার ঠিক মাঝখানে আরেকটা বর্গাকার বেদী। এটাই দরসবাড়ি মাদ্রাসা। ধারণা করা হয় দরস বাড়ি মাদ্রাসা আর দরসবাড়ি মসজিদ একই কপাউন্ডের মধ্যেই ছিল। কালের বিবর্তনে মাঝখানটায় মাটি ভরাট হয়ে, খানাখন্দে এখন দুটো আলাদা হয়ে আছে। আর মসজিদটা ছাদ ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকলেও মাদ্রাসাটা ধ্বংসের মুখে। শুধু চারফুটের মতো মাটির উপর। ধারণা করা হয় ১৮৯৭ সালের প্রবল ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় দারস বাড়ি মাদ্রাসা। এর পরে আর এর মেরামত করা হয়নি।


এই সব পুরনো স্থাপনা, এপিগ্রাফ অর্থ্যাৎ উৎকীর্ণ লিপি, নিউমিজম্যাটিক্স আর স্থাপত্যবিদ্যার নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স কানিংহ্যাম। বিশেষ করে দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা আর নারায়নগঞ্জ নিয়ে বিস্তর কাজ করেছেন স্যার আলেক্সান্দার কানিংহ্যাম। এই দারস বাড়ি মাদ্রাসা আর সমজিদের বিবরণ পাওয়া গেছে তার অন্যতম ডকুমেন্টারী ‘দ্যা এনসিয়েন্ট জিওগ্রাফী অফ ইন্ডিয়া’ বইটাতে। স্যার কানিংহ্যাম বাংলাদেশের এইসব জায়গাগুলো চষে বেড়িয়েছেন ১৮৭৯-৮০ সালে। স্কটল্যান্ডের এই মনীষাকে বলা হয় ইন্ডিয়ার স্থাপত্যবিদ্যার ‘ফাদার এন্ড ফাউন্ডার’। এই দারস বাড়ি মাদ্রাসাকে কানিংহ্যাম উল্লেখ করেছেন কলেজ হিসেবে। পুরনো স্থাপত্য আবিস্কার এবং সংরক্ষণে পাইওনিয়ার স্যার আলেক্সান্দার কানিংহ্যামের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বুঝা যায় সেসময় এটি ছিল অন্যতম একটি শিক্ষাকেন্দ্র অথবা ছাত্রাবাস। এখনকার আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর মতো।


এ দুটো জায়গা নিয়ে আরো বিস্তর লেখাপড়া প্রয়োজন। রেফারেন্স প্রয়োজন। আমি জানি না আছে কি না। কারো কাছে থাকলে জানাবেন। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এ দুটো জায়গা সঠিকভাবে সংরক্ষণের। যতটুকু দেখলাম এ দুটো জায়গাই পুরাকীর্তি বিভাগের আওতায় নয়। দারস বাড়ি মসজিদ থেকে বাগানের ভেতর দিয়ে মাদ্রাসায় আসার পথে তিনজন লোকের দেখা পেয়েছিলাম। বাগান পাহারা দিচ্ছিল। তাদের কাছেও শুনলাম সরকারী কোন লোকজন এদিকটায় আসে না। তখনই কনফার্ম হলাম ...

দারস বাড়ি মসজিদ আর দারস বাড়ি মাদ্রাসা পেছনে ফেলে যখন মূল রাস্তা ধরলাম, সূর্য্য একেবারে মাথার উপর। গরমে ঘামে আমার জামা একশেষ। কিন্তু মনে দারুন তৃপ্তি। পানির তেষ্টার কথা এতক্ষন একদম ভুলে গিয়েছিলাম। রাস্তায় উঠে মনে পড়ে গেল। নাই দোকান, নাই রিকসা। দূর থেকে আসতে দেখলাম এক আজব গাড়ি। ঢাকার ভ্যানগাড়ীর মতো। কিন্তু মটর লাগানো। ওটায় চড়ে রওনা হলাম ত্বোহাখানার উদ্দেশ্যে। ওখানেই হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ (রাহ : ) এর মাযার এবং মসজিদ। সোনা মসজিদের আগেই রাস্তার ডান দিকে যেতে হবে।

সেখানে গিয়েই পানি খেলাম পেট ভরে .....
তারপর অসাধারণ আরেক স্থাপনা আর পরতে পরতে গল্পগাঁথা .....

