x 
Empty Product

আমাদের দেশে আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় কম বেশি আম উৎপন্ন হয়। ভালো জাতের আমের স্বাদ ও গন্ধ এতই আকর্ষণীয় যে এর সঙ্গে অন্য কোনো ফলের তুলনা হয় না। পুষ্টিমানের দিক দিয়েও আমের স্থান অতি উচ্চে। আমের মতো এত বেশি ক্যারোটিন  অন্য কোনো ফলে পাওয়া যায় না। আম একটি পচনশীল ফল। আম সংগ্রহের সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উভয়ই বেশি থাকায় আম পচা ত্বরান্বিত হয়। সেজন্য বাজার থেকে আম কেনার পর দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই আম পচে যায়। আমাদের দেশে উৎপাদিত আমের সংগ্রহোত্তর নষ্ট হওয়ার হার প্রায় ২৭ শতাংশ। ২০০২-০৩ সনে দেশে প্রায় ২.৪৩ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ০.৬৬ লাখ টন আম নষ্ট হয়েছে। প্রধানত বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানত্রাকনোসের কারণে এই বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়। তাছাড়া অপরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহ করা, পরিবহনের জন্য ত্রুটিপূর্ণ আধার ব্যবহার করা, গাছ থেকে সংগ্রহের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া ঠিকমতো না করা প্রভৃতি কারণেও আম নষ্ট হয়। গবেষণাগারে পরীা করে দেখা গেছে ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার গরম পানিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট ধরে আম শোধন করলে বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানথ্রাকনোস দমন হয়  গবেষণাগারের পরীার এই ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের কৃষি যন্ত্রপাতি ও শস্য সংগ্রহোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল বিভাগের বিজ্ঞানীগণ ২০০৬ সনে গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। যন্ত্রটিতে লোহার শিট দিয়ে ১০ ফুট লম্বা, ৩.৩৩ ফুট চওড়া এবং ১.৮৭ ফুট উচ্চতার একটি পানির ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। তার বাইরে এক ইঞ্চি পুরু কর্ক শিট আটকানো হয়েছে পানির তাপ নিরোধ করার জন্য। পানির ট্যাঙ্কের ভেতরের দিকের গায়ে ৩ কিলোওয়াট মতার ৬টি বৈদ্যুতিক হিটার লাগানো হয়েছে। এগুলো একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্যানেলের সাথে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখা যায়। ট্যাঙ্কের তলায় লোহার পাইপ নির্মিত রোলার প্রস্থ বরাবর লাগানো আছে। মোটরের মতা ০.৭৫ কিলোওয়াট । এটি দিয়ে রোলার পাইপ ও নাড়ুনি ঘোড়ানো হয়। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ২০ কিলোওয়াট শক্তি প্রয়োজন। আম শোধনের জন্য পানির ট্যাঙ্কে প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি ভরে হিটার ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেট করা হয়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পানির তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রিতে ওঠে। তখন রোলার চালানোর জন্য মোটর চালু করা হয়। আম ভর্তি প্লাস্টিকের জুড়ি প্লান্টের এক প্রান্তে পানির মধ্য দিয়ে রোলারের উপর বসিয়ে দেয়া হয়। ঝুড়িটি সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের অন্য প্রান্তের দিকে চলা শুরু করে। পুনরায় আম ভর্তি ঝুড়ি রোলারের উপর বসানো হয়। এভাবে অনবরত আম ভর্তি ঝুড়ি বসানো হয়। বসানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ঝুড়ি অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আম ভর্তি ঝুড়ি তখন অন্য প্রান্ত থেকে তুলে আম শুকানোর জন্য রাখা প্লাস্টিক শিটের উপর ছড়িয়ে দেয়া হয়। বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে সদ্য শোধনকৃত আম শুকিয়ে প্যাকিং করা হয়। আম শুকানোর জন্য দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে। যন্ত্রটির মূল্য প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। এটি আম ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি কেজি আম শোধনের খরচ পড়ে মাত্র ০.১৭ টাকা। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে আমের অপচয় রোধ হবে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম নষ্ট হয় বলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে আম বিক্রি করেন। অপচয় রোধ হলে কৃষকদের বর্তমানের চেয়ে বেশি দামে আম বিক্রয় করার এবং ক্রেতাদের কম মূল্যে আম ক্রয় করার সম্ভাবনা থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিরা বেশি দাম দিয়ে হলেও এ দেশে উৎপাদিত গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি প্রভৃতি জাতের আম কিনতে আগ্রহী। কিন্তু বাজার থেকে আম কেনার দু’চার দিনের মধ্যে আম পচে যায় বলে রপ্তানিকারকরা আম রপ্তানি করতে আগ্রহী হন না। নতুন উদ্ভাবিত আম শোধন যন্ত্র দিয়ে শোধন করে, পলিইথাইলিন ফোম নেট দিয়ে মুড়িয়ে এবং রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত কার্টুন ব্যবহার করে এ সমস্যা দূর করা যায়।

*মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, এফ এম পি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর

 

আম সংগ্রহের সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় আম দ্রুত পচে যায়। সেজন্য বাজার থেকে আম কেনার পর দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই আম পচে যায়। আমাদের দেশে উৎপাদিত আম সংগ্রহের পর নষ্ট হওয়ার হার প্রায় ২৭ শতাংশ। প্রধানত বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানত্রাকনোসের কারণে এই বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়। তাছাড়া অপরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহ করা, পরিবহনের জন্য ত্রুটিপূর্ণ আধার ব্যবহার করা, গাছ থেকে সংগ্রহের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া ঠিকমতো না করা প্রভৃতি কারণেও আম নষ্ট হয়।
 দেখা গেছে ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার গরম পানিতে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ধরে আম শোধন করলে বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানথ্রাকনোস দমন হয়। গবেষণাগারের পরীক্ষার এই ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের কৃষি যন্ত্রপাতি ও শস্য সংগ্রহোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল বিভাগের বিজ্ঞানীরা ২০০৬ সালে গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন।
 যন্ত্রটিতে লোহার শিট দিয়ে ১০ ফুট লম্বা, ৩ দশমিক ৩৩ ফুট চওড়া এবং ১ দশমিক ৮৭ ফুট উচ্চতার একটি পানির ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে। তার বাইরে এক ইঞ্চি পুরু কর্ক শিট আটকানো হয়েছে পানির তাপ নিরোধ করার জন্য। পানির ট্যাংকের ভেতরের দিকের গায়ে তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার ছয়টি বৈদ্যুতিক হিটার লাগানো হয়েছে। এগুলো একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্যানেলের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখা যায়। ট্যাংকের তলায় লোহার পাইপ নির্মিত রোলার প্রস্থ বরাবর লাগানো আছে। মোটরের ক্ষমতা ০ দশমিক ৭৫ কিলোওয়াট। এটি দিয়ে রোলার পাইপ ও নাড়ুনি ঘোরানো হয়। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ২০ কিলোওয়াট শক্তি প্রয়োজন।
 আম শোধনের জন্য পানির ট্যাংকে প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি ভরে হিটার ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেট করা হয়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পানির তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রিতে ওঠে। তখন রোলার চালানোর জন্য মোটর চালু করা হয়। আমভর্তি প্লাস্টিকের ঝুড়ি প্লান্টের এক প্রান্তে পানির মধ্য দিয়ে রোলারের ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়। ঝুড়িটি সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের অন্য প্রান্তের দিকে চলা শুরু করে। পুনরায় আম ভর্তিঝুড়ি রোলারের ওপর বসানো হয়। এভাবে অনবরত আমভর্তি ঝুড়ি বসানো হয়। বসানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ঝুড়ি অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমভর্তি ঝুড়ি তখন অন্য প্রান্ত থেকে তুলে আম শুকানোর জন্য রাখা প্লাস্টিক শিটের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে সদ্য শোধনকৃত আম শুকিয়ে প্যাকিং করা হয়। আম শুকানোর জন্য দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে। যন্ত্রটির মূল্য প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। এটি আম ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী।
 হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আম শোধনে খরচ পড়ে মাত্র ০ দশমিক ১৭ টাকা। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে আমের অপচয় রোধ হবে।
 বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অবলম্বনে

