x 
Empty Product
Tuesday, 18 October 2016 07:46

বাংলাদেশের আমে ফরমালিন অপ্রপচারের নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র’’

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আম রফতানীতে হুমকির মুখে পড়েছে ভারত। কীটনাশক এবং পোকার ধ্বংসাবশেষযুক্ত ভারতীয় আমের বিরুদ্ধে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। অতি সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো ভারতীয় আম ও সবজির বিশাল চালানে কীটনাশক এবং পোকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। আর তাই ইউরোপের পর এবার আরব আমিরাতে ভারতীয় আম, সবজি রফতানীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ভারত থেকে ৭০ শতাংশ আম কিনে থাকে। কিন্তু এসব পণ্যের চালানে নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ কীটনাশক ও পোকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, এই একই কারণে এক বছর আগেও আমসহ ভারতের একাধিক পণ্য রফতানীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ভারতের প্রতিবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে, কীটনাশক এবং পোকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কারণে দেশটির আম রফতানী বছরের পর বছর কমছেই। ২০১১-১২ হিসাব বছরে ভারত ৬৩ হাজার ৫৯৪ টন আম রফতানী করেছে। ২০১২-১৩ বছরে তা কমে এসেছে ৫৫ হাজার ৭৭৯ টনে। এরপর ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ বছরেও তা কমতে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে দেশটির আম রফতানী কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১৯১ টনে। এখন ভারতের কীটনাশক এবং পোকার ধ্বংসাবশেষযুক্ত আমগুলি বাংলাদেশেকে চাপিয়ে দিতে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র’’ বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়াতে অর্থ দিয়ে তাদেরকে দিয়ে এই অপ্রপচার চালাচ্ছে যে, বাংলাদেশের আমে ফরমালিন আছে সুতরাং বাংলাদেশী আম খাওয়া যাবে না। তাহলে কোন দেশের আম খেতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আর প্রয়োজন পড়ে না। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র’’য়ের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশী আমে ফরমালিনের অপপ্রচারে মূলত দেশীয় আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আমের ভরা মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাজার ভিত্তিক প্রায় ৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশী আম ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বৈশাখের শেষ থেকে জ্যৈষ্ঠের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে চেরাই পথে আসা ভারতীয় বিভিন্ন জাতের আম বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায়। আর ভারতীয় এসব আমে ফরমালিন থাকে। কিন্তু তখন প্রশাসন কোনো অভিযান চালায় না। এখন দেশীয় আমের ভরা মৌসুম, কেমিক্যাল ছাড়াই বাজারে আম পাওয়া যাচ্ছে। দেশীয় সুস্বাদু আম বাজারে উঠার সাথে সাথে ভারতীয় আম ব্যবসায ধস নামে। আর তাই দেশীয় আম বাজারে উঠার পর ব্যবসায়ীরা ভারতীয় আম আমদানি করে খুবই কম। আর তাই বাংলাদেশের মানুষকে দেশীয় আম খাওয়া থেকে ঘুরিয়ে, ভারতীয় কীটনাশকযুক্ত আমগুলি বাংলাদেশের বাজারে বিত্রিু করতে মূলত বাংলাদেশের আমে ফরমালিন আছে এই অপ্রপচার করাচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র’’। এখন দেখুন বাংলাদেশের আমে যে ফরমালিন নেই সেই বিষয়গুলি আমরা তুলে ধরব-বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজুল হক বলে, তিন দফায় রাজধানীর মিরপুর, খিলগাঁও থেকে আম, লিচু ও আপেল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। কোনো ফলেই ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আম ও লিচুর জন্য বিখ্যাত বাংলাদেশের উত্তরাবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে আম, লিচু, জাম সংগ্রহ করে পরীক্ষায় ফরমালিন পায়নি বিএসটিআইয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়। ওই কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া ও গাইবান্ধ জেলা থেকে আম, জাম, লিচু, মাল্টার নমুনা সংগ্রহ করে আমরা পরীক্ষায় ফরমালিন পাইনি । তিনি জানান, নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এসব পরীক্ষার পাশাপাশি বিএসটিআই স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে রাজশাহীর বানেশ্বর আমের বাজার এবং বাঘার মনিগ্রাম বাজারে ৫ জুন থেকে নিয়মিত আম পরীক্ষা করছে। গত ১১ দিনের নিয়মিত পরীক্ষায় আমে কোনো ফরমালিন পাওয়া যায়নি। বিএসটিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত মে মাসে চট্টগ্রাম নগরের ৪৫টি স্থান থেকে আম ও লিচুর ১৬৯টি নমুনা সংগ্রহ করে। নিজস্ব স্থানীয় পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এগুলোতে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। এছাড়া বি.বাড়িয়া, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও হাটহাজারীর বাজার থেকে ফল নিয়েও পরীক্ষা করা হয়। এগুলোও ফরমালিনমুক্ত ছিল। বিএসটিআইয়ের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় নগরের পৌর সুপার মার্কেট, খালিশপুর, নিউমার্কেট, কাঁচাবাজার, রব মার্কেট এবং বয়রা বাজার থেকে সাত দফায় আম ও লিচু এনে পরীক্ষা করে ফরমালিন পায়নি। আম, লিচু, জাম, জামরুল চার দফায় পরীক্ষা করে ফরমালিনে কোন অস্তিত্ব পায়নি বিএসটিআইয়ের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়। এখন বুঝার জন্য একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়; কিছুদিন পূর্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলে যে, বাংলাদেশে আম রফতানী হওয়ায় আমরা খুব খুশি। কারণ, বাংলাদেশে আম রফতানী না হলে ভারতীয় চাষী এবং ব্যবসায়ীদের বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এবার বিষয়টি সুস্পটভাবে বুঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের তথা মুসলমানদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং ভারতের কীটনাশক এবং পোকার ধ্বংসাবশেষযুক্ত আমগুলি বাংলাদেশেকে চাপিয়ে দিতে বাংলাদেশের আমে ফরমালিন আছে এই অপ্রপচারের মূলে রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র’’।

সুত্র: http://www.al-ihsan.net/fulltext.aspx?subid=2&textid=13774

Read 1626 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.