ফজলি আমের ভারে গাছটি এমন ন্যূব্জ হয়ে পড়েছে যে, ঘাসের ওপর শুয়েও আম মুখে নেওয়া যাবে। আর আমবাগানে বসে যদি আমের রসে দু’হাত লেপ্টে মুখ ভরিয়ে নেওয়া যায়, তবে ফলের রাজার সত্যিকারের স্বাদ পাওয়া যায়।

ফলের রাজার রাজ্য ঘুরতেই চাপাইনবাবগঞ্জে যাওয়া। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাটবাজারগুলোতে এখন আমের জমজমাট ব্যবসা। বিভিন্ন জাতের ও বিভিন্ন স্বাদের রসালো আমের গন্ধে ভরে আছে এ সব বাজার।

আমবাগানে গেলেই যে আম কুড়োনো যাবে, সেটা কিন্তু সত্যি নয়। বাগান মালিকের অনুমতি না নিয়ে আম ছেঁড়াটা ভয়ানক অপরাধ!

আর এ জন্যই বাগানগুলোতে সাধ্যমতো দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের প্রাচীর। পাহারাও দিচ্ছে নিয়োগ দেওয়া প্রহরীরা।

বাগানের ভিন্ন ভিন্ন দিকে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির আম। শিবগঞ্জ বাজারের পশ্চিমের একটি বাগানে প্রবেশ করে দেখা যায়, গাছগুলো ঝুঁকে পড়েছে আমের ভারে। বিভিন্ন ওজনের ও আকৃতির আম রয়েছে বাগানে। বাঁশ দিয়ে ঠেলা দিয়ে রাখা হয়েছে বেশি নুয়ে পড়া ডালগুলোকে।

কত রকম আর প্রকারের আম! বাগানের চাষী রফিক বাংলানিউজকে জানান, ইতোমধ্যে, গোপালভোগ আম শেষ হয়ে এসেছে। ল্যাংড়া আর হিমসাগরও শেষের দিকে। এখন ফজলি আর সুরমা ফজলি আমের মৌসুম।

বছরের এ সময়ে লাখ মানুষের কর্মব্যস্ততা আর প্রাণচঞ্চলতায় মুখরিত গোটা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আম কিনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত কানসাট।
 
এলকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার শিবগঞ্জ, সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এবং নাচোল উপজেলার আমবাগান থেকে শুরু করে হাট পর্যন্ত আমের উৎসব লেগেই আছে। ল্যাংড়া, লণভোগ, রিসাপাত, মিছরিদানা, কালীভোগ, বৃন্দাবনীসহ বিভিন্ন স্বাদের গুটি আম পুরোদমে কেনাবেচা হচ্ছে।

ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও কুরিয়ার সার্ভিসে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চলে যাচ্ছে দূর-দূরান্তে। রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যে সব ট্রেন ছেড়ে আসছে, সেগুলোতেও ঝাঁপিভর্তি আম।  
 
কানসাট বাজারের আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন সারা বছরই আমের বেচাকেনা চলে। আমের লাভও ভালো।

মুরিদপুরের আম ব্যবসায়ী জিহাদ বাংলানিউজকে বলেন, “অন্যান্য ফসল আবাদে যে পরিমাণ খরচ হয়, আম ফলাতে সে তুলনায় খরচ কম। গাছ ও আমবাগানের পরিচর্যাসহ রোগবালাই দমনেও খরচ পড়ে কম।”

আমের আড়ৎদার আফতাবউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, “আমের উৎপাদন এখন আর মৌসুমের ওপর নির্ভর করে না। কারণ, আগের তুলনায় আমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সারাবছর আমগাছ ও আমবাগানের পরিচর্যা করেন ব্যবসায়ীরা। বাগানের ক্রেতাদের পরিচর্যায় ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ।”
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগান মালিক, আম চাষী, ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতারা আম বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন।

ব্যাংক থেকে শুরু করে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়ে এ সময়টায়। আমের মৌসুমে তাদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়।

আমের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য-সামগ্রীর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোও চাঙা হয়ে ওঠে। নিয়মিত হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর পাশাপাশি গড়ে ওঠে নতুন নতুন অস্থায়ী খাবার দোকান।