আম সংগ্রহের সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় আম দ্রুত পচে যায়। সেজন্য বাজার থেকে আম কেনার পর দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই আম পচে যায়। আমাদের দেশে উৎপাদিত আম সংগ্রহের পর নষ্ট হওয়ার হার প্রায় ২৭ শতাংশ। প্রধানত বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানত্রাকনোসের কারণে এই বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হয়। তাছাড়া অপরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহ করা, পরিবহনের জন্য ত্রুটিপূর্ণ আধার ব্যবহার করা, গাছ থেকে সংগ্রহের পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া ঠিকমতো না করা প্রভৃতি কারণেও আম নষ্ট হয়।
 দেখা গেছে ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার গরম পানিতে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ধরে আম শোধন করলে বোঁটা পচা রোগ ও অ্যানথ্রাকনোস দমন হয়। গবেষণাগারের পরীক্ষার এই ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের কৃষি যন্ত্রপাতি ও শস্য সংগ্রহোত্তর প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল বিভাগের বিজ্ঞানীরা ২০০৬ সালে গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন।
 যন্ত্রটিতে লোহার শিট দিয়ে ১০ ফুট লম্বা, ৩ দশমিক ৩৩ ফুট চওড়া এবং ১ দশমিক ৮৭ ফুট উচ্চতার একটি পানির ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে। তার বাইরে এক ইঞ্চি পুরু কর্ক শিট আটকানো হয়েছে পানির তাপ নিরোধ করার জন্য। পানির ট্যাংকের ভেতরের দিকের গায়ে তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার ছয়টি বৈদ্যুতিক হিটার লাগানো হয়েছে। এগুলো একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্যানেলের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখা যায়। ট্যাংকের তলায় লোহার পাইপ নির্মিত রোলার প্রস্থ বরাবর লাগানো আছে। মোটরের ক্ষমতা ০ দশমিক ৭৫ কিলোওয়াট। এটি দিয়ে রোলার পাইপ ও নাড়ুনি ঘোরানো হয়। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ২০ কিলোওয়াট শক্তি প্রয়োজন।
 আম শোধনের জন্য পানির ট্যাংকে প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি ভরে হিটার ৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেট করা হয়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পানির তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রিতে ওঠে। তখন রোলার চালানোর জন্য মোটর চালু করা হয়। আমভর্তি প্লাস্টিকের ঝুড়ি প্লান্টের এক প্রান্তে পানির মধ্য দিয়ে রোলারের ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়। ঝুড়িটি সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের অন্য প্রান্তের দিকে চলা শুরু করে। পুনরায় আম ভর্তিঝুড়ি রোলারের ওপর বসানো হয়। এভাবে অনবরত আমভর্তি ঝুড়ি বসানো হয়। বসানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ঝুড়ি অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমভর্তি ঝুড়ি তখন অন্য প্রান্ত থেকে তুলে আম শুকানোর জন্য রাখা প্লাস্টিক শিটের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে সদ্য শোধনকৃত আম শুকিয়ে প্যাকিং করা হয়। আম শুকানোর জন্য দুই থেকে তিন মিনিট সময় লাগে। যন্ত্রটির মূল্য প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। এটি আম ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী।
 হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আম শোধনে খরচ পড়ে মাত্র ০ দশমিক ১৭ টাকা। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে আমের অপচয় রোধ হবে।
 বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অবলম্বনে