x 
Empty Product

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী। জেলার আম সংরক্ষনের জন্য হিমাগার তৈরী করা হবে। আমের দাম বেশি পেতে আমাদের ¯স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করতে হবে। আম উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যথাযোথ ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে আম উৎপাদনের জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আম এই জেলার অর্থকরী সফল। আমাদের এই অর্থকরী সফলকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব সকলের। আম পঁচনশীল। আম যেনো পঁচে নষ্ট না হয় তাই আম সংরক্ষণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে হিমাগার তৈরী করা হবে। মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের মিলনায়তনে আমচাষিদের নিরাপদ, ¯স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদনের কলাকৌশল বিষয়ক স্থানীয় আমচাষিদের নিয়ে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমের উপর নির্ভর করেই এই জেলার সাধারণ কৃষকসহ সাধারণ মানুষদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও পরিবারের খরচ চলে। আমাদের এই জেলার সম্পদ আম ¯স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করে বাজারজাতের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সেই জন্য আম চাষিদের নৈতিকতা ধরে রাখতে হবে। আম পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত গাছ থেকে আম পাড়া যাবে না। আঞ্চলিক ও প্রকৃতির আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই জেলার অর্থকরী ফসল আম দেরিতে পরিপক্ক হয় এবং পাঁকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলের আম আগে পাঁকার কারণে এই জেলার আম চাষিদের ১৫/২০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। আমের দাম বেশি পাওয়ার আশায় অনেক চাষি অপরিপক্ক আম গাছ থেকে পাড়া শুরু করে। কিন্তু আমরা যদি স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করি, তাহলে দাম বেশি পাবো। আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদনের মাধ্যমে আম সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া জেলার ঐতিহ্য ধরতে রাখতে রেশম সিল্ক ও লাক্ষার পর্যটন হিসেবে গড়ে তোলার আহŸান জানান জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএআরসি’র এনএটিপি পরিচালক ড. মিয়া সাঈদ হাসান, বিএআরসি’র (টিটিএমইউ) পরিচালক ড. শেখ মো. বখতিয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হামিম রেজা, শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. কারীবুল হক রাজিন ও শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. শফিকুল ইসলাম ও শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস.এম আমিনুজ্জামান। এসময় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদনের জন্য কৃষি গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে আম চাষিদের। পাশাপাশি আম গাছের ক্ষতিকারক কালটারসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি দেশের কোন অনুমোদনকৃত পণ্য নয়। বর্তমানে কালটার ব্যবহারের উপরে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে। কালটার ব্যবহারের উপরে অনুমোদন ও নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত হলে এটি প্রয়োগ করা হবে। ২দিনের প্রশিক্ষণে উপজেলার মোট ৪০জন আমচাষি অংশ গ্রহণ করেন।

Published in ব্লগ

বিদেশ থেকে ফিরে এসে আমের বাগান থেকে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটাতে চায় আলমগীর করিব। সে কালীগঞ্জ উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামে ছেড়ে সৌদিতে প্রায় ১৮ বছর চাকরি করেছে।

দেড় যুগ বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে এসে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এলাকায় আম চাষের কার্যক্রম বেছে নেয়।

আলমগীর কবির জানায়, তার সংগ্রামের কথা, লেখাপড়ায় সে ভাল ছিল না যে কারনে বিদেশ গিয়ে অনেক টাকার মালিক হবে এ আশায় সে সৌদিতে চাকরি করতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে সে তেমন কিছু করতে পারেনি। প্রায় ১৮ বছর পর ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফিরে আসে। দেশে ফিরে কি করবে কোনো কিছু চিন্তা করে খুঁজে পাচ্ছিল না আলমগীর।

পরে এলাকার অনেকের সাথে কথা বললে তারা পরামর্শ দেয় ফলের বাগান করতে অথবা ফলের বাগান কিনে ব্যবসা করতে। এক পর্যায় আলমগীর করিব রাড়িপাড়া গ্রামের একটি ২৫ বিঘা আম বাগান কিনেছে। সে বাগানে প্রতিনিধি ৬ জন করে দিন মজুর কাজ করে। কালীগঞ্জ উপজেলার রাড়িপাড়া গ্রামের এক ব্যাক্তির ২৫ বিঘা জমির আমের বাগান তিনি কিনেছেন।

আলমগীর আশা করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ২৫ বিঘা জমি থেকে তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন। বাগানে রাখা হয়েছে এখন ৬ জন দিন মজুরকে। তারা সকালে আসে আর বিকালে পর্যন্ত কাজ শেষ করে চোলে যায়। এ বাগানে রয়েছে আমরুপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া।

বাগানে উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে পরিচর্যা, সার, কীটনাশক, সেচ, ভিটামিন দেওয়া হচ্ছে। আলমগীর বলছে আম বাগানের সাফল্যর পিছনে মুল শক্তি হিসেবে রয়েছে কায়িক পরিশ্রম। সে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিন মজুরদের সাথে কাজ করেন। নিজের আম বাগানে কাজ করতে তার খুব ভাল লাগে এ কথা জানালেন আলমগীর কবির। আম বাগানের মধ্যে একটি কুড়ে ঘর নির্মান করা হয়েছে। সেখানে কাজ শেষে বিশ্রাম নেওয়া হয়।

আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়, থোকায় থোকায় আমের মুকুল গুলো বাতাশে দোল খাচ্ছে। আম গাছের কচি ডোগা ভেট করে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হোলদেটে মুকুলগুচ্ছ জেন উকি দিয়ে হাসছে। নিরবতা ভেঙে মৌমাছি দলে দলে এস গুন গুন করে গানের শোভা দিচ্ছে। বাগান মালিকের সাথে কথা বলে মনে হয়, তার মনের যেন বাগান থেকে অধিক লাভ হবে এমন আশা ও স্বপ্নের দোল খাচ্ছে। আলমগীর বিদেশ থেকে ফিরে এস এই প্রথম বানিজ্যিক ভাবে আম ব্যবসা শুরু করলো।

তিনি আশা করছেন এ বছর লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখতে পেলে আগামি বছর আর ও অনেকের জমি বর্গা নিবেন। তিনি আশা করছে এ বছর জমির মালিক ও বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

রাড়িপাড়া গ্রামের অপর এক আম বাগান এম জলিল বলেন, আম চাষ লাভজনক। এটাতে কোনো প্রকার লোকসান হয় না। এই ২৫ বিঘা জমির বাগানটি এলাকার সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে উকি মেরে দেখে। ওই এলাকায় এমন বড় আম বাগান আর কারো নেই।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল করিম বলেন, এমন বড় আম বাগানের কথা জানতে পেরে তিনি বাগানটি দেখতে গিয়েছিলেন। বাগান মালিককে অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান দেখে তিনি আশা করছেন আম উৎপাদন অনেটা ভাল হবে।

আলমগীর কবির এ বছর কালীগঞ্জ উপজেলার সব থেকে বড় একজন আম চাষী।

Published in ব্লগ
Page 1 of 14