x 
Empty Product

বিশ্বের অনেক আশ্চর্য এখনও মানুষকে চিন্তার অতল সাগরে ডুব দিতে বাধ্য করে। তবে সপ্তাশ্চর্য না হলেও এশিয়া মহাদেশে এত বড় গাছ আছে কিনা তার হদিস এখনও পাওয়া যায়নি। তাইতো আলোচিত আম গাছটি আশ্চর্যই বটে। বিশালত্ব ও সেই গাছে ধরা সুমিষ্ট আম কোনটিকেই বাদ দিয়ে কোনটির তুলনা হয় না। তাইতো এই আম গাছটি এখন বৃহত্তর দিনাজপুরের গর্ব। পূর্বে এ আম গাছ যে কেউ দর্শন করতে পারতো। আর যেতোও তাই। কিন্তু বর্তমানে আম গাছটির বিশালত্ব সারাদেশবাসীর কাছে মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। তাই তো এই আশ্চর্য গাছটি আর খালি খালি দর্শন করা যায় না। এখন গাছের মালিক দর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন। এই ব্যবস্থায় কারও কোন অভিযোগ নেই। ১০ টাকা দিয়ে হলেও এত বড় গাছ দর্শন, এটা ভাগ্যের ব্যাপার। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দু'বিঘা জমি জুড়ে সেই বিশাল আম গাছ দেখতে দর্শনার্থীদের এখন ১০ টাকা করে লাগবে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই গাছ দেখতে আসেন। গাছের মালিক সাইদুর ইসলাম ও নূর ইসলাম আম গাছের চারিদিকে টিন দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন জন প্রতি ১০ টাকা। সাইদুর ইসলাম জানান, গত ঈদের পর থেকে আম গাছ দেখতে দর্শনার্থীরা আসছেন। গত ঈদে গেট থেকে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে এখন লোকের সমাগম কম।

প্রায় দু'শ' বছরের অসংখ্য ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী গ্রামের দু'বিঘা জমি জুড়ে একটা সূর্যপুরী আম গাছ। ২০ হাত বেড় ও ৫০/৬০ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট এই প্রাচীন গাছটির চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ১৯ টি ডাল। প্রতিটি ডালের দৈর্ঘ্য ৪০/৫০ হাত। বিরাট জায়গা জুড়ে মাটিতে আসন গেড়ে জবুথবু হয়ে বসে থাকা গাছটিকে দেখলে মনে হয় সারি সারি আমগাছ জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছে। পৈত্রিক সূত্রে গাছের মালিক সাইদুর ইসলাম জানান, গাছটি কে লাগিয়েছিল তা তিনি জানেন না। দাদার বংশধর থেকে পরিবারের লোকজন জানে জমিসহ গাছটি তাদের। তিনি জানান, প্রতি বছর এই গাছের আম বিক্রি করেন গড়ে ৭০ হাজার টাকায়। তাছাড়া এবারই প্রথম টিন দিয়ে ঘিরে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নিয়ে আয় ভালোই হচ্ছে।

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কৃষিবিদ অধ্যাপক রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, আম গাছের ডাল সাধারণত মাটি দিয়ে ৫০/৬০ ফিট লম্বা হওয়ার কথা না। তারপরেও এ গাছটি একেকটি ডাল মাটি ছুঁয়ে ৫০/৬০ ফিট লম্বা হয়ে ঐ সকল ডালের মধ্যে শাখা ডালে প্রচুর আম হচ্ছে। এটা আসলে বিস্ময়কর। কারণ আমের ডাল মাটি ছুঁলে সাধারণত সেটুকু অংশ পচে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ গাছের বেলা সেটা ব্যতিক্রম।

এদিকে বাংলাদেশের তথা এই উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহত্ আমগাছটি সংরক্ষণে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা। অনেক সময় দেখা গেছে সরকারের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই আম গাছ দর্শন করেছেন। সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন এলাকাবাসীকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।