x 
Empty Product

চারদিকে আম নিয়ে আতঙ্ক। ওই মিষ্টি ফলে ফরমালিন দেওয়া হয়, খেলেই ক্যানসার থেকে শুরু করে এমন কোনো রোগ নেই যে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিদিন গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে পাহারা বসিয়েছে। আমের ট্রাক ঢুকলেই সেগুলো জেড–৩০০ নামের একটি যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা, তারপর ফরমালিন চিহ্নিত। তারপর কৃষকের সারা বছরের কষ্টের ফল ট্রাকের চাপায় পিষ্ট।

আমে কি আসলেই ফরমালিন দেওয়া হচ্ছে? হলে ঝুঁকি কী? আমরা দেশের ছয়টি প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলায় খোঁজ নেওয়া শুরু করলাম। রাজধানীর আটটি বাজার থেকে আম সংগ্রহ করে একটি সরকারি সংস্থার ল্যাবরেটরিতে তা পরীক্ষাও করানো হলো। ফলাফল চমকে যাওয়ার মতোই। কোনো আমেই ফরমালিন নেই। তবে এসব আম পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহৃত হয়।

গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের কাছে। আম ও ফলমূল নিয়ে গবেষণা করেন, এমন কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কথা হলো। তাঁরা জানালেন, জেড–৩০০ যন্ত্র দিয়ে আমে ফরমালিনের অস্তিত্ব বোঝা সম্ভব নয়। একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ফরমালিন যেকোনো পাকা ফল বা উদ্ভিদেই থাকে। ফলে বাইরে থেকে ক্ষতিকর ফরমালিন দেওয়া না হলেও তাতে ফরমালিন আছে বলেই জানায় এই যন্ত্র।

প্রথম আলোয় এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শুরু হলো তর্ক–বিতর্ক। জরিপ করল বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। তাতে বলা হলো, ফরমালিনের মতো মারাত্মক দূষিত পদার্থ আম ও অন্যান্য ফলে নেই। আর ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে এসব ফল পাকালে তাতে ফলের পুষ্টিমান কমে যায়।

এসব খবরে স্বস্তি ফিরে পেলেন ভোক্তারা। পুরোদমে শুরু হলো আম খাওয়া। বাংলাদেশের আম বিশ্বখ্যাত সুপারশপ ওয়ালমার্টে রপ্তানি হলো। আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম স্থান থেকে উঠে এল অষ্টম স্থানে।

https://www.prothomalo.com/special-supplement/article/162243

Published in ব্লগ
Page 13 of 13