এখনকার পুরো অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন আম। গাছ থেকে আম পেড়ে আড়তে নিয়ে এসে টুকরিজাত (বাঁশের ঝুড়ি) করে ট্রাকে লোড দেয় নির্দিষ্ট শ্রমিকেরা। আরেক শ্রেণীর শ্রমিক টুকরি বানান। আবার এসব টুকরির জন্য জেলার বাইরে থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে টুকরির মালিকদের কাছে বিক্রি করেন অনেকেই।

তবে বর্তমানে টুকরির বদলে ক্যারেটও ব্যবহৃত হচ্ছে। গোটা মৌসুম জুড়ে আমবাগান মালিক ও আম চাষীদের পাশাপাশি এক শ্রেণীর মানুষ আম বেচাকেনা করে রোজগারের পথ সৃষ্টি করেন।

সে সঙ্গে ফড়িয়ারাও এ সময় দু’পয়সা ইনকাম করেন। বাগান থেকে আম পরিবহন করে বাজারে বা আড়তে পৌঁছে দিতে রিকশা-ভ্যানচালকেরা এ সময় বেকার থাকেন না। বাস-ট্রাকগুলো বেশি ভাড়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভিন্ন জেলায় আম পৌঁছে দেয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সাধুরঘাট, পৌর মার্কেট, রাণীহাটি, মহারাজপুর, মল্লিকপুরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আমের আড়ৎ।

কানসাটে আম ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম, আব্দুল খালেকসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ল্যাংড়া প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে, দুই হাজার পাঁচশ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় ও গুটি আম এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় পর্যন্ত। ফজলি আর সুরমা ফজলি বিক্রি হচ্ছে, প্রতি মণ এক হাজার পাঁচশ থেকে দুই হাজার টাকায়।  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ২৩ হাজার ৭০ হেক্টর আমবাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে চাঁপাই সদর উপজেলায় তিন হাজার সাতশ ৮০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় দুই হাজার আটশ ৫৫ হেক্টর, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার সাতশ ৮৫ হেক্টর, ভোলাহাট উপজেলায় দুই হাজার হেক্টর এবং নাচোল উপজেলায় এক হাজার ছয়শ ৫০ হেক্টর এবং আম গাছ রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ১৪ হাজার নয়শটি।

রাজশাহী বিভাগে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আম বাগানের প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য পরিবহন ধর্মঘটের কারনে অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রতিদিনই কয়েকশ ট্রাক আম নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। পরিবহন ধর্মঘটে ফলে তা বন্ধ আছে। যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে,কমেছে আমের দাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় আমের বাজার শিবগঞ্জের কানসার্টে আমের দাম কমে গেছে, কানসার্টের আম ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান রোববার বাজারে খিরসা আম ৩৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও আজ সোমবার তা ২৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। কানসার্ট বাজারের রুবেলের মত একই অবস্থা অন্য আম ব্যবসায়ীদের। বাজারে  পর্যপ্ত আম থাকায় দাম কমেছে, ল্যাংড়া আম (পাকা) রোববার ২৪০০-২৫০০ টাকা মন বিক্রি হলেও সোমবার বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৭০০ টাকা, কাচা ল্যাংড়া আম  ২২০০ টাকা মন থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। ফজলী পাকা ২৩০০-২৪০০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকায় অন্যদিকে কাঁচা ফজলি ২১০০ টাকা থেকে কমে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই নিয়ে কানসার্ট আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান পরিবহন ধর্মঘটে প্রায় ২ শতাধিক ট্রাক আটকে আছে। আর এই সব ট্রাক গন্তব্যে না যেতে পারলে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি তি হবে। যদি ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হয় তবে তির পরিমান আরো বাড়বে। জেলার অন্য বাজার গুলোতে দামের কিছুটা হেরফের হলেও সবখানেই দাম কমেছে। আর এই দাম কমায় ক্রেতারা খুশি,চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজারে আশা আলিউজ জামান নুর জানান আমের দাম কমায় ২০ কেজি আম নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। অনেকেই এই সুযোগে কিছুটা কম দামে আম কিনেছেন।
এই নিয়ে  চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক কুরিয়ার সার্ভিসের পার্শেল ইনচার্জ জানান তাদের শাখা থেকে প্রতিদিন গড়ে  ১ হাজার ঝুড়ি আম দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য বুকিং হত।  পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আম বুকিং বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। আর এতে প্রিয়জনের কাছে আম পাঠানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এই নিয়ে কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান এবছর আমের উৎপাদন ভাল হয়েছে. সঠিক ভাবে আম পরিবহন ও বাজারজাত করতে পারলে আর্থিক ভাবে লাভবান হবে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এেেত্র আম ব্যবসার স্বার্থে আমাদের সকলকেই সহযোগিতা করা উচিত।
আব্দুর রব নাহিদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ: রাজশাহী বিভাগে সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আম বাগানের প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য পরিবহন ধর্মঘটের কারনে অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রতিদিনই কয়েকশ ট্রাক আম নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। পরিবহন ধর্মঘটে ফলে তা বন্ধ আছে। যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে,কমেছে আমের দাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় আমের বাজার শিবগঞ্জের কানসার্টে আমের দাম কমে গেছে, কানসার্টের আম ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন জানান রোববার বাজারে খিরসা আম ৩৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও আজ সোমবার তা ২৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। কানসার্ট বাজারের রুবেলের মত একই অবস্থা অন্য আম ব্যবসায়ীদের। বাজারে  পর্যপ্ত আম থাকায় দাম কমেছে, ল্যাংড়া আম (পাকা) রোববার ২৪০০-২৫০০ টাকা মন বিক্রি হলেও সোমবার বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৭০০ টাকা, কাচা ল্যাংড়া আম  ২২০০ টাকা মন থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। ফজলী পাকা ২৩০০-২৪০০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকায় অন্যদিকে কাঁচা ফজলি ২১০০ টাকা থেকে কমে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই নিয়ে কানসার্ট আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান পরিবহন ধর্মঘটে প্রায় ২ শতাধিক ট্রাক আটকে আছে। আর এই সব ট্রাক গন্তব্যে না যেতে পারলে প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি তি হবে। যদি ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হয় তবে তির পরিমান আরো বাড়বে। জেলার অন্য বাজার গুলোতে দামের কিছুটা হেরফের হলেও সবখানেই দাম কমেছে। আর এই দাম কমায় ক্রেতারা খুশি,চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজারে আশা আলিউজ জামান নুর জানান আমের দাম কমায় ২০ কেজি আম নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। অনেকেই এই সুযোগে কিছুটা কম দামে আম কিনেছেন।
এই নিয়ে  চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক কুরিয়ার সার্ভিসের পার্শেল ইনচার্জ জানান তাদের শাখা থেকে প্রতিদিন গড়ে  ১ হাজার ঝুড়ি আম দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য বুকিং হত।  পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আম বুকিং বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি। আর এতে প্রিয়জনের কাছে আম পাঠানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এই নিয়ে কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান এবছর আমের উৎপাদন ভাল হয়েছে. সঠিক ভাবে আম পরিবহন ও বাজারজাত করতে পারলে আর্থিক ভাবে লাভবান হবে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এেেত্র আম ব্যবসার স্বার্থে আমাদের সকলকেই সহযোগিতা করা উচিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট। নানান কারণে জায়গাটি সবার কাছে পরিচিত। তবে আমের মৌসুমে এ জায়গাটি একেবারে বদলে যায়। এত ঘন আর বেশি আমের বাগান দেশের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় আমের হাটটিও বসে এখানে। কানসাটে এখনই আমের ভরা মৌসুম। দু-একদিনের সময় নিয়ে তাই বেরিয়ে পড়তে পারেন কানসাটের উদ্দেশ্যে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পর মহানন্দা সেতু পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ চললেই শিবগঞ্জ উপজেলার শুরু। এখান থেকেই মূলত ঘন আমের বাগান শুরু। মাইলের পর মাইল বাগান আর বাগান। সব বাগানেই এখন কম বেশি আম। কোনো কোনো বাগানে কৃষকেরা ব্যস্ত আম পাড়ায়। কোথাও কোথাও চোখে পড়বে বাগানে আম পেড়ে বাজারে নেওয়ার প্রস্তুতি।

শিবগঞ্জ থেকে কানসাটের দিকে এগোতে এগোতে আম চাষিদের ব্যস্ততা বেশি চোখে পড়বে। সাইকেলের দুই পাশে চার মনেরও বেশি আম বোঝাই করে সারি সারি সাইকেলের কানসাটের দিকে এগিয়ে চলা দেখতে ভালোই লাগবে। এ সময়ে বাজারের পরিধি এত বেশি বেড়ে যায় যে, বাজারের প্রায় দুই কিলোমিটার আগ পর্যন্ত আম নিয়ে দাঁড়িয়ে যান কৃষকরা। বাজারে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আম নিয়ে তাই সড়কের উপরেই বসে পড়েন অনেকেই।

তবে বাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটা বাজারের মধ্যকার মাদ্রসার পেছনের মাঠটি। বড়সড় খোলা মাঠ। পুরো মাঠ রিকশা ভ্যানে ভরা। ভ্যানের উপরে ঝুড়ি ভর্তি আম। একের পর এক আম বোঝাই ভ্যান আসতে থাকে বাজারে। কেউ কেউ আবার বিক্রি শেষে ভ্যান নিয়ে ছোটেন আড়তের দিকে। উপর থেকে দেখলে পুরো বাজারটি সবুজ আর সবুজ। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সারাদিন বাজার থাকলেও বেশি ব্যস্ততা থাকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত। পুরো বাজার ক্রেতা-বিক্রেতায় গিজগিজ। বাজার ছেড়ে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের দিকে যেতেও প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সকালবেলা সড়কের উপরে বাজার বসে।

কানসাট বাজার থেকে সোনামসজিদের দিকে যেতেও সড়কের দুই পাশে শুধু আম বাগান আর আম বাগান। পছন্দসই যেকোনো বাগানেই ঢুকে পড়তে পারেন। এ এলাকার বেশিরভাগ বাগানই বেশ পুরোনো। আবার বেশিরভাগ গাছের ডালই আমের ভারে মাটি ছুঁই ছুঁই। সব বাগানেই আছে পাহারা চৌকি। আমের মৌসুমে পরিবারের সদস্যরা পালা করে বাগান পাহারা দেন। দিনের বেলায় মহিলা আর শিশুরা পাহারায় থাকলেও রাতে দায়িত্ব আসে পুরুষদের উপরে। আম গাছের ছায়ায় এসব টং ঘরগুলোতে দুদণ্ড জিরিয়েও নিতে পারেন।

সারাদিন বাজার আর বাগান ঘুরে হাতে সময় থাকলে যেতে পারেন অন্য কোথাও। কানসাট বাজারের কাছেই প্রাচীন গৌড়ের নানান স্থাপনা, আছে সোনামসজিদ স্থল বন্দরও। বাজার থেকে এর দূরত্ব প্রায় বারো কিলোমিটার। তবে জায়গাটিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেখে যেতে পারেন প্রাচীন গৌড়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ। সোনামসজিদ ছেড়ে সামান্য সামনে সড়কের পশ্চিম পাশে আছে ঐতিহাসিক তাহখানা, শাহ নিয়ামত উল্লাহর মসজিদ, মাজার ইত্যাদি। এ ছাড়া এখান থেকে সামান্য সামনেই প্রত্নস্থল দারসবাড়ি মাদ্রাসা ও মসজিদ। আরও সামনে সড়কের পূর্ব পাশে আম বাগানের ভেতরে আরও দুটি প্রাচীন স্থাপনা খনিয়াদিঘি মসজিদ ও ধুনিচক মসজিদ।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি যেতে পারেন কানসাট। ঢাকা কল্যাণপুর থেকে সরাসরি কানসাট যায় দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, রুপালি পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন। ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া যেকোনো বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে এসে সেখান থেকেও কানসাট আসতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

কানসাটে থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই রাতযাপন করতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে। এ শহরে সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে। শহরের শান্তি মোড়ে হোটেল আল নাহিদ, আরামবাগে হোটেল স্বপ্নপুরী, লাখেরাজপাড়ায় হোটেল রাজ ও হোটেল রংধনু ইত্যাদি। এসব হোটেলে ৪০০-১৫০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে।

  •  Start 
  •  Prev 
  •  1 
  •  2 
  •  Next 
  •  End